বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৩০ ডিসেম্বর ১৯৯৫
গল্প/কবিতা: ৫টি

সমন্বিত স্কোর

৩.১৬

বিচারক স্কোরঃ ১.৬৬ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৫ / ৩.০

অপেক্ষা

আঁধার অক্টোবর ২০১৭

হিংসুটে প্রেমিকা

ভৌতিক সেপ্টেম্বর ২০১৭

কামনার সাতরং

কামনা আগস্ট ২০১৭

গল্প - পার্থিব (জুন ২০১৭)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.১৬ অপ্রত্যাশিত

শৈলেন রায়
comment ৬  favorite ০  import_contacts ৯৬
সময়ের সাথে সব কিছু আস্তে আস্তে সব সম্পর্ক গুলোর রং পরিবর্তন হতে থাকে ! যাকে ছাড়া একদিনও বাঁচবো না এমন মনে হত আগে, সময় যাওয়ার সাথে সাথে তার চেহারাটা কেমন ঝাঁপসা হয়ে আসে ।
আজকে হঠাৎ তার দেওয়া ডায়েরি টা চোখে না পড়লে তার কথা মনেই হত না কিন্তু একটা সময় ছিল কেবল এই দিন নয়, বছরের পুরোটা দিন জুড়ে কেবল সে ই ছিল ! তাকে ছাড়া একটা নিঃশ্বাসও যেন নিতে পারতাম না ! আর আজকে ?
ডায়েরি টা তার কথা মনে করিয়ে দিল ?
কার কথা বলছি ?
বলছি আমার প্রথম প্রেমিকার কথা ! আমার জীবনের প্রথম মেয়েটির কথা যার প্রেমে পড়েছিলাম আশ্চার্য ভাবে প্রথম দেখাতেই ! প্রথম দেখাতে প্রেম যাকে বলে !
সোমা !
সোমা রহমান ! আমার তিন বছরের ছোট, আমার জীবনের প্রথম প্রেম ! আজকে এসেছি তার গল্প করার জন্য !
বানিয়ে বানিয়ে গল্প লিখি বলে দয়া করে এটাও মনে করবেন না যে এইটাও বানানো গল্প !
আমার সেই দিনের কথা এখনও মনে আছে । শনিবার, ৬ এপ্রিল, ২০১১ সাল ! আমার ইন্টার 1st ইয়ার পরীক্ষা চলছে, পরীক্ষা দিয়ে মেসে ফিরছি রাস্তায় হঠাৎ ওর সাথে দেখা চিকন গলির রাস্তা ধরে পাশাপশি হাটছি ! দুজন দুজনকে চিনতাম but কোনদিন কথা বলিনি,
আমার মেস ও তার বাসা পাশাপাশি ছিল, মেসের গেটের কাছেই আসতেই ও বলল তোমাকে আমার ভালো লাগে। আমি তো অবাক ! বিশ্বাস করুন আমার কথা একেবারে বন্দ হয়ে গেয়েছিল,
আমি জানি না, আমার বুকের মাঝে কি হল ! কেবল লক্ষ্য করলাম আমার অন্য রকম একটা অনুভুতি হচ্ছে ! বুকটা একটু যেন বেশি জোরে কাঁপছে ! এই অনুভুতি আমার কাছে নতুন ছিল !
ছোট বেলা থেকেই আমি মেয়েদের দিকে একদম তাকাতাম না, কথা তো দুরে থাকুক !
কিন্তু মেয়েটার দিক থেকে চোখ সরাতে পারলাম না !
তার কয়েক দিন পরে মেয়েটির সাথে আমার মুখোমুখি দেখা হয়ে গেল ! একদম মুখোমুখি ! আমি যে স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়তাম সেও সেখানে পড়ত ! দেখা হল সেদিন বৃষ্টি হচ্ছিল ! স্যারের বাসায় দরজার কাছে গিয়েছি ঠিক তখনই মেয়েটা এসে হাজির ! একদম মুখোমুখি ! সে কিছুক্ষন চেয়ে রইলো আমি কিছুক্ষন ! সে সেদিন বাদামী রংয়ের কামিজ আর বাদামী ল্যাগিংস পরেছিল ! চুল গুলো একটু যেন ভেজা ভেজা ছিল !
অনেক দ্বিধা দ্বন্দ্ব কাটিয়ে দিলাম প্রেমের প্রস্তাব !
স্যার তখন আসেনি ! একটা কাগজ লিখে পাঠালাম ! আমি তো ধরেই নিয়েছিলাম যে উত্তর হ্যা আসছে কিন্তু উত্তর এল “না” !
তার বান্ধবী টেনে টেনে বলতে লাগলো “দেখো এখন ও এই সব কোন সম্পর্কে জড়াতে চাচ্ছে না” !
আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম !
ছুটির সময় যখন সাইকেল স্ট্যান্ডে সাইকেল নিতে যাবো দেখি সোমা তার বান্ধবী সহ এসে হাজির ! বলতে গেলে এই প্রথম সে আমার মুখোমুখি হল ! আমি চলে যেতে চাইলে আমার সাইকেল আটকে দাড়ালো !
আমার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে বলল
-তুমি রাগ করেছ !
আমার তখন মনে হয়েছিল না রাগ করবো কেন ? আমি তো অনেক খুশি হয়েছি ফাজিল মেয়ে !

কিছু বলললাম না !
সে বলল পহেলা বৈশাখের দিন বিকেলে তারা পার্কে বেড়াতে যাবে ! আমি যেন পার্কে দেখা করি !
পহেলা বৈশাখের দিন ওরা চার বান্ধবী আমাদের মেসের সামন দিয়ে রিক্সা করে পার্কে গেল ,আমি তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে আর একটা রিক্সা নিয়ে ওদের পিছু নিলাম ! পার্কে যাওয়ার পর সোমা একটু দুরে আমাকে ডেকে নিয়ে গেল ! আমি চুপ করে ছিলাম । কি বলবো ঠিক বুঝতে পারছিলাম না ! সোমা বলল
-আমাকে কিছু বলতে চাও না ?
-না !
-তোমার কিছু বলার নেই ?
-আছে তো !
-তাহলে বল না কেন ?
-মুখে কিভাবে বলবো ? লিখে দেই ?
শুনতে হাস্যকর হলেও সেদিন এই কথাটাই বলেছিলাম !
তারপর কাগজে লিখলাম
ডু ইউ লাভ মি ? ইয়েস / নো !
সে আমার হাত থেকে কলম টা নিয়ে ইয়েস এ টিক দিয়ে নো টা কেটে দিল !
পুরাই মাল্টিপল চয়েজ প্রোপোজ !
তারপর ও মাথার খোপা থেকে ছোট একটা সাদা ফুল আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বান্ধবীদের কাছে গেল !
তখন মনের ভিতর কি পরিমান আনন্দ হচ্ছিল বলে বোঝানো যাবে না !
যখন রুমে ফিরে এলাম তখন আমি যেন অন্য জগতে ছিলাম !
এর পরেই আমার অন্য রকম একটা জীবন শুরু হল ! সোমার সাথে মোট ১৪ মাস রিলেশন ছিল ! বলতে কোন বাঁধা নেই কোন দ্বিধা নেই ১৪ টি মাসের প্রতিদিনই আমি আমি কাটিয়েছি অন্য এক জগতে ! জীবনে অন্য রকম একটা আনন্দময় সময় ছিল সেটা !
ওকে চিঠি লিখতাম খুব বেশি ! এত্তবড় বড় সব চিঠি ! সোমাও লিখত ! তখন আমাদের মোবাইল ছিল না ।
ওকে নিয়ে সাইকেল ভ্রমনে যেতাম প্রায়ই ! দুইজনের বিকালের প্রাইভেট কামাই দিয়ে চলে যেতাম যেদিকে চোখ যায় !
মাঝে মাঝে এমনও হয়েছে আমাদের দেখাই হয় নি ! ও আমাকে এক জায়গায় দাড়াতে বলেছে আমি বুঝি নি, দাড়িয়ে রয়েছি অন্য জায়গায় ! ও রাগ করে আছে আমিও রাগ করে আছি !
এরকম কত স্মৃতি যে আমাদের রয়েছে । কতদিন হয়ে গেল তবুও যেন চোখের সামনে যেন সব ভাসে !
ওর সাথে সম্পর্কের পুরোটা সময়ে আমি আসলেই অন্য এক জগতে ছিলাম ! ছোট ছোট অনেক ঘটনা ইচ্ছে করলে বর্ণনা করা যায় তাহলে আজকে আর শেষ হবে না !
একটা সময় নিজেদের ভুলের কারনে সম্পর্কটা নষ্ট হয়ে যায় ! দোষ ছিল দুজনেরই ! কারও বেশি কারও কম ! কে বেশি দোষী ছিল সেটা আজকে আর নাই বলি !
সেই কবেকার কথা ! প্রথম প্রেম ছিল, কোন চিন্তা ভাবনা ছিল না কেবল আবেগ ছিল ! আজও আছে মনের কোথাও ! আজও তাকে মনে পড়ে !
হয়তো আজকে আমাকে আর আগের মত মনে পড়ে না ! মনের গভীরে কোথাও আমার স্মৃতি গুলো ফেলে রেখেছো অবহেলায় ! তবে এই টুকু নিশ্চিত জানি আমাকে তুমি মনে রেখেছো ! মনের কোথাও না কোথাও আমার কথা কোন এক বিষন্ন বিকেলে ঠিকই মনে পড়ে তোমার ! যেমন টি আমার মনে পড়ে !
সবার শেষে তার কয়েকটা লাইন দিয়ে শেষ করি ! সে একটা চিঠিতে আমাকে লিখেছিল !
When I will Die,
Come to my grave
No Cry, No pray
On just Say “I love you”
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন