বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ২৯ নভেম্বর ১৯৯০

keyboard_arrow_leftসাহিত্য ব্লগ

লেখক সাক্ষাৎকার-১: মৃন্ময় মিজান, বই- নীলডুমুরের খেয়া (উপন্যাস)

ভূঁইয়া মোহাম্মদ ইফতেখার

  • advertisement

    লেখালেখি বন্ধ আছে তো কি হয়েছে, আমি তো আর বন্ধ থাকতে পারি না। এবার নেমেছি সাংবাদিকের ভূমিকায়। অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৩'য় গল্পকবিতা ডট কমের বেশ কিছু প্রিয় মানুষের প্রথম একক বই বেরিয়েছে। সিদ্ধান্ত নিয়েছি সেইসব ভাইয়া-আপুদের সাক্ষাৎকার নিব। ধারাবাহিকভাবে সেগুলো প্রকাশিত হবে ব্লগে। আজকে থাকছে মৃন্ময় মিজান ভাইয়ের সাক্ষাৎকার...

    ইফতেখারুল ইসলাম: মৃন্ময় ভাই, কেমন আছেন?

    মৃন্ময় মিজান: এই তো ভালো। তুমি কেমন আছ?

    ইফতেখারুল ইসলাম: আমি ঠাণ্ডায় আছি, Im cool!
    তো ভাইয়া, এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় বেরিয়েছে আপনার প্রথম বই “নীলডুমুরের খেয়া”, আপনার অনুভূতি কেমন?

    মৃন্ময় মিজান: এখনও তেমন কোন ব্যতিক্রম লক্ষ্য করছি না...মানে উত্তেজনা, শিহরণ, আনন্দ- কোনকিছুই এখনও স্পর্শ করেনি...আমি বরাবরই নিরাসক্ত মানুষ....

    ইফতেখারুল ইসলাম: (মুচকি মুচকি হেসে) বিয়ের পরও কি এই অবস্থা ছিল?

    মৃন্ময় মিজান: বিয়ের সাথে এর তুলনা করা একদিক দিয়ে ঠিক হতে পারে...দুটোই প্রথম...তবে বিয়ে নিয়েও তেমন কোন উত্তেজনা ছিল না...বিয়ের পর অবশ্য টেনশন ঘিরে ধরেছিল কিছুদিনের জন্য...

    ইফতেখারুল ইসলাম: যাক।

    এবার আসি উৎসর্গপত্রে, অধিকাংশ লেখকই জীবনের প্রথম বই বাবা-মা কে উৎসর্গ করেন, আপনি আপনার বই কাকে উৎসর্গ করেছেন?

    মৃন্ময় মিজান: বিবি মরিয়ম, আমার পরোলকগত ফুপু, সত্তরের জলোচ্ছ্বাসে যিনি হারিয়েছিলেন- কামাল, কাশেম, রানু, রেণু -বুকের মানিক চতুষ্ঠয়, আর প্রাণপ্রিয় স্বামী খোরশেদ আলমকে। এমনই এক চরিত্র উপন্যাসটিতেও আছে...যিনি সত্তরের জলোচ্ছ্বাসে সবাইকে হারান...বেঁচে থাকে একমাত্র ভ্রাতুষ্পুত্র...

    ইফতেখারুল ইসলাম: প্রথম উপন্যাস হিসেবে 'থ্রিলার' বেছে নিলেন কেন?

    মৃন্ময় মিজান: একটি উপন্যাস লিখতে হবে সে জন্য তৈরি হয়ে প্লট বা গল্প ভেবে লেখতে বসিনি আমি। আমি একা থাকলে বিভিন্ন বিষয়ে ভাবতে পছন্দ করি কিংবা বলা যায় বিভিন্ন ঘটনা (বাস্তব বা অবাস্তব) আমার উপর ভর করে। তখন মনের অজান্তে কিংবা মনের সম্মতি নিয়ে সেই ভাবনায় ভেসে যাই। কখনো সেই ভাবনা দেশের চলমান সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বিষয় ঘিরে। কখনো নিতান্তই গল্পের আদলে। এই কাহিনীটা দীর্ঘদিন ধরে আমাকে আচ্ছন্ন করে রাখে। অবসর পেলেই কাহিনীতে ডুবে যেতাম...একে একে কাহিনী ঘটতে থাকত। প্রায় ছয় মাস একই ধরনের ভাবনা চলতে থাকায় এটাকে লিখে ফেলার চেষ্টা করি। সুতরাং বলা যায় আমি কাহিনী বেছে নিইনি। কাহিনীই আমাকে বেছে নিয়েছে।

    ইফতেখারুল ইসলাম: উপন্যাসের নাম 'নীলডুমুরের খেয়া'’। নামকরণের প্রেক্ষাপট জানতে চাইছিলাম।

    মৃন্ময় মিজান: নামকরণের প্রেক্ষাপটটা পাঠকের জন্য একটা ধাঁধাঁ হতে পারে। তবু আমি বলছি, পুরো উন্মুক্ত না করে, কিছুটা ধোঁয়াশা রেখে। খেয়ার বৈশিষ্ট্য হল যেখান থেকে ছাড়ে সেখানে ফিরে আসে। এই উপন্যাসে এমনই একটা বিষয় আছে।...এই বৈশিষ্ট্য আমলে না নিয়ে এটাকে যদি নিছকই একটা নৌকা ভাবি তাহলেও এর একটা মিনিং আছে...উপন্যাসের মূল চরিত্রটি চলমান স্রোতে গা ভাসালেও স্রোতের তোড়ে হারিয়ে যায় না। নিজ হাতে আপনজন হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ পেয়েও, সেই সুযোগের অপেক্ষায় এতদিন প্রস্তুতি নেয়ার পরও, তাদের আইনের হাতে তুলে দেয়।এখানে সে বিবেকের সাম্পান...যে স্রোতে হারিয়ে যায় না বরং খেয়া হয়ে নিজে যেমন পাড়ি দেয় অন্যকেও পাড়ি দিতে সাহায্য করে।

    ও হ্যাঁ নীলডুমুর নামক একটি জায়গার সাথে চরিত্রটির যোগাযোগ আছে....

    ইফতেখারুল ইসলাম: বেশ!

    এবার জানতে চাইব যারা টুকটাক লেখালেখি করেন এবং ভবিষ্যতে বই বের করার স্বপ্ন দেখেন তাদের উদ্দেশ্যে আপনার দিকনির্দেশনা।

    মৃন্ময় মিজান: লেখালেখি চালিয়ে যেতে হবে। আর বই বের করার জন্য একটু সময় নেওয়া ভালো। তাড়াহুড়ো না করে ধীরে-সুস্থে বই বের করা উচিত। আর অবশ্যই লেখার মানের প্রতি খেয়াল রাখা দরকার।

    ইফতেখারুল ইসলাম: এবার শেষ প্রশ্ন- অনেক সময়ই দেখা যায় মন খুব লিখতে চায়, কিন্তু কিছুতেই লেখা আসে না, খুব অস্থিরতা কাজ করে তখন। যেটা 'রাইটার্স ব্লক' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এক্ষেত্রে আপনি কী করেন?

    মৃন্ময় মিজান: রাইটার্স ব্লকের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করাই ভালো। সম্ভব হলে এ সময়টাতে পড়াশুনা করে নিজেকে আরো সমৃদ্ধ করা যেতে পারে। আমার ক্ষেত্রে যেটা হয় আমি লেখার সময় পাই খুব কম। লিখতে ইচ্ছে করছে অথচ লেখতে পারছি না এ সমস্যা খুব একটা হয় না আমার।মাঝে মাঝে লেখার মত মানসিকতা থাকে কাজের চাপ কম থাকে বলেই। তখন লিখি। আবার যখন কাজের প্রচুর চাপ থাকে তখন লেখার মতো মানসিকতা থাকে না। তাই লেখা হয় না।

    ইফতেখারুল ইসলাম: আপনাকে ধন্যবাদ।

    মৃন্ময় মিজান: ধন্যবাদ তোমাকেও।

     

     

    একনজরে "নীলডুমুরের খেয়া"

    কাহিনী সংক্ষেপ
    চার প্রজন্মজুড়ে কাহিনীর বিস্তার। দু'জন অভিশপ্ত মানুষ। দু'টি পরিবার। জল, জংলা, চর-জীবন আর ইন্টারনেটের সীমানা পেরিয়ে এখানে ফুটে উঠেছে রাষ্ট্রিক অবক্ষয়। "নীলডুমুরের খেয়া" শুধুই কিছু কাহিনীর বিন্যাস নয়, চলমান স্রোতের প্রতিকূলে বয়ে চলা বিবেকের সাম্পান এক।

    প্রকাশক
    অনন্যা


advertisement