বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৩ জুন ১৯৯৭
গল্প/কবিতা: ৩টি

গল্প - বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী (নভেম্বর ২০১৭)

মহাজাগতিক প্রাণী

আরাফাত শাহীন
comment ০  favorite ০  import_contacts ১৬
এক.

ড.আলমগীর কবির অদ্ভূত দৃষ্টিতে সদ্য ল্যান্ড করা স্পেসশিপটির দিকে তাকিয়ে আছেন।তার চেহারায় একই সাথে বিস্ময় এবং আনন্দ খেলা করছে।তিনি আনন্দিত হয়েছেন এজন্য যে তার দীর্ঘ সাড়ে চার বছরের অধ্যাবসায় ও গবেষণা আজ সফল হতে চলেছে।তিনি এমন একটি কাজ করতে সক্ষম হয়েছেন যা ইতোপূর্বে কেউ করে দেখাতে পারেনি।চেষ্টা যে কেউ করেনি তা নয়।বরং বহু বছর ধরে পৃথিবীর নানা প্রান্তের অনেক গবেষক নিরলসভাবে কাজটি সমাধা করতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন।অথচ তারা কেউ এখন পর্যন্ত সফলতার মুখ দেখতে পাননি।হয়ত তাদের গবেষণাতে কোনো ঘাটতি ছিলো।অথবা তাদের উদ্দেশ্য প্রকৃতপক্ষে মহৎ ছিলোনা।ড. কবির একটা মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে দিনের পর দিন তার গবেষণা চালিয়ে গিয়েছেন।অবশেষে আজ তার গবেষণা সফল হতে চলেছে।অন্তহীন সুখে তার হৃদয় আজ কানায় কানায় পরিপূর্ণ।

এদিকে আনন্দের সাথে তার চোখেমুখে ঘোরলাগা বিস্ময় উপস্থিত।তিনি নিজের চোখকে যেন কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছেন না।তার সামনে এখন যে স্পেসশিপটি সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে সেটি একটি বিশাল আলোর গোলক ছাড়া আর কিছু নয়।প্রথম যেদিন তিনি পৃথিবী থেকে ১ লক্ষ মাইল দূরের সিগনাল পান,সেদিন তিনি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন।এটা কেমন করে সম্ভব! এত দ্রুত তারা কেমন করে চলে আসতে পারলো!পাঁচ আলোকবর্ষ দূরত্ব পাঁচ মাসে অতিক্রম করা সহজ ব্যাপার নয়।তারমানে আলোর চেয়েও বহুগুণ দ্রুতগামী স্পেসশিপে তারা মহাশূন্য অতিক্রম করছে!এখন আর ড.কবিরের কোনো সন্দেহ নেই। মানুষ যা শত বছর ধরে চেষ্টা করেও তৈরি করতে সক্ষম হয়নি তাই তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে মহাজাগতিক প্রাণী!


দুই.


এতক্ষণের আনন্দ-বিস্ময়ের অবস্থার পরিবর্তে ড.কবির এখন অস্বস্তিতে ভুগতে শুরু করেছেন।যদি কোনো প্রাণী না আসে! এমনও তো হতে পারে মহাজাগতিক প্রাণীরা নিজেরা না এসে শুধুমাত্র একটা স্পেসশিপ পাঠিয়ে দিলো!মানুষের চরিত্র কেমন এটা জানার জন্য তারা এমনটাও করতে পারে।ড.কবিরের অস্বস্তি বেড়েই চলেছে।এখন পর্যন্ত কেউ বের হয়ে আসছে না কেন? তবে কি তার আশঙ্কাই ঠিক?

হঠাৎই স্পেসশিপের একটা অংশ উন্মুক্ত হয়ে গেল।এটা কীভাবে সম্ভব হলো ড.কবির তার বর্ণনা দিতে পারবেন না।তিনি মুহূর্তের জন্য শুধু আলোর ঝলকানি দেখতে পেয়েছেন।ড.কবির দেখতে পেলেন স্পেসশিপ থেকে কিছু একটা বের হয়ে আসছে।কাছাকাছি আসতেই বোঝা গেলো এটা একটা প্রাণী।ড.কবিরের বহু আকাঙ্ক্ষিত মহাজাগতিক প্রাণী।তিনি বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে দেখলেন প্রাণীটি দেখতে হুবহু মানুষের মত।শুধু কানের জায়গাটা সমতল।আর চোখ দুইটা একটু বেশি রকমের বড়।ড.কবিরের অস্বস্তি আরো বেড়ে গেলো যখন প্রাণীটি তার কাছাকাছি এসে দাঁড়ালো।তিনি ভেবে বের করতে পারলেন না কোন ভাষায় তিনি এই মহাজাগতিক প্রাণীকে সম্ভাষণ জানাবেন।তার এই অস্বস্তি থেকে মুক্তি দেবার জন্যই হয়ত প্রাণীটি বলে উঠলো,"আপনি পৃথিবীর যেকোন ভাষায় আমাদের সাথে কথা বলতে পারেন।আমাদের কাছে শক্তিশালী সাউন্ড ট্রান্সফার সিস্টেম আছে।আপনি যে ভাষাতেই কথা বলুন না কেন আমরা বুঝতে পারবো।"
ড.কবির এবার যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন।তিনি তার মাতৃভাষা বাংলাতেই সম্ভাষণ জানালেন,"পৃথিবীর বুকে আপনাকে স্বাগতম, হে মহাজাগতিক প্রাণী।"


তিন.


ড.আলমগীর কবির একজন মহাকাশ গবেষক।বাংলাদেশে মহাকাশ বিষয়ে উচ্চতর গবেষণার তেমন একটা সুযোগ নেই বলে প্রথমে তিনি জার্মানিতে কয়েক বছর গবেষণাকর্ম চালানোর পর সেখান থেকে সোজা চলে যান নাসায়।সেখানে প্রফেসর হ্যান্সের অধীনে টানা পাঁচ বছর গবেষণা করে নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছেন।দেশের প্রতি সহজাত টানকে তিনি উপেক্ষা করতে পারেননি।নাসায় থাকতে তিনি মহাকাশে প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে গবেষণা করছিলেন।একবার তো তিনি মহাকাশের প্রাণীদের সাথেও যোগাযোগ করতে সক্ষম হন।পরে অবশ্য অজানা কোনো কারণে যোগাযোগটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।এরপর তিনি বহু চেষ্টা করেও আর পূণরায় তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেননি।

দেশে ফিরে এসে তিনি আবার তার গবেষণা কর্মে আত্মনিয়োগ করেন।নিজস্ব প্রচেষ্টায় তিনি একটি রেডিও ট্রান্সমিটার স্থাপন করেন।তাছাড়া বাদবাকি যে সমস্ত যন্ত্রপাতি দরকার তা প্রফেসর হ্যান্স এর সহায়তায় তিনি সেগুলো যোগাড় করতে সক্ষম হন।এরপর শুরু হয় তার ধৈর্যের পরীক্ষা। দিনের পর দিন তিনি চেষ্টা করতে থাকেন।
অবশেষে একদিন হঠাৎ তিনি ট্রান্সমিটারে একটি সিগনাল ধরতে সমর্থ হন।মমহাজাগতিক প্রাণীর সাথে এই প্রথম পৃথিবীর কোনো মানুষ যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হলো।আর সেই মানুষটি হলেন ড.আলমগীর কবির।


চার.

"আপনাদের সাথে তো অনেকেই যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে।তাদের সিগনাল গ্রহণ না করে আপনি আমার সাথে যোগাযোগ করলেন কেন?"
ড.কবির প্রশ্ন করেন মহাজাগতিক প্রাণীকে।
মহাজাগতিক প্রাণীটির মুখ দিয়ে কেমন যেন হাসির মত একটা শব্দ বের হলো।তারপর সে বললো,"পৃথিবীর বহু বিজ্ঞানী আমাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে এটা ঠিক।আমরা তাদের প্রত্যেকের সিগনালই অনুভব করি কিন্তু তাদের সাথে আমরা যোগাযোগ করিনা।কারণ তাদের উদ্দেশ্য মহৎ নয়।"
ড.কবির বিস্ময়ে হতবাক হয়ে প্রশ্ন করেন,"এসব তো মানুষের অন্তরের ব্যাপার। আপনারা কীভাবে বুঝতে পারেন তাদের উদ্দেশ্য মহৎ কীনা!"
প্রাণীটির মুখ দিয়ে আবার হাসির মত শব্দ বের হয়।ড.কবিরকে ক্ষুদ্র একটি যন্ত্র দেখিয়ে বলে,"এটার নাম মাইন্ড রিডার যন্ত্র।নাম শুনেই বুঝতে পারছেন এটা দিয়ে মানুষের মনের খবর জানা যায়।ছোট হলে কী হবে-এটা প্রচন্ড শক্তিশালী। মহাশূন্যে বসে আমরা পৃথিবীর মানুষের মন পড়তে পারি।"
-এটা দিয়েই কি আপনি আমার মন পড়েছেন?
-এটা দিয়েই আপনার মন পড়ে জানতে পারি আপনার একটা মহৎ উদ্দেশ্য রয়েছে।পৃথিবীর মানুষকে আপনি ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে চান।আমাদের মনে হলো আপনাকে সাহায্য করা উচিত। তাই এগিয়ে এলাম সাহায্যের জন্য।"
-আপনার কি মনে হয় পৃথিবীর মানুষ ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচবে?
-আপনিই তাদেরকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে পারবেন।
-এটা কীভাবে সম্ভব?
-আমি স্পেসশিপ নিয়ে চলে যাবার পর সেখানে একটি ক্ষুদ্র যন্ত্র পড়ে থাকতে দেখবেন।ওটা পারমানবিক ও রাসায়নিক অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম।যেদেশে এসব অস্ত্র আছে আপনি যন্ত্রটা নিয়ে সেইদেশে চলে যাবেন।বাকীটা আপনি নিজেই বুঝে নিবেন।
-আমি কি এ মহান দায়িত্ব পালন করতে পারবো?
-অবশ্যই পারবেন। বেস্ট অব লাক।


মহাজাগতিক প্রাণী ততক্ষণে স্পেসশিপ লক্ষ করে এগুতে শুরু করেছে।ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যায় আলোর গোলকের মাঝে।ড. কবির একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকেন সেদিকে। তার চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।যে মহান দায়িত্ব তার উপর অর্পণ করে গেলো মহাজাগতিক প্রাণী,তা কি তিনি পালন করতে পারবেন? পারতে যে তাকে হবেই।নিজের অজান্তেই হাত মুষ্ঠিবদ্ধ হয়ে আসে ড. আলমগীর কবিরের।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন