লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ ফেব্রুয়ারী ১৯৭৫
গল্প/কবিতা: ৯টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftস্বাধীনতা (মার্চ ২০১১)

সর্পিণী
স্বাধীনতা

সংখ্যা

শেখর সিরাজ

comment ১৬  favorite ৩  import_contacts ১,৩১৭
উর্বশী সঙ্গে রেজওয়ানের খুব বেশি দিনের ঘনিষ্ঠতা নয়,মাস তিনেক হবে।চাকরির বদলি সুবাদে পরিচয় তারপর আস্তে আস্তে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে শুরু করেছে।এই তিন মাসে দুজন দুজনের অনেক কাছাকাছি চলে এসেছে।আগুনের আঁচে মোম যেভাবে গলে পড়ে,রেজওয়ান যেন উর্বশী রূপ যৌবনের সামনে ক্রমশ সেভাবে প্রতিনিয়ত গলে যাচ্ছে।গলে যেতে যেতে রেজওয়ান যখন সলতের তলানীতে এসেছে,আর ঠিক তখনেই অনেকটা বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতোই বাড়িতে কোনও খবর বার্তা না পাঠিয়ে হঠাৎ এক হেমন্তের বিকেলে উর্বশী নিয়ে বাড়িতে উপস্হিত রেজওয়ান।
অযাচিত ভাবে বিয়ের উপযুক্ত একটা সোমত্ত মেয়েকে এমনি করে বাড়িতে নিয়ে আসায় রেজওয়ানের মা শর্মিলা কিছুটা বিব্রত বোধ করছিলেন।ভাইবোনেরাও কেমন যেন বাঁকা চোখে তাকাল।কিন্তু রেজওয়ানের সামনে মুখ ফুটে কিছু বলার সাহস করতে পারল লা।বাড়িতে ততদিনে রেজওয়ানের একছত্র কৃতিত্ব,তার আয় রোজগারে সংসারে সবার মুখে এখনও দুটো অন্ন সংস্হার জোগাড় হচ্ছে।তার ইচ্ছা অনিচ্ছার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলে এমন সাহস এ বাড়ির কাউর নেই।
রেজওয়ানের বাবা পাশের ঘরেই ছিলেন,অসময়ে বিছানায় শুয়ে আছেন।অকাল বার্ধক্য জনিত রোগের কারণে বিছানা ছেড়ে উঠতে পারেন না।সময় অসময় শুয়ে বসেই সময় কাটান।রেজওয়ানের বড় বোন ঝুমুকে একবার ডেকে জিজ্ঞেস করলেন-ঝুমু কে আসছেরে?-রেজুর বন্ধু বাবা।তার উত্তরে আর কোনও সারা শব্দ পাওয়া গেল না।রেজওয়ানের বাবা আজকাল অনেকটা ইচ্ছে করেই বাকরুদ্ধ এবং বধির হয়ে থাকেন।একবারের বেশি প্রয়োজনে দুটো কথা বলেন না।সংসারে ভাল মন্দ কিছু শুনেও শুনেন না।বেশীর ভাগ সময়ে চুপচাপ থাকেন।কোনও কিছুতে আগ্রহ দেখান না।সংসার থেকে অবসর নিয়ে এখন শামুকের খোলশের মধ্যে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন।তাই রেজওয়ানকেই সংসারের যাবতীয় ভাল মন্দের খোঁজ খবর রাখতে হয়।সংসারের বড় ছেলে হিসাবে বিরাট এক গুরু দায়িত্বের জোয়াল অনাবশ্যক ভূতের মত ঘাড়ের উপর এসে চেপে পড়েছে।তাই ছেলের এমন প্রেম ঘটিত আতলামীর মতিভ্রম দেখে শরমিলা যেন ভিতরে ভিতরে শঙ্কিত হয়ে উঠেছিলেন।
রেজওয়ান খাটের উপর বালিশের কুশুনে হেলান দিয়ে বসেছিল।উর্বশী বসেছিল,দক্ষিণ মুখো বেতের সোফার উপর।ঝমু উর্বশী পিছনে দাঁড়িয়েছিল।রেজওয়ানের মা শর্মিলা নিজ হাতে সেমাই বানিয়ে উর্বশী খেতে দিয়েছিল।উর্বশী সামান্য সেমাই মুখে দিয়ে আর খাচ্ছিল না।শর্মিলা,উর্বশী পরিবারের কথা,বাবা মায়ের কথা কিছু জিজ্ঞেস করলেন না।অবশ্য জিজ্ঞেস করার মত কিছু ছিলও না।রেজওয়ান আগে থেকেই উর্বশী পরিবারের পুর্নবৃদ্ধান্ত শর্মিলাকে জানিয়ে রেখেছিল।শর্মিলা চায় না নতুন করে এসব জিজ্ঞেস করে উর্বশী কোনও বিব্রত অবস্হায় ফেলে।শর্মিলা শুধু উর্বশী পিরিচের উপর চামচের নাড়া চাড়ার খেলা দেখছিল।শর্মিলা একবার শুধু বলল-কি উর্বশী তুমি যে মুখে কিছুই দিচ্ছ না।আর ঠিক তখনই ঘরের কারেন্ট চলে গেল।এ পাড়ায় খুব ঘন ঘন কারেন্ট যায়।পাড়ার বাসিন্দারা রীতিমত অতিষ্ঠ।এ নিয়ে বেশ কয়েকবার বিক্ষোভ মিছিল ভাঙচুর হয়েছে।কিন্তু কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি।বরং কারেন্ট যাওয়ার মাত্রা যেন ক্রমশ আরও দ্বিগুণ পরিমাণে বাড়িয়ে দিয়েছে।উর্বশী অন্ধকার হাতরে টি-টেবিলের উপর হাতের পিরিচ রাখতে যেয়ে,হাত ছল্‌কে তা মেঝেতে পড়ে যায়।ঝনঝনিয়ে ভাঙ্গার শব্দ হয়।
শর্মিলা বলল-ঝুমু মোম বাতিটা ধরিয়ে নিয়ে আয়,সাবধানে পা ফেলিস কাঁচ ভাঙ্গা।ঝুমু অন্ধকারে সারা বাড়ি অনেক খোজা খুঁজি করেও মোম বাতি দিয়াশলাই কোনওটাই খুঁজে পেল না।নিরাশ হয়ে ফিরে এল।এ বাড়ির কোনও একটা জিনিস পত্র নিদিষ্ট স্হানে থাকে না।সারা বাড়ি দৌড়ে বেড়ায়।প্রয়োজনে খুঁজে পাওয়া যায় না,আর যখন হাতের নাগালে পাওয়া যায়,তখন আর প্রয়োজন থাকে না।এ বাড়ির বিশেষত্ব এটা।ঝুমু বলল-মা অন্ধকারে বসে থাকবো,দোকানে পাঠিয়ে কাউকে দিয়ে মোম বাতি দিয়াশলাই আনানোর ব্যাবস্হা করো না।সবে মাত্র দশটা বাজে,চৌরাস্তার দোকান এখনও বন্ধ হয়ে যায়নি।দোকানের দিকে কেউ পা বাড়ালো না দেখে রেজওয়ান বলল-মা এখন উঠি,উর্বশী পৌঁছে দিয়ে আসতে হবে।বেশি দেরি হয়ে গেলে আবার ওদের বাসায় চিন্তা করবে।একা যাবি,সুমনকে সাথে নিয়ে যা,তার আর দরকার হবে না।আসিব বাসষ্ট্যন্টে টেক্সি নিয়ে আসবে।বড় জোর যেতে আসতে ঘণ্টা খানেকের বেশি সময় লাগবে না।
শর্মিলা-উর্বশী গেট পর্যন্ত এগিয়ে দিল,উর্বশী শর্মিলার পা ছুঁয়ে ছালাম করল।অসময়ে এলে মা-ভাল মন্দ রান্না করে কিছু খাওয়াতে পারলাম না।আবার এসো।রেজওয়ান বলল-আবার আসবে কি,ওতো এসেই পড়েছে,শুধু কবুল পড়ানোটাই বাকি।উর্বশী রেজওয়ানের হাতে চিমটি কাটল।রেজওয়ানের মা শর্মিলা কেমন যেন একটু স্নান হাসল।গলির রাস্তা ধরে চৌরাস্তার দিকে হেঁটে যাচ্ছে রেজওয়ান।শর্মিলা আবার পিছু ডাকলেন-এই রেজু শোন এ মেয়েকে তুই বিয়ে করিস না।এ মেয়ে সর্পিণী জাতের মেয়ে,তোর জন্য শুভ নয়।রেজওয়ানের কানের মধ্যে কেমন জানি একটু খটকার মত লাগে।শর্মিলা আরও কিছু বলতে চেয়েছিলেন।সুমন এসে বলল-উর্বশী আপা ডাকছে,উর্বশী তখন অনেকটা পথ এগিয়ে গেছে।রেজওয়ান দ্রুত চৌরাস্তার দিকে পা বাড়াল।শর্মিলা উঁচু গলায় বলল-ফিরতে বেশি রাত করিস না।দিন কাল ভাল নয়।

বাস ষ্টপে এসে দেখা গেল আসিব তখনও ট্রেক্সি ক্যাব নিয়ে তখনও এসে পৌঁছায়নী।ঘড়ির কাঁটা ধরে ঠিক সাড়ে দশটার সময় যাত্রী ছাউনির কাছে আসিবের থাকার কথা ছিল।ঘড়ির পেন্ডুলাম সাড়ে দশটার কাঁটা পেরিয়ে এগারোটার কাঁটা ছুঁই ছুঁই করছে
মফস্বল শহর,রাস্তা ঘাঁটের লোক জনের চলাচল কমতে শুরু করেছে।উর্বশী বার বার রেজওয়ানকে জিজ্ঞেস করছে-আসিব এখনও টেক্সি নিয়ে আসছে না কেন?মা খুব চিন্তা করবে।চল আমরা অন্য টেক্সি ধরে যায়।রেজওয়ান বলল এতো চিন্তা করার কি আছে।আর একটু অপেক্ষা করি।তাছাড়া মফস্বল শহর এতো রাতে এখানে টেক্সি পাওয়াটা বেশ ঝামেলার।মুখে এসব কথা বললেও ভিতরে ভিতরে রেজওয়ান নিজেই অনেকটা চিন্তা গ্রস্ত হয়ে পড়েছিল।মফস্বল শহর রাত এগারোটা অনেক রাত।একটা বিবাহ সোমত্ত মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এতো রাত্রে যাত্রী ছাউনি নিচে দাঁড়িয়ে থাকটা মোটেই শোভন দেখাচ্ছে না।দু একজন পথচারী যাওয়া আসার সময় যে তাদের প্রতি আড় চোখে তাকাচ্ছিল না এমনও নয়।মা বলছিল দিনকাল ভালো নয়।রেজওয়ানও ভিতরে ভিতরে প্রায় মুষ্‌ড়ে উঠেছে।অপরিচিত টেক্সি ধরে যাওয়াটা ঠিক হবে কিনা,রেজওয়ান সেটাও ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না।কিন্তু এতো রাতে টেক্সি পাওয়াটাও অনেক দুরূহ ঝামেলার কাজ।উর্বশী চোখ মুখ শুকিয়ে কাঠ হয়ে আসছে।রেজওয়ান বলল-তুমি এখানে একটু দাড়াও,আমি একটু এগিয়ে দেখি টেক্সি অটো রিকশা কিছু একটা পাওয়া যায় কিনা?একথা শুনে উর্বশী রেজওয়ানের একদম শরীর ঘেঁষে দাঁড়াল।রেজওয়ান বলল-তুমি এতো ভয় পাচ্ছো কেন?উর্বশী বলল-আসিব ভাই যে টেক্সি নিয়ে এখনও এলো না।আরও বেশি রাত হলে ট্রেক্সি অটো রিকশা কিছুই হয়তো পাওয়া যাবে না।সে সম্ভাবনা যে একে বারেই নেই তা কিন্তু নয়।উর্বশী একা যাত্রী ছাউনির কাছে দাঁড় করিয়ে দিয়ে রেজওয়ান ট্রেক্সির খোঁজে অনেকটা পথ এগিয়ে গিয়েছে।আর একটু এগিয়ে যেতে বিকট র্হণ বাজিয়ে হলদে রং এর একটা গাড়ি এসে রেজওয়ানের সামনে এসে থামল।ভিতর থেকে জানালা গলিয়ে মাথা বের করে একজন বলল-রেজু কোথায় যাচ্ছিস?রেজওয়ান ঘাড় ঘুরিয়ে তাকল,আলো আধারিতে মুখ চেনা না গেলেও,কন্ঠ স্বর শুনে বুঝতে পারল এতো তার বন্ধু আসিব।ট্রেক্সির কাছাকছি আসতেই আসিব আবার বলল-উর্বশী আপা কোথায়?রেজওয়ান গাড়িতে উঠতে উঠতে বলল-একা যাত্রী ছাউনি নিচে দাঁড় করিয়ে দিয়ে এসেছি।তোদের আসার দেরি দেখে এই দিকটায় এসে টেক্সি,অটো রিকশা খোঁজ করছিলাম।ভাগ্যিস এসে পড়েছিস,তা না হলে যে কি হতো আজ আমি আর ভাবতে পারি না।আসলে সময় জ্ঞান বলতে তোদের কিছু নেই।আসিব বলল-সময় জ্ঞানের কথা আর বলিস না।গাড়ির চাকা একটা পাঙ্গচার হয়ে গিয়েছিল।তাই আসতে এতটা সময় দেরি হলো।গাড়ির চাকা বদ্‌লাতে হয়েছে।রেজওয়ান বিরক্তি সুরেই বলল-এতো রাত অবধি মেয়ে ছেলে সঙ্গে করে যাত্রী ছাউনির নিচে দাঁড়িয়ে থাকা যায়।কেমন অস্বস্তি লাগে!গাড়ির ড্রাইভার নিয়াজ অনেকটা ঠাট্টা বিদ্রূপ করেই বলল-রেজওয়ান ভাই দপ দপিয়ে প্রেম করতে হলে মাঝে মধ্যে একটু আধটু এই রকমের অস্বস্তিতে পড়তে হয়।এ আর নতুন কি?রেজওয়ান বলল-উর্বশী চট জলদি গাড়িতে উঠে বসো।গাড়িতে উঠতে উঠতে উর্বশী বলল-কি আসিব ভাই শেষ পর্যন্ত এলেন?

আসিব বলল-আর বলবেন না ভাবি,গাড়ির চাকা পাঙ্চার আর সময় পেল না।

আসিবের মুখে ভাবি শব্দটি শুনে উর্বশী মুখ লজ্জায় প্রায় রক্তিম লাভায় লাল হয়ে উঠছে।যদিও হায়ওয়ের সোডিয়াম লাইটের হলদে রং এর আলোয় তা খুব স্পষ্ট হয়ে উঠছে না।রেজওয়ান অনেকটা ধমকের সুরে বলল-এই আসিব চুপ করতো,কি শুরু করলি।আগে তো বিয়েটা হতে দে,তারপর না হয় যত ইচ্ছে ভাবি ভাবি করিস,এখন আপা বলিস তাই যদেষ্ট।কথার মাঝ খান দিয়ে চট করে গাড়ির ড্রাইভার নিয়াজ ড্যাসবোর্ডের ক্যাসেট প্লেয়ারে একটা সস্তা ধরনের হিন্দি গান চালিয়ে দিল।সবাই ধ্যান মগ্ন সাধু-সন্যাসীদের মত মনো সংযোগ দিয়ে গান শুনছে।বাঙ্গালীর ঘরে ঘরে এখন হিন্দি গানের জয়জয়কার,মিশ্র সংস্কৃতির বদৌলতে বাঙ্গালী তার দেশীয় লৌকিকতার নিজস্ব সংস্কৃতির মুল্যবোধকে আঙ্গুলের তুরীর জোড়ে উড়িয়ে দিচ্ছে।বাঙ্গালী বর্তমান প্রজন্ম নিদিষ্ট কোনও ট্রাক লাইন ধরে চলতে পারছে না।মিশ্র চটকদার সংস্কৃতির জোয়ারে গাঁ ভাসিয়ে দিয়ে হাবুডুবু খাচ্ছে।বাঙ্গালী এ প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা জানে না-চক্‌চক্‌ করলেই সব ধাতব বস্তুই সোনা হয়ে উঠে না।সোনা তৈরি করতে গেলেও আগুনের আঁচে খাত পুড়িয়ে নিতে হয়।

রেজওয়ানের কাছে হিন্দি গান খুব একটা প্রছন্দের বিষয় নয়।নিজ থেকে কখনও নিজের ঘাঁটের পয়সা দিয়ে হিন্দি গানের ক্যাসেট কখনও কিনেছিল কিনা আজ আর তার মনে পড়ে না।তবে তার কাছে বলতে গেলে বাংলা গানের একটা বিশাল সংগ্রহশালা আছে।নজরুল রবীন্দ্রনাথ ভোজন র্কীতন লালন থেকে শুরু করে দেশীয় যত পুরোনো দিনের গান।গানের লিরিকের মধ্যে জীবনের একটা অর্থবহ অদৃশ্য সেতু বন্ধনের অন্তরীক্ষ মিল খুঁজে পাওয়া যায়।শুনলেই বুকটা দক্ষিণা মহুয়া বাতাসের মত হুঁ হুঁ করে দুলে উঠে।মানব প্রেমের প্রতি নিজ হতেই ভক্তি শ্রদ্ধায় আপাদমস্তক নত হয়ে আসে।জীবনটা যদি এসব গানের লিরিকের মত করে সাজানো যেত।সমান্তরাল সরল রেখার মত করে,একটার পর একটা রেখা।তবে হয়তো জীবনের অনেক অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর মিলে যেত।
উর্বশী ঠিক তার রুচিবোধের উল্টো।বাংলা গান ওর স্বভাবের ধাঁচে নেই কিন্তু হিন্দি গান সে আর বলতে……চলন্ত ট্রেনের মত করে ঠোঁটের ডগার উপর দিয়ে দৌড়ায়,প্রায় গুনগুনিয়ে গেয়ে উঠে।।রেজওয়ান কখনও মুখ ফুটে অবশ্য কিছু বলেনী।সবাই যে যার মত করে থাকতে ভালবাসে।ভালমন্দ অনেকটা নিজের মনের আপেক্ষিক ব্যাপার।কাউর ব্যক্তিগত প্রছন্দ-অপ্রছন্দ নিয়ে কখনও হস্তক্ষেপ চলে না।ক্যাসেট প্লেয়ারে হিন্দি গানের লিরিক গাড়ির খোলা জানালা গলে বাইরের বাতাসে মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছিল।গানের লিরিক গুলো রেজওয়ানকে আকর্ষণ করতে পারছে না বরং বিরক্ত লাগছে কিন্তু তা সবার সামনে প্রকাশ করতে পারছে না।তার মায়ের কথাটাই বার বার মনের ভিতর খচখচিয়ে উঠছে মা বলছিল-রেজু এ মেয়েকে তুই বিয়ে করিস না।এ মেয়ে সর্পিণী জাতের মেয়ে,তোর জন্য শুভ নয়।তার মা কি ভেবে এ কথা বলেছিল রেজওয়ান কিছু বুঝে উঠতে পারছিল না।কি দেখেছিল মা-উর্বশীর মধ্যে,যা সে উর্বশী সাথে পরিচয় হবার পরেও এতোদিনে দেখতে পায়নি।সে মায়ের অন্ধ কুসংস্কারের বিশ্বাস নয়তো।উর্বশী বলল,কি ভাবছ রেজু একদম ঘামটি মেরে চুপচাপ হয়ে বসে আছো,কিছু বলছো না যে?মন খারাপ করে আছো কেন?রেজু কি বলবে কোনও কথা হাতরে পাচ্ছিল না দেখে উর্বশী বলল-তোমাদের বাড়ি আজ প্রথম গেলাম,সবাই কেমন জানি আমাকে বাঁকা চোখে দেখছিল।রেজু বলল হঠাৎ এমন ভাবনার কারণ-না এমনিই,তোমার মায়ের পা ছুঁয়ে ছালাম করলাম।উনি আমার মাথায় হাত রেখে আর্শীবাদ করলেন না,উর্বশী অনেকটা নিচু স্বরে ফিসফিসিয়ে কথা বলছিল।আসিব কিংবা নিয়াজ যাতে যেন শুনতে না পায়।রেজু বলল ওসব তো হিন্দি সিনেমায় হয়।বাস্তব তো হিন্দি অথবা বাংলা সিনেমার রুপালী পর্দা না।বাস্তব তার থেকে অনেক কঠিন এবং ভয়ংকর।ছাড়তো কি নিয়ে তুমি মন খারাপ করছো।শক্ত হও,এখন থেকে শক্ত না হলে পরে মচ্‌কে পড়বএ।উর্বশী কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বলল-আমরা যখন বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসছিলাম ।তোমার মা পিছু ডেকে তোমায় কি বলছিল?রেজু বলল না তেমন কিছু না।
-না তুমি মিথ্যে বলছো
মিথ্যে বলার কি আছে?
এই বলছিল ফিরতে যেন বেশি রাত না করি।দিনকাল ভাল নয়।পুত্র বাৎসল্য উপদেশ মাত্র।
তুমি কথা এড়িয়ে যাচ্ছ,সত্যি কথাটি বলবে না।কিন্তু আমি জানি তোমার মা কি বলছেন?
-জানো যখন জিজ্ঞেস করছো কেন?
-কারণ আমি কষ্ট পাবো।একটা কথা জেনো মেয়েরাই মেয়েদের মনের কথা খুব দ্রুত জেনে যায়।
-আমাকে তোমার মায়ের প্রছন্দ হয়নি।তাই না!
কথাটা শুনে রেজওয়ানের ভিতরটা চম্‌কে উঠল।রেজওয়ান বলল-ঠিক তা না,তবে তোমার না শোনাই ভাল।শুনলে হয়তো খুব কষ্ট পাবে।উর্বশী বলল-তবুও আমি শুনতে চাই,তুমি বলো।উর্বশী পীড়াপীড়ি এক ঘেয়েমিতার কাছে পরাজিত হয়ে অনেকটা সুবোধ বালকের মত করেই বলল-মা বলছিল তুমি নাকি সর্পিণী জাতের মেয়ে।তোমাকে বিয়ে করা আমার জন্য শুভ নয়।উর্বশী বা হাত দিয়ে রেজুর জামার ডান পাশটা খামছে ধরেছে।এমন কঠিন ভবিষ্যত বাণী শুনে উর্বশী মুখের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল।লম্বা পাতলা গড়নের মেয়ে উর্বশী।কঠিন কিছু শুনলেই উর্বশী মুখের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠে।রাস্তার অবশিষ্ট পথটুকু আর একটাও কথা বলল না উর্বশী।একদম চুপ মেরে গেল।রেজওয়ান শুধু বলল-আমি জানি কথাটি শুনলে তুমি কষ্ট পাবে।এ জন্য বলতে চাইনি।উর্বশী চোখ গড়িয়ে জল পড়ছে।রেজু উর্বশী অনেকটা নিজের বুকের কাছে এনে ঘেঁষে ধরল।উর্বশী বুকের স্পন্দন এসে লাগছিল রেজুর বুকে।উর্বশী নিশ্বাসের উপত্তাপে রেজু প্রায় ভিতরে ভিতরে অন্যরকম ভাল লাগার অনুভতিতে তাতিয়ে উঠছে।মনে হচ্ছে যেন কোনও বাৎসল্য কৈশোর প্রেমের কাঁচা আবেগের নিশ্বাসের সু-ঘ্রাণ এসে উগ্‌রে নিয়ে যাচ্ছে তাকে দুর কোথাও…………

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement