বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২ জানুয়ারী ১৯৮৩
গল্প/কবিতা: ৫টি

অনুভবের বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হয়ে যাক

প্রশ্ন ডিসেম্বর ২০১৭

নারী

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নভেম্বর ২০১৭

স্বাধীনতার মানে কি?

মুক্তির চেতনা মার্চ ২০১২

গল্প - প্রশ্ন (ডিসেম্বর ২০১৭)

ক্যনভাসে তোমার ছবি

মাইনুল ইসলাম আলিফ
comment ১  favorite ১  import_contacts ২৬

আরিয়ান আদ্রিতার রুমে প্রবেশ করেই কি যেন একটা দিয়ে আবার বিদ্যুৎ বেগে বেরিয়ে গেলো। আদ্রিতা পড়ার টেবিলে চুপ করে মাথা নিচু করে বসে ছিল। পড়ার টেবিলে বসে পড়ারই কথা ।কিন্তু সে জানতো আরিয়ান এসেছে তার বুকে কাঁপন ধরাতে, তাই বই খুলে রাখার কোন অর্থই ছিলনা তার কাছে।
আরিয়ান আদ্রিতার সাথে কোন কথাই বললো না, এমনকি মূহুর্তকাল দেরিও করলনা।শুধুমাত্র খামটা রেখে আসতে যতটুকু সময় লেগেছে ততটুকুর ব্যবধানেই আরিয়ান উধাও।নিজেকে একনজর দেখার সুযোগও দেয়নি আদ্রিতাকে।
আদ্রিতা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে খামটি হাতে নিলো।কি হতে পারে প্রশ্ন জাগেনি।ভাল কিছু নয় এ ব্যপারে আদ্রিতা মোটামুটি নিশ্চিত। কারণ যত অবজ্ঞা,যত যন্ত্রণা একজনকে দেয়া যায় তার সবটাই সে আরিয়ানকে দিয়েছে। কি হতে পারে? চিঠি?
না চিঠি নয়, নিজের ছবি দেখে কিছুটা আতকে উঠলো আদ্রিতা।
মূহুর্তের মধ্যে কি যেন হলো,অস্থির হয়ে উঠলো সে ।খুব কান্না পাচ্ছে, অঝরে কাঁদল সে । চোখের
জলে বই ভিজলো। সে এই সম্পর্কে জড়াতে চায়নি এ কথা সত্যি কিন্তু ওর ভালবাসা মিথ্যে নয়। আদ্রিতার অবজ্ঞা সত্যি কিন্তু রহস্যটা লুকায়িত ছিল যা আরিয়ানের জানবার কথা নয়।
রহস্য লুকিয়ে রেখে এখন তুমি কাঁদো কেন? নিজেকে নিজের প্রশ্ন আদ্রিতার, কিন্তু উত্তরটা ওর জানা নেই।

ছবিটা সে দিয়ে এসেছিল দৃঢ় একটা সিদ্ধান্ত নিয়েই এ কথা সত্যি,তবু যে ঝড় বইছিল আরিয়ানের বুকে সেটা সহসাই থামবার মতো নয়।কারণ সে এমন একটা স্বপ্নকে জলাঞ্জলি দিয়ে এসেছিল যা কুড়িয়ে পাওয়া নয়,নিজের হাতে গড়া স্বপ্নের সৌধ যার রাণী সেই আদ্রিতা।
আজ দুবছর পর সেই ঝড় থামলো। কারণ আদ্রিতা নিজেই নিজের সেই ছবিটা নিয়ে আরিয়ানের হাতে তুলে দিয়ে বললো, নাও তোমার জন্য।
-কি ?
-খুলে দেখো।
আরিয়ান খামটা খুলে দেখলো সেই ছবি।আবার যেন প্রান ফিরে পেলো সে। কি অস্থিরতায় যে তার সময় কেটেছে তা শুধু সে নিজেই জানে। কিন্তু ছবিটার একপাশ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।ছবির মানুষটা অবশ্য অক্ষত আছে।আরিয়ান অবাক হয়ে জানতে চাইলো,পুড়লো কিভাবে ?
-আমি পুড়িয়ে ফেলতে চেয়েছিলাম।
-কেন ?
-এমনি।
আরিয়ান আর কথা বাড়ালো না।কারণ সে বুঝে নিয়েছে।

কলেজ ক্যাফেতে মুখোমুখি বসে আছে দুজন। আরিয়ান আর আদ্রিতা দুজনই চুপচাপ।কফিতে চুমুক দিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো আরিয়ান। নীরবতা ভাঙলো আদ্রিতা, কিছু বলছো না কেন ?
-কি বলব ?
-কিছু বলার নেই ?চুপ করে বসে থাকার জন্য আমাকে ডেকেছো ?
-না । আর কখনো যদি দেখা না হয়,হতে পারে এই দেখাই শেষ দেখা। তাই শেষ দেখাটা দেখে নিতেই এসেছি।
আদ্রিতা কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বললো, আমি বিয়েটা করব না। বাড়ীতে বলে দিয়েছি, বাড়ীও যাব না।
-কেন ?
-এমনি। জানি না।সবাই অনেক জোড়াজুড়ি করতেছে, অনেক কিছু বুঝাইতেছে কিন্তু আমার ভাল্লাগেনা।
-এটা কোন কথা হলো ?
-হুম এটাই কথা।
-পাগলামি করো না।সবাই যা বলতেছে ঠিকই বলতেছে।
-পাগলামি না, যা করছি ঠিকই করছি, সে চিন্তা আপনাকে করতে হবেনা।
আরিয়ান চুপ হয়ে গেলো। অনেক ক্ষণ চুপ থাকার পর আদ্রিতা বললো, আপনি রাগ করেছেন ?
সেই শুরুর দিঙ্গুলির মতো দরদ নিয়ে জিজ্ঞেস করলো আদ্রিতা। আরিয়ানের মনটা ভিজে উঠলো। গত পাঁচ বছরে রাত দিন ঘন্টার পর ঘন্টা ফোনে কথা বলে কাটিয়েছে দুজন। মাঝে দু-তিন বার ছেদ পড়েছিলো সম্পর্কে। আদ্রিতা ইচ্ছে করেই দূরে সরে থাকতো, কিন্তু কেন,সে কথা কেউ জানতো না।

বিয়ে ঠিক হয়ে গেলো আদ্রিতার।আরিয়ান আদ্রিতার কাছ থেকে কথাটা জানতে পারেনি, জেনেছে তৃতীয় আর একজনের কাছ থেকে।এটাই কি আরিয়ানের পাওনা ছিলো।হয়তো! তারপর হঠাৎ ফোন,
-হ্যালো আরিয়ান
-শুনছি বলো ।
-কেমন আছ?
-আছি আলহামদুলিল্লাহ।আমার আর থাকা।তুমি কেমন আছ ?
-ভাল নেই।
-কেন ? তোমারই তো এখন ভাল থাকার সময়। কি হয়েছে ? কোন সমস্যা ?
একটু চুপ থেকে আদ্রিতা বললো, না মানে বিয়ের কথা হচ্ছে। হয়তো ঠিকও হয়ে যেতে পারে সবাই রাজী, আমি ছাড়া।দয়া করে কিছু করার থাকলে করেন।
আরিয়ান কি উত্তর দেবে ভেবে পেলনা।তবুও বলতে হয় বলেই বলা।চলো বিয়ে করে ফেলি টাইপের কথা হয়তো অসাড় হয়েই থাকবে।তাই বললো, আমি বেকার চাকরি বাকরি নেই, বাপের নেই চার পয়সা আমি কি করে তোমাকে আশ্বাস দেব ?
একটু চুপ থেকে ধীর লয়ে বললো,না হলে আর কি করা।আমার যা বলার দরকার ছিলো বলেছি।
আসলেই কি তাই ?আদ্রিতার আকুতি সত্যি কি তেমন তীব্রতা নিয়ে এসেছিলো ? প্রশ্ন তো থেকেই যায়।
কফির অর্ধেকটা রয়েই গেলো, আরিয়ান খাচ্ছে না।চুপ করে কি যেন ভাবছে। তারপর সেই সাদা খামে সেই ছবিটা আদ্রিতার হাতে দিয়ে বললো, নাও তোমার ছবি, ভাল থেকো।হয়তো জীবনে আর কখনো দেখা নাও হতে পারে।পারো তো ক্ষমা করে দিও।
আদ্রিতা খামটা হাতে নিলোচোখ দুটো ছলছল করে ঊঠলো।
-তুমিও ভাল থেকো।
আরিয়ান ক্যাফের দরজা খুলে বেড়িয়ে গেলো।আদ্রিতা সেদিকেই চেয়ে রইলো অপলক।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  •  মাইনুল ইসলাম  আলিফ
    মাইনুল ইসলাম আলিফ (ক্যনভাসে=ক্যানভাসে, দিঙ্গুলির = দিনগুলির ) দুটি ভুল আছে। আমি একদম শেষ মূহুর্তে তাড়াহুড়া করে লেখাটা পোস্ট করেছি।প্রুফ রিডিং এর সময় পাইনি।সো , অনিচ্ছাকৃত ভুল দুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন,এই প্রত্যাশায় আমার গল্পে আপনাদের স্বাগতম।
    প্রত্যুত্তর . ২ ডিসেম্বর