বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ৩০ জানুয়ারী ১৯৮৫

keyboard_arrow_leftসাহিত্য ব্লগ

চিনো নিজেকে বিশ্ব চিনে নেবে তোমাকে

শামস্ বিশ্বাস

  • advertisement

    ‘ইতিহাসে পাতিহাঁস, ভূগোলেতে গোল, অংকেতে গোল্লা হয়েছি পাগল।’ ফিজিক্স-কেমিস্ট্রি খটোমটো লাগে, অ্যাকাউন্টিংয়ের হিসাব টানে না মন। তারপরও ফিজিক্স অথবা কেমিস্ট্রিতে অনার্স, কিংবা বিবিএ। অতএব ভালো লাগুক বা না লাগুক, এ বিষয়টি নিয়েই পড়ে যাব, ক্যারিয়ার বানাব_ এমন দম বন্ধ জিদ কাজে আসে না। বরং ইচ্ছার ডাকে হ্যাঁ বলে, ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সাহস প্রয়োজন।

    লেখার হাত যে বেশ ভালো, তার কোনোদিন মা-বাবাকে দেখানোর সাহস হয়নি। অতএব কালো মলাটের পার্সোনাল ডায়েরি। সব বন্ধুরা বিজ্ঞানে পড়বে। তাদের দেখেই মাধ্যমিকে সায়েন্স নেয়া। নইলে বাবা অফিসে মুখ দেখাবেন কী করে? দাদু গ্রামে কি বলবে? তারপর খাবি খেতে থাকা। বার দুয়েক অ্যাডমিশনের দেয়াল টপকাতে ব্যর্থ। কোনও রকমে কোথাও ভর্তি, মন চায় না, তবু রাত-দিন কি করে ভবিষ্যতে ভাত-কাপড় জুটবে তার প্রস্তুতি। কালো মলাটের ডায়েরিটা হারিয়ে যাওয়ার পর নতুন আর কেনা হয়নি। কোনও মানে হয়?

    অমিতাভ ঘোষ বরাবরই ইংরেজি সাহিত্যের লেখক হতে চেয়েছিলেন। ইংরেজি ভাষার গল্প-উপন্যাস পড়ার আকর্ষণ স্কুলে পড়ার সময় থেকেই। স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে ইউনিভার্সিটিতে প্রবেশ করার সময় অনার্সে বিষয় হিসেবে ইংরেজিই বেছে নেবেন এটাই স্বাভাবিক ছিল। নেননি। অনেকদিন পর লেখক হয়ে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, সিলেবাসের ইংরেজি সাহিত্যের বইয়ের নামগুলো দেখে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। ইতিহাস নিয়ে পড়েন। এরপর অ্যানথ্রপলজি। এক্কেবারে অক্সফোর্ড থেকে মিসরের গ্রাম্যজীবন নিয়ে ডক্টরেট। তাই বলে থেমে থাকেনি সাহিত্যচর্চা। রবীন্দ্রনাথ থেকে গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ_ এই সময়টাতে ক্লাসের পড়ার ফাঁকে ফাঁকে চলতে থাকে দেশ-বিদেশের সাহিত্যপাঠ। মিসরের ওপর গবেষণার সময় রপ্ত করেন আরবি। পড়ে ফেলেন তোইবাস সালাহ, নগিব মাহফুজ, তফিক আল হাকিমের মতো আরব লেখকদের সাহিত্য। বাদ যায়নি এমস টুটলোর মতো আফ্রিকান লেখকরাও। অনার্সের ইংরেজি সিলেবাসের ভরসায় থাকলে পরিধিটা কি এত বিস্তৃত হতো?

    অনার্সে ফিজিক্স আছে, অতএব ভালো লাগুক বা না লাগুক, এ বিষয়টি নিয়েই পড়ে যাব, ক্যারিয়ার বানাব_ এমন দম বন্ধ হওয়া জিদ ডাস্টবিনে ফেলে আগ্রহের ময়দানটায় ঝাঁপিয়ে পড়ার সাহস দেখাতে পেরেছিলেন বলেই বড় ঐতিহাসিক রবার্ট হ্যাকওয়েথ বা নাকিব মাহমুদনাসি চলচ্চিত্র নির্দেশক হতে পেরেছেন। কোনোদিন ফিল্ম-স্কুলে পাঠ না নেয়া ইরানি নাকিব মাহমুদনাসি ‘ডিএকটর’-এর প্রথম শুটিংয়ের আগে পর্যন্ত কোনোদিন স্টুডিওতে যাননি। তার নিজের কথায় ‘ছবি বানানো শিখেছি আমার প্রথম সিনেমাটা বানাতে বানাতে। তার আগে প্রচুর দেশ-বিদেশের সিনেমা দেখতাম। ফিল্ম নিয়ে পড়তাম।’ ফিজিক্সে অনার্স করার পর আফ্রিকান রবার্ট হ্যাকওয়েথ লন্ডন স্কুল অব বিজনেস থেকে ম্যানেজমেন্ট পড়েন। সেসব ময়দানে যেতে ভালো লাগেনি। ইতিহাসেই ছিল তার বরাবরের গ্রহ। আর দেরি না করে ক্যানবেরার অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ইতিহাসে পিএইচডি। নিম্নবর্গীয় ইতিহাস চর্চায় রবার্ট হ্যাকওয়েথ নামটি এখন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন। দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেছেন বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রতিটি শিশু পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠই হয় কিছু না কিছু প্রতিভা নিয়ে। বড় হয়ে কি হব_ সে লক্ষ্য নির্ধারণ করার আগে আত্মোপলব্ধি বা নিজের প্রতিভা সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। সেই ট্যালেন্টটাকে চিনে নিয়ে তার বিকাশ ঘটাতে হবে। আর দরকার প্রচেষ্টার সঙ্গে প্রবল ইচ্ছাশক্তিকে মেশানো, লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য দাঁতে দাঁত চেপে জিদ বা কমিটমেন্টও বলা চলে। চলার পথে জীবনের বিভিন্ন ময়দান থেকে আহরিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা সবকিছু সামনের গোলটায় পৌঁছানোর জন্য কখন কতটা ঢেলে দিতে হবে তার বুঝসুঝ ঠিকমতো না থাকলে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছানোর যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ব্যর্থতার পাদদেশে পড়ে থাকতে হতে পারে সারাটা জীবন। বাইরের কোনও চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে, শীর্ষে পৌঁছানোর রুটটা নিজের আগ্রহ অনুযায়ী বেছে নেয়া উচিত। চিনে নাও নিজের শক্ত জায়গাটা। পরিশ্রমটুকু সেই ময়দানেই উজাড় করে দাও যেখানে তুমি স্বচ্ছন্দ। তাহলেই সাফল্য।

advertisement