বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ৩০ জানুয়ারী ১৯৮৫

keyboard_arrow_leftসাহিত্য ব্লগ

আইনসভায় : পর্নো উন্মাদদের হাতে বন্দি গণতন্ত্র!

শামস্ বিশ্বাস

  • advertisement

    ভারতের উত্তর প্রদেশের আয়তন এমনই যে একটি স্বাধীন দেশ হলে তা হতো বিশ্বের পঞ্চম জনবহুল দেশ। প্রায় ২০ কোটি জনসংখ্যার এই প্রদেশের বিধানসভার ভোটে ধর্মীয় জাতপাতে বিভাজিত প্রায় এক কোটি ৪৪ লাখ ভোটার ৮৬২ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবে, যার মধ্যে শতাধিক বিভিন্ন ফৌজদারি মামলার আসামি। এই প্রদেশের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় রাজনীতি। কারণ, এই হিন্দুবলয়ের সংখ্যাগরিষ্ঠরাই স্বাভাবিকভাবে ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে এগিয়ে যাবে। দিল্লীশ্বর কংগ্রেস যখন নানা রকম দুর্নীতি-কেলেঙ্কারিতে আক্রান্ত, লক্ষ্নৌ অধিপতি মায়াবতী তখন তাঁর পূর্ববর্তী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতায় নিমজ্জিত। এ অবস্থায় দুর্নীতিবিরোধী জিহাদ, নীতি-আদর্শ, গেরুয়ার শক্তির কথা বলে, হিন্দু ইউটোপিয়া আর রামমন্দির নির্মাণের প্রতিশ্রুতি নিয়ে উত্তর প্রদেশে যখন প্রথম দফার ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ বিজেপি, ঠিক তখনই চরম অস্বস্তিতে পড়ল বিজেপি।

    বিধানসভার অধিবেশন চলাকালে খাস বিধানসভায় মোবাইল ফোনে পর্নো দেখছিলেন এ দলের দুই বিশিষ্ট মন্ত্রী। প্রথমটায় কেউই স্বীকার করতেই চাইছিলেন না, মোবাইল ফোনটি কার। ফাঁসলেন তৃতীয় আরেক মন্ত্রী। জানাজানি হতেই ছিঃ ছিঃ পড়ে গেল ভারতজুড়ে, বিস্ময় বিশ্বজুড়ে। জনরোষ থেকে বাঁচতে বাধ্য হয়ে পদত্যাগ করলেন তিনজনই। বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে পরিচিত ভারতের এই জাতীয় লজ্জা কিভাবে নিবারণ করা সম্ভব, তা নিয়ে ভারতজুড়ে প্রবল বিতর্ক ও আলোচনার ঝড় শুরু হয়েছে।

    ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার। ঘটনাস্থল কর্ণাটক বিধানসভা ভবন। হিন্দুত্ব সংক্রান্ত একটি জটিল ইস্যু নিয়ে তুমুল তর্ক-বিতর্ক চলছিল বিধানসভায়। এক বিধায়ক জানাচ্ছিলেন, রাজ্যের বিজাপুর জেলার কোনো এক এলাকায় বছরের প্রথম দিনে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার বিধায়কের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতে দাবি তোলা হচ্ছে স্পিকার কে জি বোপাইয়ার কাছে। সব মিলিয়ে চরম উত্তাপ বিধানসভায়।

    তখনই খানিকটা পেছনের আসনে পাশাপাশি বসে ছিলেন বিজেপির সমবায়মন্ত্রী লক্ষ্মণ সাভাদি, মহিলা ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী সি সি পাতিল এবং বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি ও বন্দরবিষয়কমন্ত্রী কৃষ্ণ পারেমার। তাঁরা বিধানসভার বিতর্কে অংশ নেননি। এবং সম্ভবত বিতর্কের বিষয়ে ওয়াকিবহাল ছিলেন না। তাঁরা ব্যস্ত ছিলেন অন্য কাজে। একটি বেসরকারি নিউজ চ্যানেলের তোলা গোপন ভিডিও ফুটেজে ধরা পড়েছে তাঁদের সেই কর্মকাণ্ডের ছবি। এক মন্ত্রী টেবিলের নিচে লুকিয়ে মোবাইল ফোনে ছবি দেখছেন। তাঁকে দেখে পাশে বসে থাকা আরেক মন্ত্রীও এগিয়ে এলেন। দুজনে মিলে খুব মনোযোগ দিয়ে ভিডিও দেখছিলেন। তবে সেটা যে পর্নো ফুটেজ, তা প্রথমটায় বুঝতে পারা যায়নি। গোপন ক্যামেরার ছবি জুম করে বিশদে দেখার পরই বোঝা যায় প্রকৃত ঘটনা।

    তবে অভিযুক্ত তিন মন্ত্রীর মধ্যে কার হাতে সে সময় মোবাইল ফোনসেটটি ছিল, তা নিয়ে কিঞ্চিৎ বিতর্ক রয়েছে। কেননা, কৃষ্ণ পালেমার বলেছেন, সে সময় তিনি কোনো ছবি দেখছিলেন না, তাই তাঁর ওপর কোনো অভিযোগ বর্তায় না। কিন্তু অন্য দুই মন্ত্রী বলেছেন, মোবাইল ফোনটি কৃষ্ণ পালেমারের; এবং তিনিই নাকি তাঁদের প্ররোচিত করেছিলেন ভিডিওটি দেখতে। কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর দুই মন্ত্রী অবশ্য নিজেদের বাঁচাতে অনেক সাফাই দিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, বেঙ্গালুরু থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরের কেন্দ্র উদিপিতে একটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে সম্প্রতি। কিন্তু জনৈক দলীয় কর্মী তা অস্বীকার করছিল। সে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের জন্যই ওই ভিডিওটি দেখছিলেন তাঁরা। ওই মন্ত্রীদের পাল্টা প্রশ্ন, 'এতে দোষের কী আছে? তাঁরা তো জনগণের ভালোর জন্যই কাজ করছিলেন।'

     

    সংসদে বসে পর্নো দেখার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগে ২০১১ সালে ইন্দোনেশিয়ার রক্ষণশীল ইসলামিক প্রস্পেরাস জাস্টিস পার্টির (পিকেএস) সদস্য আরিফিন্টো সংসদের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন চলাকালে নিজ ট্যাবলেট কম্পিউটারে পর্নো দেখার সময় ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় ধরা পড়লে তাঁকেও সংসদ থেকে পদত্যাগ করতে হয়।

    তবে বিতর্ক অন্যখানে। দেশ এবং সংবিধান রক্ষার দায়িত্ব যাঁদের হাতে, তাঁরা যদি খোদ আইনসভার ভেতরে বসেই এ ধরনের অনৈতিক কাজ করেন এবং পরে সে বিষয়ে সাফাই দেন, তাহলে জনগণ কী করবে? বিজেপি এবং সঙ্ঘ পরিবারের নেতা-কর্মীরা প্রতিবছর ভ্যালেন্টাইনস ডেতে ভারতজুড়ে তরুণ-তরুণীদের স্বাভাবিক আচরণে বাধা দিয়ে নিজেদের 'ধর্মপ্রবণতা' জাহির করতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। এ বছরও যখন বজারং দল সেই কর্মসূচির জন্য তৈরি হচ্ছে, তখন খাস বিধানসভায় বসে দলের তিন মন্ত্রী নীল ছবি দেখায় তাদের ধর্মের কল বাতাসে নড়ে উঠল বলেই মনে করছেন অনেকে।

    তবে অশ্লীলতার দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার ঘটনা বিজেপিতে নতুন নয়। সম্প্রতি এক নার্সের অন্তর্ধান এবং হত্যার সঙ্গে নাম জড়িয়ে ছিল রাজস্থানের পানিসম্পদমন্ত্রী মাহিপাল মাদেরনার। শেষ পর্যন্ত তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়।

    ২০০৮ সালে দাক্ষিণাত্যের প্রথম রাজ্যে সরকার গঠনের পর থেকেই একের পর এক বিতর্কের সম্মুখীন হতে হয়েছে বিজেপিকে। কর্ণাটকের সাবেক শুল্কমন্ত্রী রেণুকাচরণ প্রকাশ্যে এক নার্সকে আলিঙ্গন ও চুম্বনের চেষ্টা করেছিলেন। পরে সেই নার্স মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছিলেন। ২০১০ সালে সাবেক বিজেপি বিধায়ক এবং খাদ্য, অসামরিক সরবরাহ ও ক্রেতা সুরক্ষাবিষয়কমন্ত্রী হরতালু হলাপ্পাকে এক বন্ধু-বিধায়কের স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে জেলে যেতে হয়। সেটাও ফাঁস হয়েছিল গোপন ক্যামেরায়। ২০১১ সালে খনি কেলেঙ্কারিতে যুক্ত থাকার অভিযোগে জেল খাটেন কর্ণাটকের সাবেক পর্যটনমন্ত্রী জি জনার্দন রেড্ডি। এমনকি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পার বিরুদ্ধে এক ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক রাখার অভিযোগ উঠেছিল। তবে তাঁকে জেলে যেতে হয়েছিল গত বছর জমি-দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে।

    কর্ণাটক বিধানসভার মতোই লোকসভার (ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ) অবস্থা। ভারতের বর্তমান লোকসভার নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের দায়ে আদালতে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এসব অপরাধের মধ্যে ভূমি দখল থেকে শুরু করে হত্যা মামলা পর্যন্ত রয়েছে। অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর) জানিয়েছে, ভারতীয় পার্লামেন্টের ৫৪৩ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ১৫৩ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ঝুলছে। তাঁদের মধ্যে ৭৪ জন ডাকাতি এবং হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত। উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি এবারকার পার্লামেন্টে ১১৬টি আসন পেয়েছে। এই ১১৬ জনের মধ্যে ৪৩ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৯ জন গুরুতর অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত। ক্ষমতাসীন কংগ্রেসের আসন ২০৬টি। তাঁদের মধ্যে গুরুতর অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ১২ জনসহ মোট ৪১ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দরিদ্র মানুষ ভারতে বসবাস করলেও দেশটির নির্বাচিত ৫৪৩ জন লোকসভার সদস্যের মোট সম্পদের পরিমাণ তিন হাজার কোটি রুপির বেশি।

    তা কেমন চলছে ভারতীয় গণতন্ত্র? ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের দুনিয়ার সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের দেশটিতে খোলামেলা তর্ক-বিতর্ক ও আলোচনাকে একসময় বেশ মূল্য দেওয়া হতো। কিন্তু ইদানীংকার দৃশ্য হচ্ছে, কয়েক মিনিট হৈ-হল্লা শেষে সংসদ সদস্যরা সংসদ থেকে কেটে পড়তে চান। তাই দাবি উঠেছে, 'কাজ নেই, পয়সা নেই'_সংসদে এমন নতুন বিধি আইনপ্রণেতাদের জন্য চালু করা যায় কি না। সংসদের প্রতি কর্মঘণ্টার জন্য আনুমানিক পাঁচ লাখ ৫০ হাজার রুপি এবং সংসদ সদস্যদের দৈনিক ভাতা বাবদ আরো অর্থ খরচ করা হয়। কিন্তু আইনপ্রণেতারা প্রয়োজনীয় বিল সংসদে তুলে ধরতে, এর ওপর আলোচনা করতে এবং বিল পাস করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন।

    'পিআরএস নোজিস্লোটিভ রিসার্চ' নামের স্বতন্ত্র একটি সংস্থা দেখাচ্ছে, ২০০৯ সালে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সরকার সংসদের সাতটি অধিবেশনে ২০০টি বিল পাস করতে চেয়েছিল। কিন্তু পাস করানো সম্ভব হয়েছে মাত্র ৫৭টি। গত শীতকালীন অধিবেশনের মোট ১৩৮ কর্মঘণ্টার মধ্যে মাত্র সাত ঘণ্টা সংসদে ব্যয় করেছেন। তবে শীতকালীন অধিবেশন শেষ হওয়ার পর ভারতের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির প্রবীণ নেতা লাল কৃষ্ণ আদভানি দাবি করেন, কোনো কোনো সময় সঠিকভাবে কাজ না হলেও তা সুফল বয়ে আনে।

    সংসদ অচল থাকলেও সাংসদরা সময় বের করে নিয়ে নিজেদের মর্যাদা ভারতের ভিআইপিদের সমস্তরে উন্নীত করার দাবি জানাতে পারেন, দাবি করতে পারেন গাড়িতে ফ্ল্যাশ-লাইট সরবরাহ করতে হবে, যাতে জনাকীর্ণ সড়কে দ্রুত চলাচল করতে পারেন, সুপারিশ করতে পারেন সরকারি আমলাদের তালিম দিতে হবে, যাতে রাজনীতিকদের সঙ্গে তাঁরা আরো ভদ্র ব্যবহার রপ্ত করেন।

    ভারতের দৈনিক ইকোনমিস্ট টাইমসের উপদেষ্টা সম্পাদক স্বামীনাথন আইয়ার হতাশা ব্যক্ত করে লিখেছেন, সব দলই মনে হয় লজ্জাকরভাবে অলিখিত একটি চুক্তিতে উপনীত হয়েছে। আর তা হলো, সংসদকে অচল করে দেওয়াই এমপিদের মৌলিক অধিকার।

    নিয়মিত সংসদীয় আচরণ বিধি লঙ্ঘনের ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করে কিছুদিন আগে ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষের স্পিকার হামিদ আনসারী বলেন, শোক প্রস্তাব নেওয়ার সময়ই কেবল সংসদের আচরণ বিধি মানা হয়।

    শুধু কি ভারত? ব্রিটেনের গত সাধারণ নির্বাচনের আগে ফাঁস হয়ে যায়, সংসদ থেকে পাওয়া নানা রকম সুবিধা ও ক্ষমতার কিভাবে অপব্যবহার করেছেন ব্রিটিশ সংসদ সদস্যরা। কম নন মার্কিন আইনপ্রণেতারাও। এক সমীক্ষায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ৫৩৫ সদস্যবিশিষ্ট কংগ্রেসের সদস্যদের ২৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে দাম্পত্য নির্যাতনের, প্রতারণার দায়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সাতজন, ১৯ জনকে ভুয়া চেক লেখার জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, ১১৭ জন অন্তত দুটো ব্যবসায় দেউলিয়া হয়েছেন, তিনজন শারীরিক আক্রমণের জন্য গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, ৭১ জনকে ক্রেডিট কার্ড দেওয়া হয়নি আগের ক্রেডিট কার্ডের টাকা ঠিকমতো পরিশোধ না করায়, মাদকঘটিত কারণে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল দোকান থেকে জিনিসপত্র চুরি করার দায়ে, ২১ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয়ে মামলা আছে এবং ৮৪ জনকে মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর দায়ে আটকানো হয়েছিল ১৯৯৮ সালে।

    আমাদের জনপ্রতিনিধিরাও কোনো অংশে পিছিয়ে নেই। দুই মিনিটে বিল পাস করা, নানা অজুহাতে সংসদ বর্জন, দৃষ্টিনন্দন সংসদ ভবনের নকশা নষ্ট করা, সংসদ থেকে বাড়ির বাজার নেওয়া, টেলিফোনের বিল না দেওয়া, সদস্যপদ টিকিয়ে রাখার জন্য ৯০ দিনের মধ্যে হাজিরা দেওয়া, অর্পিত দায়িত্ব পালন না করে বেতন তোলা, বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি করা, আরো কত কী! এমনকি সংসদ ভবন এলাকায় সাংসদের হাতে নিজ দলের কর্মী খুনের অভিযোগও আছে। শুধু এতেই শেষ নয়, ইন্দোনেশিয়ার সংসদ সদস্য কিংবা কর্ণাটকের তিন মন্ত্রী তো শুধু পর্নো দেখেছেন, আমাদের এমপি হোস্টেলে বিতর্কিত সাবেক এক সংসদ সদস্য তো আরেক প্রভাবশালী-জনপ্রিয় সংসদ সদস্যের শ্যালিকাকে নিয়ে পর্নো ছবি পর্যন্ত বানিয়েছেন বলে প্রচার আছে। তাই বৃহৎ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাগুলোর ঘুণে ধরা অবস্থা দেখে হায় হায় করে লাভ নেই, বরং জয়ধ্বনি করা দরকার, তাদের চেয়ে আমরাও কোনো ক্ষেত্রে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই!

advertisement