বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭৬
গল্প/কবিতা: ১টি

গল্প - বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী (নভেম্বর ২০১৭)

উদয়ন বিদায়ন

yasmeen hossain
comment ০  favorite ০  import_contacts ১৭
এক.
তিনুর মন্তব্য শুনে চমকে উঠলো খালেদ।
উদাসকণ্ঠে ও বললো, ‘যদি দূরে কোথাও চলে যেতে পারতাম, যেখানে থাকবে শুধু প্রকৃতি আর প্রকৃতি। দিগন্ত জুড়ে শুধু সবুজ, পাহাড়, পাখি আর অবারিত নীল আকাশ। সেখানে এই সভ্যতার জটিলসব মানুষের দরকার নেই। বিদ্যুৎ, গাড়ি-বাড়ি, কম্পিউটার, ইন্টারনেট এসবের কিচ্ছু দরকার নেই। সবকিছু থেকে দূরে কোথাও যেতে পারলে ভাল হতো। প্রকৃতিকে সঙ্গী করে যদি ঘর বাঁধতে পারতাম! হোক না সে আদিম যুগ! আফসোস নেই! পাহাড়-পর্বত আর সবুজ প্রকৃতির সঙ্গে মিতালি করে গাছে গাছে থাকতে হলেও মন্দ হতো না। তবু তো জটিলতা থেকে মুক্ত বিহঙ্গে দাঁড়াতে পারতাম!’
ঠিক এমন ভাবনাটাই ক’দিন ধরে ভাবছিল খালেদ। হুবহু একই ভাবনা কী করে ওর মধ্যে এলো! একি টেলিপ্যাথি? নাকি কঠিন জ্বর থেকে বেঁচে উঠার উপলব্ধি? ঠিক মেলাতে পারলো না খালেদ। তবে নিজের মনের কথাটা অবিকল তিনুর মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসবেÑ ভাবতে পারেনি।
ইদানিং অদ্ভুৎ একটা ভাইরাস জ্বর ছড়িয়ে পড়েছে। যাকে ধরছে তার জীবনের সাধ মিটিয়ে দিচ্ছে। জ্বর হলে কতো ওষুধ রয়েছে, খেলেই অনেকটা ভাল হয়। কিন্তু এই জ্বরে কিছুই হয় না। কোন ওষুধ কাজ করে না। খালেদ একসঙ্গে তিনটা করে নাপা খেয়েছে। কোন কাজও হয়নি, প্রভাবও পড়েনি। এমনকি আর কোন ওষুধেও কাজ হয়নি। ডাক্তাররা ব্যর্থ। পুরো সাতদিন বিছানায় শরীরের উপর জীবন আর মৃত্যু পাঞ্জা লড়েছে। কতোবার জ্ঞান হারাতে হয়েছে, কোমায় পর্যন্ত চলে যেতে হয়েছে কয়েকবার। সেইসঙ্গে যন্ত্রণা! উহ্ সেকি ভোলা যায়! যমের হাতে পড়া। খালেদ অনেক জ্বর দেখেছে, কিন্তু এ জ্বর লাফিয়ে একশ’ চার ডিগ্রিতে দাঁড়িয়ে থাকেÑ এমন কখনও হয়নি। ঠিক একই সময় তিনুও এই জ্বরে পড়েছিল। এখন সুস্থ’র দিকে। তবে অসম্ভব রকমের ঘাম আর ঘুম অস্থির করে ফেলছে। কিন্তু, অফিস তো আর এসব মানবে না। কতোদিন আর আর ছুটি মেলে? মেলেনা। তাই অফিসে এসে খালেদেরও মনে হচ্ছিল সব কিছু থেকে দূরে কোথাও হারিয়ে যেতে পারলে মন্দ হতো না।
- আশ্চর্য! আপনারও এমন মনে হচ্ছে! এতো মিল হলো কেমন করে?Ñ বললো খালেদ। জবাবে রক্তশূন্য ফ্যাকাশে মুখটা তুলে হাসলো তিনু।
- জানি না।Ñ তারপর চুপ। কোন কথা নেই। কম্পিউটারে ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে থাকলো ও। খালেদও নিজের কম্পিউটারে মনোযোগ দিলো। হঠাৎ মাথায় হাত চেপে থেমে পড়লো তিনুÑ উহ্ আর পারি না, মাথাটা একেবারে ঘুরছে, চোখে ধাধা দেখছি।
- অসুস্থ’র পর এটা হবেই। আমারও হচ্ছে। কিন্তু তবু কাজগুলো করছি।

নিরবতা। খালেদের বাম পাশে আশফাক সাহের বসেন, ডাটা এট্রির কাজে বিশেষজ্ঞ। তিনি এখনও আসেননি। ডানে তিনু, আর ওর ডানে বসে দীপালি। দীপালি একমনে ডাটা এন্ট্রি করছে। খালেদ আর তিনুই মাঝে মাঝে কথা বলছে কাজের ফাঁকে।
- খালেদ ভাই
- হ্যাঁ বলুন
- আপনাদের সঙ্গে বোধহয় আর বেশীদিন থাকছি না। আমার একটুও সহ্য হচ্ছে না। এতো বাজে জায়গা দেখিনি, আর হয়তো দেখবোও না। যতো তাড়াতাড়ি পারি বিদায় হবো।
- আমার কাছেও তো অসহ্য মনে হচ্ছে। কিন্তু কি করবো? উপায় তো দেখছি না।
- আপনাদের গোলাপ নামের সাহেবটা না অসহ্য হয়ে উঠেছে। এ-তো নোংরা আর কুটিল! জিলিপির প্যাঁচে ভরা। তার ছায়া দেখলেই শরীরটা রি রি করে ওঠে। আনন্দ আপা যে কেন এ রকম একটা বাজে লোককে এখানে বসিয়ে রেখেছেন বুঝিনা। এর অত্যাচারে কোন ভাল মানুষ কখনই থাকতে পারবে না।
- পারেওনি কেউ। আমার-আপনার আগে অনেকেই চলে গেছে এরই কারণে। আমাদেরও হয়তো যেতে হবে।


যে গোলাপ সাহেবটাকে নিয়ে কথা হাচ্ছিল সে আর কেউ নয়, সে হলো খালেদেরই এক সময়ের কর্মী। অনেক জুনিয়র। খালেদ এই গোলাপকে প্রাণের চেয়েও বেশী ভালবাসতো। এখনও বাসে অতীত এবং পারিবারিক সম্পর্কের কারণে। একসময় একসঙ্গে কতো ঘাত-প্রতিঘাত পেরোনো হয়েছে, কতো দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে, এক পাতে এক বিছানায় কতো সময় পার হয়েছেÑ তার হিসেব মেলানো কঠিন। খালেদের নির্দেশ মতো কতো কাজ করেছে গোলাপ। তারপর সময়ের ফেরে কর্মসংস্থানের জন্য এক-একজন এক-একদিকে চলে গেছে। খালেদ চলে গেছে বগুড়া। গোলাপ একটা এনজিওতে যুক্ত হয়ে মাঠকর্মী হিসেবে পোস্টিং পেয়েছে সুদূর সন্দ্বীপ। সেখানেই এই গোলাপটি কাটিয়েছে বছরের পর বছর। কষ্টের সীমা থাকেনি। কতোদিন খালেদের কাছে চিঠি লিখেছেÑ ‘আমাকে বাঁচান, আমাকে একটি চাকরির ব্যবস্থা করে রক্ষা করুন, আর পারছি না।’ কিন্তু খালেদ কি করবে? সে নিজেই ছিল টলটলায়মান অবস্থায়। তাই কিছু করতে পারেনি। কিন্তু গোলাপের আকূতি বার বার ব্যাকূল করেছে খালেদকে। সেই গোলাপ এখন হেড অফিসে। এখন নামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাহেব।
খালেদের এই অফিসে ঢোকার কিছু কারণ ছিল। ঢাকার একটা মিডিয়ায় কাজ করছিল। অভ্যন্তরিণ কিছু বিষয়ে হঠাৎ করেই সেখানে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছিল। বেতন আটকে ছিল দু’মাসের। খালেদ জানতো এটা সাময়িক। ঠিক এই সময় অর্থাৎ কম করেও দেড় যুগ পর গোলাপের সঙ্গে দেখা। একে-অপরের কূশল বিনিময়ের পর পেশাগত অবস্থা নিয়ে কথা হয়। তখন খালেদের খবরটা জানতে পারে ও।
- খালেদ ভাই আপনি আমার অত্যন্ত শ্রদ্ধাতুল্য। আমার অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয় অনিশ্চিত অবস্থায় থাকার দিন শেষ করতে হবে। এই বয়সে আর এটা চলে না। আপনি বরং আমাদের প্রতিষ্ঠানে যোগ দিন। এখানে অন্তত এরকম কোন অনিশ্চিত অবস্থা হবে না কোনদিন। স্যালারি ভাল, প্রভিডেন্ট ফান্ড-ইনক্রিমেন্ট আছে, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আছে, কাজও এমন কিছুই নয়, সারাদিনে বড় জোর এক-দেড় পৃষ্ঠা কম্পিউটারের কাজ। আপনি অগাধ সময় পাবেন, রিলাক্স করতে পারবেন, নিশ্চিত জীবন নিয়ে ভবিষ্যৎ গড়তে পারবেন। বেরিয়ে আসুন অনিশ্চিত অবস্থান থেকে।Ñ বলেছিল গোলাপ।
- তোমার ওখানে নেওয়া সম্ভব?
- হ্যাঁ সম্ভব। একটু চেষ্টা করলেই হবে। আমার বসকে যা বলবো তিনি তাই-ই শুনবেন। আমি যদি আপনার জন্য কোন উপকার করতে পারি তাহলে সারা জীবন ধন্য হয়ে থাকবো।
- ঠিক আছে, ঠিক করোÑ একটু ভেবে বলেছিল খালেদ। গোলাপ যদিও বলেছিল, আমি যে জায়গার জন্য চেষ্টা করবো, সেটার দায়িত্বেÑ মানে বস আমিই। কাজেই অসুবিধা হবে না, আপনার সম্মান আমি রাখতে পারবো বলে বিশ্বাস করি।

তখন চলে এসেছিল খালেদ। প্রথম প্রথম গোলাপের প্রতি একটা গভীর কৃতজ্ঞতাবোধ কাজ করছিল খালেদের। কিন্তু দিন যতো যেতে লাগলো ততো অন্য রূপে বেরিয়ে আসতে থাকলো। ও যেখানে খালেদকে ‘বড়ভাই’ ‘শ্রদ্ধেয়’ এবং মিডিয়ার ‘অনেক বড় পদ’ থেকে আসা বলেÑ সম্মানের জায়গাটিকে গুরুত্ব দেবে বলে অঙ্গীকার করেছিল, অবশেষে দেখা গেল সেই খালেদকে সে নিজের পিয়নের মতো ব্যবহার করছে, বস স্টাইলে আচরণ করছে। তারপরেও খালেদ ধৈর্য ধরছিল। কারণ বস আনন্দ আপা এবং এই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যটা প্রচ- ভাল লেগেছিল খালেদের। দেশের তৃণমূল মানুষ-সমাজ এবং এর ভবিষ্যৎ বিষয়ে খালেদ যা চায়Ñ এই প্রতিষ্ঠানও তাই-ই চায়। সাম্যবাদ-সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্রায়ন, ধর্মনিরপেক্ষতা, রাষ্ট্রের সকল কর্মচারীকে জনগণের কাছে জবাবদিহিতার জায়গায় নিয়ে যাওয়া, বৈষম্যের সমাজ ভাঙা, স্বৈরতন্ত্র-একনায়কতন্ত্র-হাইয়ারআরকি-এর বিলুপ্তি ঘটানো, যৌথ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, নিজেরা সেই চর্চা করা এবং গড়ে ওঠাÑ ইত্যাদি চমৎকার কথাগুলো খালেদকে দারুণভাবে আকর্ষণ করেছে। এসব ব্যাপারে বস আনন্দ আপা সাচ্ছা একজন মানুষ হিসেবে নিজের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। কিন্তু গোলাপ কেন উল্টো ধারায় চলছিলÑ সেটাই স্পষ্ট হচ্ছিল না ওর কাছে। ও এতো বেশী দাপটের সঙ্গে চলছে, যা খুশী তাই-ই করছে অনৈতিকভাবে, অথচ আনন্দ আপা তাকে কিছুই বলছেন না। এটাই অবাক করছিল খালেদকে। আবার ভেবেছে, যে গোলাপকে নিজে হাতে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলায় ভূমিকা রেখেছে খালেদ, সেই গোলাপ অন্যরকম মানুষ হয় কি করে! কার দোষে? সঙ্গ দোষ? জবাব মেলাতে পারছিল না।

প্রথম যখন খালেদ এই নতুন কর্মস্থলে এলো তখন রুমটাতে মোট ৫ জন ছিল। খালেদ, আশফাক সাহেব, নীলাদি এবং গোলাপ। তিনু আর দীপালি তখনও আসেনি। ওরা এসেছিল আরও পরে। ওদের আগে মিনা নামে একটি মেয়ে এসেছিল। কিন্তু থাকেত পারেনি। আসলে প্রতিবছর একজন করে এসেছে কিন্তু সংখ্যা বাড়েনি। কারণ একদিকে এসেছে, আরেকদিকে চলে গেছে। আনন্দ আপা এজন্য নিজেই এ বিভাগটির নাম দিয়েছেন ‘উদয়ন বিদায়ন’।
গোলাপ ছাড়া আশফাক সাহেবটাও বেশ জটিল। আচার-আচরণ অশোভন। কাজেই খালেদরা তাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে। নীলাদি খুব ভাল মানুষ, উচ্চ শিক্ষিত। তার স্বামী দেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী। তিনি নিজেও চিত্রশিল্পী। আনন্দ আপার সঙ্গে বিশেষ পরিচিতি ছিল। আনন্দ আপাই মোটা অঙ্কের বেতনে এখানে নিয়ে আসেন নীলাদিকে। তারপর এই নীলাদিকে প্রথমে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল স্পেশাল রুমে যেটাতে এসি আছে এবং গোলাপ বসে। অফিসের এসি গাড়িতে করেই নীলাদিকে প্রথম প্রথম কেসস্টাডি আনার জন্য বাইরে পাঠানো হতো। কিন্তু আস্তে আস্তে গোলাপ এমন সব কায়দা-কানুন করলো যে তাকে ওই রুম থেকে বের করে খালেদদের প্রচ- গরমের রুমে বসার ব্যবস্থা হলো। এসি গাড়িতে করে কেসস্টাডি আনতে যাওয়া বন্ধ হলো। এরপর শুরু হলো মেন্টাল টর্চার। খোদ আনন্দ আপার লোককেই গোলাপ নাকানি-চুবানি খাইয়ে ফেললো।
এই নীলাদি খালেদকে উদ্দেশ্য করে একদিন বলেছিল, ‘আপনার এই গোলাপ বন্ধুটি না একেবারে নীচু শ্রেণীর।’ প্রথম প্রথম খালেদ এ ধরনের কথা একেবারেই শুনতে রাজী ছিল না, বিশ্বাস করা তো দূরে থাক। কারণ গোলাপ খােেলদের নিজের হাতের তৈরি, পবিত্র মানুষ হবারই দীক্ষা পেয়েছে ও। যদিও দীর্ঘ দেড় যুগ ও আলাদা নিজের মতো ছিল। তাতেও তো সমস্যা হবার কথা নয়! তাছাড়া এই দেড় যুগ যেখানে ছিল সেটাও তো খালেদের চেতনাতুল্য জায়গাই। আনন্দ আপার সংগঠনে থাকা মানে সে মানুষ ভাল থেকে ভাল, পবিত্র থেকে আরও পবিত্র হবে। সুতরাং গোলাপের খারাপ হবার প্রশ্নই ওঠে না। নীলাদি হয়তো নিজের অপছন্দের বিষয় বিবেচনা করে এমন বলছেন। নীলাদি ধীরে ধীরে আরও অনেক কথা বলেছিল।
- আপনার গোলাপ সাহেব শুধু নীচ-ই না, অত্যন্ত নীচু স্বভাবেরও। সেইসঙ্গে ক্রিমিন্যাল, মিথ্যুক এবং নির্যাতক। জ্ঞান-গরিমাও কম, জানেও না তেমন কিছু। বস হিসেবে থাকতে হলে তো যোগ্যতা থাকতে হয়। শিক্ষিত হতে হয়। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে না হলেও জ্ঞানের দিক থেকে যোগ্যতা থাকতে হয়। ব্যবহার-আচার-আচরণ-সংস্কৃতিগত যোগ্যতা থাকতে হয়। শারীরিকভাবেও যোগ্যতা থাকতে হয়, অন্তত বসের মতো দক্ষতা-যোগ্যতা থাকতেই হয়। এর কোনটাই নেই তার। কিন্তু ভাব দেখায় সবজান্তা। এই ধরনের অযোগ্য লোকেরা সবসময়ই যোগ্যদের প্রতি ঈর্ষায় থাকে, যোগ্যকে প্রতিপক্ষ বা শত্রু ভাবে। আপনার বন্ধুটিও তাই। সে তারচেয়ে শিক্ষিত-অভিজ্ঞ মানুষকে কখনই ভাল চোখে দেখে না, আপনাকেও দেখবে না।

নীলাদি কেন যেন খালেদকে খুব পছন্দ করে ফেলেছিল। বিশ্বাসও করেছিল। সে কারণেÑ খালেদ গোলাপের ঘনিষ্ঠ জানা সত্ত্বেও অবলীলায় সব বলে ফেলে।

- আপনি কি জানেনÑ যৌথ চেতনাবোধ, সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠা, শোষণমুক্তিÑ এগুলো সব মিথ্যা কথা। সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতার নামে সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে আমাদের প্রতিষ্ঠান?
- কি বলেন? কিভাবে?
- আপনি তো দেখছেন, কম্পোজও করছেন। বাংলাদেশের কোন্ জায়গায় কতোজন সাম্যবাদী চেতনায় দীক্ষিত, কতোজন সংগঠিত, সংগঠিত মানুষগুলোর হাতে কতো টাকা আছেÑ তার পুরো ডাটা-তথ্য ডোনারদের মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
- কীভাবে?
- ডোনারদের হাতে তুলে দেবার জন্য যে ডাটাশিট তৈরি করছেন, তাতে এসব তথ্যগুলো থাকছে। আর এই ডাটাশিটটাই চলে যাচ্ছে সাম্রাজ্যবাদীদের হাতে। তাই তারা ওয়াশিংটনে বসে দিব্বি বলে দিতে পারবে বাংলাদেশের কোথায় কি হচ্ছে, কতোজন মানুষ কম্যুনিজমের চিন্তা করছে, কতোজন মৌলবাদবিরোধিতার চিন্তা করছে, কতোজন এ জন্য লড়াই-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত এবং তাদের হাতে এজন্য কতো টাকা সঞ্চয় এবং অন্যান্য শক্তি আছে। সব তারা চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছে। আর আমরা সেই দেখার তথ্যগুলো তাদেরকে সরবরাহ করছি। এর পরিণতি কি হতে পারে ভাবতে পারেন?

হা হয়ে গিয়েছিল খালেদ। সত্যিই তো। এভাবে কখনও ভাবেনি ও। তখনই মনে হয়েছিল সাম্রাজ্যবাদ কেন বামপন্থী আদর্শের একটি প্রতিষ্ঠানকে ডোনেট করছে? রহস্যটা কোথায়?


দুই.
মিনা নামের মেয়েটি ছিল উপজাতীয়। দেখতে একেবারে বাচ্চা বয়সী। ইংরেজিতে মাস্টার্স। সে হঠাৎ না বলে-কয়ে রিজাইন লেটার দিয়ে দিল। কলিগদের কাওকে জানায়নি। মেয়েটির পিছনে ছুক ছুক করে লেগে থাকতো গোলাপ। ৫টা পর্যন্ত অফিস, কিন্তু বেচারাকে নিজের রুমের মধ্যে আটকে রাখতো রাত ৭টা-৮টা পর্যন্ত। অফিসের কেও ৫টার পর থাকতো না। বোঝাই যাচ্ছিল বেচারা অতিষ্ট হয়ে উঠেছিল। রিজাইন লেটার দিয়ে মেয়েটি কাওকে কোন কথা না বলে বিদায় হয়ে চলে যায়। ঠিক এভাবে ৬ মাস থেকে এক বছরের মধ্যে বিদায় হয়েছে আরও ৪ জন, তার মধ্যে একজন ছেলেও ছিল। সবাই মাস্টার্স এবং কাজের দিক থেকে সর্ববিষয়ে ছিল সুদক্ষ। গোলাপটা কি শুরু করেছে এসবÑ ভেবে পায় না খালেদ।
হঠাৎ একই ঘটনা ঘটলো নীলাদির বেলায়। সকাল বেলা এসে কালো মুখে বললেন, আমিও রিজাইন লোটার দিচ্ছি আজ। আপনারা আমার অপরাধ থাকলে ক্ষমা করে দেবেন। খালেদদের কারও মুখে কোন কথা নেই। তিনিও চলে গেলেন। মজার ব্যাপার হলো আনন্দ আপা নিজের ঘনিষ্ট এই নীলাদিকে ডেকে একটি বারের জন্যও প্রশ্ন করলেন না যে, কেন সে রিজাইন দিচ্ছে। কথা বলতেই সময় দিলেন না তাকে। একই ঘটনা ঘটেছে অন্যান্যদের বেলায়ও।


তিন.
- এবার কার পালা তিনু?
- আমার খালেদ ভাই। যতো তাড়াতাড়ি পারি পালাতে পারলে বাঁচি।
- তা-ই।

আর কোন কথা বললো না খালেদ। ভাবছিল নিজের হাতে তৈরি অথচ নষ্ট হয়ে যাওয়া গোলাপ নামের কর্মীটির কথা। এক সময়ের লীডার হয়েও ও আজ অপদস্ত। কোন ভাল মানুষ কি কখনও তার লীডারকে অসম্মান করে? করে না।
- আপনি কি জানেন সে আমার সঙ্গে কি আচরণ করে?
- কিছুটা অনুমান করি। সে চায় অফিস ছুটির পর সবাই চলে যাবার পরও আপনি তার পাশে সময় কাটানÑএই আরকি।
- এইটুকু মোটেই নয়। আমাকে তার রুমে ডেকে নিয়ে কাজের কথা বাদ দিয়ে হেয়ালীপূর্ণ এমন সব কথা বলে যা ভাবতে পারবেন না। গায়ে গা লাগিয়ে বসার চেষ্টা করে। আরওসব আছে- বলতে পারবো না। সব সময় আমাকে বিরক্ত করে। আর কাজ কি করে তা তো দেখেনই। অফিসে হাজির হওয়ারও তার কোন সময়জ্ঞান নেই। আনন্দ আপাকে দেখানোর জন্য কাজ শুরু করে বিকেল ৫টার পর এবং রাতে অফিসে ১০টা-১১টা পর্যন্ত কাটিয়ে দেখায় যে সেই-ই একমাত্র এভাবে কাজ করে। অফিস এবং কাজের প্রতি কী দরদ তার! আসলে আড্ডা দেওয়া আর কূট-পরিকল্পনা করা ছাড়া কিছুই করে না।
- জানি। কিন্তু এগুলো আনন্দ আপা কেন বোঝেন নাÑ সেটাই প্রশ্ন?
- বোঝেন এবং সবই জানেন। জেনেও না জানার ভান করে থাকেন। এখানে গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা, যৌথচিন্তাধারা, সমআধিকার প্রতিষ্ঠার ব্রতÑ এসব মিথ্যা কথা। এগুলো বলে ধোকা দেওয়া হয়। একটা কথা বলি, রাগ করবেন না।
- না, বলুন।
- এসবের জন্য আপনারা দায়ি। বিশেষ করে আমাদের সেকশনের জন্য আপনি দায়ি।
- আমি? কি বলেন? কিভাবে?
- সে আপনার বস হলেও আসলে সবদিক থেকে আপনি তার সিনিয়র, সম্মানী এবং তার ছোটবেলার সঙ্গী। আপনি তাকে শাসন করতে পারেন। কিন্তু করেন না। করেন না বলেই সুযোগগুলো পেয়েছে।
- দেখুন, আমি ওর লীডার ছিলাম বটে। বিন্তু এখন কি আচরণ করছে দেখতেই তো পাচ্ছেন। তারপরেও আমি নানাভাবে তাকে তার ক্রুটিগুলোর কথা বলি একা পেলেই। হয়তো এতে সে খুব অসন্তুষ্ট হয়। হলেও আমি বলি।
- না, আরও যেভাবে বলা উচিত, করা উচিতÑ তা করেন না। তা ছাড়া আপনি সারাজীবন অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে বড় হয়েছেন, কোথাও আপোস করেননি। কিন্তু গোলাপ সাহেবের বেলায় করছেন। নিজের লোক বলে? এটা আমার অভিযোগ আপনার প্রতি। একান্ত নিজের মানুষ মনে করেই এটা অকপটে আপনাকে বলছি।

অনেকক্ষণ কথা বললো না খালেদ।

তিনু বাচ্চা মেয়ে। যদিও ইংরেজিতে ডাবল মাস্টার্স, ফরাসীসহ বেশ কয়েকটি ভাষায় দক্ষ, কম্পিউটারে দক্ষ, অফিসিয়াল কাজ-রবীন্দ্র সঙ্গীত-আবৃত্তি-পর্যটন ইত্যাদিতেওÑ এক কথায় সর্ব বিষয়ে সু-দক্ষ। ফলে ওর কাছে গোলাপের সব ফাঁকিবাজি কাজ ধরা পড়ে যাচ্ছে। প্রশাসনিক বিভাগে প্রকাশ হয়ে পড়ছে এসব ফাঁকিবাজি।
খালেদ এই চাকরিতে কোন উচ্চাশা নিয়ে আসেনি। ও যেখান থেকে এসেছে বা দায়িত্ব পালন করে এসেছেÑ তা অনেক উচু পর্যায়ের। খোদ আনন্দ আপাও আজ এতো উঁচু পর্যায়ের নয়। সুতরাং এখানে খালেদের কোন উচ্চাভিলাষের কিছু নেই। অবশ্য খুব ছোট পর্যায়ে থাকা গোলাপের বেলায় যে এমনটি হবেÑ তাতো নয়। সে এখানকার উপরে ওঠাকেই বিরাট কিছু মনে করতেই পারে এবং করছেও। তাই তার অনেক কূটনীতি অফিসকে নিয়ে। আর ‘বানরের হাতে খন্তা’ পড়লে যা হয়Ñ আনন্দ আপা তাকে সেই খন্তাটা তুলে দিয়েছেন বলেই যতো বিপাক। কিন্তু প্রশ্ন হলো তিনি তা দেবেন কেন, কোন্ স্বার্থে? একটা কিছু তো থাকতে হবে..........


চার.
অফিসে গুরুতর অবস্থা। দিনটি ছিল শুক্রবার। সরকারীভাবে ছুটির দিন। কিন্তু এই অফিস খোলা থাকে। সরকারি ছুটি মানা হয় না। বলা হয় আমরা সাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করি না, তাই শুক্রবারে ছুটি মানি না। এই দিনে গোলাপ এসে অসুস্থ তিনুকে বলে গেল, ছুটির পরে থাকতে হবে। তিনু বলেছিল, ‘একেতো আমি অসুস্থ, জোর করে অফিস করছি, তাছাড়া আমার পারিবারিক প্রোগ্রাম আছে, থাকতে পারবো না।’ তারপর ও থাকেনি। থাকেনি বলে গোলাপ ওকে ফোন করে আপত্তিকর কথা বলেছে। হুমকী দিয়েছে, দেখে নেবে বলেছে।
তিনু ফোন করে খালেদকে সব জানিয়েছে। বলেছে, ‘গোলাপ সাহেব আমাকে হুমকি দিয়েছে, অনেক বাজে বাজে কথা বলেছে। আমি আর চাকরী করবো না। রবিবারে অফিসে গিয়ে রেজিগনেশন লেটার দেবো।’

রবিবার। তিনু সকালে না এসে দুপুর বেলায় অফিসে এসেছে, আনন্দ আপা উপস্থিত হওয়ার পর। তখনই তিনু রেজিগনেশন লেটার জমা দিতে যায়। অবাক ব্যাপার! তিনুর কোন কথা শোনা তো দূরে থাক, অত্যন্ত অশালীন ব্যবহার করে ওকে বিদায় করে দিয়েছেন আনন্দ আপা।
তিনু মেয়েটি ঝরঝর করে কাঁদতে কাঁদতে পুরো বৃষ্টির ভিতরে বের হয়ে চলে যায়। ওর বিদায়ে কলিগরা তখন ওর মতোই কাঁদছিল অঝোরে। ওকে সব মেয়ে কলিগই ভালবাসতো।

বোঝাই যায় আগে থেকে আনন্দ আপাকে ম্যানেজ করে রেখেছিল গোলাপ।


পাঁচ.
খালেদ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললো এখানে আর নয়। দীপালিও একই মন্তব্য করলো। রাতে ফোন করে নিজের কথাটা তিনুকে জানালো খালেদ। তিনু বললো, ‘সিদ্ধান্তটা তাড়াতাড়ি বাস্তবায়ন করলে ভাল করবেন। কারণ ওরা খুব খারাপ। ভিতরে লুটপাটের একটা সিন্ডিকেট কাজ করছে। বুঝতেই পারছেন ডোনারদের বিশাল অঙ্কের ফান্ড। যখনই ওই সিন্ডিকেট বুঝে ফেলছে যে ওরা কারও কারও কাছে ধরা পড়ে যাচ্ছেÑ তখনই তার বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিচ্ছে। তাই আপনাকে অপদস্ত করার আগেই পদক্ষেপ নিতে হবে।’ খালেদ বলেছিল, ‘হ্যাঁ, খুব তাড়াতাড়ি নেবো, এ মাসেই, পারলে আরও তাড়াতাড়ি।’

গোলাপের একটা কথা মনে পড়লো। সে খালেদকে বলেছিল, ‘আপনার প্রশ্নের জবাব সময়মতো দেবো।’ কলিগদের কিছু না জানিয়ে আনন্দ আপার সঙ্গে কথা বলে ও একমাাস বিদেশে কাটিয়েছে। খালেদ তখন ওকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছিল। বলেছিল, ‘জবাবদিহিতার দোহাই দেওয়া হয়, তুমি এখন জবাব দাও কেন না বলে গেছো? নিজের সেকশনের কলিগদের তো জানার অধিকার আছে কোথায়-কেন গেছো? অন্যদেরকে তো আমাদেরও জবাবদিহি করতে হয়।’
তখন ও বেশ প্রতিশোধমূলক ভঙ্গিতে ওই কথাটা বলেছিল যে, সময়মতো জবাব দেবে। ওইসময় খালেদ এটাকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। হঠাৎ মনে হলো ও হয়তো প্রতিশোধ নেবে। হোক একান্ত আপনজন, তারপরেও। গোলাপ মাঝে মাঝেই বলেছে, ‘আমি ভালোর ভাল, খারাপের খারাপ।’ এ কথা দিয়ে খালেদকে হয়তো বোঝাতে চেয়েছে লীডার এবং কমরেড হলেও ও খারাপটাই করবে। যদিও সত্যি কথা হলো, খালেদ কখনই গোলাপকে খারাপ দেখতে চায় না বলেই সতর্ক করতে চেয়েছে, ভাল করতে চেয়েছে। তাছাড়া সত্যি কথা হলো, এতো কিছুর পরেও খালেদ ওর ভালটার জন্যই চেষ্টা করবে। প্রাণপণে ওকে বাঁচাবে খালেদ। এটাই হয়তো বুঝে তিনু বলেছিল, ‘বন্ধু বলে’ ওকে কিছু বলি না। কথাটা সত্যি। কারণ ওযে একসময়ের প্রাণের চেয়েও ভালবাসার মানুষ। তার কি খারাপ চাওয়া যায়? যায় না। এখানে কখনই গোলাপের ভাষ্যমতো ‘খারাপের খারাপ’ হতে পারবে না, এ চরিত্রের মানুষও নয় খালেদ।
কিন্তু গোলাপ? সে কি মানুষ আছে? খালেদ তখনও জানেনি, মানুষ যখন পশু হয়Ñ তখন সে সাপের চেয়েও ভয়ঙ্কর হয়।


পরদিন। খালেদ অফিসে ঢুকে বুঝতেই পারেনি গোলাপ কতোটুকু খারাপ পদক্ষেপ নিতে পারে। আর আনন্দ আপাও সকল রীতি-নীতি ভঙ্গ করে গোলাপের কথা মতো চলতে পারেন।
অফিসে ঢোকার কিছুক্ষণ পর পিয়ন দিলশাদ এসে একটা চিঠি ধরিয়ে দিলো। সেটা খুলে দেখলো, খালেদকে চাকরি থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। কোন কারণের কথা নেই। স্বাক্ষর করেছেন আনন্দ আপা।

ছয়.
গোটা অফিসে এখন কান্নার রোল। কেও কেও তীব্র ঘৃণায় বাকরুদ্ধ হয়ে আছেন। যারা কাঁদছে তাদের ফোপানীর শব্দে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। কান্না এবং ঘৃণার মিলনমেলা চলছে অফিসে। এই মেলা চলছে রিপোর্ট সেকশনে, একাউন্টস সেকশনে, প্রশাসন বিভাগে, ব্যক্তিগত বিভাগে, ডকুমেন্টস বিভাগে, সেন্ট্রাল টিম, লাইব্রেরি ও সেবাকর্মীদের মধ্যে। সবাই চোখের জলে ভালবাসা, আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণার বহ্নিপ্রকাশ ঘটাচ্ছে। খালেদকে বিদায় জানাতে এ এক অন্য রকম দৃশ্য। কেও কেও অনেকটা চিৎকার বলেই ফেললো, এতো গণতন্ত্রায়ন-ভয়েজ চর্চার কথা বলা হয়Ñ আজ কি দেখা গেল? কোথায় গণতন্ত্র চর্চা, কোথায় অধিকারের প্রশ্ন, ভয়েজ তৈরির চর্চা, কোথায় যৌথ কর্মকা-ের উদাহরণ? আনন্দ আপা আর গোলাপ মিলে কি এই পদক্ষেপ নিতে পারেন? স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর এই কি উদাহরণ? সব ভাওতা? আসল রূপ বেরিয়ে পড়েছে।
খালেদ কোন জবাব দেয়নি। বেরিয়ে এসেছে।

সাত.
খবর শুনেই ফোন করেছে তিনু। কোন কথা বলতে পারছে না। শুধু হাউমাউ করে কাঁদছে। কথা যতোটুকু বোঝা যাচ্ছে ‘এটা কি করে সম্ভব? আপনার মতো মানুষকেও ওরা এই কাজ করলো?’
খালেদ ওকে শান্ত হতে বলছে। কিন্তু ওকে কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না। কান্নার বাধ যেন ভেঙে পড়েছে। খালেদ বলছে, ‘আপনি থামুন। এখন শান্ত হোন। ফোনটা রাখুন। শান্ত হওয়ার পরে একসময় কথা বলবো।
ও শুধু ‘না না’ করছে। আর বলছে, ‘আমি ভাবতেও পারছি না, মানুষ এতো নিকৃষ্ট হতে পারে? এতো খারাপ জায়গায় আমরা ছিলাম?’
‘হ্যাঁ তিনু, আমরা খারাপ জায়গায় ছিলাম, সেখান থেকে মুক্ত হয়েছি, এটা নিয়ে ভাবনার কিছু নেই। আর আমরা যে ভাল মানুষ ছিলাম তার প্রমাণ সবার চোখের জলেই পাওয়া গেছে। অফিসের অর্ধশত স্টাফের সবাই আমাদের ভালবাসতো, পছন্দ করতো। তাঁরা আমাদের জন্য কেঁদেছে। আপনি ভাবুন, আমাদের মতো কখনও যদি গোলাপ সাহেবদেরকে অফিস থেকে বিদায় হতে হয়Ñ তখন তাদের জন্য কি কেও এভাবে চোখের জল ফেলবে? ফেলবে না। বরং ওইদিন অফিসে আনন্দ উৎসব হবে। আমাদের বিপরীত একেবারেই। এরচেয়ে স্বস্তির আর কি আছে? আর আনন্দ আপা? তিনি তো মুখোশটা খুলে সবার সামনে নিজেকে প্রকাশ করে দিয়েছেন। এরপর অফিসের বাইরে প্রকাশ হয়ে পড়বেন। আর কি চাই? আপনি এখন শান্ত হোন। ফোন রাখুন।’
তিনু ফোন রাখে না। শুধু হু হু করে কাঁদছে আর কাঁদছে। চোখের জলে সিক্ত করে দিতে চাইছে। অসভ্যতার বিরুদ্ধে এ এক অসাধারণ প্রতিবাদ।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন