বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৩০ ডিসেম্বর ১৯৯৫
গল্প/কবিতা: ৫টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৫৬

বিচারক স্কোরঃ ১.৫৬ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২ / ৩.০

অপেক্ষা

আঁধার অক্টোবর ২০১৭

কামনার সাতরং

কামনা আগস্ট ২০১৭

"তোমার ঋণ"

ঋণ জুলাই ২০১৭

গল্প - ভৌতিক (সেপ্টেম্বর ২০১৭)

মোট ভোট ১০ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৫৬ হিংসুটে প্রেমিকা

শৈলেন রায়
comment ৯  favorite ০  import_contacts ২১২
আমার স্বামীর নাম শৈলেন রায়। রোজ অফিসে বেরোনোর সময় সে আমাকে চুমু খায়। আমিও তাকে চুমু খাই। আমি ভাজাভুজি ভালবাসি। শৈলেন আমার জন্য চপ কাটলেট কিনে বাড়ি ফেরে। দুপুরবেলা খাওয়ার পর শেষপাতে একটু দই পেলে শৈলেন খুশি হয়। মিষ্টি দই নয়, সাদা দই। আগে কেনা দই খেত। কোনওদিন পেত, কোনওদিন পেত না। এখন আমি নিজেই বাড়িতে দই বসাই। শৈলেন খুশি মনে খায়। শেষ হওয়ার পরও বলে, ‘আর একটু হবে নাকি?’ আমি জানি ও চাইবে তাই সব সময়েই একটু সরিয়ে রাখি। হেসে বলি, ‘না হবে না। ফুরিয়ে গেছে।’ তারপর এনে দিই।
শৈলেন প্রায়ই আমার জন্য এটা সেটা কিনে আনে। কোনও দিন শাড়ি, কোনওদিন ব্যাগ, কোনওদিন ইমিটেশনের গয়না। জিনিস ভাল হয় না। কোয়ালিটি বাজে, দাম বেশি। শৈলেন আহ্লাদি মুখ করে বলে, ‘সুন্দর হয়েছে না?’ আমি হেসে বলি, ‘হ্যাঁ, সুন্দর হয়েছে।’ আমিও শৈলেনের জন্য কেনাকাটা করি। স্ট্রাইপ শার্ট পরলে ওকে হ্যাণ্ডসাম লাগে। সরু স্ট্রাইপ। আমি ওর জন্য স্ট্রাইপ শার্ট কিনি। পরিয়ে দেখি। এখানেই শেষ নয়। আরও আছে। আমি কোথাও গেলে শৈলেন বার বার ফোন করে।
‘সীমা, কোথায় তুমি?’
‘এই তো আসছি।’
‘অনেকক্ষণ থেকেই তো আসছি আসছি বলছো। আসছো কই?’
‘ওরে বাবা, আর একঘন্টার মধ্যে চলে যাব।’
‘একঘন্টা! বল কী! সে তো অনেকক্ষণ। আমি অতক্ষণ একা থাকব?’
কোনও কোনওদিন শৈলেন ও অফিস থেকে ফিরতে দেরি করে। আমি অস্থির হয়ে পড়ি। আজকাল রাস্তাঘাটে কত গোলমাল হয়। আমি শৈলেনের জন্য ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। শৈলেন রাত করে আসে। দরজা খোলার পর, ঘরে ঢুকেই ঘেমো গায়ে আমাকে জাপটে ধরে। আমি ঠেলে সরিয়ে দিই। নাক মুখ কুঁচকে বলি, ‘মাগো! যাও আগে বাথরুমে ঢোকো।’
‘বাথরুম থেকে এলে হবে তো?’
আমি ডান হাত মুঠো করে কিল দেখিয়ে বলি, ‘মার হবে।’

গল্পের এই ‘শুরু’ থেকে কী মনে হচ্ছে? মনে হচ্ছে, আমার আর শৈলেনের জীবন সুখে ভালবাসায় একেবারে মাখামাখি। ভবিষ্যতেও আমরা এই মাখামাখি জীবন কাটাব। তাই তো?
গল্পটা কিন্তু মোটেও তা নয়। একেবারেই অন্যরকম।

বিয়ের দিন থেকেই শৈলেনকে আমার অসহ্য লাগতে শুরু করে। স্ত্রীর প্রতি তার এই গদগদ প্রেম দেখলে আমার বমি পায়, মাথায় আগুন জ্বলে। আরও কিছুদিন পর বুঝতে পারি, তাকে আমি ঘৃণা করছি।
শৈলেন আজ দেরি করে অফিস থেকে ফিরবে। খানিক আগে সে আমাকে ফোন করেছিল। তার জন্য মোবাইলে ‘অ্যাসাইন টোন’ আলাদা। রবীন্দ্রসঙ্গীত।
‘ওলো, রেখে দে, সখী, রেখে দে - /মিছে কথা ভালবাসা। সুখের বেদনা, সোহাগযাতনা -/বুঝিতে পারি না ভাষা।’
মায়ার খেলার গান। আমার ভাল লাগে না। শৈলেনের আবার মায়ার খেলা খুব পচ্ছন্দের, সেই কারণেই গানটা রাখা। গানটা জোগাড় করে রিং টোনে লাগিয়ে শৈলেনকে শোনালাম। শৈলেন ভুরু কুঁচকে বলল, ‘তুমি মায়ার খেলার গান রাখলে কেন? তোমার তো মায়ার খেলা পছন্দের নয়!’
আমি হেসে বললাম, ‘তোমার ভাল লাগে তাই।’
শৈলেনও হাসল। বলল, ‘লাভ কী? আমি তো আর শুনতে পাব না। তোমাকে বাইরে থেকে ফোন করব।সীমা, তুমি বরং এমন ব্যবস্থা কর যাতে গানটা ভেতরে বাজে। আমি ফোন করতে করতে শুনব। আমার ভাল লাগবে।’
আমি গাঢ় গলায় বললাম, ‘না, তোমার ভাললাগাটা আমার কাছে থাকবে। তোমার ভাল লাগার থেকেও সেটা জরুরি।’
মোবাইলে ‘মায়ার খেলা’ বাজল। আমি তাড়াতাড়ি ফোন ধরলাম।
শৈলেন বলল, ‘আজ আমার ফিরতে রাত হতে পারে সীমা। তুমি খেয়ে নিও।’
আমার বুকের ভেতরটা ধড়াস করে উঠল। দেরি হবে! তাহলে শৈলেন কি আজ বাড়িতে খাবে না? মুহূর্তখানেক চুপ করে থেকে নিচু গলায় বললাম, ‘তুমি কি খেয়ে আসছো?’
‘না, বাড়ি গিয়ে খাব। আমি হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। বললাম, ‘ঠিক আছে। তোমার বুকের চিনচিনে ব্যথাটা কেমন আছে?’
শৈলেন হেসে বলল, ‘দূর, ওটা কিচ্ছু না। অম্বলের ব্যথা। কখন ভ্যানিস হয়ে গেছে।’
‘তাও তুমি ডাক্তার কে একটা ফোন করে নাও প্লিজ।’
‘ছাড়ও তো। ডাক্তার লাগবে না।’
এবার আমি রাগের ভান করলাম।
‘তুমি যতক্ষণ না ডাক্তারকে ফোন করবে ততক্ষণ আমি দু’মিনিট অন্তর অন্তর তোমাকে ফোন করে যাব।
আমার এই উদ্বেগে শৈলেন খুশি হল। সব স্বামীই চায়, তার শরীরের ছোটখাটো সমস্যা নিয়ে বউ উদ্বেগ দেখাক। বিষয় যতও তুচ্ছ হবে, উদ্বেগ তত ভাল লাগবে। তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করবে।
‘আচ্ছা, বিপদে ফেললে তো। ডাক্তারকে কী বলব?’
আমি বললাম, ‘কী আবার বলবে? বলবে, আজ লাঞ্চের পর বুকে একটা পেইন ফিল করছিলাম, কাল সকালে আপনাকে দেখাতে যাব। আপনি যদি মনে করেন, একটা ইসিজি করাব। নাও, এখনই ফোন কর। আমি কিন্তু ঠিক দশ মিনিট পরে ডাক্তারকে ফোন করে দেখব তুমি অ্যাপয়েনমেন্ট নিয়েছ কিনা।’
শৈলেন হেসে বলল, ‘ওরে বাবারে! করছি রে বাবা করছি। বিয়ে করে দেখছি বিরাট ঝামেলায় পড়লাম। বউয়ের জ্বালায় কাজকর্ম সব ডকে উঠল।’
ফোন ছেড়ে আমি সোফায় এলিয়ে পড়লাম। ঠিক দশ মিনিট পর আমি ডাক্তারকে ফোন করব। জানতে চাইব, শৈলেন তাকে ফোন করেছে কিনা। বুকের ব্যথার জন্য অ্যাপয়েনমেন্ট নিয়েছে কি? তারপর আমি রাগ দেখাব। বলব, ‘জানেন ডাক্তারবাবু, আমি কত করে বললাম, তুমি আজ অফিসে যেও না, ডাক্তারবাবুকে দেখিয়ে এসো। না শুনে অফিস চলে গেল। আমার একটা কথা যদি অ শোনে।’ ডাক্তারকে শৈলেনের ফোনটা করাটা খুব জরুরি। এটা আমার পক্ষে মোক্ষম একটা যুক্তি তৈরি করবে। অনেকটা অ্যালিবাইয়ের মতো। প্রমাণ হবে, শৈলেনের বুকে সকাল থেকেই সমস্যা চলছিল। রাতে তার হার্টফেল হঠাৎ হয়নি। সিমটম্ ছিল।
আসলে আমি শৈলেনকে খুন করবার জন্য যে বিষটা ব্যবহার করব সেটার কাজকর্ম বেশ মজার। জিনিসটার কাজ কারবার সব হার্টে। রক্তের সঙ্গে মিশে সটান নিজের লক্ষ্যে পৌঁছোয়। তারপর সেখানকার ধমনিগুলো এক এক করে আটকে দিতে থাকে। ডাক্তারি পরিভাষায় যাকে বলে ‘ব্লক’। রক্ত চলাচল বন্ধ হয়। ব্যাপারটা অনেকটা এরকম - আমি যেখানে পৌঁছেছি, সেখানে আর কারও আসার অধিকার নেই। হিংসুটে প্রেমিকার মতো। মজার না? দুপুরে শৈলেনের বুকে হালকা ব্যথা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, তাকে খুন করার জন্য আজকের দিনটাকে বেছে নিয়েছি। শৈলেনের বুকের ব্যথা কিছুই নয়, নিছকই অম্বল। কিন্তু ততক্ষণে আমার সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে, ব্যথাটা কাজে লাগাব। রাতে শৈলেনের খাবারে বিষ মেশাব। এই কারণেই দেরি করে ফিরবে বলায় চমকে উঠি। তবে বাড়িতে কি খাবে না? তাহলে বিষটা খাওয়াব কী করে? জলে মিশিয়ে খাওয়াতে সমস্যা হবে। এই বিষে একটা হালকা গন্ধ আছে। সব থেকে সুবিধে পুডিং জাতীয় কিছুর সঙ্গে মিশিয়ে দিলে। গন্ধ আলাদা করা যায়। আমি ঝুঁকি নেব না। শৈলেনের জন্য পুডিং-ই করব। রান্নার মাসি চলে গেলে দুধ জাল দেব। এই বিষের খবর অনেক কষ্টে জোগাড় করেছি। সংগ্রহও করেছি ঝামেলা করে। মানুষ মারার পক্ষে জিনিস চমৎকার। পাকস্থলিতে প্রায় যায় না বললেই চলে। গেলেও দ্রুত রক্তে মেশে। ফলে পোস্টমর্টেমে কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। শৈলেনের এই কেসটায় অবশ্য পোস্টমর্টেম হওয়ার ব্যাপার নেই, ডাক্তার কে দিয়ে আমি ডেথ সার্টিফিকেট লিখিয়ে নেব। উনি তো জেনেই যাচ্ছেন, শৈলেনের হার্টে সমস্যা হয়েছে। হার্টফেল নিয়ে সন্দেহ হওয়ার কথা নয়। খুনের পর ডাক্তার ম্যানেজ করাটা খুনির জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যদি মৃত্যুটাকে ‘স্বাভাবিক’ বলে মনে করেন, সবটা জলের মতো সরল হয়ে যায়। এই বিষের কারণে হার্টের কাজ পুরোপুরি থামতে মিনিট সাত আট সময় লাগে। শুনেছি, শেষ দিকের সময়টা খুব কষ্টের। শৈলেনের কষ্ট আমি চোখে দেখতে পারব না। ওই সময়টা আমি থাকব ছাদে। পাশের বাড়ির রজনী বাবু খাওয়া দাওয়ার পর অনেক রাত পর্যন্ত ছাদে পায়চারি করেন। বৃদ্ধ মানুষ। আমিও হাঁটব আমাদের ছাদে। ভদ্রলোকের সঙ্গে টুকটাক কথা হবে। এটা হবে আমার দ্বিতীয় অ্যালিবাই। শৈলেননের মৃত্যুর সময় আমি তার ধারে কাছে ছিলাম না। ঘটনাটা বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য গত তিন সপ্তাহ ধরে আমি মাঝেমধ্যে রাতের দিকে ছাদে এসে রজনী বাবুর সঙ্গে কথা বলছি। আজ যখন বলব, তখন শৈলেন নিচে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করবে। পরিকল্পনা কেমন?....................................................... রাত ১১ টায় শৈলেন ফিরলো , খাওয়া করে শুতে গেল।বেডরুমের দরজাটা ঠেলতেই শৈলেন কে দেখতে পেলাম। সে খাটের ওপর চিৎ হয়ে শুয়ে আছে। হাতের বইটা আধখোলা অবস্থায় খসে পড়েছে বুকের ওপর। ঠিক যেন ঘুমোচ্ছে। আমি পা টিপে টিপে বিছানার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। এটা নতুন কিছু নয়। বই হাতে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়া শৈলেনের স্বভাব। বিয়ের পর থেকে দেখছি। কিন্তু আজ অন্য দিনগুলোর মতো নয়। আমি জানি, আজ শৈলেন ঘুমোচ্ছে না। আমি আলতো করে বইটা সরিয়ে নিলাম। নাকের তলায় ডান হাতের চেটোটা পেতে দিলাম। নিঃশ্বাস কী পড়ছে? না পড়ছে না। মুখ তুলে দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকালাম। খাবার পর থেকে ধরলে প্রায় চল্লিশ-বিয়াল্লিশ মিনিট হয়ে গেছে। বিষ কাজ করার পক্ষে অনেক সময়।
আমি সোজা হয়ে দাঁড়ালাম। আমার পরপর সব ভাবা আছে। মাথা ঠাণ্ডা করে সেগুলো এখন করতে হবে। সবার প্রথমে আমি যে বাটিতে শৈলেন কে পুডিং খেতে দিয়েছিলাম সেটা ভাল করে ধোবো। শুধু বাটি নয়, পুডিং তৈরির কোনও প্রমাণই বাড়িতে থাকবে না। ইতিমধ্যেই বিষের শিশি আমি বাথরুমের প্যানে খালি করে ফ্ল্যাশ টেনে দিয়েছি। ধোয়াধুয়ির কাজ শেষ হলে ডাক্তার কে ফোন করব। ওকে আসতে বলব। তারপর ডাকব পাশের বাড়ির রজনী বাবুকে। । তবে আর একটু অপেক্ষা করতে হবে। এই ফাঁকে দরজা টেনে দিয়ে আর একবার ছাদে ঘুরে এলে কীরকম হয়? না থাক। কাজগুলো মাথা ঠাণ্ডা করে শেষ করি।
রাতে খাওয়ার পর আমি ছাদে গিয়ে হাঁটি। রোজ নয়, মাঝেমধ্যে হাঁটি। যেদিন শরীরটা আনচান করে সেদিন। অনেক সময় শরীর নয়, মনের জন্যও ছাদে হাঁটি। মনটা হয়তো কোনও কারণে বিক্ষিপ্ত, একটু খোলা আকাশের তলায় রইলাম। অবশ্যই খুব শীত বা বৃষ্টিতে এটা সম্ভব হয় না। আমাদের পাশের বাড়িতে থাকেন রজনী বাবু। বুড়ো মানুষ। উনিও রাতে খাওয়ার পর ছাদে ওঠেন। আমার সঙ্গে একটা দুটো কথা হয়। একেবারে সাধারণ কথা। উনি আবার আমাকে ঠাট্টা করে ‘বউমা’ ডাকেন। বুড়ো মানুষ, বেশ লাগে শুনতে।
‘কী বউমা, আজ রান্না কী হয়েছিল?’
‘বেশি কিছু নয়, মেসোমশাই, খুব সামান্য।’
‘সামান্যটাই কী শুনি।’
‘ডাল, তরকারি আর পুঁটি মাছের একটা ঝোল।’
‘ভেরি গুড। তা আমাদের শৈলেন বাবু রাতে ভাত খান? নাকি রুটি?’
‘ভাত। দুবেলা ভাত না হলে ওর আবার চলে না মেসোমশাই।’
‘বাঃ, তোমার কর্তাটি তো দেখছি একেবারে মাছে ভাতে বাঙালি হে। হা হা।’
শৈলেন রাতে আমার ছাদে ওঠা পছন্দ করে না। আবার স্বাস্থ্যের কারণে বারণও করতে পারে না। সে অবশ্য নিজে কখনও ছাদে ওঠে না। খাওয়া হলেই দুম করে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ে। আমি ফিরে এসে দেখি কোনওদিন বই পড়ছে। কোনওদিন ঘুমের ভান করে মটকা মেরে পড়ে আছে। আলো নেভালেই ঝাঁপিয়ে পড়ে।
আজও আমি ছাদে ছিলাম। অন্য দিনের থেকে বেশি সময়ই ছিলাম। কিন্তু রজনীবাবুকে দেখলাম না। মনটা খচ্ খচ্ করছিল। আর রজনীবাবুর সঙ্গে দেখা হওয়াটা জরুরি ছিল। যদি প্রশ্ন ওঠে পুলিশকে বলতে পারবেন, ঘটনার সময় আমি তার সঙ্গে গল্প করছিলাম। গল্পের বিষয় ছিল পুঁটি মাছের ঝোল। এখন কি একবার ট্রাই নেব? কোনও কারণে হয়তো ভদ্রলোক আজ দেরি করে ডিনার করেছেন। এবার গেলে দেখা হয়ে যেতে পারে। আমি ঘরের আলো নেভানোর আগে, আবার গিয়ে শৈলেনের বুকের ওপর আলতো করে হাত রাখলাম। না, ধুকপুকুনি নেই। আলো নিভিয়ে, পায়ের কাছে ভাঁজ করে রাখা চাদরটা গায়ে দিয়ে দিলাম।
.......................................................................................
অন্ধকার ঘরে মৃত শৈলেন কে রেখে আমি এখন দরজার দিকে পা বাড়াচ্ছি।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • সালমা সিদ্দিকা
    সালমা সিদ্দিকা গল্পটা শেষ পর্যন্ত আমাকে ধরে রেখেছে রেখেছে , থ্রিলার টাইপ গল্প আমার ভালো লাগে। তবে শেষে মনে হলো আরো কিছু বাকি ছিলো। লেখনী চমৎকার। আরো গল্পের অপেক্ষায়।
    প্রত্যুত্তর . ১৮ সেপ্টেম্বর
  • সাদিয়া সুলতানা
    সাদিয়া সুলতানা গল্পটা চমকপ্রদ। ভালো লেগেছে। অাকর্ষণ ছিল। যদিও শেষটা অান্দাজ করতে পেরেছি তবু একটানে পড়েছি।
    প্রত্যুত্তর . ২৬ সেপ্টেম্বর
  • মোঃ নুরেআলম সিদ্দিকী
    মোঃ নুরেআলম সিদ্দিকী গল্পটা দারুণ হয়েছে, তবে আমার বুকের ভেতরটা ধড়াস করে উঠল। দেরি হবে! তাহলে শৈলেন কি আজ বাড়িতে খাবে না? মুহূর্তখানেক চুপ করে থেকে নিচু গলায় বললাম, ‘তুমি কি খেয়ে আসছো?’
    ‘না, বাড়ি গিয়ে খাব। এখানে কিছু এলোমেলো করে ফেলেছেন..... ভোট সহ শুভকামনা রইল....
    প্রত্যুত্তর . ২৬ সেপ্টেম্বর