লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৫ নভেম্বর ১৯৭১
গল্প/কবিতা: ৩০টি

সমন্বিত স্কোর

৩.১১

বিচারক স্কোরঃ ১.০৭ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.০৪ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - ঘৃণা (সেপ্টেম্বর ২০১৬)

প্রেম তো ছিলনা ছিল শুধু প্রহসন
ঘৃণা

সংখ্যা

মোট ভোট ১৭ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.১১

আল মামুন খান

comment ৫  favorite ০  import_contacts ৫৮৩
একটা ছায়া ক্লান্ত হয়ে অপর ছায়ার উপর থেকে নেমে আসে। বাউরি বাতাসে উষ্ণতা পাক খেতে খেতে ঘন হয়... শ্রান্তিতে ভেঙ্গে পড়ে সঙ্গিনীর পাশেই একদন্ড বিশ্রামে শান্তি খোঁজে যেন মৌণ সময়। আলতো ছুঁয়ে থাকার ভেতরে কি থাকে? সম্পর্কহীন সম্পর্কের মাঝে ভালোলাগা কতটুকু?
আলতো স্পর্শের স্মৃতি হয়তো কারো সবটুকু অনুভুতিকে আচ্ছন্ন করে রাখে এক সেকেন্ড; শেষে বিদ্যুতের মতো ঝাঁকি দিয়ে শরীরের ভিতর দিয়ে কোথাও চলে যায় ... কোথায় যায়?

' ভালোলাগা সুন্দর,
ভালোবাসা আরো সুন্দর,
কারণ -
প্রেম আসে
ভালোবাসায় পুড়ে পুড়ে ..' - কে যেন একদিন বলেছিল শিহাবকে!

সেই কারো হৃদয়ের উজ্জ্বল আলোয় স্পর্শের নাগালের বাইরে থেকে দেখা ঝিলিক দিয়ে ওঠা হাসিমুখ ... বড্ড মনে পড়ে হঠাৎ! কি যেন পর পর স্পষ্ট হতে হতে অস্পষ্ট হয়ে মিলিয়ে যায়। চেনা কিছু ছিলো । চোখ? মুখ? রঙ? ভঙ্গি? ভঙ্গি ! কার মতো !!
কণার!!!

চিন্তাটা বিবশ করে তোলে ওকে। পাশের সম্পর্কহীনার ক্ষীণ কটিতে এক হাত, বেডরেষ্টে অন্য হাত স্থির হয়ে রইলো শিহাবের। আসলে মাঝে মাঝে কোন হিসাব নিকাশ ছাড়াই দুজন মানুষ দুজনের জন্য তীব্র টান অনুভব করে। ঠিক কী কারণে, বোঝা সম্ভব হয় না। এই অবস্থায় শরীরের যে চাহিদা টুকু তৈরি হয় তা বোঝা সহজ বলে বোধ হয় মানুষ চট করে শরীরেই জড়িয়ে যায়। আর যত তারা শরীর খুঁড়ে সত্য গুলি খুঁজতে থাকে তত দিশাহারা হতে থাকে মনটার অসহায়ত্ব দেখে । সে যে কী পেলো না, তা জানার জন্য মাথা আছড়াতে থাকে ঢেউয়ের মতো হাহাকারে ; নির্দয় বোধ কিছু বলে না ; ঢেউ গুলি আছড়ে পড়ে ফেনা হয়ে যায় - আবার ঢেউ হয়ে ফিরে আসে - আবার ...মানুষ বেঁচে থাকে ...


পাশাপাশি ফ্ল্যাটে থাকা এক ছায়া এজন্যই কি অপর ছায়ার প্রতি ঝুঁকে পড়েছে? এই ঝুঁকে পড়ায় ভালোলাগা থাকলেও সেখানে ভালোবাসা ছিল কি? তাই প্রেমও ছিল না... একটুও! ছিল কেবল জৈবিক তাড়নায় রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রহসন... তৃপ্তির ভান করার মূর্ত উপহাস!

অতৃপ্ত এক ছায়া তৃপ্তির মহাসাগরে ভেসে যাওয়ায় ব্যকূল ছিল... শিহাব হারানো ছায়াসঙ্গিনীর খোঁজে নিজেও ভেসে বেড়াচ্ছিল... অন্দরে... বন্দরে.. অন্তরে অন্তরে... নিরন্তর! অতৃপ্ত রমনী তাই ভেসে বেড়ানো শ্যাওলা ভেবে শিহাবকে আঁকড়ে ধরে। শিহাবও হারানো সঙ্গিনীর চেহারার সাথে কিছু কিছু মিল খুঁজে পেয়ে রমণীর তৃপ্তির উপকরণ হয়।

এভাবেই ছায়ারা সঙ্গিনী হয়ে উঠে... এভাবেই পরিচিত রমনী অপরিচিত কায়ায় ভর করে হৃদয়ের কার্ণিশে ঝুলে থাকে। কিন্তু তারা কায়ায় তৃপ্ত হতেই এই দোদুল্যমান জীবন বেছে নিয়েছে। তাই হৃদয়ের খোঁজ নেবার একটুও প্রয়োজন মনে করে না।

এক হৃদয়বান ছায়া কায়া হারিয়ে এক ছায়াসঙ্গিনীর কায়ায় মিশে যেতে আবারো ব্যস্ত হয়ে পড়ে... একসময় ঢেউ হয়ে যায়... ফেনা হয়... আবারো ঢেউ... এভাবেই বেঁচে থাকা! যেখানে ভালোলাগা ভালোবাসায় রুপ নিয়ে প্রেম হয়ে উঠে না... কেবলি প্রহসন.. আর নৈশব্দের মূর্ত উপহাস!

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement