বঙ্গাব্দ সৌর সন,চন্দ্র সন হিজরি
খ্রিষ্টাব্দ ঘড়ি সন—মেনে চলে গ্রেগরি।
সৌর সনের দিনের হিসেব সূর্যের আবর্তনে
চন্দ্র সনের দিন হয় চাঁদের হিসেব মেনে।

সপ্তাহের দিনের নাম সৌরজগতে ভাসে
রবিবার সূর্যের নামে, সোম চাঁদে হাসে।
শনি-মঙ্গল-বুধ-বৃহস্পতি-শুক্র সবই গ্রহ
তবে কেন পৃথিবীতে এত যুদ্ধ-বিগ্রহ।

বারো মাসের নামও রয়েছে নক্ষত্র সনে ঘনিষ্ঠ
বিশাখা থেকে বৈশাখ আর জ্যেষ্ঠা থেকে জ্যৈষ্ঠ।
আষাঢ়ের নাম হয়েছে উত্তর-পূর্বাষাঢ় যুগলে
শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা চাঁদ দোলে শ্রাবণার কোলে।
ভাদ্র উত্তর-পূর্ব ভাদ্রপদ,অশ্বিনীর নামে আশ্বিন
কৃত্তিকার নামে কার্তিক আর মৃগশিরায় অঘ্রান।
পুষ্যা সনে পৌষের মতই মাঘ মঘায় মিত্র
ফাল্গুন উত্তর-ফাল্গুনী আর চিত্রা থেকে চৈত্র।

বঙ্গাব্দের বরণ নিয়ে আছে মত কতো
ফসল পাকার সময় ধরে বছর শুরু হতো।
অগ্র মানে আগে আর বছর মানে হায়ন
অগ্রহায়ণ মাসে তাই হতো বর্ষ-বরণ।

হিজরি সনের প্রথম মাস মহরম ধরে
বর্ষবরণের প্রথা শুরু হয় বৈশাখেতে পরে।
জমিদারের পুণ্যাহ থেকে বণিকের হালখাতা
ইলিশ-ভাত,চরকা-বাঁশি আরও কত গাথা।

ত্রিপুরাদের বৈশুখ আর মার্মাদের সাংগ্রাই
চাকমাদের বিজু মিলে বৈসাবির রোশনাই।
সোনার গাঁয়ের বৌমেলা--বলিখেলা চাটগাঁয়ের
বটমূল-মঙ্গলযাত্রা নিরন্তর মানব কল্যাণের।

দেশে দেশে চলে আজ বঙ্গাব্দ বরণ
নানা দেশের সীমারেখায় নানা রকম ধরন।
পশ্চিমবঙ্গ-অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড-সুইডেনে
বঙ্গাব্দের বরণ হয় মহা ধুমধামে।