বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৮ ডিসেম্বর ১৯৯৪
গল্প/কবিতা: ৪টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

গল্প - ভৌতিক (সেপ্টেম্বর ২০১৭)

মোট ভোট রন মামার শ্বশানে

শুভ্র শীবু
comment ২  favorite ০  import_contacts ১৪৫
আমাদের গ্রামের বাড়িতে একজন মাস্টার মশাই পড়াতে আসতেন, উনার নাম কান্তীপ্রসাদ শীল। উনার পড়া একদিন ও শিখতাম না বলে, প্রতিদিন কান ধরে উঠবস করতে হতো। প্রতিনিয়ত এই কান ধরা আর ভালো লাগেনা।
তাই শ্বয়ন চিন্তা করলো, আজ আর পড়তে বসবে না! সে আজ খেলবে ক্রিকেট। যেই ভাবা সেই কাজ, ঘুম থেকে উঠে দাঁত ব্রাশ করার ভান করে,
যে গেলো তার আর খবর নেই।

এ দিকে মাস্টার মশাই, কান্তীবাবু বাসায় এসে হাজির। কিন্তু শ্বয়ন তো
তার আগেই পালিয়েছে। শ্বয়নকে খুঁজে বের করতে এসে, তার দাদা তপন দত্ত
নিজেই ক্রিকেট খেলায় লেগে গেলো।

দাদা আর ছোট ভাই মিলে ক্রিকেট খেলে ১৫৫ রানের টার্গেট দিয়ে দেয় বিশ
ওভারে, কিন্তু প্রতিপক্ষ ও কম না! তারা ও টার্গেট এর কাছাকাছি এসে আর আসতে পারেনি। যাই হোক দাদা আর ছোট ভাই মিলে খেলায় জিতলো,
দুজনে বাসায় ফিরলো একসাথে। এদিকে বাসায় প্রবেশ করতেই মায়ের বকুনি শুরু হয়ে গেলো। শ্বয়ন তার মায়ের মুখে গল্প শুনেছে, কারো শ্বশানে
যেতে নেই, আর পশ্রাব করা যাবেনা যত্রতত্র।

দুপুরবেলা শ্বয়ন তার মামার শ্বশানের কাঁছে খেলতে গেলো, পাশেই
সাদা ধবধবে ছাগল ছানা দুটি একটা আরেকটাকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে আছে।
শ্বয়ন এসেই ছাগল ছানা দুটিকে ঘুম থেকে তুলে, একটিকে হাত দিয়ে আদর
করছিলো,আপন মনে। কিছু সময় যাওয়ার পর, শ্বয়ন দেখলো, তার কাছে
থাকা আরেকটি ছাগল ছানা নেই। হাতে থাকা ছাগল ছানাকে কোলে নিয়ে
অপরটিকে খুঁজতে বের হলো।

ঘন্টাখানেক খোজাখুঁজি কবার পর, হঠাৎ তার চোখ পড়লো তার, রন মামার
শ্বশানের দিকে। সে গিয়ে দেখলো, শ্বশানের উপর ছাগল ছানাটি পশ্রাব করে
দিয়েছে। শ্বয়ন ও ছাগল ছানা দুটিকে কোলে নিয়ে, পশ্রাব করে দিলো ঐ
জায়গাটির উপর। শ্বশান নামক জায়গাটির কথা শ্বয়নের মনে নেই।

রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষ করেই নিজের বিছানায় শুয়ে পড়লো, কিন্তু ঘুম বাবাজি কিছুতেই আসছেন না? সারাদিনের ঘটনাবহ তার মনে পড়তে লাগলো, মনে পড়ে গেলো মামার শ্বশানে পশ্রাব করার কথা। ভয়ে তার গাঁ
শিওরে উঠলো।

যদি ভুত আসে, তাহলে তো শেষ আমি! এই ভেবে ঘুমিয়ে পড়লো শ্বয়ন। গভীর রাত বোধহয় তিনটে হবে আনুমানিক। হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে
গেলো, কিন্তু এরই মধ্যে সব উল্টো হয়ে গেলো কেনো?

অদৃশ্য শক্তি, হি-হি-হি-হি করে হেঁসেই চলেছে, নিজের গায়ে চিমটি কেঁটে দেখলো শ্বয়ন, সবই তো টিক আছে, কিন্তু এসব কি হচ্ছে? ভুত
গুলো মনে হয়, আমার পেছনে লেগেছে, শ্বয়ন ভাবলো। সে জোরে জোরে, রাম-রাম-রাম-রাম বলে চিৎকার করতে থাকলো। পাশের রুম গুলো থেকে মা-বাবা, দাদারা সবাই তার চিৎকারে ঘুম থেকে উঠে, শ্বয়নের রুমের লাইট জ্বালাতেই শ্বয়নকে সবাই দেখলেন, বিছানার
এক কোনে কাঁপতেছে আর জোরে জোরে রাম-রাম-রাম-রাম বলে
চিৎকার করতেছে। শ্বয়নের মা শ্বয়নকে জড়িয়ে বললেন,
বাবা তোর কি হয়েছে? শ্বয়ন ও তার মাকে জড়িয়ে ধরে
কেঁদে ফেললো। শ্বয়ন তার মাকে সব খুঁলে বললে, শ্বয়নের মা প্রীতি
রানী দত্ত, শ্বয়নকে সান্তনা দিয়ে, শ্বয়নকে কাছে নিয়েই সেদিন ঘুমান।

পরের দিন শ্বশানে শ্বয়নের মা প্রীতি রানী দত্ত, নিজের ভাই এর
শ্বশানে গিয়ে ফুল, আগরবাতি ইত্যাদি পুজার কিছু সামগ্রী নিয়ে
গিয়ে শ্বয়নের জন্য আর্শিবাদ চেয়ে ফিরে আসেন।

সত্যি, ভুত বলতে কিছু নেই আবার প্রেতাত্মা বলতে কিছু আছে,,,
কখনো মনে হয় নেই, আবার কখনো মনে হয় আছে।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন