বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ১ জানুয়ারী ১৯৭০

অনেক কথা ২

  • advertisement

    অনেক কথা২

    ঐশ্বরিক--

    * স্রষ্টা এক এবং সৃষ্টি অনেক। স্রষ্টার সান্নিধ্যলাভ ভাগ্যের ব্যাপার নয়--কর্মের ব্যাপার। যেকাজে স্রষ্টার অস্তিত্বে অগাধ বিশ্বাস এবং ভালবাসা নেই সেকাজে কোন সাফল্য নেই। আমৃত্যু বহু সত্তার সাধনা বা আরাধনা করে অবিশ্বাসিদের অন্তর্ভুক্ত হলে স্রষ্টার সান্নিধ্য অথবা পরকালের শান্তি লাভ করা যায় না। তাই শান্তির প্রার্থনা করা প্রত্যেক মানুষের কাম্য হওয়া উচিত।

     

    * আল্লাহ্‌কে যারা বিশ্বাস করে না?

       ধর্মের দুশমন তারা নাস্তিক হয়।

       যারা বিশ্বাস করে ভুলে থাকে?

       খোদার কসম তারাও আস্তিক নয়॥

     

    * আল্লাহ্‌, আমায় করো না কারও করুণার নির্ভর

       তার আগে নিবে দিয়ো আমার জীবনের প্রহর॥

            তবু যদি প্রাণের বায়ু চালাও হর্দম

            দুঃখদুর্ভিক্ষে যেন স্থির রাখো কদম।

       গ্লানির সুখথেকে কষ্টের নির্মল অশ্রু অনেক প্রখর--

       আল্লাহ্‌, আমায় করো না কারও করুণার নির্ভর॥

     

       নত করো প্রভু বারবার করো তোমার কদমে মাথাটি

       কারও দয়ায় ডুবিয়ে করো না ক্রীতদাসের জিন্দেগি॥

            এ দয়া নির্দয় থেকে বড় নির্দয় ওরে

            অতি বোঝা হয়ে দাঁড়ায় প্রাণের পরে।

    গঞ্জনার সঞ্জীবনী অমৃতচেয়ে ভাল বিষযন্ত্রণার লহর--

    আল্লাহ্‌, আমায় করো না কারও করুণার নির্ভর॥

     

    * প্রভু আমায় কতটুকু আয়ু করেছেন দান জানি না, জানি না তবে আর কত দিন আছি মেহমান। তবে যত দিন আছি আর যত দিন বাঁচি আমার অস্তিত্বজুড়ে সচল থাকুক প্রভুর স্তুতিবন্দেগির বন্দনা।

    * ‘আনাল হক’ ঘোষণা করে মনসুর প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত হলবিশেষ। কে জানে, হয়তো তাঁরই রূপ ধরে বিধাতা স্বয়ং ‘আনাল হক’ বলতে এল ভুবনদেশ।

    * আল্লাহ্‌কে যে ভালবাসে না, ভক্তি করে না তার চেয়ে বড় অধম পৃথিবীতে আর কেউ হতে পারে না। সুতরাং আমি অধম হতে পারি তবে বড় না।

    * জানি বিধি এক, বিধান এক, কোরআন-হাদিস নবি-রসুল এক। তবে অই এককের বণ্টনে বহুমত করছে কারা! আল্লাহ্‌, তিয়াত্তর ফেরকাবন্দির ফন্দি থেকে পানা চেয়ে ফরিয়াদ করছি অধম এ গুনাগার--উদ্ধতূগ্রতার কবল থেকে রক্ষা করো দীন, রক্ষা করো বান্দা।

    * আমায় দিয়ো না প্রভু, পৃথিবীতে এমন কিছু; যার জন্যে পরলোকে আমার রয় না কিছু অবশিষ্ট।

     

    * বেহেস্তদোজখ বুঝি না আমি--চিনি না কেয়ামতের ময়দান

       খোদা, তোমার দিদার চাই সতত--চাইব তোমার সন্নিধান।

     

    * দুনিয়াতে সবচেয়ে শান্তির জায়গা হচ্ছে--মসজিদ আর দুনিয়াতে সবচেয়ে খারাপ স্থান হচ্ছে--বাজার।

    * ‘সত্য’ বিধাতার নিদর্শন ‘সততা’ মহামানবের লক্ষণ।

     

    * কত সহজে রচনা করলে প্রভু দুর্লভ কোরানখানি!

       আমি মূর্খ, কিবা বুঝি আমি কোরানের সত্যবাণী।

     

    * আল্লাহ্‌! এ তোমার, ঐ তোমার, সমগ্র জাহান তোমার; তবে এটুকু ঐশ্বর্যপথ দেখাও, যেপথে পাওয়া যায় তোমার সাক্ষাৎ। আমায় দাও--নিখিল বিশ্ব আমি চাই না, তবে হাসিমুখে যেতে চাই--এ আমার ক্ষুদ্র কামনা।

    * ধনের চেয়ে মনের মালিক বড়। আভিজাত্য ও গাড়িবাড়ি আর অঢেল সম্পদের মালিক হয়ে লাভ কী, যখন এগুলো আমার সঙ্গে যাওয়ার নয় এবং কোন উপকারে আসল না; তারচেয়ে বরং সামান্যতেই তুষ্ট থাকা ভাল। ধনৈশ্বর্যের অসুখী জীবনের চেয়ে শান্তির স্বাচ্ছন্দ্য-জীবনযাপন অতি উত্তম। পৃথিবীতে ধনী বলতে কে আছে : সকলেই ত নিঃস্ব--নশ্বর জীবনের কেন করি গর্ব? ধনেজনে ভাল পরিধানে মানুষ হলে তাকে কখনো প্রকৃত ধনবান বলা যায় না, অইযে নির্জন পথের ধারে পাগলাটি খাওয়া নেই নাওয়া নেই ছেঁড়া কাপড়ে কার ধ্যানে বসে মিটিমিটি হাসছে আর একটা-পর-একটা সিগারেট ফুঁকছে তাঁকে একমাত্র ঐশ্বর্যবান বলা যায়; সুতরাং পৃথিবীর কাছে সে নগণ্য ও পাগল এবং পরিহাসের পাত্র হতে পারে তবে বিধাতার কাছে তিনিই সবচেয়ে গণ্য। কাজেই ধনবান হয়ে লাভ নেই বরং হৃদয়বান হওয়া জরুরি তবেই যথেষ্ট মানুষ।

     

advertisement