বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৭ ফেব্রুয়ারী ১৯৯৪
গল্প/কবিতা: ১টি

সমন্বিত স্কোর

৩.১১

বিচারক স্কোরঃ ১.৪ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৭১ / ৩.০

গল্প - নগ্নতা (মে ২০১৭)

মোট ভোট ২০ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.১১ নগ্নতা

ইফতেখার আহমেদ
comment ৮  favorite ০  import_contacts ২১৫
- সামনের গলিটা পার করো।
- যদি কেউ...
সে কথা শেষ করতে পারে না।
- কিছু হবে না। দুজন ধরাধরি করে সামনে এগোয়।
.
.
৭দিন আগের ঘটনা। একটা মদের বোতল হাতে নিয়ে পুরনো এক দালানের বারান্দায় একটানা মদ সাবাড় করে যাচ্ছে সজল। পার্টির জন্যে অপেক্ষা করছে সে। বাইরে ঝড় চলছে;সাথে বৃষ্টি। মনে হয় না এমন সময়ে পার্টি আসবে বলে। তাই পার্টির অপেক্ষা না করেই একটানা গিলে যাচ্ছে।
হঠাৎই হর্ণ দিয়ে একটা গাড়ি থামলো। সজলের হুশ ফিরে। কিন্তু এমন মাতাল অবস্থায় সামনে যাওয়াও তো যায় না। গাড়ির দরজা খুলেই এক নারীকণ্ঠের বিরক্তির আভাষ পাওয়া গেল। সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই সজলের,আপাতত তাল রাখার চেষ্টায় সে। অস্পষ্ট হলেও বিদ্যুতের ঝলকানিতে দেখা যায় দুজন এক ছাতায় মাথা নিচু করে বারান্দার দিকে আসছে। দূর থেকে হাতের ইশারায় সজল বুঝালো,ভেতরে সবকিছুর ব্যবস্থা হয়ে আছে।
ভেতরে প্রবেশ করে দরজা লাগিয়ে দিল তারা।
সজল ভাবছে আর খাবে কিনা ; নেশাটা আধা অবস্থায় ঝুলে আছে গলার কাছে। তবুও সংবরণ করেই থাকলো যতক্ষণ না তারা কাজ করে বেরোয়। হয়ত কাজ শুরু হয়ে গেছে। ভিতরের কিছুই শুনতে পাচ্ছে না সে বাইরের বিদ্যুৎ ঝলকানির শব্দে। সজল নেশাতুর দেহে ঝিমিয়ে যাচ্ছে।
.
পোনে একঘণ্টা পর বেরোলো তারা। সজলও ধাতস্থ হবার প্রস্তুতি নিচ্ছে। হাসি-হাসি এক নারী কণ্ঠ ভেসে এলো। হাসির শব্দে কিনারায় বসে থাকা সজলের হুশ ফিরলো যেন। এ হাসি তো চেনা তার,অনেকদিনের পরিচিত। কৌতূহলের বশেই সে দরজার দিকে তাকায়। আলোর ঝলকানিতে যতটুকু দেখা যায় ততটুকু দেখেই সে একদৃষ্টিতে চেয়ে থাকে। এই কি সেই মুখ! হ্যাঁ,সেই মুখ। সেই চুল, সেই দেহ। অথচ আজ যেন নতুন রূপে দেখছে; যাকে সে চিনতো এক অন্য মানুষ হিসেবে। আজ তো অন্যকিছুই প্রকাশ পাচ্ছে; মানুষরূপী প্রতারক,ভালোর মুখোশ পড়া ভেতরের নগ্নতা। হাতে নেওয়া টাকা দেওয়ার ভঙ্গিতে এদিকে ফিরলো সে। হঠাৎ সজলের সাথে চোখাচোখি হয় । সেও চিনতে পারে। অবাক আর ভয়ের ছাপ বেশ ভালোভাবেই বুঝতে পারছে সজল। হাতে থাকা টাকা ফেলে, ফোনে কথা বলা তার সঙ্গীকে দ্রুত প্রস্থান করার জন্যে তাগাদা দেয় সে। তারপর চলেও যায়।

এখনো ভেবে পাচ্ছে না,সত্যি দেখলো কিনা। ভেবেছিল সে ই ঠিক ছিল,এখন আবার সেই পুরনো স্মৃতি সামনে ভেসে ওঠে সজলের-

ঢাকার এক ব্যস্ত রাস্তা। এক গাছে ভর দিয়ে আছে সজল। তার মুখে রাগ,দুঃখ - কোনোকিছুরই আভাষ পাওয়া যাচ্ছে না: চোখের ব্যাপ্তি শুধু সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নীরার দিকে। নীরার জবাব আসে,
- তোমাকে বিট্রে করার আমার কোনোই ইচ্ছে ছিল না। তুমি নিজ থেকেই আমাকে বিট্রে করেছো। এবং তোমাকে তা এডমিট করতে হবে। - দ্বিধাহীনভাবে বলে গেল সে।
- সেদিন গাড়ি থেকে দেখলাম বারিধারার রাস্তায় তুমি রিকশা নিয়ে চলে যাচ্ছিলে। সন্দেহ হওয়ায় পিছু পিছু গেলাম, দেখলাম নোংরা এক এলাকায় ঢুকে রিকশার ভাড়া মিটাচ্ছো। সামনে এগিয়ে দেখি, গ্রিমি(Grimy) এক বাসায় ঢুকলে যার পাশেই ময়লার... কথা শেষ না করে নাক সিঁটকালো সে।
এতক্ষণ পর সজল বলে,
- আমি তো তোমাকে বলিনি আমার বাড়ি,গাড়ি সব আছে।
- এটাও তো বলোনি যে কোথায় কেমনভাবে থাকো! কী বলেছো!
- কোনদিন জানতেও তো চাওনি। হঠাৎই জবাব আসে,
- থাক। এখন জেনে লাভ নেই। আর জেনে কিই বা হবে!
- এখানেই সব শেষ! আমাদের সম্পর্ক এখানেই থেমে যাবে?
- সেটার উত্তর হয়তো তোমার অজানা নয়। বলে সে মুখ ঘোরালো। সজল বুঝতে পারে,এখানেই শেষ সব। সে পা বাড়ায় সামনের দিকে,হাঁটায় কিছুটা তাল হারায় সে। সেদিকে ফিরেও তাকায় না নীরা।
.
.
- তুমি মাথাটা ধরো। আমি পা ধরি।
- আমি পারবো না।
- পারবে না! না পারলে এখন ধরবেটা কে! মারার কথা তো তুমিই এনেছিলে,নীরা! কী লাভ হলো মেরে?
- কী লাভ! এটা তুমি বলছো! আমাদের সব কথা ভেবেই না... খানিক থেমে, আমাদের ঘটনাটা যদি হারামজাদাটা ফাঁস করে দিত তাহলে কী হতো ভেবে দেখেছো! আমাদের সেদিনের অন্তরঙ্গতা ***টা দেখে ফেলেছিল,জয়।
- বুঝেছি, এখন মাথাটা ধরো। উত্তেজনা বশে এনে শান্ত হয় সে।
- আচ্ছা ধরছি।
- সামনের গলিটা পার করো।
- যদি কেউ...
- কিছু হবে না। দুজন ধরাধরি করে সামনে এগোয়।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন