বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৫ এপ্রিল ১৯৭৫
গল্প/কবিতা: ২০টি

সমন্বিত স্কোর

৫.২৭

বিচারক স্কোরঃ ২.৪৫ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.৮২ / ৩.০

ইচ্ছে হলেই

কামনা আগস্ট ২০১৭

ঐশ্বরিক

ঐশ্বরিক মার্চ ২০১৭

প্রেম

প্রেম ফেব্রুয়ারী ২০১৭

ঘৃনা (আগস্ট ২০১৫)

মোট ভোট ৪৭ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৫.২৭ বন্ধু থেকে শত্রু

কবিরুল ইসলাম কঙ্ক
comment ১৭  favorite ০  import_contacts ১,৪২৯
অনেক অনেক দিন আগেকার কথা । তখন গাছেরা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারত । আকাশ ছিল মাটির অনেক কাছে । ইচ্ছে করলে তাকে হাত দিয়ে ছোঁয়া যেত । ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা আকাশের চাঁদ, সূর্য, তারা নিয়ে খেলা করত । সেইসময় ইঁদুর, বিড়াল আর কুকুরের ছিল গভীর বন্ধুত্ব । তারা সবসময় একসাথে থাকত । একসাথে খাওয়াদাওয়া, ঘোরাঘুরি, খেলাধূলা, হাসি-মজা করত । এমনকী ঘুমাতোও একসাথে । তিনজনের বন্ধুত্ব এবং ভালোবাসার প্রগাঢ়তা দেখে সবাই অবাক হত । কতদিন ইঁদুর খুনসুটি করে কুকুরের কানে মুখ দিয়ে সুড়সুড়ি দিয়েছে । কিংবা দুষ্টুমি করে বিড়ালের লেজ কামড়ে ধরে টেনেছে । বিড়াল তখন মুখ ঘুরিয়ে ইঁদুরকে দেখে অলসতায় গা এলিয়ে দিয়েছে । আবার সেই বিড়াল কুকুরের মুখ থেকে খাবার কেড়ে নিয়ে খেয়েছে । কুকুরও বলেনি কিছু । বরং ঘেউ ঘেউ করে হেসেছে । কুকুরও যেমন পেরেছে দুজনকে নাড়ানাড়ি করেছে । কখনো তাদের গা জিভ দিয়ে চেটে দিয়েছে । কখনো ঘুমের সময় তাদের কানের কাছে চিৎকার করেছে । এইভাবে দারুণ সুখে ও মজায় কেটে যাচ্ছিল ইঁদুর, বিড়াল ও কুকুরের দিন ।

ইঁদুর, বিড়াল ও কুকুরের থাকার কোনো ঠিকানা ছিল না । কখনো এদেশ কখনো ওদেশ ঘুরে বেড়াত । ঘুরতে ঘুরতে তারা একদিন গভীর অরণ্যে পৌঁছে গেল । তারপর হারিয়ে গেল । সেটা যে কোন দেশ, কোন রাজ্য তারা তা বুঝতে পারল না । আসলে সেটা ছিল আফ্রিকার অরণ্য । যেমন ঘন বন, তেমনি ভয়ংকর জঙ্গল । উঁচু উঁচু আকাশ ছোঁয়া গাছ । দিনের বেলাতেও জঙ্গলটা দারুণ আঁধার । তিনজনে পড়ল মহাফ্যাসাদে । একে অজানা অচেনা জায়গা, তার উপরে তিনজনেরই খুব খিদে পেয়েছে । মাঝে মধ্যে শোনা যাচ্ছে বাঘ-সিংহের ডাক । কাছেই কোথাও মড়মড় করে গাছের ডাল ভাঙার শব্দ হল । সেখানে হাতি মহাশয় ডাল ভেঙে পাতা খাচ্ছে । এত বড় জন্তু ইঁদুর, বিড়াল ও কুকুর আগে কখনও দেখেনি । তারা হা করে ফ্যালফ্যাল চোখে হাতি দেখতে লাগালো । হাতি তাদের দেখে বলল, "তোমাদের তো আগে দেখিনি । জঙ্গলে নতুন মনে হচ্ছে ।" কুকুর বলল, "হ্যাঁ, আমরা নতুন ।" বিড়াল বলল, "ঘুরতে ঘুরতে আমরা পথ হারিয়ে ফেলেছি ।" ইঁদুর বলল, "আমাদের খুব খিদে পেয়েছে ।" হাতিটা ছিল খুব ভালো । সে বলল, "আমি যে গাছের পাতা খাচ্ছি এর ফলগুলো তোমরা খেতে পারো । ফলগুলো দারুণ খেতে । কিন্তু বাপু রাত হওয়ার আগেই তোমরা এখান থেকে চলে যেয়ো । এই জঙ্গলে ভীষণ ভীষণ হিংস্র সব জন্তু জানোয়ার আছে । সবাই তো আর আমার মতো ভালোমানুষ নয় । তোমাদেরকে দেখলে যখন তখন সাবাড় করে দেবে ।" তিনজনে পেট পুরে ফল খেল । তারপর হাতির দেখানো পথ ধরে চলতে লাগল ।

ইঁদুর, বিড়াল ও কুকুর তিনজন হাঁটতে হাঁটতে হাতির দেখানো রাস্তাও ভুল করল । আসলে জঙ্গলটা যে খুব অন্ধকার । কম্পাস না থাকলে পথ ভুল করাটাই স্বাভাবিক । তিনজন যখন আরও গভীর জঙ্গলে প্রবেশ করছে তখন আকাশে মাঝরাতের চাঁদ । চারদিকে বাঘ সিংহের ডাকাডাকি শুরু হয়ে গেছে । তিনজনে ভয়ে জড়সড় হয়ে একটি গাছের নীচে দাঁড়াল । ইঁদুর বলল, "আজ আর কোথাও গিয়ে লাভ নেই । রাতটা বরং এখানেই কাটানো যাক ।" কুকুর বিড়ালও সারাদিন ঘোরাঘুরি করে ক্লান্ত । তারা ইঁদুরের সাথে একমত হল । ইঁদুর, বিড়াল ও কুকুর তিনজনে একটা বড় গাছের নীচে বসতেই ঢুলতে আরম্ভ করল । একটু পরে শোনা গেল ফোঁসফোঁস আওয়াজ । সেই গাছে ছিল একটি অজগর সাপের বাসা । ঘুম থেকে উঠে সে ফোঁস ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলছিল । ইঁদুর, বিড়াল ও কুকুরের গন্ধ পেয়ে অজগর গাছের উপর থেকে নীচে নামতে লাগল । সে খুশিই হল । কারণ রাতের খাবারের জন্য তাকে বেশি দূর যেতে হবে না ।

অজগরকে দেখে প্রথম লাফটা দিল ইঁদুর । লাফ দিতে দিতেই সে অন্যদের পালাতে বলল । বিড়াল কুকুরও এক লাফে সীমানার বাইরে । অজগর বুঝতে পারল দৌড়ে ওদের ধরার ক্ষমতা তার নেই । তাই ধরার চেষ্টাও সে করল না । কিন্তু ইঁদুর, বিড়াল ও কুকুরকে বেশি দূর যেতে হল না । একটু দুরেই শুয়ে ছিল এক নেকড়ে । ইঁদুর গিয়ে পড়ল নেকড়ের গায়ে । তাতে নেকড়ে বাঘের ঘুম ভেঙে গেল । ইঁদুরের পিছন পিছন ছুটছিল বিড়াল । সেও ধড়মড় করে নেকড়ের গায়ের উপর এসে পড়ল । একলাফ দিয়ে ইঁদুর পালিয়ে গেলেও নেকড়েটা বিড়ালকে ধরে ফেলল । বিড়ালের পিছনে ছিল কুকুর । সে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল । সে পালিয়ে যেতে পারত । কিন্তু বিড়ালকে নেকড়ে কামড়ে ধরেছে দেখে কুকুর ঝাঁপিয়ে পড়ল তার উপরে । নেকড়ে তখন বিড়ালকে ছেড়ে ধরল কুকুরকে । দুজনের মধ্যে শুরু হল তুমুল যুদ্ধ । বন্ধুর এই অবস্থা দেখে ইঁদুর সাহায্যের জন্য এগিয়ে যাচ্ছিল । বিড়াল তাকে চেপে ধরে আটকে দিয়ে বলল, "দেখছিস নে কুকুরের কী অবস্থা করছে । আমরা গেলে নির্ঘাত পিষে ফেলবে ।" ইঁদুর বলল, "কিন্তু আমাদের বন্ধুকে যে মেরে ফেলবে....।" বিড়াল বলল, "ওকে মারার পর আমাদের মারবে । চল, পালিয়ে চল ।" ওদিকে কুকুরের অবস্থা প্রায় আধমরা । সে বন্ধুদের কথাবার্তা শুনতে পাচ্ছিল । নেকড়েটা আর একবার তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়তেই সে জ্ঞান হারাল ।

জ্ঞান ফিরে কুকুর দেখল সে শুয়ে আছে একটা ঝরনার ধারে । একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে পাঁচটি বুনোকুকুর । সে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করল । সারা গায়ে প্রচণ্ড ব্যথা । আবার নেতিয়ে পড়ল সে । ঘেউ ঘেউ করে ছুটে এল একটি বুনোকুকুর । না ওঠার জন্য তাকে বকাঝকা করল । বুনোকুকুরটি বলল, "তোমাকে সাক্ষাৎ মৃত্যুর হাত থেকে আমরা বাঁচিয়ে এনেছি । ঠিক সময়ে আমরা উপস্থিত না হলে এতক্ষণ তুমি মরে যেতে । এখন চুপ করে শুয়ে থাকো ।" অগত্যা কুকুরটি চুপ করে শুয়ে থাকল । শুয়ে শুয়ে সে ভাবল তার বন্ধুদের কথা । তাকে ফেলে ইঁদুর বিড়াল পালিয়েছে ভাবতেই তার মনটা খারাপ হয়ে গেল । বিড়ালের কথাগুলো মনে পড়তেই কুকুরের মধ্যে ঘৃণার উদ্রেক হল । বিড়ালকে বাঁচাতে গিয়েই তার বিপদের মধ্যে পড়া । আর সেই বিড়াল কিনা তাকে কোনো সাহায্য তো করেইনি উপরন্তু কেউ সাহায্য করতে গেলে বাধা দিয়েছে । কুকুরটি যতই বিড়ালের কথা ভাবতে লাগল ততই তার ঘৃণা বাড়তে লাগল । ঘৃণা বাড়তে বাড়তে তা পর্যবাসিত হল রাগে । কুকুর প্রতিজ্ঞা করল বিড়ালকে পৃথিবীর যেখানে দেখতে পাবে সেখানেই শেষ করবে । সেই থেকে আজ অব্দি কুকুর বিড়ালকে দেখলে তেড়ে যায় ।

অন্যদিকে ইঁদুর এবং বিড়াল কুকুরকে ছেড়ে আবার হাঁটতে শুরু করেছিল । বেশ কিছু দূর গিয়ে তাদের সাথে দেখা হল এক ভূপর্যটকের । পর্যটকমশাই ওই অরণ্যে দুর্লভ কিছু অর্কিডের সন্ধানে এসেছিলেন । ইঁদুর ও বিড়াল পর্যটকের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করল । পর্যটক এখন যাবেন একটি সমুদ্র বন্দরে । সেখান থেকে অন্যদেশে । বন্দরটি জঙ্গল থেকে অনেকটাই দূরে । তিনি ভাবলেন অতটা পথ একা যাওয়ার থেকে এদের সঙ্গে নেওয়ায় ভালো । ছোটখাটো কাজকর্মগুলো এরাই করে দিতে পারবে । পর্যটক বললেন, "তা বাপু গেলে তোমরা চল । কিন্তু আমার কাজ-টাজ তোমাদের করে দিতে হবে । যেমন ধরো মাথা ধরলে ইঁদুর আমার চুলে বিলি কেটে দেবে । বিড়াল আমার চুরুট, দেশলাই, ঘড়ি কিংবা চশমা হাতের কাছে এনে দেবে ।" ইঁদুর বিড়াল ভাবল এ আর কী এমন শক্ত কাজ । তারা এককথায় রাজি হয়ে গেল । তিনজনে চলল জঙ্গল শেষে সমুদ্র বন্দরের দিকে । বিড়াল পর্যটকের পায়ে পা মিলিয়ে হাঁটতে লাগল । ইঁদুর টুক করে ঢুকে পড়ল পর্যটকের পিঠে ঝোলানো কিটব্যাগে ।

বন্দরে ভেড়ানো ছিল উত্তরমেরুগামী একটি ছোট্ট জাহাজ । পর্যটক যাবেন উত্তরমেরুর কাছাকাছি ইয়েতিনিয়া নামক একটি দেশে । ইয়েতির কিছু হাড় তার দরকার । জাহাজের ক্যাপটেন ও নাবিকরা সবাই প্রস্তুত হয়েই ছিল । পর্যটক যাওয়া মাত্র তারা জাহাজ ছেড়ে দিল । ইঁদুর বিড়ালের খুব আনন্দ । এর আগে তারা জাহাজে চড়েনি । ডেকের উপর তারা ছুটোছুটি করে বেড়াতে লাগল । চারপাশে অথৈ জলরাশির মধ্য দিয়ে ছোট্ট জাহাজটি দারুণ বেগে ছুটছে । জাহাজের মধ্যে সবকিছু মজুত ছিল । খাওয়াদাওয়া, নাচগান, খেলাধুলা --- বিনোদনের কোনোকিছুরই অভাব নেই । সাতদিন নির্বিঘ্নে কেটে গেল । ইঁদুর বিড়াল ডেক, মাস্তুল, ভাঁড়ার ঘর, রান্না ঘর, ক্যাপটেনের কেবিন সারা জাহাজময় হুটোপটি করে বেড়ায় । জাহাজের সবার সাথে তাদের ভাব হয়ে গেছে । সবাই তাদের নিয়ে খেলা করে, মজা করে । এরই ফাঁকে তারা পর্যটকের এবং ক্যাপটেনের নানা কাজ করে দেয় ।

একদিন বিকেলে পর্যটক ও ক্যাপটেন ডেকে চেয়ারে বসে গল্প করতে করতে কফি পান করছিল । ইঁদুর পর্যটকের মাথার চুলে বিলি কেটে দিচ্ছে । বিড়াল ক্যাপটেনের পায়ে সুড়সুড়ি দিচ্ছে । নীল আকাশের ছবি শান্ত সমুদ্রে পড়ে সুন্দর হয়ে উঠেছে । এমন সময় আকাশ ঘিরে উঠল কালো মেঘ
। ক্যাপটেন বললেন, "গতিক ভালো ঠেকছে না । ঝড়ঝঞ্ঝা শুরু হবে মনে হয় ।" বলেই তিনি ছুটলেন নাবিকদের দিকে । ইঁদুর বিড়াল পর্যটকের গা ঘেঁষে দাঁড়াল । আকাশের মেঘগুলো আরও কালো হয়ে ডাকতে আরম্ভ করল । তারপর ক্যাপটেনের কথা সত্যি করে শুরু হল প্রবল ঝড় । ঝড়ের দাপটে জাহাজ অসম্ভব রকম দুলতে লাগল । ঝড়ের সাথে পাল্লা দিয়ে নামল প্রবল বৃষ্টি । মোটা মোটা বৃষ্টির ফোঁটাগুলো তিরের ফলার মতো নেমে আসতে লাগল সমুদ্রের দিকে । ঝড় বৃষ্টির দাপটে জাহাজটি একবার এদিক একবার ওদিক দারুণরকম দুলতে লাগল । প্রায় ডুবো ডুবো অবস্থা । ঝঞ্ঝার মধ্যে দিশাহীন জাহাজটি উদ্ভ্রান্তের মতো ছুটে চলেছিল ।

ইঁদুর ও বিড়াল পর্যটকের সাথে কেবিনে ফিরে এসেছিল । কেবিনের মেঝেতে ইঁদুর ও বিড়াল এদিকে ওদিকে গড়াগড়ি খাচ্ছিল । পর্যটক লোহার একটা আংটা ধরে দাঁড়িয়ে থাকার চেষ্টা করছিল । এমন সময় জাহাজ তীব্রভাবে কেঁপে উঠল । তারপরেই চারপাশে মড়মড় শব্দ । আসলে জাহাজ তখন একটি ডুবো পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে ভেঙে গেছে ।
জাহাজ আস্তে আস্তে ডুবতে আরম্ভ করতেই যে যেদিকে পারল জলে ঝাঁপ দিতে লাগল । ফুঁসে ওঠা সাগরের স্রোতে খড়কুটোর মতো সবাই ভাসতে লাগল । ঝড়বৃষ্টির ঘন্টাখানেক তান্ডবে কে কোনদিকে হারিয়ে গেল তার ঠিক ঠিকানা রইল না ।

পরেরদিন সকালে শান্ত সমুদ্রে লাইফজ্যাকেট পরে কয়েকজন নাবিক এবং পর্যটককে জলে ভাসতে দেখা গেল । ভাগ্যক্রমে সেইসময় ওই জায়গার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল অন্য একটি জাহাজ । দুর্ঘটনায় পড়া ব্যক্তিদের তারা দেখতে পেল । সেই জাহাজ থেকে ছোট একটি নৌকা নামিয়ে জল থেকে নাবিকদের উদ্ধার করতে লাগল । পর্যটককেও তারা নৌকাতে তুলে নিল । জাহাজ ডোবার আগে ইঁদুর পর্যটকের জ্যাকেটের পকেটে ঢুকে পড়েছিল । নৌকায় পর্যটককে তোলার পর সে লাইফ জ্যাকেটের পকেট থেকে বেরিয়ে পড়ল । একটু দূরেই মাস্তুলের কাঠের টুকরোর উপর ভাসছিল বিড়াল । নৌকাটি তখন উদ্ধারকার্য শেষ করে জাহাজের দিকে ফিরে যাচ্ছিল । বিড়াল তাদের দেখতে পেয়ে চিৎকার করে ইঁদুরকে ডাকল । জলে ভিজে সঙ্গীন ইঁদুর অস্পষ্ট কারও ডাক শুনতে পেয়ে এদিক ওদিকে তাকাতে লাগল । কিন্তু কাউকে দেখতে পেল না । কানে শোনার ভুল ভেবে সে নৌকার উপর নেতিয়ে পড়ল । বিড়াল আবার চিৎকার করে বলল, "নৌকার দড়িটা আমার দিকে ছুড়ে দাও । দড়ি ধরে আমি নৌকাতে উঠতে পারব ।" কিন্তু কেউ-ই তার ডাক শুনতে পেল না । নৌকা চলে গেল জাহাজের দিকে । একে একে সবাইকে জাহাজে তোলা হল । একসময় জাহাজও চলে গেল সেখান থেকে । দুঃখ ও ঘৃণায় বিড়ালের মন ভারাক্রান্ত হল । ইঁদুরকে সে এতবার ডাকল, আর ইঁদুর তার দিকে তাকিয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিল ?

বিড়াল কিন্তু সাগরের ঢেউয়ে ভাসতে ভাসতে একদিন ডাঙায় এসে পৌঁছাল । দিন দশেকের আনাহারে মৃতপ্রায় অবস্থা । এই কদিনে সে যত কষ্ট পেয়েছে ততই বেড়েছে ইঁদুরের প্রতি তার রাগ আর ঘৃণা । সেযাইহোক, সপ্তাহখানেক ভালোভাবে খাওয়াদাওয়া করে সে আবার তাগড়াই হয়ে উঠল । ইঁদুরের প্রতি তার ঘৃণা বিদ্বেষ দিনদিন আরও জোরালো হয়ে উঠল । যখন যেখানে ইঁদুর দেখে সেখানেই বিড়াল তাকে মারতে যায় । এইভাবে ইঁদুর, বিড়াল এবং কুকুর এক সময়ের পরম বন্ধু পরস্পরের চরম শত্রু হয়ে দাঁড়াল । এখনও তাই দেখবেন ইঁদুর দেখলেই বিড়াল তাকে তাড়া করবে, বিড়াল দেখলে কুকুর তাকে তাড়া করবেই ।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন