লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৪ জুন ১৯৯৩
গল্প/কবিতা: ২৬টি

সমন্বিত স্কোর

১.১৮

বিচারক স্কোরঃ ০.৫৮ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ০.৬ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftঘৃনা (আগস্ট ২০১৫)

প্রেম ও পুলিশ
ঘৃনা

সংখ্যা

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ১.১৮

রূপক বিধৌত সাধু

comment ৫  favorite ০  import_contacts ১,৫৪৬
রাত তিনটায় শাব্বিরের ফোন । আমি ঘাবড়ে গেলাম । এত রাতে তো ওর ফোন দেয়ার কথা না । কী ব্যাপার! কোন সমস্যা হয়নি তো! ভাবতে ভাবতে ফোনটা ধরলাম । সে কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলল, তোর কাছে পাঁচ হাজার টাকা হবে? আমার কাছে তিন হাজার টাকা আছে । এ মাসের বাসা ভাড়া দেয়া হয়নি । আমি বললাম, কেন বল তো? সে বলল, কাল আমি তোর কাছে আসছি! পরে সব বলব । তার আগে বল, কত দিতে পারবি? আমি বললাম, দুই হাজার । এক সপ্তাহের মধ্যে আবার ফেরত দিতে হবে । বাসা ভাড়া দেব । সে বলল, ঠিক আছে! আমার আরও তিন হাজার টাকার বন্দোবস্ত করতে হবে । এই বলে সে ফোন রেখে দিল ।
সকাল আটটায় শাব্বিরের ময়মনসিংহে এল । তার সঙ্গে ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ডে দেখা করলাম । কী হয়েছে? জিজ্ঞাসা করলাম । সে বলল, আমার এক বন্ধু জেলে । তাকে ছাড়িয়ে আনতে হবে । কী করেছে সে? আমি অবাক হয়ে জানতে আগ্রহী হলাম । সে অকপটে সব কিছু খুলে বলল । গতরাত্রে বান্ধবী পায়েলকে নিয়ে ত্রিশালে বেড়াতে এসেছিল তার বন্ধু মাসুদ । সারাদিন ঘোরাফেরার পর, এক হোটেলে ওঠেছিল । দুর্ভাগ্যবশত পুলিশের চোখে পড়ে যায় তারা । পুলিশ গ্রেপ্তার করে ত্রিশাল থানায় নিয়ে যায় । তারপর ত্রিশাল হতে ময়মনসিংহে ।
ময়মনসিংহের কোতয়ালি থানাটা কোথায়? শাব্বির জানতে চাইল ।
আমি বললাম, কালী বাড়ি রোডের দিকে ।
শাব্বির বলল, চল, সেখানে যাব!
আমি বললাম, তোর সাথে কেউ আসেনি ।
তার মুখটা ম্লান দেখাল । কিছুক্ষণ পর বলল, জনি, বশির, নাসির সবাইকে বলেছি। তারা কেউ আসেনি । একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল শাব্বির । তারপর বলতে লাগল । জনি বলল, মোহনা যেতে না করেছে, আমি যেতে পারবনা । তুই যা! কোন সমস্যা হলে ফোন দিস । বশির বলল, আমার কাজ আছে-যেতে পারবনা । নাসির বলল, আমার শরীর ভালো নেই । নইলে আমি যেতাম । শাব্বিরের একটু জোরে দম নিল । আমি একটু অবাক হলাম । এক সাথে তিন বছর ধরে আছে ওরা । একজনের বিপদে, অন্যজন আসেনা । আসার জন্য বান্ধবীর অনুমতি লাগে । হায় রে বন্ধুত্ব । বিপদে বন্ধুর পরিচয়। অবশ্য ঘটনাটা একটু স্পর্শকাতর । তাই হয়তো মান সম্মানের ভয়ে কেউ আসতে চায়নি । আমি বললাম, এরা কেমন বন্ধুরে তোর! শাব্বিরের মুখে কোন কথা নেই । বেচারাকে বড় অসহায় মনে হল । এ মুহূর্তে জগতে তার আপন বলে কেউ নেই । আমি আপত্তি করলাম, বললাম, আমিও যাবনা । ওর শাস্তি পাওয়া দরকার!

শাব্বির বলল, ছেলেটা খুব কান্নাকাটি করছে ।
আমি বললাম, করুক কান্নাকাটি । কিছুদিন জেল খাটা দরকার । নইলে অন্যায়কে পশ্রয় দেয়া হবে ।
শাব্বিরকে একটু বিচলিত মনে হল । বেচারা বন্ধুর জন্য কী কষ্টই না করছে! আমার মায়া হল । আমি তার সাথে যেতে রাজি হলাম ।

আমি কখনো থানায় যাইনি । আজই প্রথম । একটু একটু সংকুচ লাগছিল । তার ওপর কী একটা লজ্জাজনক ঘটনা ঘটল । থানার ভেতরে ঢুকলাম । ওসি সাহেব থানায় নেই । আমাদের তার জন্য অপেক্ষা করতে হল ।
এক কনস্টেবলের সঙ্গে দেখা করলাম আমরা । তার সঙ্গে আরও একজন, সম্ভবত দালাল গোছের কেউ । ওই লোক টাকার বিনিময়ে সব ব্যবস্থা করতে সম্মত হল । অবশ্য দরকষাকষি করতে হল । প্রথমে দশ হাজার টাকা দাবি করল । আমাদের কাছে এত টাকা নেই । তাকে জানালাম । সে বলল, ছেলের সাথে যে মেয়েটা এসেছিল, সে তো রাজি ছিল । এখন আপনারা বলছেন অন্যকথা ।
ছেলেটাকে জেলে রেখে মেয়েটাকে গত রাত্রেই ছেড়ে দেয়া হয়েছে । সে এখন বাড়িতে আছে । মাঝে মাঝে শাব্বিরকে ফোন দিচ্ছে । শাব্বির তাকে বলছে, ও একটু পরেই ছাড়া পাবে; তুমি কোন চিন্তা করোনা ।

শাব্বির মাসুদের বড় ভাইকে ফোন দিল । তিনি বললেন, ওকে ছাড়াও, আমি আসছি । ওই লোক আর আসেননি । অথবা আসতে পারেন নি । শাব্বির বলল, তিনি ব্যবসায়ী মানুষ । হয়ত ব্যস্ত; তাই …। অবশ্য লোকটা টাকা পাঠিয়েছিলেন । পাঁচ হাজার । বাকী টাকা শাব্বির আর আমি দিয়েছিলাম । পুলিশের সাথে সমঝোতা হয়েছিল আট হাজার টাকায় ।
মাসুদকে ছাড়ানোর পর আমি আমার মেসের দিকে রওনা দিলাম । শাব্বির তাকে নিয়ে গেল সারিন্দায় । তারপর ঢাকার বাসে তুলে দিল ।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement