বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ২৫ জুলাই ১৯৮১

keyboard_arrow_leftসাহিত্য ব্লগ

আজি এ বসন্তে...

জাহাঙ্গীর অরুণ

  • advertisement

    আজি এ বসন্তে
    আব্বা, কোকিলটা কুহু কুহু কইরা কী বুঝাইতে চায়! কঠিন প্রশ্ন। অথচ বাবা সহজ করেই উত্তর দিলেন, কোকিলটা বুঝাইতে চায়, তোমার বিয়ার বয়স হইছে। এমনিতে কোকিলের কর্কশ ডাক। বসন্ত এমনই এক ঋতু যে এই কর্কশ কোকিল পর্যন্ত মধুর স্বরে ডেকে ওঠে। কোকিলাকে কাছে ডাকার এ এক ধরন। তা হলে এখন যৌবন যার তার বেহাল কেন হবে না?
    বসন্তই একমাত্র ঋতু, যার আগমনের উপস্থিতি পরিষ্কার বোঝা যায়। কাউকে বলতে হয় না বসন্ত ঋতু শুরু হয়েছে। গাছে গাছে সবুজ, নবীন পাতা উঁকি দেয়। পাগলা হাওয়া বলতে যা বোঝায়, সেই পাগলা হাওয়া অধীর হয়ে জড়িয়ে ধরে। পুরো প্রকৃতি যেন হেসে-খেলে চকমক করতে থাকে। ফাগুন মাসের ওপর ভর করে শুরু হয় বসন্ত ঋতু। যে মাসে আকাশ, বাতাস, রোদ- সবকিছু মনে দোলা দিয়ে শিহরণ তোলে, সেই মাসই ফাগুন মাস। আর এ মাসের আবহাওয়ার কথা বোঝাতে হলে কঠিন একটা শব্দ দিয়ে বলা যায়- নাতিশীতোষ্ণ। না শীত, না উষ্ণ।
    যাঁরা কেতাবি কবি নন, যাঁরা স্বশিক্ষিত মাটির কবি, তাঁদের কাছে বসন্ত ধরা দিয়েছে এভাবে : বসন্ত বাতাসে সইগো, বসন্ত বাতাসে/বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে।
    কবিগুরু এমন বসন্ত নিয়ে কত শত লেখা যে লিখে গেছেন, তার ইয়ত্তা নেই। কবি লিখেছেন, 'মধুর বসন্ত এসেছে/ আমাদের মধুর মিলন ঘটাতে।' আবার লিখেছেন, 'আহা আজি এ বসন্তে/এত ফুল ফোটে, এত বাঁশি বাজে/এত পাখি গায়।' শীতে যে পাতা মরে যায়, সেই পাতা নান্দনিক ছন্দে ঝরে পড়ে বসন্তের উতলা বাতাসে। কবিগুরু এই পাতা-ঝরা নিয়ে লিখেছেন, 'ঝরা পাতা গো, ঝরা পাতা/আমি তোমারই দলে।'
    'আসে বসন্ত ফুলবনে/সাজে বনভূমি সুন্দরী'- কাজী নজরুল বসন্তকে ছোট্ট করে এভাবেই দেখেছেন। না-পাওয়ার বেদনায় চিরবিরহী এই কবি একই গানে বিরহের ছাপ এঁকেছেন এভাবে, 'কবি তোর ফুল-মালি কেমন/ফাগুনে শুষ্ক পুষ্পবন/বরিবি বধূরে এলে চমন/রিক্ত হাতে কি ফুল ধরি!'
    জীবনানন্দের বসন্তের পিপাসা হয়তো সব কবির চেয়ে বেশিই ছিল। তিনি লিখেছেন, 'এদিকে কোকিল ডাকছে- পউষের মধ্যরাতে;/কোন একদিন বসন্ত আসবে ব'লে?' কবি অন্য এক কবিতায় আবারও কোকিলকে কল্পনা করেছেন শীতে। 'হে সময়গ্রন্থি, হে সূর্য, হে মাঘনিশীথের কোকিল, হে স্মৃতি, হে হিম হাওয়া/আমায় জাগাতে চাও কেন'। এখানেও কবি যেন বসন্তকে একটু আগেই কল্পনা করেছেন। এখানেও বসন্তকে কাছে পাওয়ার তৃষিত এক আর্তি।
    আমরা উৎসবপ্রিয় জাতি। নতুন ফসল কাটা হয়েছে, পিঠার উৎসব শুরু। এমন জাতি বসন্তে কিছু করবে না তা কি হয়? বসন্ত শুরুই হয় বাসন্তী রঙের মিছিলে। ফাগুনের প্রথম দিনটিতে বাসন্তী রঙের শাড়ি আর হরেক রকম ফুল খোঁপায় বেঁধে ললনারা যেন বাংলায় প্রাণের বার্তা ছড়িয়ে দেয় পথেপ্রান্তরে।
    জাহাঙ্গীর হোসেন অরুণ

    http://www.kalerkantho.com/index.php?view=details&type=gold&data=news&pub_no=1180&cat_id=2&menu_id=20&news_type_id=1&index=3#.UUAODjf_kTA

advertisement