বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৮২
গল্প/কবিতা: ৫টি

সমন্বিত স্কোর

৪.৬২

বিচারক স্কোরঃ ২.২২ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.৪ / ৩.০

আঁধারের আতঙ্ক

আঁধার অক্টোবর ২০১৭

অদ্ভুত ভূত

ভৌতিক সেপ্টেম্বর ২০১৭

লালসা

ঋণ জুলাই ২০১৭

গল্প - পার্থিব (জুন ২০১৭)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.৬২ রিক্সা চালাই আমি রিক্সাওয়ালা

অমিতাভ সাহা
comment ৮  favorite ১  import_contacts ১৪৪
বর্ষাকাল। কদিন ধরে এক নাগাড়ে বৃষ্টি পড়ছে। আজও ভোরবেলা থেকেই ঝিরিঝিরি বৃষ্টি আর সিরসিরানি হাওয়া। সকাল সকাল বাড়ি থেকে বেরিয়েছি রিক্সা নিয়ে। রাস্তাঘাটে প্যাঁচপ্যাঁচে কাদা। লোকজন নেই। শুধু আমনের ক্ষেতে কিছু চাষি ছাতা মাথায় রোপা করতে ব্যস্ত। চাষি বউরা শশাক্ষেতে জাংলি থেকে শশা তুলছে। আমি কাছে গিয়ে বললাম “বউঠান! একখান শশা দাও দিকি”।

বলল “না ভাই, মাগনায় দিতে পারব না। তোমার দাদা মানা করেছে”।

অনেক করে বলার পর একটা শশা দিল। রিক্সার সিটের তলায় রেখে বাজারের দিকে রওনা হলাম। পথে এক স্যুটবুট পরা বাবু ছাতা নিয়ে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমায় ডেকে রিক্সার সামনের পলিথিন সরিয়ে সীটে বসলেন। পলিথিনটা অনেক দিনের পুরনো, মাঝে মাঝে ফুটো হয়ে গেছে। আমি ওনাকে ভালো করে ঢেকে দিতে গেলাম, উনি বললেন “অ্যা! কি রে! ভিজে যাব যে!”
আমি বললাম “ভিজবেন না বাবু। বৃষ্টি হাল্কা আছে তো”।
রাস্তায় যেতে যেতে রিক্সার চেনটা পড়ে গেল। চেনটা তুলতে গেলাম। উনি বিরক্ত হয়ে “নিকুচি করেছে তোর রিক্সা” বলে দশ টাকা ফেলে দিয়ে চলে গেলেন।

এরকম আগেও হয়েছে। চেনটা আর ঠিক না করালেই নয়। সাইকেলের দোকানে চেনটা ঠিক করাতে পাঁচ টাকা নিয়ে নিল। তারপর বাজারের সামনে গিয়ে আমাদের রিক্সা স্ট্যান্ডে দাঁড়ালাম। চেনটা ঠিক করাতে গিয়ে দেরি হয়ে গেল। রিক্সার লাইনে পিছনে পড়ে গেলাম। এখন আগের রিক্সাগুলো ভাড়া না হওয়া পর্যন্ত আমার ভাড়া হবে না। বৃষ্টির দিনে এমনিতেই লোকজন কম। দু-চারজন আসছে সাইকেলে না হয় মোটর সাইকেলে। তার উপর টোটো গাড়ির রমরমা হওয়াতে কেউ আর রিক্সায় উঠতে চায় না। বসে থাকতে থাকতে বেলা দশটা বেজে গেল। খিদের জ্বালায় পেট চোঁ চোঁ করছিল। চায়ের দোকান থেকে দু’টাকার মুড়ি কিনে এনে শশা দিয়ে খেলাম।

মনে পড়ল সকালে বাড়ি থেকে বেরনোর সময় বউ বলে দিয়েছিল আজ বাজার নিয়ে বাড়ি ঢুকতে। দু’দিন হল চাল নেই। কাল পড়শির কাছে চাইতে গিয়ে অনেক গঞ্জনা শুনতে হয়েছে। তাই আজ আর চাইতে পারবে না। বাড়ির পেছনে পেঁপে গাছে কটা পেঁপে ধরেছে। আর সেদিন পুরুত ঠাকুরের কাছে পয়সা ছিল না বলে যজমানের বাড়ি থেকে আনা ক’টা আলু-পটল দিয়েছিল বলে রক্ষে। আজ যেমন করেই হোক গোটা চল্লিশটা টাকা জোগাড় করতেই হবে। না হলে কপালে ভাত জুটবে না। এমনি ভাবছি এমন সময় এক দাদু এসে বললেনঃ “বকুলতলা যাবি?”
বললামঃ “চলো”।
উনি বললেনঃ “ভাড়া কিন্তু দশ টাকা পাবি”।
আমি বললামঃ “কি যে বলেন দাদু! বকুলতলা কি এখানে আছে। পনের টাকার কমে যাওয়া যাবে না”।

বলতেই উনি মুখ ফিরিয়ে চলে যেতে লাগলেন। দেখলাম আজকের বাজার খুবই খারাপ। কম দিলেও ভাড়াটা ছাড়া ঠিক হবে না। দাদুকে বকুলতলা নামিয়ে দিয়ে ফিরছি, এমন সময় দেখি একটা গাড়ি মাইকিং করতে করতে যাচ্ছে-“দশ টাকায় এক লক্ষ টাকা পুরস্কার। আর মাত্র ক’টা টিকিট। কালকেই খেলা। এগিয়ে আসুন। নিজের ভাগ্যকে একবার পরীক্ষা করে দেখুন”।
কিছু লোক গাড়ির সামনে গিয়ে ভিড় করল। তাদের দেখাদেখি আমিও এগিয়ে গেলাম। গাড়ির ভেতরে ভদ্রলোক মাইক বন্ধ করে কাস্টমারদের টিকিট দেখাতে লাগলেন। ফাইল থেকে একটা ছবি বের করে সবাইকে দেখিয়ে বললেন “ইনি আমার টিকিটে গত মাসে পঞ্চাশ হাজার টাকা জিতেছেন”। দেখলাম এক ভ্যানওয়ালা ভ্যানের উপর দাঁড়িয়ে একটা কাগজ হাতে দাঁত বের করে হাসছে। আমার ভাগ্যেও যদি এমন হত! একবারে এতগুলো টাকা হাতে পেলে কপালটাই পালটে যেত। রোজরোজ আর রিক্সা চালাতে হত না। ছোটখাটো একটা মুদিখানার দোকান দিতে পারতাম। যাই কামাই হোক, দু’বেলা ভাতের চিন্তা থাকত না। বউটাকেও বিড়ি বাঁধতে হত না। লোভের ফাঁদে পা দিয়ে একটা লটারির টিকিট কেটে ফেললাম। এর আগেও কয়েকবার কেটেছি কিন্তু কোনবার দশটা টাকাও পাইনি।

বাজার আমার লাটে উঠল। লুঙ্গির কোঁচে দেখি মাত্র তিন টাকা পড়ে আছে। আজ আর প্যাসেঞ্জার পাব বলে মনে হচ্ছে না। বেলা বাজে বারোটা। এখন কি করি। কোত্থেকে এক মাতাল এসে হুট করে রিক্সায় উঠে পড়ল। দেখলাম গায়ের জামার বোতাম ছেঁড়া, মাথা সমানে টলাচ্ছে আর মুখ থেকে মদের গন্ধ। বললাম- “নাম রিক্সা থেকে”।
জড়ানো গলায় বলে উঠল “কেন নামব। তোর বাবার রিক্সা নাকি!”
আমি হাত ধরে টেনে নামাতে গেলে আমার কলার ধরে বসল। আমি রেগে গিয়ে দিলাম এক ঘুষি। রাস্তার উপর চিৎপটাং হয়ে গেল। দেখলাম এখানে থাকলেই বিপদ। লোকজন দেখলে আমাকেই ধোলাই দেবে। অমনি রিকশা নিয়ে চম্পট দিলাম। রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে দেখি কতগুলো ছেলে ছিপ নিয়ে পানাপুকুরের ধারে বসে আছে। ক’দিনের টানা বৃষ্টিতে পুকুর উপচে পড়ছে। এই সময় ভালো মাছ ওঠে। ভাবলাম ওদের কাছে গিয়ে দেখি যদি কিছু পাওয়া যায়। গিয়ে দেখি আমাদের বনবাংলোর সাহেবের ছেলে বাবুসোনা। বছর আষ্টেক বয়স। শিশু মালঞ্চ ইস্কুলে পড়ে। ইস্কুলের গাড়ি না এলে আমি কোন কোনদিন ওকে ইস্কুলে দিয়ে আসি। আমি বললামঃ-“বাবুসোনা! তুমি এখানে কি করছ! তুমি মাছ ধরতে পার?”

বাবুসোনাঃ-“আমি পারিনা কাকু। আমার বন্ধু রূপম অনেক দিন থেকেই বলছিল মাছ ধরতে যাওয়ার কথা। আজকে ইস্কুলে এসে দেখি বৃষ্টির জন্য ইস্কুল ছুটি। তাই রূপম আর ছাড়ল না। বলল, আমরা মাছ ধরতে যাচ্ছি। তুইও আমাদের সাথে চল”।

আমি বললামঃ-“তুমি বৃষ্টিতে ভিজো না বাবু। তোমার না ঠাণ্ডার ধাত! মা জানতে পারলে রাগ করবেন। তুমি আমার রিক্সায় গিয়ে বোসো। ছিপটা আমায় দাও। দেখি আমি কিছু পাই কিনা”।
বাবুসোনার কাছে ছিপ নিয়ে ঘণ্টা দেড়েক বসে থাকলাম। কেঁচো বড়শিতে গেঁথে জলে ফেলতে লাগলাম। ক’টা সাটি, কৈ আর চ্যাং মাছ উঠল। ৪০০-৪৫০ গ্রাম হবে।

বেলা গড়িয়ে বিকেল। বাবুসোনাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে মাছওয়ালার কাছে গেলাম। মাছওয়ালা চল্লিশ টাকার বেশি দিতে রাজি হল না। তাই দিয়ে দু কিলো মোটা চাল, দুটো বেগুন আর একশ সরষের তেল কিনলাম। বাড়ি ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা। দেখলাম বউ তুলসির থানে সন্ধ্যাপ্রদীপ দিচ্ছে। আমি ঘরে গিয়ে বাজারটা রেখে কলপাড় থেকে হাত-পা ধুয়ে এলাম। বউ লম্ফ নিয়ে এসে বাজারটা নিয়ে গেল রান্নাঘরে। বললাম “দুটো মুড়ি থাকলে দাও। সারাদিন না খেয়ে আছি”। বউ বাটিতে করে শুকনো মুড়ি দিয়ে গেল। মুড়িগুলো বাতাস লেগে কেমন যেন মিইয়ে গেছে। বিছানায় বসে মুড়ি খাচ্ছি। হঠাৎ দেখি বৃষ্টির জোর বেড়ে গেল। টিনের চালে বৃষ্টি পড়লে সহজেই বোঝা যায়। কিছুক্ষণ পরেই দেখি গায়ে জল পড়ছে। টিনের চালের জং ধরা জায়গাটা বৃষ্টির তোড়ে ফুটো হয়ে গেছে। কি আপদ! বিছানাটা ঘরের এক কোণায় সরিয়ে নিয়ে গেলাম। বউ একটু পরে এসে বলল “এভাবে আর কত দিন। রান্নাঘরেও জল পড়ছে”। বুঝতে পারছি না কি করব। দিন আনি দিন খাই। বর্ষার আগে একশ দিনের কাজ করেছিলাম পঞ্চায়েতে। সেই টাকা আজ আসছে কাল আসছে করে এখনও পাইনি। মহাজনের কাছে ধার নিতে গেলে মাসে দশ টাকা হারে সুদ দিতে হবে তার উপর মর্টগেজ। ঐ ধার শোধ করতে দম বেরিয়ে যাবে। বউ সমিতিতে বিড়ি বেঁধে যে কটা টাকা পায় তাতে সময়-অসময়ে চলে যায়।


রাতে খাওয়ার পর আলো নিভিয়ে শুয়ে পড়লাম। রান্নাঘর, শোবার ঘর দুটোই মেরামত করতে হবে। নাহলে এই বর্ষা পার করা কঠিন। কোন সঞ্চয়ও তো হাতে নেই। ভগবান যদি কোন ম্যাজিক করে ভাগ্যের চাকাটা একবার ঘুরিয়ে দিতেন! কতলোকে তো লটারি পায় শুনি। শুধু ভাগ্যের ভরসাতেও তো আর বসে থাকা যায় না। এবার জন্মাষ্টমীর মেলায় পাঁপড়ের দোকান দেব ভাবছি। হরেনদার কাছ থেকে স্টোভটা ভাড়া নিতে হবে। আর রেশনের জমানো কেরোসিন তো আছেই। গতবারের মেলায় দুদিনেই শ’দুয়েক টাকা কামিয়েছিলাম। এ বার বউকেও সাথে হেল্পার নিয়ে নেব। পাঁপড়ের সঙ্গে চপও জুড়ে দেব। ভাবতে ভাবতে ঘুমে চোখ জড়িয়ে এল।

সকালবেলা একখানা বড় মোটরগাড়ি বাড়ির সামনে এসে হাজির। গাড়ি থেকে স্যুট বুট পরা এক বাবু বেরিয়ে এলেন আর পাশের দু’এক জন লোকের কাছে আমার নাম বলে কি যেন জিজ্ঞেস করতে লাগলেন। আমি এগিয়ে গিয়ে বললামঃ-“কি দরকার বাবু!”
উনি বললেনঃ-“তুমি লটারির টিকিট কেটেছিলে? দেখি তোমার টিকিটখানা”।
আমি ঘরে গিয়ে জামার পকেট থেকে টিকিটটা এনে দেখালাম। উনি একবার চোখ বুলিয়েই আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। বললেনঃ-“এই তো পেয়ে গেছি। আমাদের বিজেতা। আপনি লটারির টিকিটে এক লক্ষ টাকা জিতেছেন”।

শুনে আমার মাথা ঘুরে গেল। বউ পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। আনন্দে হাততালি দিয়ে উঠল। বলল, এতদিনে তুমি একটা কাজের কাজ করেছ। আমিও ভাবলাম, ভগবান এতদিনে আমার দিকে মুখ তুলে চেয়েছেন। ভদ্রলোক বললেনঃ-“আপনি চলুন আমাদের অফিসে। আমাদের বড় সাহেব আপনার জন্য অপেক্ষা করছেন। উনি আপনাকে সংবর্ধনা জানিয়ে আপনার হাতে চেক তুলে দেবেন”।

আনন্দে মনটা নেচে উঠল। বললামঃ-“চলুন”। বউ পাশ থেকে বলল “এরকম লুঙ্গি পরে যাবে নাকি। ট্রাঙ্কে একটা ফুল প্যান্ট আছে দেখো”।

আমি পাশের ঘরে গিয়ে ফুল প্যান্ট পরে এলাম। লোকগুলো আমাকে গাড়িতে নিয়ে গিয়ে বসালেন। বাপের জন্মে কোনদিন মোটরগাড়িতে উঠিনি। গাড়ি সাঁ সাঁ করে ছুটতে লাগল। কিছুক্ষন পরে একটা প্রকাণ্ড বিল্ডিংয়ের সামনে এসে গাড়ি থামল। ভদ্রলোক গাড়ি থেকে নেমে আমাকে বললেন “আসুন”। তারপর ভেতরে ঢুকে লিফটে করে তিন তলায় নিয়ে গেলেন। সেখানে কাঁচের দরজা ঠেলে এক ঝাঁ চকচকে ঘরে এসে ঢুকলাম। দেখলাম, এক মস্ত গোল টেবিলে অনেকগুলো ভদ্রলোক বসে আছেন। আমাকে দেখতেই তারা হাততালি দিয়ে উঠলেন। খুশিতে চোখে জল এসে গেল। এত সম্মান আগে কখনো পাইনি। একজন মোটা মত ভদ্রলোক আমার দিকে এগিয়ে এলেন। বললেনঃ-“আমি এই কোম্পানির এম.ডি.। আপনাকে পুরস্কার দিতে পেরে আমরা সবাই খুব খুশি। আপনি দয়া করে স্টেজে আসুন”।

আমি স্টেজে গেলাম আর উনি আমার হাতে এক লক্ষ টাকার চেক তুলে দিলেন। সাংবাদিকেরা সব খচাখচ ছবি তুলতে লাগল। ওনারা আমাকে কিছু বলার জন্য অনুরোধ করলেন। আমি মাইকের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। বলতে শুরু করলামঃ-“ভাইসব! আমাদের এই সমাজ অতি জঘন্য পর্যায়ে চলে গেছে। সব সুযোগ-সুবিধা বড়লোকের জন্য। গরিবের জন্য কিছুই নেই। বড়লোকেরা টাকার পাহাড় বানাচ্ছে কাদের পরিশ্রমে? আমাদের মত গরিব লোকের রক্ত জল করা পরিশ্রমে। দু’বেলার খাবার জোগাড় করতে আমাদের কালঘাম ছুটে যাচ্ছে। আমরা না খেয়ে মরছি আর বড়লোকের খাবার বাড়তি হয়ে যাচ্ছে। তারা খাবার ফেলে দিচ্ছে। কেন? কেন এরকম হচ্ছে? আমাদের পায়ে এক জোড়া স্যান্ডেল নেই আর ওরা দামি এয়ার কন্ডিশন গাড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ইচ্ছে করছে চাবুক মেরে বড়লোকের চামড়া আমি তুলে নেই”।

উপস্থিত ভদ্রলোকেরা একটু বিব্রত বোধ করলেন। কেউ কেউ পকেট থেকে রুমাল বের করে ঘাম মুছতে লাগলেন। আমি ভাবলাম আর বেশি বলব না। উপস্থিত সবাইকে পুরস্কার দেবার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে স্টেজ থেকে নেমে চেয়ারে এসে বসলাম। বসার সাথে সাথে চেয়ারটা বোঁ করে বার কয়েক ঘুরে গেল। রিভলভিং চেয়ারে কোনদিন বসিনি। পরিস্থিতি সামলে নেবার জন্য একটু দেঁতো হাসি হাসলাম। একজন বেয়ারা আমার কাছে এসে জিগ্যেস করল “স্যার! চা আনব না কফি?” কফি কোনদিন খাইনি। তাই বললাম “কফি! কফি!”
মনে হল কেউ আমার গা ধরে ঝাঁকাচ্ছে। আমি বিরক্ত হয়ে বললাম “বললাম তো কফি!” হঠাৎ চোখ মেলে দেখি বউ বলছে, “কত বেলা হয়ে গেল। তখন থেকে কি যা তা বলছ। আজ কাজে যেতে হবে না না?”

এই পার্থিব জীবনের দৈনিক রোজনামচা থেকে বেরিয়ে আসার উপায় নেই।

অলৌকিক কিছু ঘটেও না এ পোড়া কপালে!
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন