বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ৩০ জানুয়ারী ১৯৮৫

keyboard_arrow_leftসাহিত্য ব্লগ

শুনতে কি পাও?

শামস্ বিশ্বাস

  • advertisement

     

    কথা বলতেই যেন আমাদের আগ্রহটা বেশি, অন্যের কথা শোনার অভ্যাস আমাদের নেই বললেই চলে। কেউ কিছু বলতে এলে আমরা তার কথার প্রথম লাইনটা শুনেই বাকিটা শোনার আগ্রহ হারাই— হয়ে যাই বিরক্ত। তার পর, কথা শেষ হওয়ার আগেই ‘বিজ্ঞের মতো’ নিজের জ্ঞান বিতরণের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ি। এতে যেটা হয়, প্রায়ই মূল সমস্যাটা ভালো করে বোঝা হয়ে ওঠে না— সমাধানের রাস্তাটাও অধরা থেকে যায়। ভালো বক্তা হওয়ার প্রধান বৈশিষ্ট্য হল, ভালো শ্রোতা হওয়া। অন্যের কথা মন দিয়ে শোনাটা একটা অভ্যাস। যেটা প্রতিদিনই প্রায় নিয়ম করেই চর্চা করতে হয়। তা সে যেই হোক না কেন। অনেক সময় নিজে কোনও সমস্যার সমাধান করতে না পারলে, অন্যের পরামর্শ নিলে দেখবেন হঠাৎ কোনও সমাধানের রাস্তা বেরিয়ে এসেছে। আসলে কোনও সমস্যা সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত নেয়ার সুবিধা হল, এটি সমস্যাকে বিভিন্ন দিক থেকে দেখতে সাহায্য করে। সে কারণে অন্যে যা বলতে চান, তা মন দিয়ে শুনুন। না বুঝতে পারলে ভালো করে প্রশ্ন করে বিষয়টি বুঝে নিন। জেনে নিন, তিনি ঠিক কী চাইছেন আপনার কাছে। তা হলে দেখবেন অনেক সমস্যা মেটানো আপনার কাছে পানির মতো সোজা হয়ে গেছে। নিজের কাজ সম্পর্কে অন্য কেউ মতামত দিতে এলে আমরা যেটা করে থাকি, প্রথম দু-চার লাইন শোনার পরই নিজেই যুক্তি দিয়ে বোঝাতে থাকি কেন, কাজটি ওরকমভাবে করা হয়েছে। শুরু করি ত্রুটিগুলোর পক্ষে সাফাই গাইতে। এটা ভুল পদ্ধতি। বরং তিনি যা বলছেন, তা মন দিয়ে শুনুন। একটা সময় আপনার মনে হতে পারে উনি ঠিক বলছেন না, তবু শুনতে থাকুন। শুধু মুখের কথা শোনা নয়, লক্ষ্য করুন তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, মুখের ভঙ্গিমা। অনেক সময় এগুলো দিয়েও আসলে তিনি কী বলতে চাইছেন তা অনেক স্বচ্ছ হয়ে যাবে। কারও কথা মন দিয়ে শোনা মানে তাকে গুরুত্ব দেওয়াও বোঝায়। তাই কেউ যখন কিছু বলছেন, তখন মাঝে মাঝে প্রশ্ন করলে, বিষয়টি প্রশ্ন করে নিতে চাইলে, এই ব্যক্তিটিও বুঝবেন তার কথার গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। উল্টো দিকের মানুষটিও আরও সুনির্দিষ্ট করে বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে চাইবেন। নিয়মিত যদি আপনি অন্যের কথা শোনার অভ্যাস তৈরি করতে পারেন, তবে দেখবেন সবার কাছে আপনার গুরুত্ব অনেকটাই বেড়ে গেছে। শুধু কর্মক্ষেত্র নয়, অন্যের কথা মন দিয়ে শোনার অভ্যাস যে কোনও সম্পর্ককে আরও গভীর করে। দ্রুত সমাধানে সহায়তা করে অনেক সমস্যার। তাই শুধু গলা সারা নয়, চর্চা করতে হবে শোনার অভ্যাসও।

advertisement