লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৭ নভেম্বর ১৯৯০
গল্প/কবিতা: ৫টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - অবহেলা (এপ্রিল ২০১৭)

শেফালী
অবহেলা

সংখ্যা

মোট ভোট

আল মোমিন

comment ৩  favorite ০  import_contacts ১৭৪
এক

আকাশের অবস্থা আইজ ভালা মনে অয় না , মেঘ করছে। যেকোন সময় বৃষ্টি আইতে পারে। এই সময় আবার অমিত টা কই গেল। অবেলায় কহনো ওরে কাছে পাওন যাইবোনা। এই পুলাডারে নিয়া যে আমি কি করি? সময় নাই আসময় না খালি বিলের কাছারে বইয়া থাকবো। আমিই বা আর কত দিন বাচুম, কত দিন ওরে সামলাইয়া রাখুম?এহন আর পারি না। সলিমরেই কি কমু ও তো কাম লইয়াই থাহে। আর বউডা যে কি করে বুঝিনা বাপু, আমারাও তো সংসার চালাইছি। ঘরের কাম কাইজ কইরা আবার বাইরের হগল দিক সামলাইছি।এহন তো আর পারিনা। কবির ওই ছেরা কই গেলি? দেখনা অমিতটা কই? বিছানায় শুয়ে শুয়ে এভাবেই প্রলাপ বকছিলো শেফালী খাতুন।আশিউর্ধ বয়সে শরীরের জোর কমলেও মুখের জোর এখনো আগের মতই। প্রায় ছয় বছর হলো বেহেশতবাশী স্বামীকে হারিয়ে একাকী জীবন পার করছে। স্বামী হারানোর বেদনা সহ্য করতে না পেরে পরের মাসেই ষ্ট্রোক করে। সেই থেকে শরীরের বাম পাশ অবশ হয়ে গেছে। তারপর থেকেই বিছানায় কাটিয়ে দিল ছয় বছর।

দুই

গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে শেফালীর জন্ম। ছোটবেলা থেকেই খুব দুরন্ত স্বভাবের ছিলো। বাবার অভাবের সংসার থাকায় খুব বেশি পড়াশুনা করা তার ভাগ্যে জুটেনি। তাই কিশোরী বয়সেই পাশের গ্রামের মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে বিয়ে দিয়ে দেয় তার বাবা মা। শুরু হয় শেফালীর নতুন জীবন। নববধূ হয়ে শ্বশুরবাড়ী এসেও প্রথম প্রথম তার দুরন্তপনা আগের মতই ছিলো। তারপর দিন যেতেই সংসারের কাজ আর দায় দ্বায়িত্ব সামলাতে গিয়ে নিজের অজান্তেই বদলে যায় শেফালী। এভাবেই দুই বছরের মাথায় শেফালীর কোল আলোকিত করে শাহীন। সংসারের দায় দ্বায়িত্বের সাথে এবার নতুন দ্বায়িত্ব যোগ হল। শাহীনের দেখাশুনা করা, সময় মত খাওয়ানো, ঘুম পাড়ানো। এর পরের বছরেই ঘরে এলো আর একজন নতুন মুখ সলিম। শেফালীর দ্বায়িত্ব আরো বেড়ে গেলো। দিনের পর দিন সে এতো ব্যস্ত হয়ে গেল নিজের শরীরে প্রতি যত্ন নেওয়াই ভুলে গেল। তবুও সংসারের দ্বায়িত্বে কোন অবহেলা করেনি কখনো। একাই সংসারের সমস্ত কাজ শেষ করে স্বামী, শ্বশুরবাড়ীর সকলের মন যোগিয়ে চলত।


তিন

নানা চড়াই-উতরাই এর মধ্যে দিয়ে চলতে থাকে শেফালীর সংসার। এরপর একদিন তার বড় ছেলে শাহীনকে বিয়ে করালো। বছর ঘুরতেই শেফালী দাদী হলো। কিন্তু তার দুঃখের দিন শেষ হলো না । অমিতকে জন্ম দিতে গিয়ে তার মা পৃথিবী থেকে বিদায় নিলো আর বঊকে হারিয়ে শাহীন দেশান্তরী হলো। এবার এক হাতে দুধের শিশু অমিত কে লালন পালন করে অন্য হাতে সংসার সামলে নিলো। তারপর আবার কিছু দিন পর সংসারে সুখের দিন ফিরে এলো। ছোট ছেলে সলিমকে বিয়ে করালো। সংসারে ছন্দ ফিরে এলো, নতুন বউ সাংসারিক কাজকর্ম গোছাত আর শেফালী অমিতকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ঘর আলো করে কবির এলো। বেশ কিছু দিন গেতে না গেতেই শেফালীর জীবনে নেমে এলো অন্ধকার। জীবন যুদ্ধের সঙ্গী, ভালোবাসার একমাত্র মানুষকে হারালো। প্রানের স্বামীকে হারানোর বেদনা শেফালীর জন্য অসহনীয় হতে লাগলো। তাই মাস ঘুরতেই শেফালী বিছানায় পড়লো। শুরু হলো তার জীবনে নতুন অধ্যায়। একদিকে স্বামী হারানোর বেদনা অন্যদিকে সংসারের বোঝা হয়ে বেঁচে থাকা। ধীরে ধীরে সলিমের সংসার বাড়তে থাকে , খরচ বাড়তে থাকে। তাই সলিম ও তার বউ মিলে একদিন সিদ্ধান্ত নেয় তারা এই বৃদ্ধা শেফালীর আর অমিতের বোঝা নিতে পারবে না। শেফালীর স্বামীর রেখে যাওয়া সামান্য কিছু জমিতে তার ছোট ছেলে সলিম একাই হাল চাষ করে , তার থেকে কিছু শেফালীকে দেয়। দিনে তিনবেলা সময় মতো খাবার দেওয়ার সময়ও তাদের নেই।যেই শেফালী জীবনের সমস্তটা দিয়ে সংসারের সবার জন্য এতো কিছু করলো , তবে আজ সংসারের এই অবহেলা কেন? কেন শেফালীর এই পরিণতি ?? কেনইবা শেফালী...???

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement