খোকনের মা'র প্রতিবার, গোটা শীত কাটে
নক্সীকাঁথার ফোঁড়ে; ছুঁয়ে দেখেন, ভাবেন
ঠিক যেন খোকনের আঙুল।

বস্তাপচা গরমে, হাতপাখা ছুঁলেই মনে হয়,
স্কুলফেরত খোকন ডাকবে- "মা, কী গরম গো!।

বর্ষাগুলোও কেটে যাবে ধীরে ধীরে;
খোকনেরর জন্য নত অপেক্ষায় ভিজে।

ছোট্টবেলায় অবুঝ খোকন, উঠোনে আঁকিবুকি কাটত।
মা আদরকরে পড়তে বসাতেন-
"খোকন খোকন করে মায়,
খোকন গেল কাদের নায়
সাতটা কাকে দাড় বায়,
খোকন রে তুই ঘরে আয়"।

না, ঘরে ফেরা আর হয় না খোকনের।
বড়বেলায় ব্যস্ত প্রবাসী ছেলে ডাকযোগে চিঠি পাঠায়-
ঘরে না ফেরার পত্রসংবাদ পেয়ে, খোকার অবুঝ মা
উঠোনে আকিবুকি কাটেন, অঙ্ক কষেন ছেলে কবে ফিরবে।
"বছর আসে বছর যায়
বছর গেছে কাদের নায়
আকাশপথে প্লেন যায়
খোকন রে তুই ঘরে আয়।"

নববর্ষ আসত থাকে, যেতেও থাকে;
খোকনের মা, ছেলেকে ভাত মেখে খাইয়ে দেবার
পুরনো বছরগুলিতেই আটকে থাকেন।

বিঃ দ্রঃ- "খোকন খোকন করে মায়"-এটি একটি বাংলা শিশুপাঠ্য ছড়া।