বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ৬ জুন ১৯৮২

মোহরানা

  • advertisement

    মুসলিম সম্প্রদায়ের বিয়ের একটা অপরিহার্য অংশ হল মোহরানা। এটা এমন একটা অর্থ বা সম্পদ যেটা স্ত্রী’র প্রাপ্য এবং স্বামীকে অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। ইসলাম ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী এটা পরিশোধ করা না হলে বৈবাহিক বন্ধন বৈধ হয় না। মোহরানা পরিশোধ না করা আর Live-together করা একই জিনিষ বা বলতে পারেন এই বিয়ে হল Live-together এর একটা সামাজিক স্বীকৃতি মাত্র। অজ্ঞতার কারনে মানুষ আজকে এই ধর্মীয় নিয়ম কে নিছক সামাজিক প্রথায় পরিণত করে ফেলেছে। যদি জরিপ চালান হয় তাহলে আমার মনে হয় না ১% বিবাহিত লোক ও পাওয়া যাবে যারা তাদের স্ত্রীদের মোহরানা ঠিকমত পরিশোধ করে ফেলেছে। শুধুমাত্র এই কারণে মেয়েরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অথচ কয়জনের এই ব্যাপারে মাথা ব্যথা আছে? আজকের সমাজে যৌতুক নিয়ে সবাই সতর্ক এবং সবাই জানে যে ইসলাম ধর্মে এটা নিষিদ্ধ। কিন্তু মোহরানা পরিশোধ না করে স্ত্রীকে তার প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে এই ব্যাপারে কোন মহলেই তেমন কোন উচ্চবাচ্য নেই। সবাই ধরেই নিয়েছে বিয়ে পড়ানোর সময় মোহরানা জাতীয় কিছু একটা থাকতে হয় আর এটা  পরিশোধ করলেই বা কি আর না করলেই বা কি। কিন্তু কয়জন এটা নিয়ে চিন্তা করে দেখেছে যে এটা ছাড়া বিয়ে বৈধ হয় না? আমার প্রশ্ন হল, তাহলে যেই সামাজিক স্বীকৃতি দিয়ে বিয়ে করা হলো, সেটা যদি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বৈধ না হয়, তাহলে এই দাম্পত্য জীবনে যে সব সন্তান জন্মগ্রহন করে, তাদের জন্ম কতখানি শুদ্ধতার দাবি রাখে? শুদ্ধ বৈবাহিক বন্ধন ছাড়া কোন সন্তান জন্মালে আমাদের সমাজ তাকে ‘জারজ’ আখ্যা দিতে পটু। তাহলে যেই সমাজ ব্যবস্থাপনায় নগন্য কিছু পুরুষ ছারা কেউই ঠিকমত মোহরানা পরিশোধ করে না, তাহলে সেই সমাজের অবস্থান কোথায় গেল? পুরা সমাজটাই কি ‘জারজ’ সম্প্রদায় হয়ে গেল না? এই প্রশ্নের উত্তরের ভার আমি আপনাদের কাছেই ছেড়ে দিলাম।

     

    বর্তমানে আমাদের সমাজে একটা আধুনিক Fashion চালু আছে। সেটা হলো মোহরানা’র অঙ্ক বা পরিমান। কন্যাপক্ষের ধারণা যে উচ্চমাত্রার মোহর ধার্য করা না হলে তাদের Prestige থাকে না। কিন্তু এই ধারণা কয়জন মেয়ের অভিভাবক রাখেন যে তাদের মেয়ের এই ন্যায্য অধিকার আদায় হবে কি হবে না? বা পাত্র আদৌ এই ব্যাপারে ওয়াকেবহাল কিনা? কিংবা পাত্রের আদৌ ওই অর্থ পরিশোধ করার সামর্থ আছে কিনা? ইসলাম তো শান্তির ধর্ম। এখানে কারও উপরে তো জোর করে কিছু চাপায়ে দেয়া হয় নাই। বিয়ে তো শুধুমাত্র একটা সামাজিক অনুষ্ঠান না বরং এর সাথে ধর্মীয় অনেক নিয়ম রয়ে গেছে যা সারা জীবনের সাথে সম্পৃক্ত। পাত্রীপক্ষের এই খামখেয়ালীপনার স্বীকার হচ্ছে নিরপরাধ কিছু ছেলে আর মেয়ে। যাদের বৈবাহিক বন্ধন এর সুত্রপাত ঘটে অবৈধতার সামাজিক স্বীকৃতি নিয়ে। মেয়েরা তো কোন পণ্য সামগ্রী না যে বিয়ের সময় মোহরানার নাম করে তাদের কে নিলামে উঠানো হচ্ছে। বেশী মোহরানা ধার্য করে যে নিজের আদরের মেয়েকে পাত্রপক্ষের কাছে বিক্রি করে দেয়া হল সেই ব্যাপারে কয়জন বাবার মাথা ব্যথা আছে?

     

    মোহরানার অঙ্ক তো নির্ধারণ হওয়া চাই পাত্রের সামর্থ অনুযায়ী। এখানে বাড়াবাড়ি করার কোন অবকাশ ইসলামে নেই। মুসলিম বিধিমতে যে বিয়ের মোহরানার অঙ্ক কম থাকে সেই বিয়ে এবং দাম্পত্য জীবন কল্যাণময় হয়। তাহলে এই অপরিহার্য বিধান নিয়ে একটা ছেলে আর মেয়েকে বিয়ের মাধ্যমে অকল্যাণের মধ্যে ঠেলে দেয়ার অর্থ কি? পাত্রীপক্ষ ইচ্ছামত মোহর ধার্য করছে আর পাত্রপক্ষ এটা পরিশোধ করছে না, পাত্রীর অভিভাবকের এই বিষয়ে মাথা ব্যথাও নাই; তাহলে কি এর অর্থ এই দাঁড়াল না যে, পাত্রীপক্ষ পাশ্চাত্য সভ্যতা(!)’র অনুগামী হয়ে তাদের মেয়েকে Live-together এর জন্য পাত্রের হাতে তুলে দিলেন? এখানে ভেবে দেখার অনেক বিষয় রয়ে গেছে।

     

    সবার কাছে আমার শেষ আরজ, এমন ঘটনা আমাদের সমাজে চলতে দেয়া যায় না। নিজেদের মেকি Status এর মুখে আমারা আমাদের সমাজ যে ‘জারজ’ বানায়ে ফেলতেও দ্বিধা করছি না। ধিক! শত ধিক! ঐসব মানুষকে যারা মুখে ইসলামের বাণী আউড়ান অথচ নিজেদের বেলার নৈব নৈব চ। বন্ধ করেন বিয়ের আসরের এইসব প্রহসন। কেউ আর তার ছেলেমেয়েদের এমন অনিশ্চিত এবং অকল্যানময় জীবনের দিকে ঠেলে দেবেন না এই প্রত্যাশাই রইল। সবার অধিকার সুনিশ্চিত হোক আর আমাদের সমাজ তার কলঙ্কময় অধ্যায় থেকে মুক্তিলাভ করুক।

advertisement