বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ এপ্রিল ১৯৭১
গল্প/কবিতা: ১১টি

গরু

প্রশ্ন ডিসেম্বর ২০১৭

-নির্মল পৃথিবীর প্রত্যাশা-

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নভেম্বর ২০১৭

নারী

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নভেম্বর ২০১৭

গল্প - প্রশ্ন (ডিসেম্বর ২০১৭)

গং সভ্যতা

মোঃ মোখলেছুর রহমান
comment ১  favorite ০  import_contacts ২০
এখানে হরেক রকম জিনিস আসে- সঝনের চোহল,ডাঁটার সিপা,গোমাংসের তৈলাক্ত ঝোল মাখা কোরতা-কাবাব-বিরিয়ানি;আসে মুরগির আধা চিবানো রানের হাড় ,গরুর মিড্ডারির হাড়।কখনো থাকে পলিথিনে প্যাচান,আবার কখনো উন্মূক্ত ময়লার উপর হি হি করে হাসে বালাম কিম্বা কাটারী ভোগের চিরল দাঁতি অন্ন। ‘যে দেখে সে হাসে,কিন্তু সবাই তো আর দেখতে পায়না’, কাজেই সবাই হাসে না ।যারা হাসে তারা অন্তর থেকেই হাসে। নির্মল হাসিতে নাকি আয়ু বাড়ে,তাই করিমনের বয়স বেড়ে বেড়ে এখন আশির কোঠায়,এখন দিব্যি লাঠি ছাড়া হাটে,চশমা ছাড়া দেখে; দেখে অনেক কিছু যা চশমা দিয়ে দেখা যায়না।
হ্যাঁ এখানে মাঝে মধ্যে আরও একটি জিনিষ আসে- তা হল মনুষ্য সন্তান;এক –দুই বা তিন দিনের বয়সি । উচ্ছিষ্ট খাদ্যের পাশে যখন পড়ে থাকে, তখন বাচ্চাটি কি বলে কাঁদে করিমন তা বুঝতে পারে,আবার কখনও কখনও বুঝে না বাচ্চার চেহারা সুরত দেখে। এমন অনেক ডাস্টবিন রয়েছে শহরে ,করিমনের ডেরার পাঁশেও রয়েছে একটি।
করিমনের কোন সন্তান নেই। মনোয়ারা ওরফে মানু তাকে নানি বলে ডাকে,বয়স সাত আট; শরীরের গড়নে একটা চিকনাই আছে, যে একবার দেখে সে দ্বিতীয় বার আবার দেখবে সেটাই নিশ্চিত; হোক সে বুড়ো বা যুবক, বা ছোরা- ছুরি।
করিমনের মন যেদিন ভাল থাকে বা পেটে যেদিন ভাল কিছু জামিন দেয় মেজাজ ফুরফুর করে, মানুকে কাছে ডাকে –‘কনে গেলিরে মানু?’ মানু কাছে আসে । ‘বয়’ মানু কাছে বসে । ‘দেহি তর মাতাডা,এ্যাই ছেরি , উহুনে তো শ্যাস কইরা হালাইছে,’ বলে গালে হাল্কা থুকনি দেয় করিমন। ‘ছাড় বুড়ি’ ঝটকা দিয়ে মানু সরে যায়।
মানু পাঁশের বাসায় কাজ করে ; তাদের এক ছেলে এক মেয়ে । মেয়েটা তারই বয়সি, নাম বিনু। ছেলেটি ক্লাস নাইনে পড়ে। বিনুর বাবা সরকারি অফিসে মা পার্লারে কাজ করে। বিনুর এক মামাত ভাই বিনুদের সাথে থাকে,বিনুর ভাইয়ের সাথে পড়ে। তাকে ভাল লাগেনা মানুর,মাঝে মাঝে মানুর দিকে কেমন করে যেন তাকিয়ে থাকে।
কথাটা মানু একদিন তার নানিকে বলেছিল,করিমন বিষয়টা বিনুর বাবা মার কানে দিলে বিনুর বাবা রাগে ক্ষেপে যায় বিনুর মায়ের উপর,বিনুর মা বলে-‘ ও আমার ভাই বলে এত রাগ দেখাচ্ছ ; যদি তোমার ভাই হত,তখন কি করতে? ঠিক আছে ও চলে যাবে’। এ নিয়ে বিনুর বাবা আর কথা বাড়ায়নি শুধু বলেছিল মেয়েটা যদি তোমার হত আর অন্য কেউ......।
করিমন শহরের যে দিকটায় থাকে সেখান দিয়ে পয়ঃ নিস্কাশনের উন্মূক্ত ড্রেন । ড্রেনের উপর বাঁশের চাটা দিয়ে পলিথিন ঘিরে খুপরি বানিয়ে কোন মতে মাথা গুজে থাকে করিমন।অবশ্য সে একা নয় তার মত ছফিয়া, রেনু, ছমের আলি আরও কয়েক ঘর বাস করে । করিমন এখানে কখন কিভাবে এসেছে তার জানা নেই ; কে তার বাবা মা তাও জানেনা ; যদিও বাবা মা-র জন্য মাঝে মধ্যে মন কাঁদত ; একটা বুড়ি তাকে আগলে রেখে ছিল; দশ বছর বয়সে সেও মারা গেছে; তখন প্রশ্ন করে তার কাছে অত কিছু জানার বয়স তার হয়নি, তাই তার নিজের কিছুই জানেন না । তবে তার জীবনের দীর্ঘ রঙ্গমঞ্চে যা যা অভিনিত হয়েছে তা তিনি ভাল ভাবেই জানেন , কখনও তা ভোলার নয়।
সময় মত সব নামাজ পড়ে করিমন, যদিও সে কিছুই জানেনা; নামাজে যেভাবে উঠা বসা করে ঠিক তেমনি উঠবস করে, মুনাজাতও করে দীর্ঘ ক্ষণ। কোন কোন সময় চোখের কোণে পানি জমে চিকচিক করে । কোন কোন দিন নামাজের ভিতর চোখ এদিক ওদিক চলে যায় । চরাটের উপর ছেঁড়া জায়নামাজ পেতে যখন নামাজ পড়ে , সেজদার সময় ছেঁড়ার ফুটো দিয়ে কখনো সখনো ড্রেনের পানিতে চোখ চলে যায়- চায়ের লিকারের মত কালো কালো তলানি জমে আছে ড্রেনে,হাল্কা ময়লা পানির স্রোত, তাতে ভেসে যাচ্ছে হরেক রকম গু; বানে ভেসে আসা মাছ বা জলজ প্রানি তাতে ঠোকর দেয় ; ওয়াক করে মাথা তুলে করিমন; বাকী নামাজ টুকু আর ভালভাবে পড়তে পারেনা ।
করিমন আর রেনুর ডেরা পাশাপাশি, রেনুর বয়স এিশের মত তবে বিয়ে হয়নি রেনুর, কে করবে বিয়ে, যার বংশের কোন পরিচয় নেই, তবে মশা মাছির মত নাগরেরা ঘুরে বেড়ায়। রেনুর সাথে মাঝে মাঝে করিমনের কথা কাটাকাটি হয়; যখন ঠোঁট লাল করে, চুলে চিরুনি দিয়ে,বুক টান করে হাটে তখন করিমনের গা রাগে রি রি করে। উঠতি বয়সের পলাপাইনও মাঝে মাঝে ঘোরঘোর করে রেনুর ডেরার কাছ দিয়ে ; রেনুও মাঝে মধ্যে মুখ টিপে হাসলে করিমন বকা দেয়- ‘ঐ ঢেমনি উয়া তর ভাতার লাগেনি?’ ‘ঐ বুড়ি তর ভাতার লাগে,তর কাছে আইছে।‘ ইত্যাদি ইত্যাদি।
একদিন সত্যি সত্যি রেনু উধাও হয় । পাঁচ সাত দিন পর একটি সাদা গাড়ী তাকে ফেলে রেখে যায়, তখন তার মর মর অবস্থা,পরনে কাপর নেই, শরীর ক্ষত বিক্ষত । করিমনই তাকে সেবা দিয়ে বাঁচিয়ে তুলেছিল । করিমন একসময় নিজেকে প্রশ্ন করত- ‘তাদের মত লোকদের দেখার কেউ নেই; কিন্তু রেনুর অবস্থা দেখে আজ সে ভাবে- নাঃ তাদেরও দেখার মত লোক আছে।
করিমনের রুটিন বাঁধা কাজের মধ্যে সকাল ৬টায় মানুকে ডেকে তোলা,৭টায় ছমের আলির খাওন পৌঁছান,৮টায় ডাস্টবিনে হাজিরা দেয়া,৯টায় পরিত্যক্ত পলিথিনের ঠোঙা, প্লাস্টিক বোতল, চাচ, টিন, লোহা লক্কর কুড়োতে যাওয়া .........।
আজ ডাস্টবিন থেকে বেশ কিছু জিনিষ খুঁটে এনেছে করিমন। পুঁইয়ের বুড়ো ডেন্টি, মুলোর চোছা,কাঁচা মরিচের পচানি, এগুলোর সাথে তার আজন্ম পরিচয়; অভিজ্ঞতাও অনেক।পুঁইয়ের ডেন্টি গুলো কুটতে বসে ভাবে- এগুলো নিশ্চই কোন বড়লোক সখ করে কিনেছিল ; বুড়ো দেখে বউ হয়তো রাগ করে ফেলে দিয়েছে ; দু চার কথার বকা ঝকাও হয়তো হয়েছে তাদের মধ্যে কিন্তু মুলোর চোছা গুলো দেখে তার ভাবনার শেষ নেই- খুব শৌখিন করে নিকানো হয়েছে, এই সাহেবের বউ নিশ্চয়ই সুন্দরী নয় স্বামীর মন জোগানোর জন্য নিখুঁত কাজ; বা সে গৃহিণী চাকরি বাকরি করেনা, হাতে বিস্তর সময় তাই ধীরে সুস্থে কুটন বাছন করেছে ; এমনও হতে পারে বউ খুব সুন্দরী, তার মনটাও সুন্দর, নিজ হাতে সুন্দর করে কুটে বেছে নিজ হাতে আহ্লাদী স্বামীর জন্য রেঁধেছে। তবে কাঁচা মরিচের পচানি যে বাসা থেকে এসেছে তারা নিশ্চয় বড়লোক, এতে কোন সন্দেহ নেই; স্পস্ট বুঝা যাচ্ছে মরিচ গুলো ফ্রিজে রাখা হয়েছিল, বেশি দিনের কারণে পচন ধরেছে; হয়তো তাদের বাজার করার লোকের অভাব; বা খুব উচু তলায় থাকে; ঘনঘন উঠানামা কষ্ট, তাই বেশি করে কিনেছিল। যেহেতু ফ্রিজ আছে বুঝাই যাচ্ছে অবস্থা সম্পন্ন......।
মানুকেও একদিন এই ডাস্টবিনে কুড়িয়ে পেয়েছিল করিমন।নিত্যদিনের মত সেদিন ডাস্টবিন হাতরাতে গেলে পুঁটলিটাই প্রথমে চোখে পড়ে তার,আত্মাটা ছ্যাঁত করে উঠে,তবে অবাক হয়নি কারণ প্রথম অভিজ্ঞতা নয়;তবে হৃদয়ে ক্ষতের একটা সংখ্যা বেড়েছে মাএ, এই আর কি ,সেও তেমন কিছু না ,সভ্যতার অনেক নিদর্শন তার কামাইয়ের ছেঁড়া ঝুলিতে জমা আছে,ছেঁড়া দিয়ে দু একটা পড়ে গেলেও সমস্যা নেই,কেননা ছেঁড়া সিলাইয়ের ক্ষমতা তার নেই। ক্ষত গুলো বেড়েই চলে করিমনের।
মানুকে বাঁচাতে করিমনকে অনেক বেগ পেতে হয়েছে,পলিথিনে প্যাঁচানো ছিল বলে আধা মরা হয়ে পড়ে ছিল। সে ভদ্র লোকের কথা করিমনের বেশ মনে আছে,করিমনের আকুতিতে সে হাস্পাতালে না নিলে মানুকে হয়তো বাঁচানই যেত না,তার জন্যে সে হাত তুলে দুয়াও করে। মানুর মিষ্টি মুখ দেখে করিমন কেঁদে দিয়েছিল,’মানুষ কিভাবে পারে এমন একটি নিস্পাপ শিশুকে ডাস্টবিনে ফেলে দিতে;সে মানুষ না অমানুষ!এ প্রশ্নের উত্তর সে খুঁজে পায় না,যেমনটি খুঁজে পায়নি তার জীবন সাগরের তলা।‘
মানুর মায়াবি চেহারা দেখে করিমনের মন ভরে উঠে, বাঁশির মত টিনটিনে নাক,চা চামিচের মত পাতলা ঠোঁট ,বেশ ফর্সা ও লম্বা। বাবা মা নিশ্চয় বড় লোক । সাত সকালে গাড়ীটা দেখে যা সন্দেহ করেছিল তাই ফলে গেল; এর আগেও চার চাকার গাড়ী কয়েকবার এসেছিল, সে অভিজ্ঞতা তার আছে।
আজ মানুকে দেখে করিমনের মেজাজ বিগরে গিয়েছে,ঠোঁটে লিপ্সতিক,মাথায় লাল ফিতা,হাত ভরা কাঁচের চুড়ি ঝনঝনিয়ে সন্ধ্যায় নাচতে নাচতে আসছে মানু। করিমন ডাক দেয়-
-এই ছুড়ি হুন,
-ক্যা কি কউ ?
- এইন্না চুড়ি ফিতা কনে পালি?
- ক্যা বিনুর মামাত বাইয়ে দিচে,
-অই ! বিনুর মামাত বাই তর হাই অয়?
‘হাই’ এর মানে মানু এখন বুঝে,(নানি এর আগেও এই বলে গালি দিয়েছে রেনুকে, রেনু আপা তাকে বলেছে মানেটা) তাই কি বলবে ভেবে পায় না,আমতা আমতা করতে থাকে।; মাথা নিচু করে ডেরায় ঢুকে। রাতে খাওয়া দাওয়ার পর শুয়ে শুয়ে নানিকে বিনুর শেখানো ছড়া গুলো শুনায়,করিমন আঁচল দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে বলে-
-নাতনীরে, হেই পড়া আমগোর কপালে নাই।
-ক্যা নানি, আমরা কি মানুষ না?
- হ আমরাও মানুষ, কামের না; আকামের।
মানু এক সময় ঘুমিয়ে পড়ে।
মানুকে নিয়ে করিমনের ভয়ে র শেষ নেই, মানুর বয়স যত বাড়তে থাকে ,করিমনের ভয়ও তত বাড়তে থাকে ,কিন্তু পেটের রাজত্বে অন্নের দুর্ভিক্ষ, খাদক শাসকের ভয়;আরও কত রঙ-বে- রঙের ভয়; অসহায় করিমনের সব ভয় বুকে জমা রাখে ; করিমন মানুকে ভয়ের মধ্যেই ঠেলে দেয় ,মানু ভয়ের রাজত্বে বড় হতে থাকে।
পাশের বিল্ডিংয়ে কি যেন একটা অনুষ্ঠান চলছে, মানু আর করিমন গিয়েছিল কিছু খাওন পাওয়ার আশায়, করিমনকে দেখে একটা জোয়ান গোছের মানুষ লাঠি নিয়ে তেড়ে আসে-‘অই হহিন্নির বাচ্চা ভাগ ইহান থিকা।‘ করিমন তাড়াতাড়ি সরতে গিয়ে পা পিচলে উল্টে পড়ে যায়, তাকে উপুর হয়ে ধরতে গিয়ে মানুর উপর একটা লুলুপ দৃষ্টি পড়ে লোকটির;তা করিমনের চোখ এড়ায় না। ‘এ্যাই ছেমড়ি নিয়া যা খাওন’ বলে লোকটি পলিথিনের একটি থলে মানুর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে-‘কাল একলা আইবি হুনচত’। করিমন লোকটির দিকে একবার তাকায়, চোখ দিয়ে আগুন ঝরছে, সে জানে এ খাদ্য তার নয়, এ খাদ্য মানুর ; মানু জানেনা এ খাদ্য কার? করিমন জানে – কলিকালে ‘বিনিময় ছাড়া মানুষ কিছুই দেয়না।‘ ‘মানু জানেনা মানুষ বিনিময়ে কি চায়?’
অনুষ্ঠানের সুবাদে ডাস্টবিনে বেশ কিছু উচ্ছিষ্ট কুড়িয়েছে করিমন। মানু ও করিমন সেগুলো বসে বাছছে; মানু খুশিতে বাক বাক হয়ে বলে- ও নানি,‘দেহো! দেহো! রানের এ্যাই আড্ডির মুচমুচিডা খায়নাইক্কা।‘নানি বলে- ‘ হেই বেডার দাঁত নাইক্কা,তাই ফাইলা দিছে’। ‘হ নানি, হগল গুলাইনের মুহে যদি দাঁত না থকত; কি মজা হইত, না নানি?মানুর মুখে তৃপ্তির হাসি।মানু আর একটা হাড় দেখিয়ে বলে-‘দেহ নানি, এ্যাই আড্ডিটা ঠনঠন্যা, কিচ্চু নাইক্কা’।নানি বলে-‘মনে অয়,এ্যাই বেডা গরিব,জীবনেও গোস্ত খায়নাইক্কা’। মানু আবারও হাসে। ইতমধ্যে মানুর হাতে একটা প্যাকেট পড়ে,প্যাকেট খুলে দেখে বেশ কিছু পোলাও ঝোল চর্বিতে মাখা, দুই এক ডুমা গোসতও আছে,মানু তা নানীকে দেখায়। নানী বলে-‘এই ব্যাডা বরা প্যাডে আর কত খাইব;কতায় কয়না প্যাড বরে চোখ বরেনা; দ্যাশটা তো এ্যাম্বায় খাইয়া খাইয়া শ্যাষ কইরা হালাইচে; হেইটুক খাইতো পারে নাই ফাইলা দিছে কেডা খাক, খাক গিয়া’।মানু একমনে বাছতে থাকে। ‘হেই হানেও হহিন্নী আছে,’ করিমন বলে। মানু কথাটা তেমন বুঝে না ।
মানু বিনুদের বাসার কাজ ছেড়ে দিয়েছে অনেক দিন হল,মানু এখন অনেক বড় হয়েছে; ডালপালা ফুলে ফুলে সজ্জিত , সে এখন অনেক কিছু বুঝে। বিনুর কথা তার মাঝে মাঝে খুব মনে পড়ে । খুব ভাব হয়েছিল তার সাথে। বিনু কোন কিছুই তাকে না দিয়ে খেত না। বিষয়টা বিনুর মা যেদিন জানতে পারে,মারধর শেষে গালে মূখে গরম লোহার ছ্যাকা দিয়ে চুলের মুঠি ধরে বার করে দিয়েছিলো। বিনু অঝোরে কেঁদেছিল সেদিন। আরশিতে মুখ দেখলেই বিনুর কথা মনে পড়ে মানুর।
ছমের আলিও নেই, রেনুও উধাও,ছফিয়াও চোখে দেখে না; বয়সের ভারে করিমনও বাইরে বের হতে পারে না। তবে এদিকে কোন গাড়ি এলেই করিমনের মন ছ্যাত করে উঠে। আজও
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন