বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১২ ডিসেম্বর ১৯৯২
গল্প/কবিতা: ২টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

১০

কবিতা - নারী (নভেম্বর ২০১৭)

মোট ভোট ১০ আপনারে যদি তুমি চিনিতে!

মেহেদী সম্রাট
comment ৩  favorite ১  import_contacts ১০০
মনে আছে?
তুমি তখন উত্তর আমেরিকায় ছিলে,
আর আমি কানাডায়!
তুমি পেছন থেকে জলরাশির বজ্রধ্বনি দেখতে
সামনের দিকটায় দাঁড়িয়ে থাকতাম আমি!
এরপর একসময় সব জমে যায়
প্রায় চল্লিশ ঘন্টা, সব থেমে রয়!

সেই চল্লিশ ঘন্টায় আমরা পারি দিলাম
কয়েকশো মাইল!
তারপর সাহারার দেশে-
রৌদ্রতপ্ত বালুতে পিঠ ঠেকিয়ে
আমরা চুম্বন করেছিলাম!

একটা নজরকাড়া পাখির পিছু নিলে তুমি!
আমরা ছুটলাম ফের-
সাইবেরিয়ার কনকনে ঠান্ডার মধ্যেও
আমরা আলিঙ্গন করেছিলাম!

তুমি আফ্রিকায় যেতে চাইলে।
নেলসন ম্যান্ডেলার কাছে,
আমি কি নিষেধ করেছিলাম!
শুধু বলেছিলাম, আমাদেরও
প্রীতিলতা, ক্ষুদিরাম, মাষ্টার দা আছে।

তুমি ফিলিস্তিন যেতে চাইলে
বললে, সিরিয়া-ফিলিস্তিনের
রক্তাক্ত শিশুরা তোমায় ডাকে!
বাধা দেইনি, শুধু বললাম-
কমলাপুর যাও কিংবা রাতের ঢাকায় একটিবার
-চোখ মেলে তাকাও, কান পেতে থাকো,
তরপর বলো ওরা ডাকছে কাকে!?

তুমি প্যারিস যাবে- বায়না করলে।
শিল্প সমৃদ্ধ সে শহর!
বলেছিলাম যাবে, তার আগে জয়নুল কে জানো।
আমাদের পুরাতত্ত্বের শ্যাওলা জমা ইটের খাঁজে
এখনো অনাবিষ্কৃত অনেক 'শিল্প' পাবে!

তুমি বললে, পলিনেশিয়ায় যাবে।
সেখানকার ম্যাট্রিয়া সৈকত তোমার খুব পছন্দ-
প্রশান্ত মহাসাগরের নীল জল,
পামগাছ, ডলফিন, পেছনে আগ্নেয়গিরি!
নিয়ে যাবো বলেছিলাম।

তার আগে আমাদের ভাগীরথী'র কাছে
যেতে চেয়েছিলাম তোমাকে নিয়ে।
তুমি হয়তো জানতে না আমাদের ভাগীরথী
কথা বলতে পারে- হৃদয়ের ভাষায়!
আমাদের নারিকেল জিঞ্জিরায় তুমি যেতে পারতে!
ম্যাট্রিয়ার পামগাছ গুলোর থেকে
এই নাররিকেল গাছ অনেকটা প্রশান্তি তোমাকে দিতো।

কিছুই হলোনা শেষ পর্যন্ত!
সেকেলে, গ্রাম্য, আনস্মার্ট -এই অভিযোগে
তুমি স্বাধীন হতে চাইলে। মুক্তি চাইলে।
আমি সাইন করে দিলাম।

তারপর এই এতো বছর পর তোমাকে যখন দেখলাম-
খোলাচুলে বঙ্গোপসাগরের কাছে বসে আছো!
সেই সাইন করা কাগজটায় এতবছর পরেও
অনকগুলো চুমু খেয়েছি জানো!
আমার আনন্দাশ্রু দেখে কেউ ভাবেনি-
আমি কেঁদেছিলাম।
এটাই আমার বিজয় ছিলো- তুমি মানো!
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন