বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৩০ নভেম্বর ১৯৮২
গল্প/কবিতা: ৪৪টি

সমন্বিত স্কোর

৪.৬১

বিচারক স্কোরঃ ৩.১৫ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৪৬ / ৩.০

শাশ্বত প্রেম উপাখ্যান

ফাল্গুন ফেব্রুয়ারী ২০১৬

গন্ধাবতী

কোমলতা জুলাই ২০১৫

ভৌতিক গল্প লেখার প্রচেষ্টা

ভয় এপ্রিল ২০১৫

ঘৃনা (আগস্ট ২০১৫)

মোট ভোট ১৭ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.৬১ বোধের নির্বিষ প্রাচীর

জাকিয়া জেসমিন যূথী
comment ১২  favorite ৩  import_contacts ৯৬০
‘পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে
স্যাটেলাইট আর কেবলের হাতে
ড্রয়িংরুমে রাখা বাকসোতে বন্দী!
আহাহা! আ-হা! আহাহা! আহা!
ঘরে বসে সারা দুনিয়ার সাথে
যোগাযোগ আজ হাতের মুঠোতে
ঘুঁচে গেছে দেশ কাল সীমানার গন্ডী!
আহাহা! আ-হা‍! আহাহা! আ-হা!’
ভ্রু কুঁচকে মুখে দুষ্টুমির হাসি এঁকে কখনো পা চেয়ারের পায়ে তুলে দিয়ে, কখনো পা ভাঁজ করে চেয়ারের ওপরে তুলে দিয়ে নিষাদ গান শুনছে। দুহাত রাখা কী-বোর্ডের উপরে। কিছু একটা টাইপ করে যাচ্ছে ওর অভ্যস্ত আঙ্গুলগুলো। মাঝেমাঝে থেমে চেয়ারে মাথা হেলান দিয়ে চোখ বুঁজে কিছু ভাবছে। মুখমন্ডলে খেলা করে যাচ্ছে স্বর্গীয় আভা। হয়তো বা খুব এঞ্জয় করছে গানটা। অথবা যা লিখছে তাতেই হয়তো বা সে নিমগ্ন। মাঝেমাঝে গালে ছুঁয়ে যাচ্ছে গোলাপী আভা। নতুন প্রেমে পরা কিশোরীর ছাপ তার সম্পূর্ণ অবয়বে।

টুং টাং শব্দ হয়।
নিষাদ গুগোল ব্রাউজার সাইনে ক্লিক করে। লেখার সাদা কাগজটা সরে গিয়ে রঙ্গিন একটা পেজ ওপেন হয়। ফেসবুক। নোটিফিকেশনের ঘরটায় ইংরেজী সংখ্যায় ফোর। চারটি নোটিফিকেশন কি কি দেখতে গিয়ে নিষাদ একটা পেজ এ চলে আসে।
অণুগল্প গ্রুপঃ
অণুগল্পঃ
ইতিহাস// নিষাদ চনমন
------------------
সেই প্রাইমারি কিংবা হাই স্কুলের সামাজিক বিজ্ঞান বই থেকে ইতিহাস এখন ছড়িয়ে পড়েছে পথে-ঘাটে, বাসে-ট্রামে, গ্রামে-গঞ্জে, শহরতলিতে। ইতিহাস এখন কোথায় নেই? ভালো রেজাল্ট করতে ইতিহাস! সেরা গান গেয়ে ইতিহাস! এমনকি প্রতিদিন কত নারী-পুরুষ খবরের কাগজে ইতিহাস হয়ে যাচ্ছে তার কোন ইয়ত্তা নেই! আজকাল ফ্যাশন জগতও ইতিহাসে মোড়ানো! সেরা নৃত্যশিল্পী, গায়কী, আঁকিয়ে, ড্রামবাদক, সুন্দরী প্রতিযোগিতা এরকম আরও কত কি!
লোকাল বাসের ভিড়ে ওপরের হ্যান্ডেল দুহাতে ধরে কোনরকমে দোদুল্যমান দাঁড়িয়ে ভাবনার মনে গল্পের প্লট ঘুরাফিরা করছিলো। মাথা ঢেকে রাখা ওড়নার ভেতর দিয়ে গলায় ফিতা ঝুলানো কোমর ছোঁয়া ভ্যানিটি ব্যাগ কখন জায়গা বদল করেছে তা সে জানতেও পারেনি। ওর গায়ে ঠেলা দিয়ে ব্যাগের নতুন মালিক যখন প্রকাশ্যে সকলকে প্রদর্শন করে নেমে গেলো তখনো ভাবনার টনক নড়েনি। মৎস্য ভবনের সামনে বাস এলে ও নেমে গেলো। হাঁটা দিলো দুদকের দিকে। সেখানে গিয়ে রুদ্রের সাথে দেখা। দু বন্ধু মিলে পুনরায় হাঁটা। গল্পে গল্পে সময় পেরিয়ে কখন সেবা প্রকাশনীর গেটে এসে থেমেছে হুঁশ নেই। তারপরে বই বাছাবাছি শুরু হলো। ওয়েস্টার্ন, হরর, সেবা রোমান্টিক মিলিয়ে প্রায় বারোশ টাকার বই মাত্র চারশ টাকায় পেয়ে গেলো। কারণ- ডিসকাউন্ট!
বক বক করতে করতে শ খানেক বই নিয়ে ক্যাশ কাউন্টারে নিজের বইয়ের মূল্য পরিশোধ করে রুদ্র বললো, ‘তোর বইয়ের মূল্য পরিশোধ কর!’
‘করবো তো! ভুলোমনা ভাবিস নাকি?’
কিন্তু টাকা দেবে কোত্থেকে? এত উচ্ছ্বাস নিয়ে বইয়ের লিস্ট তৈরি, সময় করে বাড়ি থেকে এতটা দূরে আসা, সব বিফল! সব! এত বড় ইতিহাস ওর জন্যে অপেক্ষায় ছিলো তা যদি ঘুণাক্ষরেও বিধাতা জানতে দিতেন!
-----------------
গল্পটা পছন্দ করেছে বারো জন। বক্তব্য দিয়েছে সাতজন। পাঁচ জনের বক্তব্য ভালো। দুজনে তর্ক জুড়েছে।
একজনের আইডি দেখেই নিষাদের হাসি পেলো। মূর্খজ্ঞানী! ও মন্তব্য দিলো, ‘মূর্খ আবার জ্ঞানী হয় কি করে?’
কথাটা মজার হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই পোস্টে মারামারি লেগে যাওয়ার যোগাড়। সাহিত্য মঞ্চেও সুশীল মুখোশের আড়ালের কুটিল রূপ উম্মোচন হয়ে যায় হয়তো এভাবেই। শেষমেশ সরি বলেও পার পেলো না নিষাদ। মেজাজ খিঁচড়ে গেলো ওর। যখন ভাবছে- ‘ধ্যাত এসব গ্যাঞ্জাম ভালো লাগে না! লগ আউট হই’ তখনই ইনবক্সে ডাক পরলো, ‘চনমন!’
‘ডাকলেন?’
‘এত ক্ষেপছেন কেন?’
‘কোথায়?’
‘ফরগেট ইট! আমি বিলাস!’
‘কোত্থেকে এলেন?’
‘নিজের জায়গাতেই আছি!’
‘এতদিন তো কোত্থাও দেখিনি! হঠাত জন্ম নিলেন বুঝি?’
‘হিহিহি!’
‘একি! মেয়েদের মত হাসেন!’
‘তাহলে কিভাবে হাসবো শিখিয়ে দেন!’
‘ইস! আমি কি পাঠশালা খুলেছি?’
‘খুললেনই বা আমার জন্য!’
‘কি এমন স্পেশাল হলেন?’
‘স্পেশাল করে নিলেই হয়!’
‘আরে পিচ্চি বলে কি!’
‘মোটেই পিচ্চি নাহ! অনার্স শেষ করেছি!’
‘মাত্র!’
‘আপনি কবে?’
‘সেই উনিশশো তিপ্পান্ন সালে!’
‘উরিব্বাশ! জ্যান্ত নাকি মমি!’
‘চিমটি কেটে দেখুন!’
‘হাহা! হাত বাড়িয়ে দিন!’
‘বলে কিরে!’
‘মনে তো হয় আপনি বছর দুয়েকের ছোট!’
‘বেশ বলেছেন!’
‘এটুকুই বা ক’জন পায়?’
‘মানে?’
‘গান শুনবেন?’
‘গান তো শুনছিলাম!’
‘আপনার নাম্বারটা হবে?’
এই হলো মুশকিল। একটু পাত্তা দিলেই ছেলেগুলো মাথায় চড়তে চায়! ভাবে নিষাদ। এখন আবার ফোন নাম্বার দিয়ে কি হবে?
মুখে বললো, ‘এই মাঝ রাতে কল করা যাবে না!’
‘সমস্যা হলে থাক, ম্যাডাম! গান শুনাতাম!’
‘দু কানে অলরেডি হেডফোন আটকা!’ বলে ছেলেটার প্রথম আবদারে বাঁধ সাধে নিষাদ ইচ্ছে করেই।
হঠাৎ নিষাদের বাসার কারেন্ট চলে যায়। ইন্টারনেটের ওয়াই ফাই কানেকশনটাও মুহুর্তের মধ্যে দুটি হৃদয়ের কথা বলা থামিয়ে দেয়।

পরদিন ফেসবুকে পুনরায় দেখা হয়ে যায় দুজনের-ইনবক্সে। চঞ্চল ছেলেটি নিষাদ চনমনের খোঁজে নক করে ওর মুখবইয়ের দরজায়-
‘বাড়ি আছেন? আমি বিলাস!’
নিরবতা!
নিরবতা!
নিরবতা!
ওদিকে বিলাসের বাড়িতে নিষাদ। অগুণিত ছবির এ্যালবাম, ভিডিও ফাইল। নিষাদ মুগ্ধ দর্শক। শুধু দেখছে আর দেখছেই। একটা এ্যালবাম খুলে থ। দাঁড়িয়ে, বসে, ঘাড় ঘুরিয়ে, সোজাসুজি নানান ভংগীতে ছেলেটা শুধু ওকেই দেখছে। কি চোখ! খাড়া নাকের নিচে প্রশস্ত ঠোঁটে যেন নিঃশব্দ নিমন্ত্রণ! ঐ আবেদন উপেক্ষা করার ভাষা জানা নেই নিষাদের! ঘোরের ভেতরে ডুবে যেতে থাকে নিষাদ। ঝাড়া ত্রিশ মিনিটের মত শুধু বিলাসের চোখে চোখে কথা হতে থাকে নিষাদের। চোখ-ঠোঁটের আহ্বান হৃদয়ে আলোড়ন তুলতে থাকে। ছোট বড় ঢেউ! উঠছে! নামছে! নিষাদের সতর্ক মন দিশেহারা! কি হচ্ছে এসব?

দুদিন নিজের সাথে নিজের তর্ক চলে। ফেসবুকে আসা কমিয়ে দেয়। কিন্তু দূর্দমনীয় নেশা ওকে ফের ফিরিয়ে আনে ঐ চোখে। প্রতি রাতে ঘুমোবার আগে নিষাদ ডুবে থাকে ও মাদক চোখে। কিন্তু চোখের মালিকের কাছে মুখ ফুঁটে বলে না কিছু। অযথাই দূরত্ব বাড়ায়। কদিন পরে আবার কথা হচ্ছে দু’জনার-
‘নিজেকে আপনি খুব ফাঁকি দেন!’ বিলাসের এই কথায় নিষাদ চমকে ওঠে! বিলাস কিভাবে জানলো? ওকে ও বলে নি তো! ছেলেটা মারাত্মক চালাক। এর থেকে দূরে সরে পরতে হবে। কিছুতেই ধরা দেয়া যাবেনা হৃদয় আহ্বান। এ যে মাতাল নেশা! ভেঙে গুড়িয়ে দেবে সবকিছু!
‘নিজেই নিজের অপ্রতিরোধ্য দেয়াল! সব চাওয়ায় হ্যাঁ বলতে নেই যে!’ ফস করে টাইপ করে সেন্ড করে দেয় নিষাদ বিলাসের বার্তাঘরে। দিয়েই হুঁশ হয়- ‘ছি ছি! একি করলাম? জেনে যাবে তো!’
তাড়াতাড়ি প্রসংগ বদলে দিতে টাইপ করে, ‘লাইফ প্ল্যান কি? মাস্টার্স করবেন কোথায়? দেশের বাইরে?’
‘আমি ইতিহাস হবো!’
‘কিভাবে? খুন করে?’ নির্মল ঠাট্টায় মেতে উঠে মনের নিভৃত তাড়নাকে দূরে সরাবার চেষ্টায় রত নিষাদ।
‘দাগ রেখে যাবো দুনিয়ার গায়ে!’ আত্মবিশ্বাসী বলে মনে হয় বিলাসের বাক্যটা। চ্যাটবক্সে কথার শব্দ আসে না। শুধু কিছু শব্দের বুনন বুনে যায় আঙুল। কিন্তু কথাগুলো হৃদয়ে নাড়া দেয় নিষাদের। মনে মনে বলে, ‘হৃদয় খুনের অপরাধে তুমি দাগী আসামী হবে নিশ্চয়!’
বিলাস একটা ভয়েস রেকর্ড পাঠায় বার্তাঘরে। নিষাদ প্রশ্ন করে না। ওর মনে হয় বিলাস নিজের কথা লিখেছে। স্পিকারে না শুনে ইউএসবি ল্যাপটপে যুক্ত করে হেডফোনে কান গুঁজে রেকর্ডটা শুনতে লোড দেয় নিষাদ-
যেভাবে পারি হবো ইতিহাস,
রাজকন্যার বুক ছুঁয়ে করবো ভালোবাসার বুনো চাষ!
অসম প্রেমের অদম্য আকর্ষণ,
দু হৃদয়-মনে গড়বে জলোছ্বাস;
মরে নয়, বেঁচে রয়; আজীবন হবে শুধু হাঁসফাঁস!
আমি হবোই হবো যে ইতিহাস!

বিলাসের গম্ভীর ও সিরিয়াস কণ্ঠস্বরে আবৃত্তি করা লাইনগুলো বার বার নিষাদের কানে ছন্দ তুলতে থাকে। হৃদয়-মনের সরল পথ ছেড়ে শব্দগুলো সারা অবয়বে নগ্ন পরশ বুলিয়ে যেতে থাকে। বুক-ছুঁয়ে-বুনো-চাষ-অসম প্রেমের-অদম্য আকর্ষণ! কথাগুলো খুব মর্মস্পর্শী! তপ্ত সীসায় যেন কান জ্বলে যাচ্ছে। তবু এ জ্বলুনি পোঁড়ায় না। এ যেন কি এক অসামান্য সুধা! কি যে স্বর্গীয় সুখ তা যায় না বোঝানো কাউকে, শুধু নিজে বুঝে নিতে হয় ক্রমাগত দহনে।

‘চনমন...’ বিলাসের মেসেজের দিকে চেয়ে থেকে নিষাদের ঘোর যেন আরও তীব্র হয়! ও নেট লাইন অফ করে বিছানায় গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ এক অদ্ভূত মাদকতাময় ভালো লাগার আবেশ! নিষাদের আমিত্ব বিসর্জন যেতে বসেছে। সে আর তার নিজের মধ্যে নেই।

রাতের আঁধার কেটে ভোর হয়। ভোর গড়িয়ে সকালের চঞ্চলতা। তারপরে অলস দুপুর, বিষন্ন বিকেল। রাত নেমে আসে পুনরায় সন্ধ্যার চাদর গায়ে জড়িয়ে। নিষাদ ল্যাপটপ খুলবে না। নেট লাইন সংযুক্ত করবে না। মনের সাথে নানান যুদ্ধের জয় পরাজয় শেষে কখন যেন ফেসবুকে লগইন হয়ে বিলাসের ইনবক্সে আজ নিজে থেকেই নক করে বসেছে, সে সময়ের হিসাব মগজে গাঁথা নেই নিষাদের।

‘কী করেন, বিলাস বোধন?’

‘আপনার বার্তাঘরে চেয়ে বসে আছি, কখন একটু নজর দেবেন এই অভাগায়!’

‘কি কথার ছিরি!’

‘ছিরি যাই হোক, আপি। হারালে বুঝবেন ছিলাম কতটা দামী, হৃদয়ের কাছাকাছি!’

‘কাব্য করতে খুব ভালো লাগে, না?’

‘কাব্য আর গানেই যে বসবাস! রাত্রি ভোর নেশাময় মোর চারপাশ!’ একটা রেকর্ড ভয়েস ছুটে আসে বার্তাঘরে।

নিষাদ শুনে নেয়। কিছু বলে না। চুপ করে থাকে। বুকের ভেতরে পুনরায় উথাল পাথাল। সেই নেশা নেশা ঘোর ফিরে আসছে আবারো।

‘আপি, আপনি আবৃত্তি করেন না?’

‘পারি না যে!’

‘কে বলেছে? চেষ্টা করেননি কখনো?’

‘করেছি! জড়তা কাটে না মোটে! লজ্জাবতীর কণ্ঠে শেকল!’

‘দেখি শুনে! কণ্ঠ পাঠান।’

‘কিভাবে পাঠায়?’

‘ভয়েস রেকর্ড করে!’

‘পাঠাবোনে অন্য সময়!’

‘এখন কেন নয়?’

কানের লতি, বুকের আনাচ-কানাচ কেন অযথাই সুড়সুড়িতে মেতে ওঠে জানে না নিষাদ। হেডফোন কানে জুড়ে মনে হচ্ছে এই মাথাটা কে যেন খুব যতনে দু হাতে ছুঁয়ে উষ্ণ ছোঁয়ায় বুলিয়ে যাচ্ছে হৃদয়ের এ কূল ও কূল।

ইচ্ছে হয় কিছু আবৃত্তি করার। কি পাঠ করবে? কোন কবিতা? নিজের লেখা একটা কবিতাও আবৃত্তি করে পাঠানোর মত লাগছে না। সব এলেবেলে। নতুন কিছু লিখবে কি? ভাবতে ভাবতেই চোখ যায় ফেসবুক হোম পেজ এ। ফেসবুকের সাহিত্যিক ছোট ভাই মাহমুদ সিদ্দিকী’র ওয়ালে একটি কবিতা শোভা পাচ্ছে। নাম- ‘কথকতা’! ঘরের দরজার সিটকিনি আটকে লম্বা শ্বাস নিয়ে মোবাইলের রেকর্ডার অন করে নিষাদ আবেগ জড়িয়ে আবৃত্তি করতে থাকে-

কবিতাঃ কথকতা
মাহমুদ সিদ্দিকী
-------------
ভেতরে খুব কষ্ট ভীষণ
বানের জলে ভেসে যাক
সুতীব্র এক বিদ্যুতালোয়
দুঃখরা সব ঝলসে যাক

টিমটিমে এক নিয়ন আলো
আমি নাহয় দেখেই যাব
প্রজাপতির রঙ মাখিয়ে
স্বপ্নরা সব উড়ে যাক

আমার ঘরে জোছনারাতে
চাঁদের আলো নাইবা এলো
জোছনা তবু ঝরুক রাতে
আকাশের ঐ নীল ললাটে

একলা একা আকাশ দেখি
দূর থেকে কেউ দেখুক সাথে
কল্পনাতেই হোক না তবু
হাতটা থাকুক কারো হাতে
------------------

ছেলে কি জানো তুমি? একা তুমিই শুধু মুগ্ধ করবে আমায়? দেখো, আমিও পারি! দুষ্টু কিশোরী চঞ্চলতায় সদ্য আবৃত্তির রেকর্ডটি ফেসবুক বার্তায় পাঠিয়ে দেয় নিষাদ।
মিনিট কয়েক পরেই মেসেজ আসে-
‘আপনি একটা মিথ্যুক!’
‘কেন? কি করলাম?’
‘আবৃত্তি দারুন হইছে! অসাম হইছে!’
‘হুম, তোকে বলেছে?’ আপনি থেকে হঠাৎ তুমি নয় একেবারে তুইতে চলে এলো নিষাদ। এসে ভাবলো, ‘এমা! এটা কী হলো?’ একটু পরেই ভাবলো- ‘যাক! ভালোই হয়েছে। ছোকরা, তুই বরং হিন্দু মুসলিম দূরত্বটা নিয়ে দূরে দূরেই থাক। বেশি কাছে ভিড়িস না! জ্বলে ছাড়খাড় হয়ে যাবি!’ নিজের অস্তিত্বের ভেতরে ক্রমশঃ অশান্ত হয়ে উঠতে থাকা নিষাদ নিজেই নিজের চারধারে প্রাচীর তুলতে থাকে। বুঝিয়ে দিতে চায় ঐ এক ‘তুই’ দিয়ে বিলাস কতটা দূরের! যাকে বেশি কাছে আসতে দিলেই সর্বনাশ!
আবার রাত যায়। দিন আসে। পুনরায় রাত। নেই সাড়াশব্দ। সব ব্যস্ত। বেড়ে যায় দূরত্ব।
ফের একদিন-
বিলাস জিজ্ঞেস করে, ফেসবুক বার্তায়-
‘আপনি যে বই সমালোচনা লিখেন জানতাম না তো!’
‘কোথায় দেখলি? সরি দেখলেন!’ তুই নাকি আপনি বলবে বুঝতে পারে না সহসা। দ্বন্দ্ব কাটাতে তাই জিজ্ঞেস করেই ফেলে, ‘তুই সম্বোধনে কি আপত্তি আছে?’
‘মোটেই না! যা খুশী ডাকুন। হৃদয়ে মিশে থাকুন।’
উফ! বিলাসের এই হেঁয়ালিই ডোবাবে শেষ মুহুর্তে! জাত পাত সব ধুলোয় মিশে যাবে। সমাজ সংসার সব জলাঞ্জলী দিতে হবে। ভাবে নিষাদ। কিন্তু এই নেশা নেশা হেঁয়ালির আমেজ উপভোগ করতেও ছাড়ে না অবুঝ মন। মনের আরেক সত্ত্বা ভাবে- হোক না যা খুশী। যা হবার তাই হবে শেষে। না হলে সবকিছুর পরেও কিছুই হবে না। এইভাবে দুজনের জীবন খাতা নতুন কাহিনীতে ভরে উঠতে থাকে।
দুদিন পর ওয়ালে একটা গান সাবমিট করে নিষাদ। বিলাস অন্য সবার লেখা পড়তে পড়তে নিষাদের ওয়ালে এসে গানটা দেখে নিজের গিটারে সুর তুলতে চেষ্টা করে। কিছুটা তুলে মনে হয় ও পারবে গানটা সুরে বেঁধে ফেলতে। তবে, গীতিকার কিভাবে চায় সেটাও শোনা দরকার। সে নিষাদকে অনলাইনে খুঁজে পায়না। ওয়ালে গিয়েই মন্তব্য রেখে আসে নিষাদ চনমনের নাম ট্যাগ করে-‘আপি, আপনার লেখায় কি যেন এক আপন আপন বোধ থাকে। যেন জীবন্ত! অনুমতি দিলে গানটিতে সুর বাঁধতে চাই।’
নিষাদ জানলো সেটা সাথে সাথেই। চ্যাটবক্স অফ রেখেছিলো যাতে ছেলেটা ওকে খুঁজে না পায়। কিন্তু কিছু হলে বোধহয় এভাবেই হয়ে যায়। সব বাঁধার প্রাচীর ভেঙে যায়। ও নিষাদের ইনবক্সে গিয়ে বললো, ‘আমার নাম্বার রইলো। ফ্রি হলে কল দিস!’
দুটো হৃদয় যেন একই প্রেমাবেগের কক্ষপথে ঘুরছে। পরস্পরের জন্যেই যেন সমস্ত সময় খোলা। একজন বললো- আয়! আরেকজন ছুটে চলে এলো। একদিন দুপুরের পর পড়ন্ত বিকেলে বিলাস বোধনে্র গিটারে সুর তোলা শুরু হলো নিষাদের লেখা গানের। কাছাকাছি আড়াআড়ি বসা দুজনে। ওরা বসেছে বিলাসের বাসার সামনে বাচ্চাদের ক্রিকেট খেলার জন্য কিছুটা উঠোনমত জায়গা আছে সেখানে মোড়া পেতে। দরদ ভরে গাইছে বিলাস-
এ অমোঘ আহ্বান
ছাড়ানো সহজ বলো
ঘুরে ফিরে বারে বারে
হাত ছুঁয়ে, হাত ছেড়ে
যত বার পা বাড়াই
চলে যাবো বলে!
ওওও...
দুটি আঁখি ছলো ছলো
বেঁধে দেয় মায়াবেড়ি
অমোঘ এ আহ্বান
কেন যাবো দূরে সরি!
লা-লা-লা...


ওর ভরাট কণ্ঠের গান নিষাদের কলিজার ভেতরে অশান্ত সুর তোলে। বিলাসের পরনে একটা স্ট্রাইপ চকলেট কালার শার্ট। কলারের কাছের খোলা বোতামের ফাঁক দিয়ে লোমগুলো উঁকি দিয়ে যেন নিষাদকে ডাকছে,
আয়! আয়! আয়!
অধর চেপে শ্বাসে জোরে নাক লুকোবি গভীর অরণ্যে;
খামচে ধরে পিঠের পাহাড়, দমাবি তোর উথাল দহন, প্রেমের আগুনে!

ঝট করে উঠে দাঁড়ায় নিষাদ, ‘মেঘ আসতেছে! বাসায় যাই!’ বলতে না বলতেই বড় বড় ফোঁটা পরতে শুরু করলে ওরা দৌড়ে বিলাসের ঘরের বারান্দায় এসে ওঠে। হঠাৎ চারদিক অন্ধকারে ডুবে যেতে শুরু করে। দুম করে বোমা ফাটার মত কোথাও ট্রান্সফরমার ব্লাস্ট হয়। কিছু কাকের কর্কশ চিৎকার! পুড়ে গেছে বোধহয়। ইলেকট্রিসিটি চলে গিয়ে বিশ্বচরাচরে সন্ধ্যা নামের গভীর রাত নেমে আসে। একটু পর পর বিকট বাজের ঝলকানি। কান ঝালাপালা। কি সুন্দর মিষ্টি সুরেলা বাতাস বইছিলো। কোত্থেকে কি হয়ে গেলো! প্রকৃতির মত অশান্ত হয়ে উঠছে নিষাদের মনও। ভালো-মন্দের দ্বন্দ্ববোধের দেয়ালে দাঁড়িয়ে নিষাদ ভাবছিলো, ‘কি ফ্যাঁসাদে পড়া গেলো! একটা ব্যাচেলর হোমে এভাবে আটকে পরা ঠিক হলো না কিছুতেই!’ ভাবনা ডানা মেলার আগেই দুটো কঠিন হাত আর বুকের খাঁচায় বন্দী হলো নিষাদ। অদ্ভূত আবেশ ছড়িয়ে পড়ল ঠোঁটে, গলায়, পিঠে, বুকে। সারা অবয়বে লক্ষ ভোল্টের বিদ্যুৎ চমক! তারপরে জান্তব খেলা শুরু। দেশ-কাল-পাত্র-সময়-নিজেদের অবস্থান সব রইলো স্থির। শুধু দুটি প্রাণের পরস্পরের শ্বাস অনুভূতির সময় এখন। কে কাকে কতটা বোঝে! কতটা উজাড় করে দেয়া সম্ভব? এ খেলায় বিজয়ী কে হবে সে চিন্তা নেই। পাপ বোধ নেই! দুজনে দুজনার অস্তিত্বে বিলীন। অণুতে-পরমাণুতে!
সব ঝড়ই এক সময় থেমে যায়। বাইরের অশান্ত প্রকৃতি আর ঘরের ভেতরে আশ্রয় নেয়া একজোড়া জুটির মাদকতাময় নেশাখেলাও থামলো প্রায় একই সময়ে। লজ্জায় জড়সড় নিষাদ অধোবদনে বসে আছে! আর পাথুরে থমথমে চেহারায় বিলাস। দুজনেই ভাবছে, ‘এ কী হয়ে গেলো! এ কি হবার ছিলো?’

আরও কিছুটা সময় থমকে থাকবার পরে নিষাদের ফোন বেজে উঠলো। বাড়ি থেকে কল এসেছে। ফেরার তাড়া। নিঃশব্দে বের হয়ে গিয়ে একাই রিকশায় উঠলো।
এর পর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলো। নিষাদের খবর নেই। নিষাদ চনমন অচিন দেশে হারিয়ে গেছে! এতটা আগ্রাসী একজন কে? ওর নিজের ভেতরে! কে এই সত্ত্বা? ভূতে পাওয়া নিজের এই অজানা রূপ, অজানা বোধকে সে জানলো এই। লজ্জায় সে ঘর থেকে বেরোয় না। কম্পিউটারে কিছু টাইপ করতেও বড্ড অনীহা! ফেসবুকেও লগইন করে না। বিলাসও ফোন করে নি। পরস্পর হয়েছে যোগাযোগহীন। ফেসবুক বার্তায় কথা নেই। মুঠোফোনে কেউ কাউকে বার্তা পাঠায় না! সবকিছু যেন মুছে গেছে ইতিহাসের পাতা শুন্য করে।
আরও কয়েক দিন পরে নিষাদ ফেসবুকে লগইন করে। অনেক নোটিফিকেশন। অনেক মেসেজ। অনেকেই ওর কুশল জানতে চেয়েছে। হঠাৎ কোথায় ডুব মেরেছে! বিয়ে হয়ে গেছে কি? দাওয়াত না দিয়েই কেটে পড়লেন? এরকম অনেক বার্তা।
নিষাদ বিলাস বোধনের ওয়াল দেখতে যায়। অশান্ত শরীরবৃত্তীয় কবিতায় ছাওয়া ওর উঠোন বাড়ি। মোস্ট রিসেন্ট স্ট্যাটাস হিসাবে মোহিনের ঘোড়াগুলি এলবামের একটা গান শেয়ার দেয়া-
‘ধাঁধার থেকেও জটিল তুমি
ক্ষিদের থেকেও কষ্ট
কাজের মধ্যে অকাজ খালি
মনের মধ্যে কষ্ট!
স্বপ্ন হয়েই যখন তখন
আঁকড়ে আমায় ধরো
তাইতো বলি আমায় বরং
ঘেন্না করো ঘেন্না করো...’

গানটা শুনতে হেডফোন কানে লাগায় নিষাদ। একই গান বার বার শুনতে থাকে। কয়েক বার শুনে কয়েকটা লাইন মনের ভেতরে ড্রামের তালে বাজতে থাকে নিষাদের। হৃদয় এফোঁড় ওফোঁড় করে ভেঙে চুড়ে যেতে থাকে!

‘আজ চালাক আমি, কাল বোকা
মহৎ প্রেমিক ন্যাকা ন্যাকা
আমার আসল চেহারা কি
চিনতে তুমি পারো?
চিনতে যদি পেরেই থাকো
ঘেন্না করো ঘেন্না করো...’

নিষাদের হঠাৎ খুব রাগ হয়ে যায়। বিলাসের প্রতি অবিশ্বাসে এবং নিজের প্রতি ঘৃণায় মিশ্র অনুভূতির আগুন জ্বলে ওঠে। এ কি করে বসে আছে ও! এই ছেলে তো সব ইচ্ছে করেই করেছে! প্রথম থেকেই কবিতা গানের এত এত আহ্বান! এত মাদকতায় জড়ানো। সব মেকি। সব নাটক! শুধু বোকা চরিত্র হিসেবে ওর আকুল আত্মসমর্পণ! তারপর? সব আগের মত! নিষাদকে কেউ চেনে না! তাই এ ক’দিনে যেখানে নিষাদ নিঃশব্দের খাঁচায় বন্দী সেখানে কাব্য গানের উল্লাস চলছে বিলাসের ঘর জুড়ে। ক্ষেপে গেলে নিষাদের কোন হুঁশ জ্ঞান থাকে না! কথাগুলো সে মনের কোঠর থেকে ঝটকা দিয়ে পাঠিয়ে দেয় প্রবল বিতৃষ্ণায় বিলাসের ফেসবুক বার্তাঘরে।
বার্তা দিয়ে ফেলে কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে নিজের লেখা কথাগুলো আওড়ায়। ঘেন্না করতে বলেছে বিলাস নিজেকেই। ও কি ভুল বুঝে ফেললো বিলাসকে? ছিঃ! এ কী করলো ও! এখন এ ভুল শুধরোবে কী করে? নিষাদ বিলাসের মুঠোফোনে রিং করলো। অনেকবার রিং হয়ে গেলেও ও পাশ থেকে কেউ কলটা রিসিভ করলো না।
রাত বাড়ছে। সেই সাথে বাড়তে শুরু করেছে নিষাদের অস্থিরতা। কখন সকাল হবে? আর অপেক্ষা করা যায় না! সকালেই বিলাসের বাসায় যেতে হবে। মুখোমুখি মেটাবে সব হিসেবনিকেশ। লাইটের সুইচ অফ করেও ও শুধু ঘরময় পায়চারিই করে যাচ্ছে। একবার কিছুক্ষণ শোয় তো উঠে পরে পুনরায়। আবার ফোনে চেষ্টা করে বিলাসকে যদি একটু পায়। ‘শুধু একবার খোদা, একবার কথা বলতে দাও!’ এই আকুল আহ্বানেও কোন কাজ হয় না! বিধাতাও বুঝি আজ ঘুমিয়ে পড়েছেন।
কয়েক ঘন্টা পরে।
নিষাদের মুঠোফোনে একটা বার্তা আসে,
‘সেদিন ওরকম হুটহাট কি এক মাদকতায় জড়ালে নিষাদ। তোমার চনমনে কায়ায় হারালাম আমিত্বকে! জানি না কি সে ভুল, নাকি সত্য ছিলো! ভুলে যেতে পারি না তোমার প্রতি সেই অপমান, তোমাকে কেন ছুঁয়ে দিলাম, অবুঝ বোধে! ক্ষমা কী করতে পারো না মোরে? এ পাপ মুখ আর কি দেখানো যায়? দ্বিতীয় জন্মে যেন ঠিক পথে এসে তোমাকেই পাই!-একজন অভাগা বিলাস। বোধনের সঠিক পথে এলে সে ঠিকই জয়ী হতে পারতো একজন নিষাদের ভালোবাসা নিতে!’

বার্তা পড়ে নিষাদ হতভম্ব। মানে কি এর? ভাবতে ভাবতেই কল দিলো। ও পাশে রিসিভ হতেই, ‘হ্যাঁ, আপি, আপনি তো চনমন আপা! তাই না? বোধন ভাই তো, বোধন ভাই মানে বিলাস বোদন ভাই তো এখন... ভোরে উঠে দেখি উনি বেকায়দায় শোয়া। পানির গ্লাসটা বিছানায় জল সমেত গড়াগড়ি। স্লিপিং পিলের কন্টেইনারটা খোলা! সেন্সলেস ভাইয়াকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে এলাম! আল্লা জানে কি হবে!’ একটানে নিষাদকে কথা বলার এতটুকু সুযোগ না দিয়ে একটা পুরুষের উত্তেজিত জড়ানো কণ্ঠস্বর কথাগুলো বলে গেলো। সব শুনে ও শুধু এতটুকুই বলতে পারলো, ‘কোন হাসপাতাল? আমি আসতেছি!’
তারপরে বাবাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে, ‘চলতো বাবা! কুইক! সময় নেই! হ্যাঁ! আরে না! পোশাক বদলাবা কেন? বিলাস মরে যাচ্ছে! চলো তো!’
বিলাস কে? মেয়ে কি বলছে কিছুই বুঝতে পারে না নিষাদের বাবা। তবে ‘মরে যাচ্ছে’ কথাটুকু কানে যাওয়ার পরে মেয়ের মত বাবাও তন্দ্রাচ্ছন্ন পায়ে ঘরের স্যান্ডেল পায়ে গলিয়েই হাসপাতালের উদ্দেশ্যে ছোটে!

কিন্তু বিধাতা স্বয়ং এই নাটকের কাহিনীতে যে মোড় রাখবেন বলে স্থির করেছেন, তা পরিবর্তনে বাঁধা দেয়ার সাধ্য কার? নিষাদ ওর বাবাকে সাথে নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করতেই বিলাসের রুমমেটের কাছে জানলো, ওর রাগের ঝাঁপটা বিলাসকে দুনিয়া থেকে তুলে নেয়ার সব আয়োজন সমাপ্ত করেছে।
বিধাতার নাট্যমঞ্চের মূল অভিনেত্রীর পার্ট চেঞ্জ হয়। নিষাদ চনমন নামের জীবনবোধের গল্পকার হিসেবে খ্যাত এই উদীয়মান কথাসাহিত্যিকের জীবনে এরপর শুধু একটি শব্দই খুব তীব্র প্রভাব ফেলে। ঘৃণা!!!
পঁয়ত্রিশের দেহে যে টিনেজ হাসিখুশী চঞ্চল বালিকা খেলা করতো বিলাসের গাত্রোত্থানের পর তার জীবনে আর নতুন কেউ আসার সুযোগ পায়নি। কারণ- প্যানিক ডিসঅর্ডারের মাত্রাতিরিক্ত প্রভাবে আক্রান্ত হয়ে নিষাদ চনমন গত এক যুগ ধরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বাংলাদেশ ছেড়ে দূর প্রবাস, সিঙ্গাপুরের ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ হাসপাতালে।
(সমাপ্ত)
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন