বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ৬ জুন ১৯৮২

পাপী’র প্রার্থনা (কবিতা)

  • advertisement

     

    পাপী আমি কহিলাম ইশ্বরে, ক্ষমা কর হে প্রভু!
    সুযোগ দাও মোরে! আর পাপ করিবোনা কভু।
    তোমার সামনে আসামী আমি, আমি মহাপাপী-
    পাপে জর্জরিত হয়েও আমি হলাম অনুতাপী।
    অপার করুণারাশি তোমার, ক্ষনা করে দাও মোরে,
    ভিক্ষার হাত বাড়ায়ে আমি দাঁড়ায়ে তোমার দ্বারে।
    ফিরায়ে যদি দাও তুমি, কোথা যাব আমি আর?
    নিখিলবিশ্ব ত্রিভূবনে যে প্রভু সব তোমারই দরবার!
    শাস্তি দিও না মোরে প্রভু, আমি যে বড়ই দূর্বল-
    সমস্ত শক্তির আধার তুমি, তোমারই ক্ষমতা প্রবল।
    কৃপা কর প্রভু! তুমি অন্তর্যামী, অপার করুণারাশি-
    পাপ করা সত্ত্বেও দয়া লইতে তোমার কাছেই আসি।
    করুণার দ্বার খুলে দাও তুমি হে মহান করুণাময়-
    তোমার উপরে নেই আর কেহ! নেই কোন সংশয়।
    চাইতে জানি না আমি, প্রভু আমি যে তুচ্ছ অযোগ্য!
    আপন মহিমায় দান কর দাতা, তুমি যে মহান বিজ্ঞ।
    রিপুর তাড়নে বারংবার আমি করিয়া ফেলি পাপ-
    হে রাজাধিরাজ! মহান তুমি! দিও নাকো অভিশাপ!
    ক্ষমার ঘোষণা করিয়াছ তুমি তোমারই মহাগ্রন্থে,
    সেই আশার সুর বেজে উঠেছে আমারই রন্ধ্রে রন্ধ্রে।
    যদি তুমি ক্ষমা কর প্রভু, এই পাপীর হইবে গতি-
    স্বয়ম্ভু তুমি! অমুখাপেক্ষী দাতা, তোমার হইবেনা ক্ষতি।
    সৃষ্টজনে শাস্তি দিলে তোমার বাড়িয়া যাবে না সন্মান-
    কে না জানে, মানুষের প্রতি তোমার কতখানি আছে টান!
    অবিশ্বাসীদের প্রতিও সদা সর্বদা তুমি দেখাও যে কৃপা-
    আকাশে পাতালে সর্বত্রই যে সে কথাই আছে ছাপা।
    কারুন যদি একটিবার মুখে লইতো তোমার নাম,
    সন্দেহ নাই তুমিই তারে করিয়া দিতা পরিত্রাণ!
    বারংবার তুমি সযোগ দিয়াছ নরাধম যে ফেরাউন,
    শাস্তির উপরে ক্ষমাই প্রবল! এমনটাই তোমার কানুন।
    অপার করুণারাশি তোমার বিছায়ে রাখিছো সদা-
    সৃষ্টিকে ক্ষমার নিমিত্তে তুমি অপেক্ষমান সর্বদা।
    পাপ করিয়াছি বলে তুমি বন্ধ করোনি আহার,
    শেষ বিচারে ক্ষমা করে দিও, করোনা তুমি প্রহার।
    অপরাধী বলে সবার সামনে, দিও না তুমি লাঞ্ছনা-
    তোমার ক্ষুদ্র অসন্তুষ্টি প্রভু আমরা সইতে পারিবো না।
    শস্যের সমান দামে যেমন বিকে যায় তুচ্ছ কঙ্কর-
    এমনি করে পার করে দিও শেষ বিচারের প্রান্তর।
    পাপকে নিয়ন্ত্রণ করার শক্তি করে দাও তুমি দান,
    অনুমতি তোমার লাগেনা কারো! তুমি যে সুমহান!
    বৃক্ষেরা যদি লেখনী হয় আর সাত সমূদ্রের কালি-
    করুণা লিখেও শেষ হবে না, তুমিই পরাক্রমশালী।
    সমগ্রসৃষ্টির জন্যই যথেষ্ট তোমার একটুখানি দয়া,
    বিন্দুবৎ দিও মোরে! চঞ্চল হয়ে আছে মোর হিয়া।
    পাপের কারণে আমার তরে রেখোনা কোন সাক্ষী,
    জোড়হাতে তাই ভিক্ষা চাই, অশ্রুতে পূর্ণ আঁখি।
    বুঝে, না বুঝে, পাপ করি! বড়ই নিকৃষ্ট আমি-
    মনের খবর কে জানে? শুধু তুমি জানো অন্তর্যামী!
    দয়াময় তুমি! হে অন্তর্যামী! করে দিও মোরে মার্জনা-
    দীনহীন আমি! ফিরাইয়া দিও না, গ্রহন কর এ প্রার্থনা।

advertisement