বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৪ জুন ১৯৯৫
গল্প/কবিতা: ১টি

গল্প - প্রশ্ন (ডিসেম্বর ২০১৭)

দুপুর

হাইউল তানজীব রূপক
comment ৩  favorite ০  import_contacts ৩২
কাঠফাটা রোদ মাথায় নিয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছে সফিক।গতকালের ধোয়া আয়রন করা অ্যাশ কালারের শার্টটা বুক আর পিঠের দিক দিয়ে ভিজে সপ সপ করছে।সফিকের মনে হচ্ছে সূর্যটা আকাশে নয় ঠিক ওর ঘাড়ের পেছনে।এইবার গ্রীষ্মের শুরুতেই এই গরম না জানি সামনে কি হবে! গরমটা কেমন জানি ভ্যাঁপসা টাইপ,খুবই অস্বস্তিকর।দুইটা কোচিং এ ক্লাস নেয় সফিক।একটা সকাল থেকে দুপুর আরেকটা দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত পাশাপাশি মাস্টার্সে ও পড়ছে ।
ইন্দিরা রোডের পাশের বড় রাস্তা দিয়ে সাঁই সাঁই করে একটার পর একটা বাস চলে যাচ্ছে আশ্চর্য ওর বাসটা এখনও আসছে না কেন? আজকে এমনিতেও একটু দেরি হয়ে গেছে।স্টুডেন্টদের সামনে টার্ম পরীক্ষা তাই একটু বাড়তি সময় দিতে হয়েছে। ঘড়িতে সময় দেখল সফিক একটা চল্লিশ।মিনিট দশেক অপেক্ষা করেছে ও। যানজটের এই শহরে খুব বেশি না।তবুও অপেক্ষার সময়গুলো কেন যে এত দীর্ঘ মনে হয়।অপেক্ষা কি আর করবে নাকি একটা সিএনজি ডাকবে দ্বিধাতে ভুগছিল সফিক।একটু ভেবেই নাহ বলে দ্বিধাটা ঝেড়ে ফেলল মাথা থেকে। সিএনজি তে যে খরচ হবে তা দিয়ে দুদিনের হাতখরচ হয়ে যাবে আরামসে।শালার সিএনজি।বাইনচোদ এক একটা। এখান থেকে মিরপুরের ভাড়া হাঁকবে দুশো কি তিনশো টাকা অথচ বাস ভাড়া কতইবা পনের বিশ টাকা।অবশ্য ওদেরও দোষ দিয়ে লাভ কি সফিক ও তো ওদের মতই ধান্দা করছে পেট চালানোর ধান্দা।নাহ দেরি বোধহয় আজ হয়েই যাবে।মানসদা অবশ্যি কি বলবেনা কিন্তু কোচিং ঢোকার সময় কেমন আড় চোখে তাকাবে।সফিকের অসহ্য লাগে এই দৃষ্টিটা।

খিদের টাট্টু ঘোড়াটা ইতোমধ্যে পেটের মধ্যে টগবগ শুরু করে দিয়েছে। খেয়ে আসবে নাকি কিছু।ফাস্টফুড,কোক আর একটা সিগারেট?
একটু দূরে সিগন্যালে আটকে থাকা গাড়ীঘোড়ার জঙ্গলের মাঝে একটা রংচটা হলুদরঙা বাস দেখতে পেল। একটু এগিয়ে যেতেই ওইতো মিরপুর এর বাস।এইটাতেই উঠে পড়তে হবে।নাহ এখন আর খাওয়া সম্ভব না।খিদের টাট্টু ঘোড়াটাকে ঝেটিয়ে বিদায় করতে চাইল।
সিগন্যাল ছেড়ে দিয়েছে।গিয়ার বদলে গাড়ীগুলো বিদ্যুৎ বেগে ছুটে যাচ্ছে মনে হচ্ছে ক্ষুধার্ত বাঘগুলো এই বুঝি খাঁচা থেকে মুক্তি পেল।বাসটা মোড়ের কাছে এসে একটু দম নিবে।সফিক মোড়ের দিকে জোর কদম চালাবে এমন সময় হঠাৎ পেছন থেকে কে যেন ডাক দিল ''এই সফিক'' নারী কণ্ঠের এই রকম অপ্রত্যাশিত ডাক শুনে সফিকের কানে ধাক্কার মত লাগল।
ওকেই কি ডাকছে,ভুল শুনছে নাতো?ঘুরে দাড়াতেই হকচকিয়ে গেল,এই কাকে দেখছে সফিক,ভুল্ভাল দেখছে নাতো।ভারী লেন্সের চশমাটা মুছে টুছে দেখবে নাকি।
মেরুন কালারের শর্ট বোরখা সাথে চাপা লেগিন্স,মাথায় আঁটসাঁট করে বাঁধা হিজাব,চোখে ছোট চশমা।
এই সেই মেয়ে,কলেজ জীবনের প্রায় পুরোটা যে তোলপাড় করে দিয়েছিল।যার কথা ভাবতে ভাবতে দিন রাত সব এক হয়ে যেত সফিকের।যার নামটি মনে হলেই কে যেন আলপিন দিয়ে ঘাই মারত বুকে।যার জন্য রানুর মত সহজ সরল একটা মেয়েকে পাত্তা দিত না সফিক।এত কষ্ট দিয়েছিল মেয়েটা। এতবছর পড় কেন দেখা হল?কেন ডাক দিল ওকে?কি চায় ও?
-তুমি সফিক না? সফিক একরকম ঘোরে চলে গিয়েছিল মেয়েটির প্রশ্নে যেন বাস্তবে ফিরে এলো।
-মি...মিতু তুমি? এমনিতেই খিদে পেয়েছিল তার উপর মিতুকে দেখে গলাটা বুক পর্যন্ত শুকিয়ে গেল।ফস ফস করে আওয়াজ বের হল মুখ থেকে।
''এইতো এইদিকে একটা কাজে এসেছিলাম পেছন থেকে দেখে মনে হল তুমি তাই ভাবলাম ডাক দিয়ে দেখি'' কথাগুলো একনাগাড়ে বলল মিতু।কলেজে পড়ার সময়তো তেমন কথাই বলত না মিতু এখন কেমন সাবলীল কথা বলছে।নাহ ভালই তো পরিবর্তন হয়েছে একটু মুটিয়েও গেছে অবশ্য।
-ও আচ্ছা। কেমন আছো?সফিক বলল
-এইতো ভাল।স্মিত হেসে জবাব দিল মিতু।তোমার কি খবর?উত্তরের অপেক্ষা না করেই বলল,এত গরম আর ভিড়ের মধ্যে দাড়িয়ে কথা বলা যায় না।চলো কোথাও গিয়ে একটু বসি।তোমার আবার তাড়া নাই তো?

ইন্দিরা রোড দিয়ে সফিক আর মিতু হাঁটছে।পাশাপাশি হাঁটতে পারছে না ওরা।মেইন রোডের পাশে এই অপ্রশস্ত রোডটা সবসময়ই ভিড়ে ঠাসা থাকে।তাই সফিক একটু এগিয়ে থেকে ভিড় ঠেলে এগোচ্ছে আরমিতু একটু তফাতে থেকে হাঁটছে।সফিক ঘাড় ঘুরিয়ে বারবার দেখছে মিতুকে ঠিকমত আসতে পারছে কিনা এরই মধ্যে একবার চোরা চোখে ঘড়িটা দেখল।দুটো বেজে গেছে প্রায়, মিরপুর আর যাওয়া হবে না।কোচিং এ ক্লাস নেয়াটা মিস হয়েই গেল।ডানে বায়ে রেস্টুরেন্ট খুঁজছে সফিক।নিরিবিলি টাইপ একটা রেস্টুরেন্ট পেলে ঢুঁকে পড়বে।টাকার কথা মনে হতেই ধক করে উঠল সফিকের বুক। পরক্ষনেই আবার স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ল।বড় বাঁচা বেঁচেছে আজ।ভাগ্যিস বিনয়দা হাজার খানেক টাকা দিয়েছে আজ।নইলে কি যে হত!বিল দেয়ার সময় লজ্জায় মাথা কাটা যেত।

সফিক আর মিতু এখন পাশাপাশি হাঁটছে।রোডের শেষ দিকটায় ভিড় একটু কম।দেখতেই পায়নি এমন ভান করে কয়েকটা রেস্টুরেন্ট পার করে এসেছে ওরা দুজন।আশ্চর্য এই অসহ্য গরমে সফিকের হাঁটতে খুব একটা খারাপ লাগছে না আবার কেন খারাপ লাগছে না এই ভাবনাও বিঁধছে মনে।কি কথা বলবে?কি জিজ্ঞেস করবে মিতুকে?একসময় কত যে হাজারো কথা পরতে পরতে সাজিয়ে রেখেছিলো বুকে তার কি কোনো দাম দিয়েছিল মিতু?তবে আজ কেন না দেখার ভান করে চলে গেল না?কেন ওর নাম ধরে ডাকল?কিছু কি বলতে চায় ও?এইসব অগোছালো চিন্তা সফিকের মাথায় ঝড় বইয়ে দিচ্ছিলো।

এতক্ষণ বকবক করছিলো মিতু।হঠাৎ কথা বলা বন্ধ করে চুপচাপ সফিকের পাশে হাঁটছে যেন কলেজের সেই কিশোরী বালিকাটি হয়ে গেছে।সফিক আকশপানে চাইল।কোথা থেকে যেন ছেঁড়া ছেঁড়া কালো মেঘ এসে সূর্যটাকে ঢেকে দিতে চাইছে।কিছুক্ষন আগের তেজী সূর্যটাকে কেমন অসহায় লাগছে।
বৃষ্টি হবে নাকি আজ?
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন