লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৭ জুলাই ১৯৯৩
গল্প/কবিতা: ২টি

সমন্বিত স্কোর

২.৫৪

বিচারক স্কোরঃ ১.৯৪ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ০.৬ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftউচ্ছ্বাস (জুন ২০১৪)

অসমাপ্ত ভালোবাসা
উচ্ছ্বাস

সংখ্যা

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.৫৪

সানি

comment ৪  favorite ০  import_contacts ২,৭৬৭
কিরে কই তুই কখন থেকে তোর জন্য অপেক্ষা করছি
-এইতো বের হচ্ছি এখনই তুই আর পাঁচ মিনিট অপেক্ষা কর দোস্ত।
৪০ মিনিট ধরেই তো তোর পাচ মিনিট অপেক্ষা করছি। কতক্ষন সময়ে তোর মিনিট হয় রে?
-আরে রাগ করিস না এইবার সত্যিই পাঁচ মিনিটের ভেতর আসছি………
৫ মিনিট না আরও ১০ মিনিট পর এলো নিশা। সে বুঝতে পারছে আসলেই সে অনীল কে অনেক্ষন ধরে অপেক্ষা করে নিয়েছে। নিশা কে দেখে বলল চল। নিশা আরও কিছু শোনার জন্য অপেক্ষা করল কিন্তু অনীল আর কিছু বলল না দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল কিরে তোর রাগ হয়নি আমি এতক্ষন লেট করলাম তবুও? অনীল বলল নারে এখন আর তোর উপর রাগ করতে ইচ্ছে করছেনা।
-কেন? রাগ করতে ইচ্ছা করবেনা কেন?
আজ তোকে এই নীল ড্রেসে না অনেক সুন্দর লাগছে। তোর এতো রুপ কেন রে? ভাবলাম আজকে তোকে অনেকগুলা বকা দেব। কিন্তু তোকে দেখার পর সব রাগ কেমন জানি উধাও হয়ে গেল।
-হইসে থাম আর পাম দিস না
অনীল আর কিছু বলল না। দুজন হাটতে লাগল। আকাশের অবস্থাও ভালোনা। অনেক্ষন হয়েছে আকাশে মেঘ করেছে কিন্তু বৃষ্টি হচ্ছেনা কেন? আজ যদি বৃষ্টি হতো তাহলে খুব ভালো লাগতো অনীলের। তবে ভালো নিশার লাগতো কিনা তা সে জানেনা।
তারা কলেজের কাছে চলে এসেছে। পাশাপাশি হেটে যাচ্ছে দুজন। নিশা কি কলেজের সব থেকে সুন্দরী মেয়ে? অনেক ভেবে চিন্তে সে মনে মনেই বলল হ্যাঁ নিশাই সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে। সে নিশা কে ভালোবাসে বলে নয়, তার অনেক বন্ধুই তাকে বলেছে যে তাদের চোখেও নিশাই কলেজের সেরা সুন্দরী মেয়ে। এই মূহুর্তে কলেজের সবথেকে সুন্দরী মেয়ে তার সাথে কলেজে যাচ্ছে এটা তার জন্য অন্যরকম এক অনুভূতি। নিশা সুন্দরী বলে অনীল তাকে ভালোবাসেনা। নিশার চেহারার মতো মনটাও অনেক ভালো।
কলেজের প্রথম বর্ষের প্রথম দিকের ঘটনা। অনীল নিশা কে ভালো মতো চিনতোও না তখন। দূর থেকে নিশা কে দেখত সে। তাদের ডিপার্টমেন্ট ও আলাদা। অনীল পড়ে সায়েন্সে আর নিশা পড়ে কমার্সে তাদের বাংলা আর ইংলিশ ক্লাস একই সাথে হয়।রুমে বসার সিট তিন ভাগে করা রয়েছে। সায়েন্স আর কমার্স রুমের দুই সাইডের বেঞ্চে বসতো আর মাঝখানে মানবিকের ছাত্র ছাত্রীরা বসে।
একদিন অনীল তার রসায়ন. ক্লাস করে কলেজ ক্যাম্পাস দিয়ে হেটে যাচ্ছিল। সে দেখে কয়েকজন বখাটে ছেলে ওই সুন্দরী মেয়েকে উত্তক্ত করছে। অনেক নিচ ভাষায় বাজে মন্তব্য করছে মেয়েটিকে ঘিরে রেখে। মেয়েটি কিছু বলতে পারছেনা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। মেয়েটি কাদছিল কিন্তু সেই মায়াবী চোখের অশ্রু সহ্য করতে পারলো না অনীল। ছুটে গেল প্রতিবাদ করতে। একজন একাদশ শ্রেনীর ছাত্র দুইবার এইচ এস সি ফেল করা চার পাচ জন বখাটে ছেলের অপকর্মের প্রতিবাদ করবে তাও সবার সামনে তাহলে পরিস্থিতি কেমন হবে তা যে কেউ কল্পনা করতে পারে।কিন্তু এখানে একবার না চিন্তা করেই প্রতিবাদ করতে গিয়েছিল অনীল এক অচেনা মেয়ের জন্য। ফলাফল ও ভালোই ভোগ করতে হয়েছিল তাকে। ছুড়ির আঘাতে অনেকটা অংশ কেটে গিয়েছিল তার বাম হাতটি।পুলিশ কেস হয়েছিল। পলিশ এসে বখাটেদের ধরে থানায় নিয়ে গিয়েছিল। তারপর কয়েকদিন কলেজে আসেনি অনীল। কিন্তু নিশা প্রতিদিনই কলেজে এসেছিল অনীলের খোজ পায়নি। অনীলের কোনো বন্ধুদেরও চিনেনা নিশা যাদের কাছে অনীলের খোজ নেবে।তারপর যেদিন সে অনীল কে কলেজে দেখতে পেল সেদিন প্রায় ছুটেই চলে এল অনীলের কাছে। বলল কেমন আছো তোমার হাতে কি এখনও ব্যাথা আছে? কি দরকার ছিল আমার জন্য নিজের এতো বড় রিস্ক নেয়ার আমাকে তো চেনোও না। অনীল ভেবেছিল মেয়েটি তাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ দিবে কিন্তু তা না করে তাকে আরো বকা দিচ্ছে সেই প্রতিবাদটার জন্য। কিন্তু মেয়েটি তাকে তুমি করে বলছে শুনে তার অনেক ভালো লাগছিল। কারন কলেজে সে লক্ষ করেছে অচেনা কেউ প্রথমে আপনি করেই সম্বোধন করে।আর এই সুন্দরী মেয়েটা এসে তাকে সরাসরি তুমি করে বলছে। ভালো তো লাগারই কথা।এরপর যা হবার তাই হয়েছে। তারা দুজনে খুব ভালো বন্ধু হয়েছে। তুমি থেকে তুই করে বলা শুরু হয়েছে। অনেক ইয়ার্কি ফাজলামি করা হয় দুজনের মাঝে। রাগারাগি বেশীক্ষন স্থায়ী হয়না। কেউ একজন হার মেনে নেয় ঝগড়া হলে। এভাবেই চলতে চলতে ভালোবেসে ফেলেছে অনীল। কিন্তু এ কথা সে নিশা কে বলতে সাহস পায়না। যদি নিশা তাকে ভালো না বেসে থাকে? তাহলে তাদের এই বন্ধুত্বটাও নষ্ট হয়ে যাবে। এসব ভেবে আর ভালোবাসার কথাটা বলেনা সে। নিশা কে পাবার জন্য অনেক উপযুক্ত হতে হবে তাকে।জীবনে যদি অনেক বড় কিছু হয়ে তাকে তার ভালোবাসার কথা বলে তাহলে নিশ্চয়ই নিশা তার ভালোবাসাকে মেনে নেবে।
এভাবে একসময় তাদের ফাইনাল পরিক্ষা হয়ে যায়। নিশা রাজশাহী কোচিং করবে আর অনীল ঢাকায়। এরপর যে যেখানে চান্স পাবে ভর্তি হয়ে যাবে। নিশার মা অনীল কে বলে রেখেছিল নিশা যেদিন রাজশাহী যাবে সেদিন যেন সে তাদের একটু হেল্প করে। অনীল ঢাকা যাবে পরের দিন তাই নিশাকে ট্রেনে উঠায় দিতে পারবে।
নিশার রাজশাহী যাবার দিন। সকাল থেকেই মনটা কেমন কেমন করছে অনীলের। আজকের পর আবার কবে যে নিশার সাথে তার দেখা হবে তা সে জানেনা। নিশার ও কি মন কেমন কেমন করছে?? খুব জানতে ইচ্ছে হচ্ছে অনীলের।আবার মনে এক ধরনের কষ্টও হচ্ছে তার যদি নিশা রাজশাহী গিয়ে অন্য কাউকে ভালোবেসে ফেলে তাহলে?? নাহ আজকেই নিশা কে তার ভালোবাসার কথা বলে দিতে হবে যেভাবেই হোক।
সকাল দশটায় ট্রেন। নয়টায় নিশার বাসায় গেল অনীল। ব্যাগ ট্যাগ সব গোছানো হয়ে গেছে। অনীল কে দেখে মিষ্টি হাসি দিল নিশা কিন্তু কিছু বলল না। অনীল নিশার মা কে সালাম দিল। নিশার মা অনীল কে বসতে বলে নিশা কে নাস্তা দিতে বলল। অনীল মানা করল সে বাসায় অনেক খেয়ে এসেছে এখন আর কিছুই খাবেনা। নিশার মা বলল তুমি বসো আমি রেডি হয়ে আসি। নিশার মা চলে গেল। নিশা আগেই রেডি হয়েছে। আজকে লাল ড্রেস পরেছে নিশা। লাল ড্রেসে অনেক সুন্দর লাগছে নিশা কে। নাহ! নিশার কারনেই লাল জামাটা অনেক সুন্দর লাগছে। নিশা যাই পরুক তাই সুন্দর লাগবে। বসে বসে আজব চিন্তা ভাবনা করতে লাগল অনীল। নিশা অনেক্ষন ধরে তাকিয়ে আছে অনীলের দিকে। অনীল বুঝতে পারছে নিশা তার দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু সে নিশার দিকে তাকাচ্ছেনা।অপেক্ষা করছে কখন নিশা তার দিক থেকে চোখ সরাবে।
অনীল কিছু বলছেনা দেখে নিশাই কথা শুরু করল, কিরে তুই তো মেডিকেল কোচিং করবি ডাক্তার হবার পর আমাকে তো ভুলেই যাবি। অনীল এ কথার কোনো জবাব দিলনা। নিশা আবার বলল হ্যাঁ এটাই নিয়ম রে জীবনে বড় হলে সবাই ভুলেই যায়। অনীল এবার বলল ফালতু কথা বলিস না তোহ। চান্সই পাই কিনা সন্দেহ আর তুই এখনি আমাকে ডাক্তার বানিয়ে দিচ্ছিস।
-তো চুপ করে আছিস কেন?
এমনি তুই চলে যাবি আবার কখনও দেখা হবে কিনা কে জানে।
-আরে আমি কি সারাজীবনের জন্য যাচ্ছি নাকি? ঈদ পূজার ছুটি কি তুই আমি পাবোনা? দেখা তো হবেই।
অনীল মনে মনে চিন্তা করলো এখনি তার ভালোবাসার কথা বলে দেয়। কিন্তু এমন সময় নিশার মা এসে বলল অনীল বাবা সময় প্রায় হয়ে গেছে আমাদের এখনি রওনা দেয়া দরকার। অনীল শুধু জী বলে উঠে দাঁড়াল।দু হাতে দুটি ব্যাগ নিল সে। অনীল নিশা আর নিশার মা স্টেশনের দিকে রওনা হল।
স্টেশনে পৌছার পর নিশার মা অনীল কে টিকেট কেটে আনতে বলল। নিশাও অনীলের সাথে গেল টিকেট কাটতে।
দুজন টিকেট ঘরের দিকে হাটছে। অনীল কিভাবে কথা শুরু করবে বুঝতে পারছেনা। নিশা কে এখনি ভালোবাসার কথা না বলতে পারলে আর বলার সুযোগ হবেনা। কিন্তু কিভাবে বলবে। এতো ভয় লাগছে কেন? নাহ এটি ভয় না এটি লজ্জা। লজ্জা নারীর ভূষন। তাকে বলতেই হবে নিশা কে। কিন্তু যখনই বলতে চাইছে তখনি কেউ যেন তার মুখ চেপে ধরছে। তার কন্ঠ আটকে যাচ্ছে। অবশেষে নিশাই কথা শুরু করল, কিরে চুপ করে আছিস কেন? হাফ ছেড়ে বাঁচলো অনীল। এখন কথা বলা যাবে সাহস হচ্ছে একটু একটু…
নিশা তোকে কিছু কথা বলব তুই কি মনে করবি জানিনা। তবে তুই যদি কথা দিস কথাটা শোনার পরও আমাদের বন্ধুত্বটা অটুট থাকবে তবে আমি কথাটা বলব।

-বল কি বলবি আমি কিছুই মনে করবোনা।
আমি জানিনা কিভাবে কথাটা বলতে হয়। জানিনা কথাটা শোনার পর মেয়েরা কেমন অনুভব করে আর তুই কথাটা শোনার পর কি ভাববি তবুও বলব।
-বলনা কি বলবি।
অনীল এবার একবার স্বস্তির নিশ্বাস নিয়ে বলা শুরু করল…
নিশা আমি তোকে তোর কাছ থেকে চুরি করে আমার হৃদয় সমুদ্রের অজানা এক জায়গায় লুকিয়ে রাখতে চাই যেখান থেকে তোকে কেউ খুজে বের করে ছিনিয়ে আনতে পারবেনা।সেখানে আমি তোকে সারাজীবন সুখে রাখবো।সেখানে যখন তুই হাসবি আমিও হাসবো। যদি কোনো কারনে তুই কাদিসও তাহলে আমি তোর চোখের অশ্রু দু হাত পেতে ধরব মাটিতে পরতে দেব না। স্বপ্ন দেখবি তুই আর সেই স্বপ্নটা আমি সত্যি করব।
নিশা এতক্ষন চুপ করে অনীলের কথা গুলো শুনছিল। এবার সে অনীলের সামনে গিয়ে দাড়াল। অনীল তার দিকে তাকিয়ে আছে সেও অনীলের দিকে তাকিয়ে আছে। নিশা বলল, কি বলবি সরাসরি বলনা।
অনীল এবার সরাসরিই বলল, নিশা আমি তোকে ভালোবেসে ফেলেছি। আজকে এ কথা না বললে আমি হয়তো তোকে কখনই বলতে পারতাম না। জানিনা তুই আমাকে ভালোবাসিস কিনা। তবুও আজ আমি না বললে সারাজীবন নিজের কাছে অপরাধী থেকে যাব।আমি জানিনা তোর মতো সুন্দরী মেয়ে আমাকে কি ভাবে। আমি অনেক সাধারন একটি ছেলে। কিন্তু আমার মনটা মোটেও সাধারন না।আমার মনকে আজ আমি আর কিছুতেই শান্ত করতে পারলাম না। তুই কি বলবি জানিনা। শুধু এটাই জানি আজকে যদি তোর আমার বন্ধুত্বটাও নষ্ট হয়ে যায় তাহলে আমি হয়তো শেষ হয়ে যাব।
নিশা কিছু বললনা। টিকেট ঘরের দিকে হাটতে লাগলো। অনীল জিজ্ঞেস করল তুই কিছু বলবিনা??
নিশা জড়ানো কন্ঠে বলল এর পরও তোর আর আমার বন্ধুত্ব বজায় রাখা সম্ভব না। ট্রেন চলে যাবার সাথে সাথেই তোর আর আমার বন্ধুত্ব শেষ।
কথাটা অনেক কর্কশ শোনালো অনীলের। শুনে যেন অনীলের হৃদপিন্ড থেমে গেল।নাকি আরও জোরে লাফাতে লাগলো অনীল তা বুঝতে পারলো না।তার বুকের হৃদস্পন্দন যেন সাগরের গর্জনের মতো শোনাল। তার এক ধরনের কষ্ট হতে লাগলো যা এর আগে সে কখনই অনুভব করেনি। তার মাথার উপর থেকে আকাশটা আর পায়ের নিচের মাটিটা কেউ যেন কেড়ে নিয়েছে বলে মনে হলো তার। বুকের বাম সাইডে হালকা ব্যাথা শুরু হয়েছে তা সে বুঝতে পারছে। আশেপাশে তাকিয়ে দেখে নিশা তার পাশে নেই।একটু খুজতেই টিকেট ঘরের সামনে দেখতে পেল তাকে। নিজেকে সামলানোর অনেক চেষ্টা করছে অনীল।নিশাকে বুঝতে দেয়া যাবেনা যে তার বুকের ভেতরটা চুরমার হয়ে যাচ্ছে। টিকেট কেটে ওয়েটিং রুমের দিকে হাটতে লাগলো সে। নিশাও আসছে। কিন্তু কেউ আর কথা বলছেনা। তাদের কে দেখতেই নিশার মা জিজ্ঞেস করল কিরে টিকেট কাটতে এতো সময় লাগে? নিশা বলল মা আমি একটু পানি খেতে গিয়েছিলাম।ট্রেন আসলে অনীল ব্যাগ গুলো ট্রেনে উঠিয়ে দিল। নিশার মা আর নিশা তাদের সিটে বসলে ট্রেন থেকে নেমে এল অনীল।জানালার পাশে বসেছিল নিশা। নিচে থেকে তার দিকে তাকিয়ে আছে অনীল। এটাই সে শেষ বারের মতো দেখে নিচ্ছে নিশা কে এর পর আর কখনও তার সামনে আসবেনা। নিশা অন্য দিকে তাকিয়ে আছে। অনীল কে লক্ষ করছেনা।নিশার মা অনীল কে কি যেন বলছে অনীল তা খেয়াল করছেনা। বুঝতেই পারেনি আন্টি তাকে কিছু বলছে। ট্রেনের হুইসেল দিলে নিশার মার দিকে তাকাল সে। নিশার মা বলল অনেক উপকার করলে বাবা। ঢাকায় গিয়ে ভালো ভাবে থাকবে। অনীল বলল ঠিক আছে আন্টি দোয়া করবেন।
আস্তে আস্তে চলতে শুরু করেছে ট্রেন। অনীল তাকিয়ে আছে নিশার দিকে নিশা তাকাচ্ছেনা। একটু একটু করে দূরে চলে যাচ্ছে নিশা। খুব কষ্ট হতে লাগলো অনীলের। ট্রেন চলে যাওয়া লাইন ধরে হাটতে লাগলো অনীল। কিছু দূর যাবার পর লাইনের পাশে সেই গাছটি দেখতে পেল অনীল যেখানে সে আর নিশা অনেক বার এসেছে। গাছটা নিচে গিয়ে বসল অনীল। নিশার সাথে কাটানো অনেক স্মৃতি এখন তার মনে পরছে। একবার ঝড়ের সময় অনেক শব্দে মেঘ ডাকায় তাকে জড়িয়ে ধরেছিল নিশা।সেই অনুভূতিটা আজও অনুভব করতে পারে সে। একবার অনীলের অনেক অসুখ হলে কতো ব্যাস্ত হয়ে পরেছিল নিশা। সকাল বিকেল তাকে দেখতে আসতো। আরও সব কিছুই চোখের সামনে ভেসে উঠছে তার। আর মনের ভেতর এক অজানা অসহ্য যন্ত্রনা হচ্ছে। নিশা কে ছাড়া সে বাঁচতে পারেনা। কিভাবে বাঁচবে সে? মানুষ বেঁচে থাকে এক আশার কারনে। কিন্তু আজ অনীল কিসের আশায় বাঁচবে? নাহ তার এ জীবন এখন অর্থহীন। সে দেখলো লাইন দিয়ে একটা ট্রেন আসছে। সে উঠে দাড়াল। তার আর কোনো কিছুরই মায়া নেই। সে লাইন ধরে এগুতে লাগলো ছুটে আসা ট্রেনের দিকে……।

নিশা আজ অনেক খুশি। অনীল তাকে ভালোবাসে। সেও অনীল কে অনেক ভালোবাসে। কিন্তু এই কথা সে অনীল্ কে লজ্জায় বলতে পারলো না। কিন্তু অনীল যখন তাকে এতোদিন পর তার ভালোবাসার কথা বলল তখন এক অসাধারন অনুভুতি হয়েছিল নিশার।সে অনীল্ কে তখনই বলতে চেয়েছিল যে সেও তাকে অনেক ভালোবাসে। কিন্তু একটু মজা করার জন্য সে বলল না। অনীল কে খুব অসহায় লাগছিল তখন। আসলেই অনীলের সেই কষ্টে ভরা মুখ দেখতে অনেক ভালো লাগছিল তার। অনীল তাকে কতো ভালোবাসে তার মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল। নাহ আর সহ্য করা যাচ্ছেনা। অনীল কে বলেই দেই ফোন করে। কিন্তু মার সামনে কিভাবে বলবে?? নিশা মা কে বলল মা তুমি একটু বসো আমি আসছি। মা অবাক হয়ে বলল এই চলন্ত ট্রেনে কোথায় যাচ্ছিস? নিশা একটু আসছি বলে উঠে এল ট্রেনের দরজার কাছে। অনীল কে ফোন করল। ফোন রিসিভ করল না। মনে মনে বলল বাব্বা কি রাগ করেছে আমার উপর ফোন ধরছেনা। দেখি কতক্ষন ফোন না ধরে থাকতে পারে।আবার কল দিল। এবার ফোন রিসিভ করতেই নিশা বলা শুরু করল, কিরে বোকা ছেলেটা। এভাবে কি কেউ কাউকে প্রপোজ করে? একটা লাল গোলাপ অন্তত আনতে পারতি।লাল গোলাপ আনিস নি দেখেই আমি তোকে এতক্ষন কষ্টে রাখলাম। এটা তোর শাস্তি। আর এ জন্য আমাকে দোষ দিবিনা। সব দোষ তোরই। কিন্তু আসল কথা কি জানিস আমিও না তোকে অনেক আগে থেকে ভালোবেসে ফেলেছি কিন্তু লজ্জায় কিছু বলতে পারিনি। সেদিন ঝড়ের দিনে ইচ্ছা করেই তোকে জড়িয়ে ধরেছিলাম। ভেবেছিলাম তুই কিছু মনে করবি। কিন্তু কিছু বলিস নি দেখে সেদিনই আমি বুঝে গিয়েছিলাম তুইও আমাকে ভালোবাসিস। কিন্তু তুইও খুব ভিতুর ডিম। এতোদিন কেন অপেক্ষায় রেখেছিস আমাকে? চুপ করে আছিস কেন কথা বল
ওপাশ থেকে অন্য এক গলা শুনতে পেল নিশা। লোকটি বলল আমি রেলওয়ে পুলিশ বলছি, আপনি যাকে ফোন করেছেন তিনি আর বেঁচে নেই। একটু আগে একটি ট্রেনের ধাক্কায় তিনি মারা গেছেন। লাশ আমরা রেলওয়ে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিচ্ছি। আপনি আপনজন হলে আমাদের সাথে আগে দেখা করে লাশ নিয়ে যাবেন। এরপর লোকটা ফোন কেটে দিল। লোকটির কথা শুনে বিদ্যুত চমকে গেল নিশার মনে। বুকটা হাহাকার করে কেদে উঠল।অনীলের হাসি মাখা মুখটা তার চোখের সামনে ভেসে উঠতে লাগলো। সে তাকে অনেক ভালোবাসে। আজকে পেয়েও গিয়েছিল তার ভালোবাসা। শুধু মাত্র তারই ভুলের কারনে তার ভালোবাসার মানুষ টি আজ আর নেই। বুক ফেটে কান্না আসছে তার। সে কাদঁছে কিন্তু কেন সেই কান্নার শব্দ হচ্ছেনা। সে চাইছে গলা ফাটিয়ে কাদঁতে কিন্তু আওয়াজ বের করে কাদাঁর শক্তিটুকু তার এখন নেই। তার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছে কিন্তু সেই অশ্রু কেউ একজন হাত পেতে ধরতে চেয়েছিল যাকে সে তার জীবনের চাইতেও ভালোবাসে? জীবনের চাইতেও? যদি জীবনের চাইতেও ভালোবাসে তবে তারতো অনীলের আগেই মারা যাবার কথা।
নিশা দরজা দিয়ে বাইরের দিকে তাকালো। অনেক দ্রুত ছুটছে ট্রেন।সে ট্রেনের সিড়িতে পা রেখে চোখটা বন্ধ করলো। অন্ধকারেও সে যেন অনীল কে দেখতে পেল তার দিকে দু হাত বাড়িয়ে দিয়ে তাকে কাছে ডাকছে। আমি আসছি অনীল, আমি আসছি অনীল বলে দরজার হাতল টা ছেড়ে দিল নিশা……………

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement