বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৪ ডিসেম্বর ১৯৭১
গল্প/কবিতা: ২০টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

সংসার

আঁধার অক্টোবর ২০১৭

অনিরাত্তার সংজ্ঞা

ভৌতিক সেপ্টেম্বর ২০১৭

অজানা গন্তব্য

ত্যাগ মার্চ ২০১৬

গল্প - ভৌতিক (সেপ্টেম্বর ২০১৭)

মোট ভোট অ-ভৗতিক

আলমগীর মাহমুদ
comment ৩  favorite ০  import_contacts ৬৯
গ্রামের পূব ধানে যে জঙ্গলটি আছে সেখানে কেউ যেতে চায় না। দিনের বেলা ভয়ে ভয়ে কেউ গেলেও রাতের বেলাতে একেবারেই নিষেধ। অবশ্য এই নিষেধাজ্ঞা কারো কোনো নির্দেশে নয়। গ্রামের একটি প্রচলিত ধারণা থেকে সকলেই ঐ দিকে যেতে চায় না। কেউ বলে ভুত আছে। আবার কেউ বলে ওদিকটায় কেউ গেলে আর ফিরে আসে না। এমন ঘটনাও নাকি ঘটেছে। কিন্তু কোনো ঘটনার কেউ কোন সত্যতা খুঁজে পায়নি। তারপরও একটা প্রচলিত ধারণার সূত্র ধরেই কেউ এদিকটায় যায় না। গেল বছর অমাবশ্যায় রাতে গ্রামের অনেকেই দেখেছে জঙ্গলের মাঝে ধোঁরার কুন্ডলি আকাশের দিকে ভেসে বেড়াচ্ছে আবার কিছুক্ষণ পর সেটা থেকে অদ্ভুত ধরণের একটি অবয়ব তৈরী হচ্ছে, কিছুক্ষণ পর মিলিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে সে অবয়ব থেকে একটা বিকট চিৎকারও নাকি শোনা গেছে। কিন্তু কে দেখেছে কেউ বলতে পারছে না। সবাই শুনেছে। সবাই সেটাই শুনছে। আর এটাই সবাই বলে বেড়াচ্ছে। এক কান থেকে আরেক কান হতে হতে সারা গ্রাম বিষয়টা ছেয়ে গেছে। কিন্তু কে দেখেছে কেউ জানে না।

বিষয়টা বেশ অদ্ভুত। গ্রামের মুরুব্বিরা বিষয়টা নিয়ে বেশ কয়েকবার আলোচনায় বসেছে। কিন্তু আলোচনায় কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। মজার ব্যাপার হচ্ছে শেষবার যখন এ নিয়ে আলোচনা হলো তারপর থেকে আলোচনায় অংশ নেয়া একজনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তারপর থেকে আলোচনাও বন্ধ। অনেক দিন যাবত এ নিয়ে কেউ কোনো আলোচনা করে না। তাই অনেক দিন যাবত কোন কিছুই দেখা যাচ্ছে না। গ্রামের সবাই ভাবল এবার বুঝি এর অবসান হলো।

গভীর রাত। গ্রামের গরীব চাষি করিম মিয়া রাতের বেলা গোয়াল ঘরের দিকে গেলেন গরু গুলোকে দেখার জন্য। ঘর হতে বের হয়ে একটু এগুতেই তিনি টের পেলেন তার পা তিনি তুলতে পারছেন না। হঠাৎ তার পা মাটিতে আটকে গেল। তিনি জোর করেও পা তুলতে পারছেন না। তিনি জোরে চিৎকার দিলেন কিন্তু তার গলা থেকে কোন আওয়াজ বের হচ্ছে না। হয়তো তিনি ভয় পাচ্ছেন সে কারণে। তার ভয়ের মাত্রা আরো বেড়ে গেল যখন দেখলেন গোয়াল ঘরে অদ্ভুত ধরণের একটি মানুষ দাঁড়িয়ে আছে এবং নিচের দিকে তাকাতেই দেখলেন একটা অদ্ভুত ধরণের মানুষের হাত তার পা ধরে আছে। তিনি জোরে আল্লাহর নাম নিচ্ছেন তারপর অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন। যখন তার জ্ঞান ফিরল তখন তিনি বিছানায় শোয়া। পাশে তার স্ত্রী ও ছেলে মেয়েরা। তার স্ত্রী তার কাছে ঘটনা জানতে চাইলে তিনি কিছুই বলতে পারলেন না। এই ঘটনায় গ্রামের সবাই আতঙ্কিত হয়ে গেল।

করিম মিয়া ঐ রাতে ভয় পেলেও তার যখন জ্ঞান ফিরল তিনি ঘটনাটা পুনরায় মনে করার চেষ্টা করতে লাগলেন। কিন্তু কোন ভাবেই তিনি ঘটনাটা মনে করতে পারছেন না। ঐ রাতে কি হয়েছিল কিংবা কি ঘটেছিল তিনি কিছুই বুঝতে পারছেন না। তবে এটা তার মনে আছে কেউ একজন তার পা ধরেছিল। ফলে তিনি পা নাড়াতে পারছিলেন না। তিনি তৎক্ষণাত উঠে গোয়াল ঘরের দিকে গেলেন। গোয়াল ঘরে গিয়ে তিনি আরো ভয় পেয়ে গেলেন। তিনি দিনের বেলা এরকম ঘটনা কোন দিন দেখেন নি। করিম মিয়া যখন গোয়াল ঘরে ঢুকলেন তখন দেখতে পেলেন তার দুটি গরুর মধ্যে একটি গরু তার দিকে তাকিয়ে অদ্ভুত ভাবে হাসছে এবং বিকট আওয়াজ বেরুচ্ছে। তিনি দৌড়ে চলে গেলেন ঘরের ভেতরে এবং স্ত্রীকে ঘটনাটা বললেন। স্ত্রী বললেন এটা আপনার মনের ভুল। এই ভুলটা ভাঙ্গানোর জন্য করিম মিয়ার স্ত্রী গেলেন গোয়াল ঘরে। কিন্তু তিনি গোয়াল ঘরে ঢুকে গুরুর কোনে আওয়াজ কিংবা হাসি শুনতে পেলেন না। বিষয়টা করিম মিয়াকে বললে করিম মিয়া কি করবেন বুঝে উঠতে পারেন না। তবে মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলেন আজ রাতেও তিনি ঘরের বাহিরে যাবেন এবং গোয়াল ঘরেই যাবেন।

রাতের বেলা করিম মিয়া ঘরের জানালা খুলে, জানালার পাশে বসে, গোয়াল ঘরের দিকে তাকিয়ে রইলেন। রাত বাড়তে লাগল। বাইরে বৃষ্টি এবং চাঁদের আলো থাকায় উঠান এবং গোয়াল ঘরটা অস্পষ্ট ভাবে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু কোন অদ্ভুত ঘটনা দেখা যাচ্ছে না। রাত বাড়তে বাড়তে যখন একটু বেশি রাত্র হলো তখন করিম বাড়ির বাইরে গেলেন এবং তার হাতে একটি লোহার রড। তিনি উঠোনে গেলেন কোন কিছুই হলো না। উঠোন থেকে গোয়াল ঘরের দিকে এগুচ্ছেন, কোন কিছুই শুনতে পাচ্ছেন না। যেই তিনি গোয়াল ঘরের ভেতরে ঢুকলেন, আর ঢুকেুই তিনি দেখলেন একটা তার দিকে অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে আছে আর আর একট গরু অদ্ভুত ভাবে হাসছে। পেছনে কিছু একটা টের পেয়ে তিনি চিৎকার দিয়ে উঠলেন। তার স্ত্রী তার পেছনে পেছেন এসেছে এটা তিনি বুঝতে পারেন নি। তার স্ত্রী তাকে আস্বস্ত করলেন এবং বিষয়টা যে তার মনের ভুল তা করিম মিয়াকে বোঝাতে সক্ষম হলেন। কিন্তু ঘটনা ঘটল দিনের বেলা, যখন দেখলেন দুটি গরুর মধ্যে একটি গরুও গোয়াল ঘরে নেই। করিম মিয়া অবাক হলেন এবং তার ভয়টা আরো বেড়ে গেলে। কারণ তিনি দেখলেন গরু দুটির পায়ের ছাপ সেই জঙ্গলের দিকে গেছে। করিম মিয়ার এই দুই রাতের ঘটনায় পুরো গ্রাম আরো বেশি করে আতঙ্কিত হয়ে পড়ল। তারা কি করবে কিছুই বুঝে উঠে পারছে না। ভয়ে আলোচনাও করতে পারছে না। অনেকেই সিদ্ধান্ত নিলো গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যাবে। করিম মিয়া সবাইকে বললো যে, এর একটা ব্যবস্থা করতেই হবে। এভাবে গ্রামে বাস করা যায় না। গ্রামের মধ্যে যেকজন সাহসী যুবক ছিল তারা একত্রিত হলো এবং রাতের বেলা পাহাড়া বসানোর ব্যবস্থা করলো। সিদ্ধান্ত হলো দু তিন জন একত্র হয়ে পাহাড়া দিবে। দু-তিন রাত পাহাড়া দেয়া হলো কিন্তু কোনো ঘটনাই ঘটল না। এর কয়েক দিন পর রাতের বেলা যখন তিন যুবক একত্রে পাহাড়া দিচ্ছিল তখন একজন যুবক হঠাৎ করেই হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। এ দেখে বাকিরাও খুব ভয় পেয়ে গেল এবং কয়েক রাত পাহাড়া দেয়াও বন্ধ রইলো। কিন্তু এভাবেতো আর চলতে দেয়া যায় না। গ্রামের অবস্থা দিন দিন করুণ হয়ে যাচ্ছে। গ্রামের কেউ আর এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে চাইছে না। বাধ্য হয়েই করিম মিয়ার স্ত্রী একটা অদ্ভুত ধরণের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে, তারা কয়েকজন মহিলা সংগঠিত হয়ে ঐ জঙ্গলের ভেতরে যাবেন। করিম মিয়ার স্ত্রী বিষয়টা নিয়ে কয়েকজন মহিলার সাথে গোপনে আলোচনা করলেন কিন্তু বিষয়টা গ্রামের পুরুষদের জানানো হলো না। সব মহিলা করিম মিয়ার স্ত্রীর সাথে একত্র না হলেও বেশ কয়েকজন করিম মিয়ার স্ত্রীর সাথে হাত মেলালো এবং তারা সিদ্ধান্ত নিল যে, কোন এক দিনের বেলা তারা ঐ জঙ্গলের ভেতরে ঢুকবে। যেই ভাবা সেই কাজ। তারা প্রস্তুতি নিল। একদিন ভোর বেলা তারা কয়েকজন মহিলা হাতে লাঠি নিয়ে ঢুকে পড়লো জঙ্গলের ভেতরে। জঙ্গলের ভেতরে তারা কিছু দেখতে না পেয়ে একটু এগুতেই একটা গুহা দেখতে পেল এবং তারা গুহার মুখটি আটকে দিয়ে কিছুক্ষণ দূরে বসে রইলো। তারা দেখলো যে, দুজন গুন্ডা মার্কা চেহারার লোক ঐ দিকে আসছে। লোক দুটি গুহার সামনে এসে একটু অবাক হলো। যেই তারা গুহার ঢাকনাটি খুলতে যাবে আর অমনিই মহিলারা দৌড়ে এসে তাদেরকে লাঠি পেটা শুরু করল্ োএবং দুজনকে বেঁধে গ্রামে নিয়ে গেলো। তার পর থেকে গ্রামে আর কোন অদ্ভুত ধরণের ঘটনা ঘটতে দেখা গেলো না।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন