লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ মার্চ ১৯৭৭
গল্প/কবিতা: ১১টি

সমন্বিত স্কোর

৩.২৬

বিচারক স্কোরঃ ১.৮২ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৪৪ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftবৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী (সেপ্টেম্বর ২০১৪)

বুনো হাস ও কুকুরের গল্প
বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী

সংখ্যা

মোট ভোট ১২ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.২৬

Arif Billah

comment ৬  favorite ০  import_contacts ২,২১২
গহীন অরণ্যের এক খোলা প্রান্তর হিসেবেই জায়গাটিকে অভিহিত করা যায়। ছোট বড় গাছ এখানে সেখানে ইতস্তত বিক্ষিপ্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রান্তর ঘেঁষেই এঁকে বেঁকে বয়ে চলেছে মিঠা পানির নদী। স্বচ্ছ পানির আঁধারকে ঘিরে এই প্রান্তরে আনাগোনা বাঘ, হরিণ, শিয়াল, কুকুর, পাখি, আরও কত প্রাণী। পানিতে রয়েছে হরেক রকমের নাম না জানা কত মাছ। মাছের গায়ের রংও ভারি সুন্দর। বাহারি এসকল মাছের চোখ ধাঁধানো আলপনা মহান আল্লাহ আপন মহিমায় সাজিয়েছেন। যা কেবল চেয়ে চেয়ে দেখে তার শুকরিয়া আদায় করা যায়।
এই নদীর অনতিদূরে খোলা প্রান্তরে ছন গাছের শুকনো খড়ের উপর মনের সুখে বাসা বেঁধেছে বুনো হাঁস। বুনো হাঁস বাসায় ডিম পেরেছে। তা দেয়ার কিছুদিন পরে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়েছে। বুনো হাঁসের মনে এখন কতই না আনন্দ। সারাদিন কেটে যায় তার বাচ্চাদের দেখাশুনা করে। দিনে দিনে বাচ্চারা বড় হতে থাকে। বিকেল হলেই মা হাঁস তার বাচ্চাদের নিয়ে ঘরের আশে পাশে ঘুরতে বের হয়। পাশা পাশি শত্রুর হাত থেকে কিভাবে আত্মরক্ষা করা যায় তার কৌশল মা হাঁস বাচ্চাদের শেখায়। কারণ এখানে রয়েছে শিয়াল, কুকুর, চিল, বাজ পাখি আর সাপের আক্রমণের শিকার হওয়ার ভয়। বুনো হাঁস তার বাচ্চাদের অতীতের অনেক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা শোনায়। বুনো হাঁসের বাবা মা কিভাবে বনের নির্দয় শিয়াল কুকুরের শিকারে পরিণত হয়ে জীবন দিয়েছিল সে কথা বলে চোখের পাতা ভিজে যায় তার। সে এখন কতটা বুদ্ধি আর লড়াই করে সে এখনো বেঁচে সে গল্পও শোনায় তার বাচ্চাদের। বাচ্চারা অতীতের কথা শুনে যেমন ভয় তেমনি লড়াই করে বাঁচার জন্য উৎসাহও পায় মায়ের কাছে।
এমনি একদিন মা হাঁস তার বাচ্চাদের নিয়ে পড়ন্ত বিকেলের সোনালী রোদে শুকনো ছনের উপর ঘুরে বেড়াচ্ছে। এমন সময় সেখানে একটি ক্ষুধার্ত বুনো কুকুর এসে হাজির হয়। ক্ষুধার্ত কুকুরটি দূর থেকেই হাঁসের বাচ্চাদের শিকারের টার্গেটে নেয়। কুকুরের সতর্ক আগমনে বুনো হাঁসের পিলে চমকে উঠে। সে তার বাচ্চাদের একটি শব্দ করে আসন্ন বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করে দেয় এবং পরবর্তী কর্মপন্থা ঐ শব্দের মাধ্যমেই জানিয়ে দেয়। স্রষ্টার কি মহা খেলা। বন-বাদাড়ে মানব দৃষ্টির আড়ালে কতইনা চমৎকার কর্মযজ্ঞ ঘটে চলেছে প্রতিনিয়ত। এর অধিকাংশ হিসেবে পৃথিবীর কোন মানুষের রেকর্ডে নেই। প্রকৃতির যে টুকু নিয়ত ঘটনা মানুষ তার চেষ্টা সাধনার বদৌলতে অবলোকন করতে পেরেছে তা থেকে মানব জাতির অনেক শিক্ষণীয় উপকরণ গ্রহণ করতে পারে।

যা হোক, সন্তর্পণে আগত বুনো কুকুর চেষ্টায় লিপ্ত হয় হাঁসের ছানাকে নিজের খাবার বানিয়ে নিতে। আর বুনো হাঁস ও তার ছানারা লিপ্ত হয় কিভাবে বুনো কুকুরটিকে বোকা বানিয়ে জীবন নিয়ে পালিয়ে যেতে। এভাবেই শুরু হয় কুকুর আর হাঁসের মধ্যে বেঁচে থাকা আর খাবার সংগ্রহের লড়াই। কুকুরের তুলনায় শক্তিতে হাঁস দুর্বল। কিন্তু বুদ্ধির কৌশলে বেঁচে যায় হাঁস।
কুকুরকে বোকা বানানোর জন্য বুনো হাঁসটি হঠাৎ করে জবাই করা পাখির মত ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে উচ্চ ¯^রে আওয়াজ করে ছনের উপর দিয়ে জলাশয়ের দিকে যেতে লাগল। অবস্থা এমন যে জবাইকৃত হাঁসটি আর হাঁটতে পারছে না। কিন্তু ছনের পিচ্ছিল আস্তরণের উপর দিয়ে হাঁসটি হামাগুড়ি দিয়ে ঠিকই দ্রুত স্থান বদল করছে। এমন দৃশ্যে কুকুরটি ভাবছে হাঁসটিকে এখনি বাগে এনে মজা করে ক্ষেতে পারবে। তাই হাঁসের ছানা খাওয়ার পরিবর্তে হাঁসের দিকে মনযোগী হলো। এই সুযোগে হাঁসের বাচ্চাগুলো দলবদ্ধ হয়ে দ্রুত ভিন্ন পথে জলাশয়ের দিকে গিয়ে ঘন জলজ গাছের আড়ালে লুকিয়ে পড়লো। অপর দিকে বুনো হাঁসটিও বুনো কুকুরকে বোকা বানিয়ে জলাধারে হারিয়ে গেল। বুদ্ধির কৌশলে বনের হিংস্রর প্রাণী থেকে রক্ষা পেল দুর্বল বুনো হাঁস।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement