বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ২৭ মে ১৯৬৮

মানুষ ও নারী

  • advertisement

    একজন নারী। নাম রহিমা।

    পরিচয়, রহিমা কাজের মেয়ে। অভিজ্ঞতাটাও কম নয়। পাঁচ ছয় বছরের কাছাকাছি। বিদ্যা বুদ্বিও নিতান্ত কম নয়। থ্রী কি ফোর পর্যন্ত পড়ালেখা। তারপর বাবার মৃত্য। ব্যাস্ মেয়ে মানুষের উপর সংসার। আর কতটুকুই বা এগুনো যায়।

    বয়স বাড়ার সাথে সাথে রহিমার কাজের অভাব হয় না। ডাকও পরে এ বাড়ী ও বাড়ী। আবার দ্বিমতও হয়। বিশেষ করে যে পরিবারে গিন্নির স্বাস্থ্যহানী বেশী ওরা ভালোভাবে নেয় না। রহিমাকে অপবাদ দেয়। যেন তেন নয়। পুরুষ খেকো অপবাদ।

    টগবগে যৌবন বলে কথা। রহিমার রুপ তেমন নেয়। আছে যৌবন। প্রেম আছে। আছে মন। তবে তা সীমিত। গরীবের আবার প্রেম, সেই ভয়টায় বেশী। তার উপর কাজের মেয়ে। লাথি গুতা খেয়েও যার যৌবন ঠিকরে বের হচ্ছে শরীরের প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে।

    পনেরোর কাছাকাছি বয়স। অনেক কিছুই বোঝে। এ বাড়ীর গিন্নির চাইতে কর্তার আদরটায় যেন একটু বেশী। কাজের ফাঁকে নানা ছল ছুঁতোয় রহিমার গায়ের ঘামের গন্ধ শুঁকে। জিব বের করে লোলুপ দৃষ্টিতে থাকিয়ে থাকে। শরীরের ভাঁজে যদি একটু হাত রাখা যেত। কাঁধের নীচে হাত রেখে সমবেদনা জানায়। ইস্ কি কষ্টটায় না হচ্ছে তোর। শাড়ীটা ছিড়ে গেছে। আমি কালই তোর জন্য একটা দামী শাড়ী নিয়ে আসবো।

    রহিমা কাজের মেয়ে। তাই অতটা ভোগ বিলাস পছন্দ নয়। রহিমার মা আসে। কর্তার সহাস্য উপড়িতে বিদায় নেয়। মেয়েতো ভালোই আছে। অন্ততঃ খাওয়া পরার অভাব নেয়। সাহেব মানুষটাও মন্দ না। ভালো মন্দ দেখ ভালো করে। নিজে থেকে শাড়ী কিনে দেয়।

    রহিমার ভিতরের মানুষটা অন্য রকম। প্রতিবাদী। নিজের মনে নিজেই বিদ্রোহ করে। প্রকাশ করতে পারে না। পত্রিকার পাতায় চোখ আটকে যায়। জল ছল ছল করে। নুরজাহানের কথা মনে হয়। ওটুকুতেই শেষ। ক’দিন থানা পুলিশ। বিনে পয়সায় নূরজাহানরা আর ক’দিন বেঁচে থাকবে খবরের পাতায়। কোন সুরাহা হয় না। দোষী সাজা হল না বেকসুর খালাস পেল সে খবর রহিমার কান পর্যন্ত পৌঁছায় না। রহিমারা তাই অনেক বেশী সন্ত্রস্ত।

    গিন্নির অত্যাচার। ওটা তেমন গায়ে মাখে না। রহিমার ধারনা, কাজ করে যখন খাচ্ছি ওটুকু কষ্ট তো সইতেই হবে। রহিমাকে মানুষ হিসাবে দেখে না। এতে বড় রাগ হয়। গিন্নির পা টিপতে গিয়ে সে রাগ বেশীক্ষন স্থায়ী হয় না।

    মনিবের কুদৃষ্টি সারাক্ষন। সুযোগটা নিল সেদিন। গিন্নি ছিল না। থুতনিতে চিক চিক করছে ঘাম। নাকের ডগায়ও। বুকের আঁচলটা সরিয়ে ঘাম মুছতে গিয়ে বাঁধল বিপত্তি। কর্তা দামী তোয়ালে এগিয়ে দিয়ে বলল - এ কি করছিস। এই নে তোয়ালে। এটা তো তোর জন্য। তোয়ালে দিতে গিয়ে হাতটা বেশরম হয়ে গেলো। লাজ লজ্জার মাথা মুড়িয়ে বেসামাল হয়ে উঠল রক্ত কণিকা। শরীরের উত্তাপ ছিল সুর্য্যরে উত্তাপের চেয়েও প্রখর। রহিমার চোখ ঝলসে যাচ্ছিল। কতটা প্রখর উত্তাপ হলে সুর্যের দিকে চোখ তুলে থাকানো যায় না, তা রহিমার জানার কথা নয়। রহিমার শুধু মিনতি ছিল - আপনে আমার বাবার লাহান। আমার সর্বনাশ কইরেন না। আপনের পায়ে পরি।

    মনিবের অস্বাভাবিক আচরন। অর্থের প্রলোভন। শরীরের বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ার। সব শক্তি যেন এক সাথে মিশেছে। ঠেকায় কে ? অনেক অর্থ, শাড়ী গয়নার হাতছানিতে বিছানায় শুইয়ে দিতে চাইল।

    মুচকী হাসল রহিমা। বাঁকা চোখে সম্মতির ইঙ্গিত। বলল - একটু দাঁড়ান। আমি আসছি। কর্তা রাজরানী বানাতে চায়। একটু বিশেষ সময়ের জন্য। তারপর আবার তাড়িয়ে দেবে। রহিমা ভালোই জানে।

    রান্না ঘরে ভাত বসিয়ে এসেছে। ভাতটা পুড়ে যাচ্ছে। চোখের সামনে তরকারী কাটার বটি। এক মূহুর্ত ভাবল রহিমা। মন সায় দিল। বটিটা হাতে নিয়ে শোয়ার ঘরে যেতেই কর্তা বিব্রত বোধ করলেন। তিনি বিছলিত হলেন। প্রান বাঁচাতে হবে। শরীরের উত্তাপ নেমে এসেছে শুন্য ডিগ্রিতে। নেতিয়ে পরেছে সমস্ত ইন্দ্রিয়। ব্যর্থতার রুদ্ররোষে রহিমার সতীত্বের  দেয়াল ভেঙ্গে যাবে। এমনকি জীবনও যাবে।

    রহিমা নিশ্চিত জানে। তার লাশ পাওয়া যাবে হয়তো নর্দমায়, নয়তো কোন স্যুটকেসে পাওয়া যাবে হাত পা কাটা টুকরোগুলো, কিংবা গ্রাম্য শালিশে বিচার হবে। নূরজাহানের মতো বিচার হবে। দোররা মেরে মাটিতে পূঁতে হত্যা করা হবে। ইস্যু একটায়। রহিমা টাকার লোভে মনিবকে পটিয়ে বিছানায় যেতে চেয়েছিল। তাতে রায় কখনও রহিমার পক্ষে যাবে না।

    সে যাত্রায় হয়তো রক্ষা। রহিমা জীবন বাজী রেখে পথে নামে। সমাজ মুখ টিপে হাসে। নিন্দা রটায় রহিমা বেশ্যা। বেশ্যারাও তো মানুষ। কারা একজন নারীকে বেশ্যা বানায়। তা সবাই জানে। জানে রহিমাও। বেশ্যা হয়েও কারো কুদৃষ্টি এড়াতে পারে না। ভালো হতো, যদি পুরুষ মানুষগুলো বেশ্যাদের মনে প্রাণে ঘৃণা করতো। তাদের কাছে না যেতো। রাতের অন্ধকারে চুপি চুপি পশুর ক্ষিদে না মেটাতো। তবে তো আর বেশ্যা সৃষ্টি হতো না। রহিমারাও বেশ্যা বলে স্বীকৃতি পেতো না। মানুষ হিসাবে বাঁচতে পারতো। আর পুরুষগুলোই বা কেমন ? দিনের বেলায় তারা বেশ্যা দেখলে সাতবার তওবা করে, ঘৃনা করে। চোখ তুলে তাকাতেও যেন লজ্জায় মরি মরি। আর রাতের বেলা ভালোবাসাটা যেন উথলে উঠে। কারন রাতের অন্ধকারে চেহারা দেখা যায় না।

    রহিমা ঘৃনা করতে জানে। আর জানে আমি বেশ্যা নই। আমি মানুষ। নারী হিসাবে ভালোবাসতে পারি। সংসার করতে পারি। প্রাকৃতিক নিয়মে সন্তান জন্ম দিতে পারি। আমি সব দিতে পারি একজন পুরুষকে, যদি সেই পুরুষটি একজন মানুষ হয়।  

advertisement

  • লুতফুল বারি পান্না
    লুতফুল বারি পান্না শুরুর দিকে সাদামাটা লাগছিল। মাঝপথ থেকে পুরা অন্যরকম। সত্যি আপনি জীবনশিল্পী।
    প্রত্যুত্তর . ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১২
    • মিলন বনিক পান্না ভাই..আপনি বলছেন এ কথা! কি বলে যে কৃতজ্ঞতা জনাব ভাবতে পারছি না..অনেক ধন্যবাদ দাদা...
      ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • নৈশতরী
    নৈশতরী কিখুত ভাবে অনেক ছোট ছোট বিষয় ও লেখকের নজর এড়াতে পারেনি দেখে খুব আশ্চর্য লাগছে !! সত্যি দক্ষতা ছাড়া এইভাবে লেখা সম্ভব না !! অনেক পথ হেটে এসেছেন বলেই হয়ত পেছনে আশা নতুনদের একটু বেশি অদ্ভুত মনে হচ্ছে !! ভালো লেগেছে আপনার নারী ও মানুষ !!
    প্রত্যুত্তর . ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১২
    • মিলন বনিক অনেক ধন্যবাদ নৈশতরী..ব্লগে আমার লেখাটি পড়েছেন এবং মন্তব্য করেছেন...এ যে অনেক বড় পাওয়া....
      ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • প্রিয়ম
    প্রিয়ম সুন্দরভাবে সাজিয়ে লিখা , ভালো লাগলো অনেক অনেক |
    প্রত্যুত্তর . ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১২
    • মিলন বনিক ধন্যবাদ প্রিয়ম ভাই...অনেক অনেক শুভ কামনা...
      ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১২