বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৪ ডিসেম্বর ১৯৭১
গল্প/কবিতা: ২০টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

অনিরাত্তার সংজ্ঞা

ভৌতিক সেপ্টেম্বর ২০১৭

অ-ভৗতিক

ভৌতিক সেপ্টেম্বর ২০১৭

অজানা গন্তব্য

ত্যাগ মার্চ ২০১৬

গল্প - আঁধার (অক্টোবর ২০১৭)

মোট ভোট সংসার

আলমগীর মাহমুদ
comment ১  favorite ০  import_contacts ৬১
সকালে প্রচন্ড রকমের এক ঝড় বয়ে গেল গ্রামের উপর দিয়ে। তেমন কোন ক্ষতি না হলেও কিছু গাছ, গাছের ডাল ভেঙ্গে পড়ে আছে রাস্তায়। উঠোনের মধ্যেও কিছু গাছের ডালা ভেঙ্গে পড়ে আছে। রাহেলা বিবি ফজর নামাজ পড়ে যখন ঘর থেকে বের হবে ঠিক সেই সময়ে ঝড়টা শুরু হয়। কিন্তু বেশি স্থায়ী না হওয়াতে ক্ষতির পরিমাণটও কম হয়েছে। ঝড়া বেশিক্ষণ স্থায়ী না হলেও তীব্রতা মোটামুটি কম ছিল না। রাহেলা বিবি আঁচ করতে পেরে ঘর থেকে আর বের হয়নি। ঝড় যখন থামল ঠিক তখন ভোরের মৃদু আলো ফুটেছে, আঁধার কিছুটা কমে এসেছে, চারদিকে আলো ফুটতে শুরু করেছে। আবছা আলো, আবছা অন্ধকার এর মধ্যেই রাহেলা বিবি ঘর থেকে বের হয়ে দেখে বাড়ির উঠোনে গাছের ডাল-পালা ইতস্তত: ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। ঝড়ের সাথে হালকা বৃষ্টি হওয়াতে বাড়ির উঠোনে কিছুটা পানিও জমে আছে। রাহেলা বিবি খুশি হলো। আজ হাঁসগুলো একটু পানিতে ডানা ঝাপটাতে পাড়বে। ঝড় না হয়ে বৃষ্টি হলেই ভালো হতো, রাহেলা বিবি মনের অজান্তে কথাটা বলে ফেলল। আসলেই ঝড়ের চেয়ে বৃষ্টির প্রয়োজনটা খুব বেশি।। অনেক দিন যাবতই বৃষ্টি হচ্ছে না। গ্রামের মাঠগুলো ফেটে যাবে আর কিছু দিন রোদ হলেই। ইদানিং রোদের প্রকোপটা অনেক বেশি। বোঝা যাচ্ছে না এটা কোন পূর্বাভাস কি-না।

রাহেলা বিবি আর তার স্বামী মহব্বত আলী এ বাড়িতে থাকে। আর, সাথে তার এক দু:সম্পর্কের বোন বেলা থাকে। বেলার স্বামী যৌতুকের কারণে বেলাকে বিদায় করে দিয়েছে অনেক আগেই। বেলাও জেদ করে আর স্বামীর বাড়ি যায় নি। অনেক চেষ্টা করা হয়েছিলে বেলাকে স্বামীর বাড়িতে পাঠাতে। কিন্তু বেলা রাজি হয়নি। বলেছিলে যার মনের মধ্যে যৌতুকের দাবি বাসা বেঁধে আছে, এবং থাকবেও আজীবন, এ আঁধার কখনোই সরে যাবে না, তার সঙ্গে সংসার নয়। মন পরিস্কার না হলে সংসার হয় না। হয় শুধু দুজনের এক সাথে বসবাস। আর যাওয়া হয়নি স্বামীর বাড়ি। সেই থেকে রয়ে গেল বোনের বাড়িতে থেকে গেল বেলা। রাহেলা বিবিরও ভাল হলো। রাহেলা বিবির ছেলে-মেয়ে দুজনেই সংসারী, থাকে শহরে। এখানে রাহেলা বিবি স্বামীর সাথে একা। তাই বেলাকেও রেখে দিল রাহেলা বিবি।

সকালের আলোটা আরো স্পষ্ট হয়ে গেলো। সূর্যটাও উুঁকি দিচ্ছে পূব আকাশে। ঝড় কেটে গেলেও আকাশটা মেঘলা কিনা বোঝা যাচ্ছে না। রাহেলা বিবি জোড়ে ডাক দিলো তার বেলাকে। বেলা ফজর পড়ে একটু শুয়েছিল আবার। রাহেলা বিবির ডাক শুনে উঠে উঠানে চলে এলো
- আমারে ডাকছো বুবু
- দেখছস ঝড় হইছে, তুই মনে হয় হুঁশ পাস নাই
- হুঁশ পাইছিলাম ঠিকই, আবার ঘুমাইয়া গেছিলাম
- শোন, অনেক ডাল-পালা ভাঙ্গছে, এগুলান পরিস্কার করতে হইবো, তুই এক কাম কর সকালের রান্নাটা চাপায়া দে, আমি ডালাগুলান আস্তে আস্তে সরানোর চেষ্টা করি।

কথা শুনে মহব্বত আলী ঘর থেকে বাহিরে আসে। মহব্বত আলী সবসময় ফজর পড়ে কোরআন তেলওয়াত করে। আজও তাই করছিল। কোরআন তেলওয়াত শেষ হতেই রাহেলা বিবির কথাওয়ার আওয়াজে বাহিরে আসে।
- কি হইছে, ঝড়ের মধ্যে কি কথাবার্তা হইতাছে দুই বোনের মইধ্যে, শুনি
- আপনার হোননের দরকার নাই, আপনে আপনার কাজে যান
- কেন হোননের দরকার নাই কেন
- হোনলে তো জিগাইতেন না, কি হইছে। দেখতাছেন ঝড়ে গাছের ডালগুলান ভাইঙ্গা গেছে
- কোন সমস্যা নাই, আমি ডালপালা সব পরিস্কার কইরা দিতাছি। তোমরা তোমাগো কাজে যাও।

মহব্বত আলী আর কোন কথা বাড়ায় না। সে কাজে লেগে পড়ে। ঘর হতে বড় দা নিয়ে ডালগুলোকে কেটে কেটে ছোট লাকরির মতো করতে থাকে। পাতাগুলো ছেটে ডালগুলোকে আলাদা করে ছোট করে ফেলে। তারপর সবগুলো ডালকে উঠোনের এক কোনে জড়ো করে রেখে দেয়। রাহেলা বিবি উঠোন ঝাড়– দিয়ে পরিস্কার করা শুরু কওে দেয়। আর বেলা সকালের রান্নার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

এই ব্যস্ততা তাদের নিত্য দিনের একটা বিষয়। যে যার মতো কাজ করে যাচ্ছে। সকালের নাস্তা খেয়ে মহব্বত আলী চলে যায় তার কাজে। হাটে একটা চালের আড়ৎ চালায় মহব্বত আলী। যেতে যেতে রাস্তার এবং রাস্তার দু পাশে অনেক গাছ এবং গাছের ডালপালা ভেঙ্গে পড়ে থাকতে দেখে মহব্বত আলী। গ্রামের কয়েকজন মিলে সে গাছগুলো সড়িয়ে নিচ্ছে। মহব্বত আলীর সাথে কয়েক জনের কথা হয়, কুশল বিনিময় হয়। মহব্বত আলী যখন তার দোকানের সামনে পৌঁছায়, পৌঁছে দেখতে পায় তার দোকানের সামনে এক অজ্ঞাত লোক বসে আছে। বেশভুসা খুব বেশি ভাল না হলেও খুব একটা খারাপ নয়। দেখে মনে হচ্ছে অনেক দূর থেকে এসেছে, খুব ক্লান্ত, দোকানের পাশের টেবিলে ঘুমিয়ে আছে। রাতে এসেছে হয়তো। ঝড়ের সময় লোকটি কোথায় ছিল ? মনের মধ্যে এমন একটি প্রশ্ন খেলে যায় মহব্বত আলীর। লোকটিকে ডাকবে কি-না বুঝতে পারছে না মহব্বত আলী। দোকানের কর্মচারী আলেক মিয়া এসে দোকান খুলতে খুলতে মহব্বত আলী লোকটিকে ডেকে তোলে। লোকটিকে চেনা চেনা মনে হয় মহব্বত আলীর। চেহারাটা ভেঙ্গে যাওয়া আর চুলগুলো উসখু-খুসকু হওয়ার কারণে চিনতে কষ্ট হলেও এক মুহুর্ত পর মহব্বত আলী লোকটিকে ঠিকই চিনে নেয়। বেলার স্বামী হাওলাদার।
- তুমি হাওলাদার, মানে বেলার স্বামীর হাওলাদার না ?
- ভাইজান আমারে চিনতে পারছেন ?
- তোমারে চিনুমনা মিয়া, তা এত দিন পর এই দিকটায় কি মনে কইরা
- কোন কিছু মনে কইরা আসি নাই, ভাইজান
- তুমি যেমুন মানুষ, কোন কিছু না ভাইবাতো তুমি এইহানে আসো নাই
- ভাইজান আমি আসি, ঝড়ের মধ্যে আটকা পইড়া গেছিলাম, তাই আপনার দোকানে একটু ঠাঁই নিছিলাম
- ঝড়তো সকাল বেলা হইছে, তুমি নিশ্চয়ই তারো আগে এইহানে আইছো, কি মনে কইরা আইছো। সত্য কথা কও মিয়া

হাওলাদার মাথা নিচু করে থাকে। চোখে-মুখে বিষন্নতার ছাপ স্পষ্ট বোঝা যায়। যেন চোখে-মুখে বিষন্নতার আঁধার নেমে এসেছে অনেক দিন হয়। সে উঠে চলে যেতে চায় মাথা নিচু করে। দু-তিন পা এগুতেই ডাক দেয় মহব্বত আলী।
- বস এইহানে, আলেক মিয়া দোকান থেইকা নাস্তা নিয়া আসো
- থাক ভাইজান, নাস্তা লাগবো না
- দেইখা মনে লয় কিছুই খাওয়া হয় নাই, আলেক মিয়া যাও নাস্তা নিয়া আসো। আমারে খুইলা বলতো মিয়া কি হইছে

হাওলাদারের দু‘চোখ বেয়ে পানি নেমে আসে। অনেক দিন ধরে জমে থাকা কান্না বাঁধ ভেঙ্গে বেরিয়ে আসে। হাউমাউ কওে কেঁদে উঠে হাওলাদার। মহব্বত আলীর পায়ে জড়িয়ে ধরে

- আমারে মাফ কইরা দেন ভাইজান
- আরে মিয়া পাও ছাড়ো, কি হইছে, পাও ছাড়ো
- তার আগে কন, আম মাফ কইরা দিছেন
- আমি মিয়া মাফ করনের কেডা, যার কাছে মাফ চাওনের, তার কাছে চাও। তার আগে কও এই দিকে কি মনে কইরা।
- ভাইজান আমি বেলার কাছে মাফ চাইতে আইছি
- তা হঠাৎ বেলার কাছে মাফ চাওনের কি হইলো। আর সে তোমারে মাফ করবো ক্যান। তুমিতো তার জীবনটা শেষ কইরা দিছো।
- ভাইজান কেউ কারো জীবন শেষ করতে পারে না। আসলে নিজের জীবন নিজেই শেষ করে। যেমন আমি, আমার জীবনটারে আমি নিজ হাতে শেষ করছি। বেলার মতো মাইয়ারে আমি তাড়াইয়া দিয়া জীবনে যে ভুল করছি, সেই ভুলের হিসাব করতে করতে আমার জীবনে এখন ঘোরতর অন্তকার।
- কেন ঘোরতর অন্ধকার কেন ? কি করছো তুমি ? শুনছিলাম, মোটা অঙ্কের যৌতুক লইয়া আরেকটা বিয়া করছিলা। সেই বউ লইয়াতো সুখেই আছো। অন্ধকার আবার কিসের ?

দুজনের মধ্যে কিছুটা সময় নিরবতা চলে। আলেক মিয়া নাস্তা নিয়ে আসে। হাওলাদার খেতে যায় কিন্তু খেতে পারে না। তার মনে হচ্ছে তার গলা দিয়ে খাবার নামছে না।
- ভাইজান আমি খাইতে পারুম না।
- কেন খাইতে পারবা না কেন ?
- আমার গলা দিয়া খাওন নামতাছে না ভাইজান
- তোমার সমস্যা কই, আমারে বুঝাইয়া কওতো
- আমার কোন সমস্যা নাই, আমি যাই ভাইজান। শুধু বেলারে কইয়েন, আমানে জানি মাফ কইরা দেয়। খুব ইচ্ছা আছিল, দেহা কইরা মাফ চামু। কিন্তু সাহস হইলো না। বেলারে বইলেন, যদি পারে আমারে যেন মাফ কইরা দেয়। তাইলে আমি শান্তি পামু।

হাওলাদার হাটা শুরু করে। মহব্বত আলী ডাকতে গিয়েও আর ডাকে না। চেয়ে থাকে হাওলাদারের দিকে। অনেক দূর চলে যাও হাওলাদার। কোন কিছু চিন্তা করতে পারে না মহব্বত আলী। কি করবে সে ভেবে পাচ্ছে না। বাসায় গিয়ে ঘটনা জানাবে, নাকি জানাবে না। কিন্তু হাওলাদারের কি হয়েছে কিছুই বোঝা গেল না ? কিছু একটা হয়েছে. এটা নিশ্চিত মহব্বত আলী। কিন্তু কি হয়েছে ? এটা জানা এখন খুবই জরুরী। কিন্তু কিভাবে জানবে ? একবার ভাবলো আলেক মিয়াকে পাঠাবে হাওলাদারের বাড়ি। কিন্তু কাজটা ঠিক হবে কি-না, সেটাও একটা চিন্তার বিষয়। কোন কিছুই মহব্বত আলী ভেবে ঠিক করতে পারছে না।

মহব্বত আলী বাড়িতে এই ঘটনা কাউকে বলে না। ঠিক করে দোকানের কর্মচারী আলেক মিয়াকে পাঠাবে হাওলাদারের বাড়ি। খোঁজ নেবে হাওলাদারের বর্তমান অবস্থার। পরক্ষণেই আবার ঠিক করে আলেক মিয়াকে নয়, সে নিজেই যাবে হাওলাদারের বাড়ি। আসল ঘটনাটা জানা দরকার।

তার বেশ কয়েক দিন পর মহব্বত আলী মোকামে যাওয়ার কথা বলে চলে যায় হাওলাদারের গ্রামে। তার পরিচয় গোপন রেখে বিভিন্ন জনের কাছে হাওলাদারের কথা জানতে চায় মহব্বত আলী। কিন্তু কেউ কিছু বলতে পারে না হাওলাদার সম্পর্কে। সবাই শুধু একটা কথাই বলে সে ভালই আছে। ব্যবসা করছে, সংসার করছে, তার কোন সমস্যা নাই ইত্যাদি। কিন্তু কোথাও যেন একটা খটকা থেকে যায় মহব্বত আলীর। সে কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। কোন সংবাদ না পেয়ে মহব্বত আলী বাড়ির দিকে রওনা দেয়। কিন্তু পথের মধ্যে দেখা হযে যায় সেই ঘটকের যার মাধ্যমে বেলার সাথে হাওলাদারের বিয়ে ঠিক হয়েছিল। ঘটক মহব্বত আলীকে ঠিক চিনে নেয়।
- আরে মহব্বত ভাই যে, আছেন কেমন, এই গ্রামে কি মনে কইরা
- ভালই আছি, মোকামের দিকে যামু ভাবছিলাম, কিন্তু
- কিন্তু, কিন্তু কি ?
- না মানে, --- মোকামে যামু কিন্তু কোন টাকা নিয়া আসি নাই। কওতো কি শরমের কথা। মহাজন কি মনে করবো। তাই আবার বাড়ি ফিরা যাইতাছি।
- নাহ, তোমারে দেইখা কেমুন চিন্তিত মনে হইতাছে
- আরে না, কিসের চিন্তা
- কোন সমস্যা নাকি মহব্বত ভাই, থাকলে আমারে আপন মনে কইরা কইতে পারো
- আরে না না. কোন সমস্যা না
- আসো মহব্বত ভাই, চল এক কাপ চ্ াখাই
- আরে নাহ, আইজ থাউক
- আরে থাকবো কেন ? কত দিন পর তোমার লগে দেহা হইলো, চলো এক কাপ চা খাই।

দু‘জনে চা খেতে খেতে গল্প জুড়ে দেয়। নানা বিষয় নিযে তাদের আলোচনা চলতে থাকে। এক ফাঁকে ঘটক জিজ্ঞেস করে
- আইচ্ছা মহব্বত ভাই, তোমারে একটা কথা জিগাই, বেলার কি আবার বিয়া দিছনি
- আরে না, আমরা চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু বেলা রাজি হয় না
- মাইয়াডা সারা জীবন একা একাই রইলো
- হ, একাই থাকলো। কত কইলাম, ভাল ঘর দেইখা একটা বিয়া দিয়া দেই, কিন্তু রাজিই হয় না। কয়, মাইয়া মাইনষের বিয়া জীবনে একবারই হয়। আর মনের মিল না হইলে সংসার হয় না। মনের মধ্যে যদি কোন অন্ধকার থাকে তাইলে সংসার হয় না।
- কথা ঠিকই। আসলে এই একটা বিয়া আমার ঘটক জীবনের বড় একটা ব্যর্থতা। আমিও বুঝতে পারি না হারামজাদা এই কামডা করবো। তয়, কথা কিন্তু একটা আছে।
- কথা আছে, কি কথা
- ঐ হারামজাদা কিন্তু আইজও বিয়া করে নাই।
- মানে
- মানে খুব সহজ, হাওলাদার আজ পর্যন্ত দ্বিতীয় বিয়া করে নাই। হেরেও বিয়া দেওনের অনেক চিন্তা ভাবনা করা হইছিলো। অনেকে মোটা অঙ্কের যৌতুক দিতে চাইছিলো। কিন্তু হাওলাদার আর রাজি হয় নাই। আমার মনে লয় এরেই কয় মনের মিল
- আইচ্ছা তুমি কি কইতে পারো হওলাদার কেন বিয়া করে নাই
- বেলা নাকি বলছিল, মনের মিল ন্ াহইলে সংসার হয় না, হয় শুধু একসঙ্গে বসবাস। মনের আঁধার দূর না করতে পারলেও নাকি সংসার হয় না। তাই আর সংসারী হয় নাই
- কওকি মিয়া, তাজ্জব ব্যাপার
- আসলেই একটা বিষয় খেয়াল করছো
- কি বিষয়
- বেলাও যেমন বিয়াতে রাজি হয় নাই আবার হাওলাদারও কিন্তু বিয়েতে রাজি হয় নাই। এরেই বুঝি কয় মনের মিল।
- বিষয়টা ভাবনার।

দুই জনই উঠে যায়। মহব্বত আলী বাড়ির দিকে রওনা দেয়। আর মনের মধ্যে একটা ভাবনা বারবার ডান ঝাপটায়। বেলা আর হাওলাদার যদি আবার সংসার শুরু করে তাইলে কেমন হয় ?
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন