বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ৩০ জানুয়ারী ১৯৮৫

টিমওয়ার্ক সাফল্যের আরেক দুয়ার

  • advertisement

    আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে হল অপরের সঙ্গে 'যোগাযোগ'-এর কৌশল। ব্যক্তিগত জীবন এবং কর্মস্থল দু'টি ক্ষেত্রেই এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দৈনন্দিন জীবনে আমরা যত সমস্যার সামনা-সামনি হই, তার মধ্যে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের সমস্যা সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন। কর্মক্ষেত্রে বা অন্যত্র অনেক সময় দেখা গিয়েছে, এমন অনেকের ওপর নির্ভর করতে হয়, যাদের স্বভাব, চিন্তাশক্তি, সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পূর্ণভাবে বিপরীত। 
    কর্মক্ষেত্রে সদ্য প্রবেশ করে অন্যের সঙ্গে নিজের এ রকম পার্থক্য দেখে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন, যা কোনভাবেই প্রকৃত সমস্যার সমাধান নয়। 
    বরং সমস্যাকে কীভাবে সুযোগে রূপান্তরিত করা যায়, সে ব্যাপারেই সচেষ্ট হতে হবে। 'সম্পর্ক গড়ার দক্ষতা' কিন্তু নির্ভর করে অপরের ওপর নিজের ব্যবহারের প্রভাব আপনি কতটা দক্ষতার সঙ্গে অনুমান করতে পারবেন তার ওপর। একই সঙ্গে অন্যের ব্যবহার কীভাবে গ্রহণ করা উচিৎ, সে সম্পর্কেও একটা আগাম ধারণা থাকা দরকার। কর্মস্থলে কীরকম ব্যবহার সফলতার চাবিকাঠি হয়ে উঠবে তা মূলত নির্ভর করে 'নিজের প্রতি ধারণা'র ওপর। মানুষের সঙ্গে আদান-প্রদানের অভিজ্ঞতা, নিজস্ব মতবাদ এবং ধ্যানধারণাই কিন্তু ব্যক্তি হিসেবে আপনাকে অন্যের থেকে আলাদা করে দেবে। পারস্পরিক সম্পর্ক তৈরির জন্য পরপর যে ধাপগুলো রয়েছে_ 

    প্রাথমিক ধারণা 
    প্রথম সাক্ষাৎকারই সর্বদা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, প্রথম সাক্ষাৎকার মনের ওপর যে ছাপ ফেলে তা দীর্ঘস্থায়ী। সেজন্য প্রথমেই যাতে ভালো ধারণা গড়ে ওঠে, তার জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালাতে হয়। অন্যের মনে নিজের সম্পর্কে ভালো ধারণা তৈরি করতে কয়েকটি বিষয়ের ওপর নজর দেয়া দরকার। ধীরস্থির ব্যক্তিত্ব বেশির ভাগ মানুষই পছন্দ করেন। হাল ফ্যাশনের অত্যাধুনিক নয়, রক্ষণশীল, রুচিশীল পোশাকই শ্রেয়। অপ্রয়োজনীয় শব্দের ব্যবহার ত্যাগ করে, স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তা বলার চেষ্টা করুন। চরম আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষতিকারক হতে পারে। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি অবশ্যই রাখতে হবে। চিন্তাশীলতা নিজের প্রজ্ঞা এবং পরিণত মনের পরিচয় দিয়ে বুঝে শুনে, ধীরেসুস্থেই সব প্রশ্নের উত্তর দেয়া উচিত। করণীয় সম্পর্কে আগাম ধারণা রাখা উচিত, যাতে অন্যরা বুঝতে পারে আপনার কাজ ও দায়িত্ব সম্পর্কে আপনি আগ্রহী। 

    আত্মবিশ্বাস 
    মাথা উঁচু করে, জোরের সঙ্গে কথা বলুন। বিনয় বজায় রেখেও নিজস্ব মনোভাবকে প্রতিষ্ঠা করতে পিছপা হবেন না। 

    পারস্পরিক যোগাযোগ 
    একে অপরের ওপর সন্তুষ্ট থাকলে তবেই মানুষের মধ্যে সম্পর্কের পরিধি বাড়ে। সম্পর্কের বন্ধন দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রথম পর্বে দু'তরফাই কিছু কিছু আশা নিয়ে এগোয়। 
    ভবিষ্যতে একে অপরের মধ্যে যোগাযোগ কেমনভাবে হবে, তা নির্ভর করে পারস্পরিক আশা-আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে রচিত অলিখিত মনস্তাত্ত্বিক চুক্তির ওপরই। বিশ্বাস, আশা-আকাঙ্ক্ষা যতটা দৃঢ় হয় ততই মজবুত হয় সম্পর্কের ভিত্তি। 

    মানসিক দূরত্ব 
    একে অপরকে যত সহজভাবে চিনতে পারবেন, 'কেমিস্ট্রি' যত দৃঢ় হবে ততই মানসিক দূরত্ব কমতে শুরু করবে। 

    আস্থা স্থাপন 
    আশা পূরণ এবং মানসিক দূরত্ব কমলে নিজের প্রতি এবং অন্যের প্রতিও আস্থা স্থাপন সম্ভব। একই সঙ্গে অনেক বেশি করে চিন্তা ও আচার-আচরণের ওপর প্রভাব ফেলতে পারবেন। নিজের যোগ্যতার প্রমাণ রেখে সহজেই অনেক বেশি কাজ করতে এবং করিয়ে নিতেও পারবেন আপনি। আর তা হলেই সাফল্যের চাবি হাতের মুঠোয় আসবে।
    টিমওয়ার্কে যে কোন কাজই সহজে করা যায়। তা কর্মক্ষেত্রেই হোক বা পারিবারিক ক্ষেত্রে। আর কর্মক্ষেত্রে তো একটা কথাই প্রচলিত আছে- 'দশে মিলে করি কাজ হারি জিতি নাহি লাজ।' অর্থাৎ কর্মক্ষেত্রে টিমওয়ার্কে কাজ করলে শুধু কাজেই নয় সাফল্য আসবে নিজেরও।

advertisement