লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৮৮
গল্প/কবিতা: ৫টি

সমন্বিত স্কোর

৩.০৯

বিচারক স্কোরঃ ১.৪৯ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৬ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - ঘৃণা (সেপ্টেম্বর ২০১৬)

সম্পর্ক
ঘৃণা

সংখ্যা

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.০৯

এম আর সকাল

comment ৩  favorite ০  import_contacts ৫৭৭
বাবা-মার একমাত্র সন্তান সকাল। বাংলাদেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় কয়েক বছর পর ইতি টানবে পড়া লেখার। প্রথম আর দ্বিতীয় এর মধ্যেই শিক্ষা, সাফল্য কেন্দ্রিভূত সাকালের জীবন। অদ্ভুদ সব ঘটনা সংগ্রহ করে অন্যের মাঝে শেয়ার করা সকালের একমাত্র নেশা। কয়েক দিন যাবত একটি বিষয় নিয়ে খুব ভাবছে সে, সঠিক সমাধান খুঁজে পাচ্ছে না।তাই মনের মধ্যে ঘুন পোকার মত একটু পর পর বিষয়টা কুড়ে কুছে খাচ্ছে। এক দিন বাসের সিটে বসে পাসের সিটের যাত্রীকে লক্ষ্য করতেই এক অসাধারণ আন্তরিকতা মনটাকে দূর্বল করে দেয় সকালকে। সে দিনই তার সাথে পরিচয়। বাবার বয়সি লোকটার চেহারা অনেকটা ওর মতই। বয়সের এতো দূরত্ব থাকা সত্বেও খুব অল্প সময়ে জনাব সজিবের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক হয়ে যায়। অনেক কিছুই দুজন দুজনাকে বলে। কিভাবে যে সম্পর্কটা এত গভীর হয়ে যায় তা দু’জন বুঝতেই পারে না।
কয়েক দিন ধরে রাতে সকালের কেন যেন চোখে ঘুম আসছে না। অনেক চেষ্টা করেও ঘুমাতে পারে না। তাই রাত্রে ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করে। তবুও ঘুম আসছে না। গভীর রাতে যখন সব ব্যস্ততার প্রদীপ নিভিয়ে অন্ধকার গাঢ় হয়ে আসে তখন ওর চিন্তার ঘোড়াটা দ্রুত দৌড়াতে থাকে। চিন্তার ঘোড়াটাকে সাহায্য করার জন্য বাড়ান্দায় হেলনা চেয়ারে বসে, সিগারেট লাগিয়ে নিকটিনের কুন্ডলি দিয়ে ঘোড়াটাকে সাহায্য করে৷ জনাব সজিবের কথা গুলো চিন্তার মধ্যে স্থান পায়৷ যা ছিল এমন ....
উচ্চ মাধ্যমিক পড়াকালীন সময় নাকি অনেকটা হাবা-গোবা টাইপের লোক ছিলেন জনাব সজিব৷ যা এখন দেখে বুঝা সম্ভব নয়৷ যুবক সজিব এক অসাধারণ চেহারার অধিকারী ছিলেন তা এখনও বুঝা যায়৷ এ যুগে এমন সজিবের সজিবতা পাওয়ার জন্য অনেক মেয়েদের উতালা হওয়া অসম্ভব নয়৷ উচ্চ শিক্ষার আশায় অন্য জেলা শহরে থাকত সে৷ মেসে থেকে তার তৃপ্ততা আসেনা তাই একটি বাসার ছদের চিলেকোঠায় থাকে আর মেসে এবং হোটেলে খাওয়া-দাওয়া৷ “ক্ষনিকালয়”তিনতলা বাড়ি যার চিলেকোঠায় সজিবের থাকতে হয়৷ অবসর সময়টা ছাদে কাটায়, রুমে নয়৷ ক্ষনিকালয়ের অন্য সদস্যরা সজিবের আন্তরিতায় মুগ্ধ ৷ ছাদ সংক্রান্ত কারনে তাদের সাথে দেখা হয় প্রায়ই৷
তিন তলায় থাকত এক নব দম্পত্তি ৷ জনাব অনিক আর রোজী৷ জনাব অনিক ব্যাংকে চাকুরী করে আর তাই সকাল থেকে বিকাল কোন দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত বাসার বাহিরে থাকতে হয়। তারপরও সুন্দরী যুবতী নতুন স্ত্রীকে দূরে রেখে মিস করতে চায়না জনাব অনিক৷ দিনের পুরোটাই বাইরে থাকতে হয় এজন্য প্রচন্ড ভালবাসে তার স্ত্রী কে, কোন কর্তব্য পালনে সে একটুও অবহেলা করে না। স্ত্রী রোজীও তাই। †রাজী সারা দিন গান শোনা, টিভি দেখা আর বাসার কাজ ছাড়া অন্য কিছু করার উপায় পায় না ৷ সজিবের সাথে রোজীর ছাদে দেখা এবং পরিচয়৷ তিন তলার বাড়ান্দা না থাকায় ছাদে রোজীকে একটু বেশি আসতে হয়৷ সজিব তার দুর সম্পর্কর এক চাচাত বোনকে পছন্দ করত। কিন্তু তার অন্যত্র বিয়ে হবার কারনে সে একটু বদলে যায়৷ এক দিনন দুই দিন তিন দিন এভাবে রোজীর সাথে সজিবের একটা সম্পর্কের জাল বুনতে শুরু করে দুজন। অবশ্য জালটাতে একটু ফাক রাখে। কারন যে কোন কারনে ফাঁকা দিয়ে বেড় হয়ে যেতে পারে সম্পর্ক। ধীরে ধীরে সম্পর্ক গভীর হতে থাকে৷ মাঝে মাঝেই সজিব চিন্তা করে অলৌকিক ভাবে ওদের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এর পেছনে সজিব অনেক কারণ খুজে পায়। অনিকের সাথে সজিবের পরিচয় আছে, মোটামুটি কথা বার্তা হয়। অনিকের অন্ধ ভালোবাসা আর সরলসজা ব্যবহারের কারনে রোজীর অনেক কিছুই গোপন থেকে যায়৷ ক্ষনিকালয়ের অতিচালাক দুই একজন ওদের সম্পর্কের কথা জানলেও প্রকাশ করত না। অনিক বিবাহিত জীবন ভালোভাবেই উপভোগ করতে চায় এজন্য প্রথম বছরে সন্তান না নিয়ে দ্বিতীয় বছরে নিতে চায়৷ যার সম্মতিও ছিল রোজীর৷ কিন্তু বিবাহিত জীবনের প্রথম বছর শেষ না হতেই রোজী উতালা হয়ে যায় সন্তানের জন্য৷ স্ত্রীর একাকিত্বকে দূর করার জন্য একটা সন্তান প্রয়োজন বোধ করে৷ শুর“ করে জমিতে চাষ করা এবং বীজ রোপনের পালা৷ একটি জমিতে দু’জন চাষ করে। দু’জন

চাষ করলেও ফসলের আশা করছে একজন৷ ফসলের আশাকারী জমিকে পরিচর্য করে আর অন্য জন ïধু চাষ করে৷ এক সময় জমি চিন্তা করে ফসলের প্রাপ্য কার ? রোজীর শোশুড়-শাশুড়ী সবাই খুব আদর ভালবাসা আর স্নেহের মাঝে রেখেছে এতো দিনন৷ তাই তাদের কোন ভাবেই কষ্ট দেওয়ার মত ইচ্ছা হয়না তার৷ অসহায় হয়ে পরে সজিব এবং রোজী, কোন ক্রমেই সেখান থেকে বেড় হতে পারে না৷ তারপরও অনিকের মত সাধারণ সহজ সরল একজন মানুষকে ঠকাতে তার ইচ্ছা না থাকলেও ঘটে গেছে কিছু ঘটনা। মনকে উপেক্ষা করে শরীরে চলে গেছে ইচ্ছা অনিচ্ছা ৷ তবুও ওদের সংসার ভাঙ্গতে চায় না কখনই৷ সজিব রোজী মাঝে মাঝে নিজেদের অপরাধী মনে করলেও একে অন্যকে কোন ভাবেই দোষ দিতে পারে না৷ অনিচ্ছাকৃত ভাবে হয়ে গেছে সব। হয়ত ঐ মুহুর্তে ভালোবাসা দূর্বল ছিলো।
জনাব অনিকের অন্য জেলায় বদলীর আদেশ আসে এবং ক্ষনিকালয় ছাড়তে হয় বাধ্য হয়ে৷ নতুন শহরে আসার কিছু দিন পরই রোজী ফুট ফুটে এক পুত্র সন্তান জন্ম দেয়, অনিকের ভালবাসা একটু ও কমেনি বরং বেড়েছে৷ রোজী সজিবকে খুব মিস করে, দেখা করতে চাইলেও সম্ভব না থাকায় চিঠি পাঠায়, চিঠিতে তার সন্তানের কথা এবং সজিবের অভাবে তার পরিবর্তন সম্পর্কে বিস্তারিত লেখে৷ অনেক আশা করলেও উত্তর পায় না৷ অনিক ডাইরি লিখত, ক্ষনিকালয়ে থাকার কথা এবং তার পূর্বের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা ডাইরীতে লিখে রেখে ছিল। সে সন্তানের নাম রাখে এবং সন্তানকে ডাক্তার বানাবে এই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে .....
বাবা মার পছন্দমত সুন্দরী একটি মেয়েকে বিয়ে করেছে সজিব৷ চাকরি করছে, স্ত্রীকে নিয়ে বাবা মার সঙ্গেই থাকছে, খুব সুখের এ যাত্রায় মাঝে মঝে রোজীর স্মৃতি থামিয়ে দিত৷ বিয়ে করার বছর দেড়েক পর সে যখন জনতে পারে তার পিতা হবার ক্ষমতা কোন এক বিকৃত কামের কারনে হারিয়ে ফেলেছে। তখন সে নিজেকে এতোটাই অপরাধী মনে করে যে শাস্তি তার এখনই প্রয়োজন৷ রোজীকে হারানোর পরপরই তাকে এ অবস্থায় আনতে বাধ্য করেছে শরীর৷ স্ত্রীর কাছে এতেটাই ছোট হয়, যা তার পক্ষে বুঝনো সম্ভব হবে না৷ অনেক অপরাধ বোধ আর কিছু প্রশ্নের উত্তরের মাঝে জীবনের চাকা চলতে পারে না৷ বংশের প্রদীপ জ্বালাতে না পারলেও মনের মধ্যকর কুটকুটে অন্ধকারকে অলোকিত করার জন্য খুঁজে বেড়ায় সেই প্রথম অন্যের জমিতে বোনা বীজের ফসল৷
রোজী হারিয়েছে দ্বিতীয়বার মা হবার ক্ষমতা সৃষ্টি কর্তা হয়ত এ জীবনে তাদের অপরাধের শাস্তি দিয়ে দিচ্ছেন। রোজী আর সন্তার জন্ম দিতে না পারলেও অনিক ওকে অনেক ভালবাসে৷ এক সন্তানকে লালন পালন করে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় সে৷ রোজী তার নিজের অপরাধ সামলাতে না পেরে মাঝে মাঝে অন্যরকম হয়ে যায় ৷ অনিককে ঠকিয়ে যে পাপ সে করেছে তার শাস্তির এক বিন্দু হয়ত সে পাচ্ছে, এটা তার ধরনা৷
সকাল ঘুমিয়ে পরেছে বাড়ান্দায় ৷ পর দিন বাসায় একা একা সময় কাটাতে না পারায় সে তার বাবার সংগৃহিত বই এর আলমাড়িতে কয়েকটি ডাইরী খুঁজে পায়৷ আগে বাবা-মা ও গুলোতে হাত দিতে দিত না৷ কিন্তু আজ বাড়ীতে সে একা৷ তাই মনের কৌতুহল মিটাবে, ডাইরির হেডিং “ক্ষনিকালয়” এটাই তাকে পড়তে হবে, কারণ সজিব সাহেবের কাছ থেকে ক্ষনিকালয় সম্পর্ক ïনেছিল৷ চেয়ার টেবিলে বসে অনেক কৌতুহলের সথে ডাইরীটা পড়া শুরু করে৷ এক সময় খুজে পায় সজিব সাহেবের কথার মিল৷ প্রচন্ড ভয় করছে বাকী অংশ পড়তে৷ কিন্তু পড়তে তাকে হবেই। যাদের অনেক শ্রদ্ধা, সম্মান আর অনেক ভালোবসত তাদের প্রতি প্রচন্ড ঘৃণা নিয়েও ডাইরী পড়া শেষ করতে পারল না সে....

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • পন্ডিত মাহী
    পন্ডিত মাহী চরিত্রগুলো গুছিয়ে উঠতে আরো গভীর বর্ণনার দাবি রাখে। ভালো হয়েছে
    প্রত্যুত্তর . thumb_up . ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
  • মিলন  বনিক
    মিলন বনিক গল্পের হাহিনীটা ভালো...চরিত্রগুলোকে আরো পরিষ্কার করার দাবি রাখে...শুভকামনা সতত....
    প্রত্যুত্তর . thumb_up . ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
  • লুতফুল বারি পান্না
    লুতফুল বারি পান্না কাহিনীতে দুর্দান্ত সব মোচড় আছে। লেখকের দৃষ্টিভঙ্গীও পরিস্কার। সোজা কথায়, ভাবায়। রূপকের আড়ালেও সাংঘাতিক সব ঘটনাগুলো উঠেও এসেছে স্পষ্ট অবয়ব নিয়ে। লেখকের দক্ষতা এখানে অবজ্ঞা করার প্রশ্নই ওঠে না। তারপরও লেখককে অনেক কিছুর দিকেই দৃষ্টি দিতে হবে। বানান ভুল। আগাপ...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . thumb_up . ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

advertisement