বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ১০ জানুয়ারী ২০১৮

শ্রদ্ধাঞ্জলি: আলাউদ্দিন আল আজাদ

  • advertisement

    আলাউদ্দিন আল আজাদ

    বাংলাদেশ ও বিশ্বের সাহিত্য জগতে আলাউদ্দিন আল আজাদ এক শ্রদ্ধেয় নাম। তাঁর সাহিত্য কীর্তি দেশ-বিদেশে প্রশংসাধন্য। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের খ্যাতিমান ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, নাট্যকার এবং গবেষক। আশাবাদী সংগ্রামী মনোভাব তাঁর রচনার বৈশিষ্ট্য। বর্তমানে নাগরিক জীবনের বিকার উপস্থাপনে আগ্রহী। তিনি ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তাঁর প্রথম উপন্যাস তেইশ নম্বর তৈলচিত্র ১৯৬০ সালে ছাপা হয়।
    আলাউদ্দিন আল আজাদ ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ৬ মে নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার রামনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা : গাজী আব্দুস সোবহান; মাতা : মোসাম্মাৎ আমেনা খাতুন; স্ত্রী : জামিলা আজাদ। প্রবেশিকা : নারায়ণপুর শরাফতউল্লাহ উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়, রায়পুরা (১৯৪৭)। উচ্চ মাধ্যমিক (কলা) : ইন্টারমিডিয়েট কলেজ (১৯৪৯) তিনি ১৯৫৩ ও ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি সরকারি কলেজের অধ্যাপনা পেশায় যুক্ত হন। পাঁচটি সরকারি কলেজে অধ্যাপনা এবং পরবর্তীকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। পেশাগত জীবনে মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাসে সংস্কৃতি উপদেষ্টা, শিক্ষা সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক বিভাগ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ঈশ্বরগুপ্তের জীবন ও কবিতা বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৯ এর ৩রা জুলাই শুক্রবার রাতে ঢাকার উত্তরায় নিজ বাসভবন রত্নদ্বীপে তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর রচিত ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৪৯টি।
    আলাউদ্দিন আল আজাদ কেবল সাহিত্যিক ও শিক্ষানুরাগী ছিলেন না। ছিলেন রাজনীতিসচেতন একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভাষা আন্দোলনে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। একুশে রক্তাক্ত ঘটনার পর তাঁরই উদ্যোগে প্রথম প্রকাশিত হয় একুশে প্রথম বুলেটিন।
    ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে স্থাপিত প্রথম শহীদ মিনার ধ্বংসের পর তিনি রচনা করেন ঐতিহাসিক ও অমর কবিতা ‘স্মৃতিস্তম্ভ’। এই কবিতা শুধু শোকগাথা নয়। এটা ছিল আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতীক এবং সর্বজনীন গণমানুষের সংগ্রামী চেতনার প্রতীক।

advertisement