বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৩ নভেম্বর ১৯৭২
গল্প/কবিতা: ১টি

গল্প - প্রশ্ন (ডিসেম্বর ২০১৭)

আমি কে?

Monowara kumu
comment ২  favorite ০  import_contacts ৩০
ছিপছিপে গড়নে শ্যাম বর্ণের শরীরে বয়সের ছাপ নেই একফোটা।সদা হাস্যোজ্জ্বল এক রমণী।সবাই কে হাসি গল্পে মাতিয়ে রাখা যার প্রথম এবং প্রধান কাজ,সে স্কুল শিক্ষিকা সুরাইয়া খানম এর আজ মন খারাপ।৩৬ বৎসরের চাকরী জীবনে আজ থেকে তার সরকারী ছুটি শুরু।এল পি আর এ পদার্পণ করতেই বড্ড একা লাগছে তার।চুপচাপ বসে আছে ঘরে।
কার্তিক প্রায় শেষ।শীতের দাপট বেড়েছে খানিকটা।বিছানা ছেড়ে উঠতে একটুও ইচ্ছে করছে না টুসির।তবুও উঠে বসলো।ক্লাস আছে,মিস দেওয়া যাবে না কিছুতেই।বড্ড শখ করে মা ডাক্তারী পড়াচ্ছে মেয়ে কে।টুসি মায়ের কষ্ট বোঝে।মায়ের চেপে রাখা কষ্টগুলো টুসি একদিন নিজের হাতে সরিয়ে দেবে।
অবসর কাটাতে টুসির জন্য শাল বুনবে বলে উল কিনে নিয়ে এলেন সুরাইয়া।একমাত্র মেয়ে বলে কথা!কতদিন দেখে না মেয়ে কে,অস্থির হয়ে উঠেছেন মা।তবুও আসতে বলেন না খুব একটা।পড়াশোনার ক্ষতি হবে,তাছাড়া......
আপন মনেই ভাবনার গভীরে হারিয়ে গেলেন সুরাইয়া।
নিজের স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়িয়ে মেয়ে কে ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলেন ভারতেশ্বরী হোমস এ।কষ্ট হয়েছে তবু সমাজের কীট থেকে মেয়ে কে দূরে সরিয়ে রেখে তৃপ্তি পেয়েছেন তিনি।
নানান জনের নানান প্রশ্নের মুখে ঝামা ঘষে ছোট্ট টুসিকে আগলে ধরে জীবন কে সাজিয়ে তুলেছিলেন নিজের মতো করে।সেই টুসি প্রশ্নবিদ্ধ হোক,তা তিনি কখনোই চাননি।চাননি বলেই মেয়ে কে মানুষ করেছেন অন্য রকম পরিবেশে।
না আর ভালো লাগছে না।উল বোনা রেখে উঠলেন সুরাইয়া।বেশ কদিন ছাদ বাগানে যাওয়া হয়নি।নিজের উপার্জনে একটু একটু করে তিনতলা বাড়ীটা কমপ্লিট করেই ছাদে শখ করে বাগান করেছেন।সবজি,ফুল দুটোই তার শখ।স্কুল আর ঐ বাগানেই কাটাতেন সময়।এল পি আর এ যাওয়ার পর কেমন যেন গুটিয়ে নিয়েছেন নিজেকে।ছাদেও ওঠেন না খুব একটা।
সেল ফোনের শব্দে বুকের ভেতর ধক করে উঠলো হঠাৎ।টুসির ফোন।
মামনি কেমন আছো তুমি?তোমার কি খুব একা লাগছে?
আমি খুব ভালো আছি।তুই ভালো আছিস তো মা?
হুম ভালো আছি।মামনি, অনেক আগে তোমাকে একটা প্রশ্ন করেছিলাম।তুমি বলেছিলে,সময় হলে সব জানবো।এরপর আর কিছু জানতে চাইনি কখনো।তুমিও কিছু বলোনি।মামনি আর কত? বলো না আমার বাবা কোথায়?মামনি মামনি কি হলো বলো,মামনি.......
সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ফোনটা টেবিলে রেখে অঝরে কাঁদছে টুসি।ও কখনো ওর বাবা কে দেখেনি,জানেনি কিছু।দুই একবার জানতে চাইলে মা এড়িয়ে গেছে।
কিন্তু আজ তিতাসের চাচার ঘরে ওর মায়ের ছবি,ওকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।তিতাসের চাচা বিয়ে করেননি,তাহলে মায়ের ছবি কেন ওখানে? কে আমার বাবা? মাথাটা জ্যাম হয়ে আসছে টুসির।
তিনদিন হলো বিছানা নিয়েছেন সুরাইয়া।তিনতলার ভাড়াটে ব্যাংকার ছেলেটা ভীষণ রকম শ্রদ্ধা করে বাড়ীওয়ালি আন্টি কে।বউটাও খুব ভালো।ওরা দেখাশোনা করছে এ কয় দিন।অবস্থা বেগতিক।টুসিকে জানানো নিষেধ ছিলো বলে এতদিন জানানো হয়নি।আজ আর না জানিয়ে উপায় নেই।
হ্যালো টুসি
বলো ভাবী
আন্টির শরীর ভালো না।তুমি চলে আসো।
কি হয়েছে ভাবী? খুলে বলো প্লিজ।
আন্টি হার্ট এটাক করেছেন,তোমার ভাই হাসপাতালে নিয়ে গেছে।আন্টি কোমায় চলে গেছে টুসি।
কেবিনের বাইরে দাঁড়িয়ে গ্লাসের দরজায় চোখ রাখতেই চমকে উঠলেন তিতাসের চাচা রায়হান।সুরাইয়া.....
মায়ের নাম কানে আসতেই দূরে দাঁড়িয়ে থাকা টুসি ছুটে এলো,সাথে তিতাস।আঙ্কেল আপনি মামনি কে চেনেন?
রায়হান অকপটে টুসি কে জানালেন সব কথা।এক দুর্ঘটনায় আহত সুরাইয়া অপারেশন এর পর জানতে পারে তার মা হবার ক্ষমতা হারিয়ে গেছে চিরতরে।তার এই পঙ্গুত্ব বহনে সে আর কিছুতেই জড়াতে চায়নি রায়হান কে।সে থেকে রায়হান একা।তাহলে টুসি?টুসি কে?
রায়হানের এই প্রশ্ন মুখ থুবড়ে পড়লো নিমিষে।প্রশ্নবিদ্ধ টুসি নির্বাক তাকিয়ে মায়ের নিথর দেহে।সুরাইয়া চলে গেলেন তার আপন ঠিকানায় পিতৃ পরিচয়হীন টুসিকে ফেলে।
গোধুলির রঙ ছুঁয়ে যায় টুসিকে।টুসি অপলক তাকিয়ে থাকে সূর্য্যের বিদায় পথে।হৃদয়ের জেগে থাকা জবাবহীন প্রশ্ন আজও অশ্রু হয়ে গড়ায়,মিশে যায় সাগরের নোনাজলে।ওর ছন্নছাড়া জীবনে তিতাস ছড়িয়ে দিতে চায় একমুঠো মিষ্টি হাওয়া,যে হাওয়া উড়িয়ে দেবে টুসির অন্তরে উঁকি দেওয়া ছোট্ট সে প্রশ্নটুকু------ আমি কে?
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • মৌরি হক দোলা
    মৌরি হক দোলা খুব সুন্দর গল্প...রইল ভালোলাগা আর তার সাথে শুভেচ্ছা ও শুভকামনা...
    প্রত্যুত্তর . ৭ ডিসেম্বর
  • সাইয়িদ  রফিকুল হক
    সাইয়িদ রফিকুল হক গল্পটি খুব দ্রুত শুরু হয়ে দ্রুতই শেষ হয়েছে। একটু ধীরেসুস্থে এগোলে আরও ভালো হতো। তবুও ভোট কিন্তু দিয়েছি। শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।
    প্রত্যুত্তর . বুধ ৬:২৪ অপরাহ্ণ