বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১২ জানুয়ারী ১৯৭০
গল্প/কবিতা: ১টি

গল্প - বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী (নভেম্বর ২০১৭)

ভিনগ্রহের বন্ধু বিবো

Mostafa Sohel
comment ২  favorite ০  import_contacts ৭৬
বিবোর সাথে প্রথম দেখা হয় আমার স্কুলের ক্যান্টিনে। সাধারণত টিফিন পিরিয়ডে আমরা ক্যান্টিনে যাই। আমাদের ক্লাসের প্রায় সবাই বাসা থেকে টিফিন নিয়ে এসে ক্যান্টিনে বসে খায়। সবমিলিয়ে তিরিশ মিনিট সময়। এই সময়টা আমরা খাবার খেতে আর গল্প করতে খুব ভালোবাসি। তাই প্রতিদিনের মতো আজও ক্যান্টিনে ঢুকে দেখি আমারই জায়গায় আমার মতোন দশ/বারো বছর বয়সের একটি ছেলে বসে আছে। একটু অবাক হয়ে তাকাই। ওর পরনে ছিলো লাল একটা টি শার্ট আর কালো হাফপ্যান্ট। চুলগুলো উস্কোখুস্কো। আমি হেসে বলি , আমার নাম রায়ান। থ্রী তে পড়ি। তুমি ?

বিবো আমাকে দেখে খুব মিষ্টি করে হাসে। তারপর আমার দিকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে থাকে। আমি হেসে বলি , তোমার নামটা তো বলবে ? . অনেকটা রোবটের মতো গলার স্বর ভেসে এলো। কাঁপা কাঁপা গলায় সে বললো , বিবো। আমার ভেতরটা কিরকম কেঁপে ওঠে। বিবো এতোক্ষনে হাত বাড়ায়। আমিও হাত মেলাই। তারপর টিফিন বাক্স থেকে খাবার বের করি। দেখি মা আমাকে চিকেন আর সান্ডউইজ দিয়েছেন। আমি সেখান থেকে ওকে একটু খেতে বলি। ও হেসে বলে , থ্যাংক ইউ। দিস ইজ নট মাই ফুড ফ্রেন্ড। আই ইউস টু টেক সানশাইন অর রে ফ্রম দি স্কাই। ডিজ আর মাই ফুডস। বাই দি ওয়ে , আমি কিন্তু তোমার মতো মানুষ নই। আমার নাম বিবো। আমি ভেনাস নামে একটা গ্রহে থাকি। পৃথিবীতে আমি এইমাত্র ঘুরতে এসেছি। এখন তুমি কি আমাকে চিনতে পারছো ?
আমি মাথা নাড়ি। 'কই- আগে কখনো তো দেখিনি তোমাকে ?'
তুমি কি আমাকে বারবার দেখতে চাও ?
চাই
আমার সাথে বন্ধুত্ব করতে চাও ?
আমি কোনো উত্তর দেবার আগেই অদ্ভুতভাবে বাতাসে মিলিয়ে গেলো বিবো। আমি আশেপাশে তাকিয়ে দেখি বিবো নেই। বাতাসে তার হাসির শব্দ। যেনো সে ইচ্ছে করে আমার সাথে খেলছে। আমি খাবার রেখে উত্সুক হয়ে তাকিয়ে থাকি জানালার দিকে।

দুই

বাসায় ফিরে দেখি হুলুস্হুল কান্ড। আমাদের বাড়িতে চোর ঢুকেছিলো। মা-বাবা অফিসে ছিলো। আমি স্কুলে। সেই ফাঁকে এসে বাসার কিছু মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে গেছে ওরা । সবচেয়ে দামি জিনিসটি খোয়া গেছে মায়ের গলার সোনার হার। মা খুব যত্ন করে সাজিয়ে রেখেছিলো আলমারির ভেতর । কোনো বড় অনুষ্ঠানে গেলেই মা ওটা পড়তেন। মায়ের চেইন হারানোর শোক আমাকেও গ্রাস করলো। রাতে বাবাকে বললাম, বাবা মাকে আর একটা চেইন কিনে দিও। বাবা আমার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বললেন , অতো টাকাতো বাবার কাছে নেই সোনা। তুমি যদি বড় হয়ে কোনোদিন পারো মায়ের গয়নাটা কিনে দিও ! আমি মাথা নাড়ি। এতো কষ্টের মধ্যেও মা মিষ্টি করে হাসেন। বলেন , আহারে আমার লক্ষীবাবু। দেখো আমার সোনাটাও কি কষ্ট পেয়েছে। মায়ের কথা শুনে সত্যি সত্যি আমার চোখে জল চলে এলো। আমি দৌড়ে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালাম। আর কি আশ্চর্য ! তখন বেলকুনিতে বিবো এসে দাঁড়ালো। আমি অবাক। আমি কেউ শুনতে না পায় এরকম ভাবে ফিসফিস করে বললাম , বিবো তুমি ?
হুম বন্ধু। তোমার জন্যই এসেছি। মায়ের গয়না চুরি হয়ে যাওয়ায় মন খারাপ ?
আমি মাথা নাড়ি। বিবো যেনো এক মুহুর্তের মধ্যে একটা সোনার হার নিয়ে আমার হাতে দিলো। বললো, যাও মাকে দিয়ে দাও। মা খুব খুশি হবে।

আমি দৌড়ে মায়ের কাছে যাই। উত্তেজনায় আমার সারা শরীর কাঁপছে। এটাতো অবিকল মায়ের সোনার হার। সোনার হারটা মাকে দিয়ে বললাম - এইটা নাকি তোমার চেইন ?

মা -বাবা দুজনেই ভীষণ অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন। মা আমাকে বললো , কোথায় পেলি রে বাবা ?
বারান্দায়।

মা-বাবা দুজনেই তৎক্ষণাৎ বারান্দায় ঘুরে এলেন। তারপর আমাকে জড়িয়ে ধরে মা কপালে অনবরত চুমু খেতে লাগলেন ! ওরা কেউ লক্ষই করলো না , আমার বন্ধু বিবো তখনও আমার জন্য জানালার কার্নিশে অপেক্ষা করছিলো !
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন