সেদিন মেঘে ঢাকা রাত। বিদ্যুৎ ছিল না। রাইসা বিভোর ঘুমে মগ্ন। কোন একজন এসে রাইসার গা আলত ছুঁয়ে গেলেন। ঘুমঘোরে রাইসা ততোটা আঁচ করতে পারলো না। খানিকপর আবার কেহ হাত বুলাচ্ছিলেন। রাইসার ঘুম ভেঙ্গে যায়। 

সে অনুভব করে কোনো একজন তার গায়ে পরশ বুলিয়েছেন। ঘাড় ফিরায়ে তাকিয়ে কারো উপস্থিতি দেখতে পেল না। 
ভাবলো মনের ভুল। আবার ঘুমানোর চেষ্টা চালায়। চোখ বুজতেই কারো হাতের ছোঁয়া অনুভব করে। রাইসা দ্রুত চোখ মেলে তাকায়। 
তাকিয়ে দেখে কেহ নেই। বিছানা থেকে ওঠে মোম জ্বালিয়ে এদিক-সেদিক খুঁজে কাউকে দেখতে পায় না। এমন পরিস্থিতিতে ভয়ে আতকে উঠার কথা থাকলেও রাইসার বেলায় তা হয়নি। কেননা রাইসা ভূত-প্রেতে বিশ্বাস করে না। 
ভয়কে পাত্তা না দিয়ে পুনরায় ঘুমানোর চেষ্টা চালায়। ঘুম আসে, তবে বেশ সময় লেগে যায়। ততক্ষণে বিদ্যুতটাও চলে আসে। 
আযানের ধ্বনিতে ভোরে ঘুম ভাঙ্গে। অযু করে নামাজ পড়ে একটু আয়েশ করার জন্য বিছানায় হেলে পড়ে। রাতে ভালো ঘুম না হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়। এর মধ্যে কারো হাতের ছোঁয়া। তখনি হুড়মুড় করে লাফিয়ে ওঠে চমকে যায়। কেননা সে দেখে তারপাশে পাঠশালার সহপাঠী খুশবো বসে আছে। 
খুশবো জানতে চায়, ভয় পেয়েছ?
রাইসা জানায়, না, বরং খুশি হয়েছি। 
খুশবো বলে, আমি ভেবেছি তুমি ভূত ভেবে ভয় পাবে।
রাইসা বলে, ভূত-প্রেত বলতে কিছু নেই। আমি ওইসবে ভয় পাই না। 
খুশবো জানায়, আছে। ভূত আছে।
রাইসা জানায়, থাকলে থাকবে। এখন তুমি কেমন আছ বলো? কতদিন পর দেখা! বছর পার হয়ে গেছে, তাই না?
খুশবো জবাব দিবে, এমন সময় রাইসার মা ঘরে চলে আসেন। এসে জানতে চাইলেন, একা একা কী বিরবির করছো? কিছু খেয়ে পড়তে বসো।
রাইসা হতভম্ব হয়ে যায়। মায়ের উপস্থিতির সময় খুশবো পাশে ছিল না। থাকবে কী করে? গত বছর খুশবোর মা-বাবা খুশবোকে বাল্যবিবাহ দিতে যাচ্ছিলেন। প্রতিরোধ স্বরূপ অভিমান করে খুশবো বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ হয়েছে কিন্তু সে কোথায় আছে তার কোন হদিস নেই।