বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ২৫ জুলাই ১৯৮১

keyboard_arrow_leftসাহিত্য ব্লগ

প্রজন্ম চত্বরে প্রযুক্তি

জাহাঙ্গীর অরুণ

  • advertisement

    প্রজন্ম চত্বরে প্রযুক্তি   
    বিদেশে-বিভুঁয়ে যার বেটা মারা যায়/ পাড়াপড়শী জানার আগে জানে তার মায়। আব্বাসউদ্দীনের বিখ্যাত একটি গান। প্রযুক্তির প্রভাব তখনো তেমনটা শুরু হয়নি। তাই সংবাদ পাওয়ার বাস্তব কোনো দ্রুত রাস্তা ছিল না। মায়ের আবেগ ও মায়াকে এখানে ইথারের মতো কল্পনা করা হয়েছে। আর এখন, আগের দিন কি আছে? দিন বদলাইছে না! হ্যাঁ, দিন বদলেছে। বাংলা ভাষায় নখদর্পণে বলতে একটা শব্দ আছে। অর্থাৎ নখের আয়নায়। প্রযুক্তির কল্যাণে গোটা পৃথিবী এখন নখদর্পণে। আর এরই ছোঁয়া লেগেছে বাংলাদেশে। শাহবাগে আজ তারুণ্যের নিষ্পাপ, নির্লোভ আন্দোলন। ১৯৭১ সালে তাদের অনেকের জন্মও হয়নি। কিন্তু জাতির কলঙ্কিত সব অধ্যায় এরা ধুয়েমুছে দিতে বদ্ধপরিকর। বুকের ভেতর কী পরিমাণ দেশপ্রেম থাকলে এমন আগুন জ্বলা সম্ভব তা শাহবাগে না গেলে কল্পনা করা যাবে না। আর বুকের ভেতরের এই দেশপ্রেমের আগুন প্রযুক্তির কল্যাণে ছড়িয়ে দিচ্ছে সবখানে। যার হাতে একাত্তরের যত প্রমাণ ছিল, হোক সে অডিও-ভিডিও কিংবা পেপার কাটিং- সব কিছু ছড়িয়ে দিচ্ছে ফেসবুকে, ব্লগে। যেই কাদের মোল্লার সর্বোচ্চ ফাঁসির দাবিতে সবাই ঘর ছেড়ে পথে নেমেছে আজ, সপ্তাহ পার হয়ে গেল সেই কাদের মোল্লার ভিডিও এখন ছড়িয়ে গেছে সবখানে। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সে পাকিস্তানি বাহিনীর একজন হয়ে ওই দোসরদের পেছনে দাঁড়িয়ে আছে। প্রযুক্তি যেন চাপা পড়া সত্যের মুক্তির এক অমোঘ হাতিয়ার। শাহবাগের তারুণ্যের এই দাবির মেলায় প্রযুক্তির ব্যবহার চোখে পড়ার মতো। কী নেই সেখানে? ভিডিও ক্যামেরা বসিয়ে চালু করা হয়েছে ওয়েভ স্ট্রিমিং। পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সেই আন্দোলনের স্ফুলিঙ্গে। সেই স্ফুলিঙ্গে গোটা দুনিয়ায় জ্বলে উঠছে সব বাঙালির হৃদয়। দূর থেকেও সরাসরি শাহবাগ দেখছেন সবাই। 'ক'-তে কাদের মোল্লা তুই রাজাকার, তুই রাজাকার.., ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, রাজাকারের ফাঁসি চাই- এমন ধ্বনিতে রক্ত টগবগ করে ফুটছে শাহবাগে। শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে ইন্টারনেট বিনা মূল্যে ব্যবহার করতে পারছে যে কেউ। এই ওয়াইফাই দিয়ে সমানে চলছে ব্লগিং, ফেসবুকিং, গুগুল প্লাসিং। আর প্রতিটির একই সুর, একই কথা। ফাঁসি চাই। টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে রিপোর্টাররা বলে চলেছেন তরুণদের আন্দোলনের বার্তা। প্রায় প্রতিটি টেলিভিশনই সরাসরি দেখাচ্ছে আন্দোলনের ভিডিও। সব নদী সাগরে মেশে, সব কণ্ঠও এক স্বরে বলছে, ফাঁসি চাই। প্রযুক্তিনির্ভর তরুণরা যে শুধু প্রযুক্তিকেই ভরসা হিসেবে নিয়েছে, তা নয়। তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েই আইনের বিভিন্ন ধারা নিয়ে আশার বাণীসংবলিত পোস্ট দিয়ে চলেছে ব্লগে, ফেসবুকে। আইনের বাইরে গিয়ে কেউ কিছু চাইছে না। দেশের প্রচলিত আইনের সর্বোচ্চ শাস্তিটাই এদের দাবি। উদাহরণ হিসেবে একজন ব্লগার লিখেছেন, দেশের আইনে যদি লেখা থাকত শতাধিক মানুষের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ সাজা হচ্ছে সাত দিনের জেল আর মৃদু চড়থাপ্পড় তাহলে আমরা তাতেই খুশি থাকতাম। দেশের সর্বোচ্চ শাস্তি যেহেতু ফাঁসি, সেই শাস্তিই আমরা চাই রাজাকারের জন্য। তারুণ্যের জয় হোক।
    জাহাঙ্গীর হোসেন অরুণ

    http://www.kalerkantho.com/index.php?view=details&type=gold&data=news&pub_no=1153&cat_id=2&menu_id=20&news_type_id=1&index=3

advertisement