বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ এপ্রিল ১৯৭১
গল্প/কবিতা: ৯টি

নারী

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নভেম্বর ২০১৭

মাটির খাতায় লিখে যবো.

আঁধার অক্টোবর ২০১৭

ছায়ামিলন

ভৌতিক সেপ্টেম্বর ২০১৭

গল্প - বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী (নভেম্বর ২০১৭)

-নির্মল পৃথিবীর প্রত্যাশা-

মোঃ মোখলেছুর রহমান
comment ১  favorite ০  import_contacts ৩৭
আলোটা তির তির করে বেরুচ্ছে ,কিছুটা নীলাভ ; পাখার সৌখিন একটা রঙের বৃত্ত থেকে। বৃত্তটা মাথার ঠিক নাক বরাবর হাল্কা বামে দশ ডিগ্রী কোণ করে ।এ রুপ আরও একটি বৃত্ত রয়েছে বিপরীত দিকে, ডিটন টেলিস্কুপটা হালকা চাপ দিয়ে বাঁহাতের সাথে কিছুটা আড়াআড়ি ভাবে ধরে প্রজাপতিটির উপর । যতই দেখতে থাকে ততই ডিটনের লোমকূপ থেকে শীতল ঘর্ম বেরুচ্ছে । গায়ে চাপা উত্তেজনা। পাখার দুদিকে দু দু চার জোড়া প্রপেলারের মত সূক্ষ্ম চাকা। পুরো মেরুদণ্ডে সোলার প্যানেলের সিলিকনের মত চকচকে । লেজটা ক্রমান্বয়ে সরু হয়ে ঈষৎ বড় হতে হতে টর্চ লাইটের মাথার মত । ভাল করে দেখলে এটাকে লেজ মনে হয়না; ঠিক যেন আরেকটি সম্মুখ ভাগ। দুটো পাইপ ঈষৎ বেঁকে উপর দিকে উঠে গেছে , প্রান্তে এন্টেনার মত, বাহ্যিক ভাবে যেটা প্রজাপতিটির শুড়ের মত মনে হয়।
ডিটন দু বছর হল টেক্সাসে পড়তে এসেছে, বড় একটি ডিগ্রী অর্জনের জন্য;বিষয় ইউ,এফ,ও। বিষয়টা অনেকটা খেয়ালের বশেই নেয়া।গুগলের সুপার ভিশন এক্টিভিটিতে কাজ করার সময় প্রথম ইউ,এফ,ও সম্পর্কে ধারণা আসে।পরবর্তীতে গবেষণার প্রধান বিষয় হয়ে দাড়ায়। নাসার এয়ার ফ্লাই কর্তৃপক্ষ পূর্ণ সহযোগিতা দিয়ে আসছে তাকে, অর্থায়ন থেকে শুরু করে মোস্ট সিকিউরিটি এসেসমেন্ট দিয়ে থাকে।
ভার্সিটিতেই টিনার সাথে ডিটনের প্রথম দেখা,তারপর পরিচয়,এখন সহপাঠী, সহকর্মীও বটে। টিনার বাবা টেক্সাসের একজন সিনেটর,মা টপিনা চিলিয়ান,ইস্টার দ্বীপের বাসিন্দা,টিনা একমাত্র মেয়ে। টিনার মা টপিনা নাসার ইউ,এফ,ও ডিপার্টমেন্টের ইনভিজিলেটর টিমেরভিজিটর।
শিক্ষা জীবনে টপিনার পি এইচ ডি তত্তাবায়কে ছিলেন জোসে বনিলা,যিনি মেক্সিকর আকাশে স্বচক্ষে ইউ, এফ, ও, দেখেছিলেন ; তিনি একজন সাইকোলজিক্যাল ম্যান,অ্যাসট্রলজিতেও অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল।বৃহস্পতির উপর মঙ্গলের যে প্রভাব সেটা আঁচ করতে পেরেই তিনি টপিনাকে নির্বাচন করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ছাত্রীকে; প্রথম ও দ্বিতীয় জনের উপর রাহুর প্রভাব পদ্মরাগ দিয়ে কাজ হতনা জেনে তাদের সিলেক্ট করেননি।
ডঃ জোসে বনিলা গবেষণায় জেনেছেন যে, মানব আত্মার উপর ছয়টি রশ্মি কাজ করে। রেড, বুলু, ব্ল্যাক ও ............। এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে বুলু, দ্বিতীয় হচ্ছে রেড। বুলুতে যেমন যেমন সঞ্জিবতা আছে, রেডেও তেমনি স্খলন আছে।(উক্ত তত্ত্বের সাথে সামঞ্জস্য দেখা যায় মারিফতের ছয়টি লতিফা বিষয়ে বর্ণনা আছে,সেখানে ছয়টি রঙের আলামত পাওয়া যায়।যেমন ১ম লতিফার কলবি,উহার রঙ লাল;২য় লতিফার নাম রুহী,উহার রঙ সাদা ইত্যাদি ইত্যাদি) ভিন গ্রহের যানগুলোমানব আত্মার সাথে যোগসাজশ রয়েছে;যে গবেষকের আত্মা যত পরিশুদ্ধ হবে ইউ, এফ, ও, গবেষণায় তার তত সফলতা আসবে, বিষয়টি তিনি টপিনাকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন, টপিনাও বুঝেছিলেন।
সেদিন ছিলরবিবার, ভার্সিটি বন্ধ ঝামেলা কম,তাই মনোযোগ দিয়ে ল্যাবরটরিতে কাজ করছিলেন টপিনা; হঠাৎ চোখ ঝাপসা হয়ে আসে,মাথাটা হাল্কা ঝিমঝিম করতে থাকে, শেষে গা ঘামতে থাকে। বিষয়টা তাৎক্ষণিক জোসে বনিলাকে জানান,টপিনা নিজেও জানত তার এরকম হবে,কেননা ডঃ জোসে বনিলা এ সম্পর্কে আগেই বিস্তারিত বলেছিল তবে মজার ব্যাপার হল - ডঃ জোসে বনিলা তিনটি ইউ,এফ,ও হান্টার অবজেক্ট টপিনাকে দিয়েছিল। দুটির খবর টপিনা জানতো; সে দুটোর একটি ব্রেসলেট যার দুদিকে দুটো নীলাভ পাথর বসানো, দ্বিতীয়টি পয়েন্ট জিরো জিরো ফাইভ ক্যারেটের হিরক বসানো রিং। তৃতীয়টির কথা পরে আসছে ।
ডঃ জোসে বনিলা টপিনাকে বলেছিলেন – ইউ,এফ, ও অবজেক্ট পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ স্তর পেরুলেই ব্রেসলেটের বাঁ দিকের পাথরে টিপটিপ করে লাল আলোর সংকেত দিতে থাকবে যেহেতু এই আলোটা রক্তের লৌহ কণিকার সাথে সম্পর্কিত কিছুটা গা ঝিমঝিম করতে পারে।এক সেকেন্ড সময় নিয়ে অপর পাথর থেকে নীল আলোর সংকেত দিতে থাকবে।তখন লাল আলোটি তর্জনী আঙ্গুলের চাপ দিলেই ইউ,এফ,ও হান্টারের মাধ্যমে মনিটরে যানটির অবস্থান জানা যাবে।
তৃতীয় যে ইন্সটুমেন্ট ডঃ জোসে বনিলা টপিনাকে দিয়েছিলেন সেটি হল স্টার দ্বীপের সামুদ্রিক বুবি পাখির ঠোঁট দ্বারা নির্মিত সৌখিন একটা পেন। সেটির হেডেরটোপরে একটি অতি সুক্ষ্ম শক্তিশালী গোপন ক্যামেরা বসানো ছিল ,তা সরাসরি গুগল আর্থের সাথে অটো সার্ভে কাজ করে ডঃ জোসে বনিলা টপিনার যাবতীয় কাজ কর্ম গোপনে সংরক্ষন ও ভিজিট করতেন, এটি টপিনার তিরিশতম জন্মদিনে গিফট করেছিল। টপিনার খুব প্রিয় কলমটি। এটির বড় সুবিধা কখনো এর কালি শেষ হতনা,হাতের স্পর্শে এলেই এটি লিখনে সক্ষম।
আজ ফাইনাল এক্সপেরিমেন্ট ,ডঃ জোসে বনিলা ও টপিনা মনিটরের উপর সূক্ষ্ম দৃষ্টি রেখেচেন।গুগল আর্থ ও গুগল ম্যাপের সমন্বয়ে ভিন গ্রহের যানটির সু- নির্দিষ্ট অবস্থান দেখা যাচ্ছে। যা স্টার দ্বীপের দক্ষিণ উপকুলের কাছাকাছি।স্কট অয়ারিং (যিনি ভিন গ্রহের যান ইউটিউব এ আপলোড করে ছিলেন) এর হান্টার রশ্মি দ্বারা ডঃ জোসে বনিলা তা নিয়ন্ত্রণ করছেন। দু জনে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন যানটি সোজা স্টার দ্বীপের দিকে নেমে আসছে। আকৃতি অনেকটা প্লেটের মত, ক্লিন অপশনে ক্লিক করে যানটি আরও পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে ঠিক যেন বিশাল একটি ডিশ এন্টেনা সুক্ষ্ম জাল দ্বারা আবৃত;লাল ও নীল দু দিক থেকে দুটো আলো সিগন্যাল দিচ্ছে।ডঃ জোসে বনিলা আনন্দে এতটাই উজ্জীবিত যে, তিনি আবেগের বশে টপিনাকে কে আই ডবল এস করে ফেলেন,টপিনা বিস্ময়ে একবার ডঃ এর দিকে তাকাল, ঠিক তখনি দু জনে মনিটরে দেখতে পেল যানের নীল আলোটা আর সঙ্কেত দিচ্ছেনা।যানটি যতই পৃথিবীর কাছাকাছি আসছে তা যেন ক্রমশঃ ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হচ্ছে। ভাবনায় পড়ে গেলেন ডঃ জোসে;টপিনাও বিমর্ষ। এখন কোন সংকেতই কাজ করছেনা; না ব্রেসলেট, না বুবি পেনের।
ডঃ জোসে প্রথম মুখ খুললেন, সর্বনাশ হয়ে গেল টপি, আমরা যানটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছি। দু জনে একে অপরের প্রতি তাকাল। ডঃ জোসি ও টপিনা উভয়ে জানতেন যে,পৃথিবীর মানুষের অনৈতিক আত্মার শ্বাস প্রশ্বাস ভিন গ্রহের যান গুলোর আসার প্রধান প্রতিবন্ধকতা;তবে কি এই চুম্বনের কারনে যানটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গেছে! নাঃ টপিনা আর কিছু ভাবতে পারছেনা ! সহসা সে ডঃ এর সাথে রাফ ব্যাবহার করে ফেলে। তার প্রিয় বুবি কলমটিছুঁড়ে ফেলে দেয় তৎক্ষণাৎ ব্রেসলেটের রশ্মি দুটো সঙ্কেত দিতে থাকে কিন্তু ডঃ জোসে অজ্ঞান হয়ে পড়েন,আর তখনই যানটি ভূপাতিত হতে দেখা যায় মনিটরে। ডঃ জোসি এর বেক্তিগত চিকিৎসক কোন সমস্যা বুঝতে পারলেন্না,সে যাত্রায় তিনি বেঁচে যান।
-দুই-
১৮৬২ সালে চিলির সামরিক অভিযানে দ্বীপের যে শাসক ধরা পড়ে তিনিই টপিনার দাদা ছিলেন। তার বাবা পালিয়ে দক্ষিণ উপকুলে চলে আসেন। সেখাকার মানুষের প্রধান খাদ্য ছিল মিষ্টি আলু ও কাছিম। তিনি কাছিম আহরন দলের সাথে যুক্ত হন এবং অল্প দিনের মধ্যে বিপুল সম্পদের মালিক হন। পরবর্তীতে তিনিও দেশের শাসক হন। এখানেই টপিনার বেড়ে উঠা; এখানেই তার শৈশব কৈশোর মোয়াই গুলোর গায়ে লেগে আছে।
বিপর্যয় ঘটে ১৮৬৮ ইং সালে। জন ব্যাপ্টিস্ট নামক ফরাসি নাবিক দ্বীপের কিছু জমি ক্রয় করেন, এ নিয়ে পরবর্তীতে সংঘাত তৈরি হলে ক্রীতদাস হিসেবে টপিনার পরিবার টেক্সাসে ঠাই পায়। পরে স্টার দ্বীপ চিলির দখলে আসলে তিনি সমস্ত সম্পদ ফিরে পান।
পি,এইচ, ডি, অসমাপ্ত রেখে টপিনা টেক্সাস থেকে চলে আসার পর নিজ দেশে এসে আবার গবেষণায় মনযোগী হন। টেক্সাস থেকে তার যাবতীয় গবেষণা টুলস স্টার দ্বীপের বাড়িতে নিয়ে আসেন। তার দৃঢ় ধারণা জাবতি এ দ্বীপেই কোথাও না কোথাও পড়েছে। স্যাটেলাইট ক্যামেরা দিয়ে তিনি তন্ন তন্ন করে গোটা স্টার দ্বীপ চষে বেড়ান কিন্তু কোন এক অজানা কারনে স্টার দ্বীপের কোন ছবিই তিনি উঠাতে পারেননি ।
টপিনাদের পুরনো বাড়িটি ছিল একটি রাজকীয় বাড়ি।টিলার উপর দু তলা একশত একটি কক্ষ বিশিষ্ট। কক্ষ গুলো বেসল্ট, দরজা লাল স্করিয়া ও জানালা গুলো সাদা স্করিয়া পাথরে নির্মিত। সমুদ্র দিকে মুখ করে বিশাল বাংলো ও গবেষণাগার।
টপিনা জেনেছে স্টার দ্বীপের মূর্তিগুলো ভিন গ্রহের প্রানি এলিয়েনদের আদলে তৈরি করা হয়েছে যা বর্তমান বিশ্বের বিস্ময়। তার মাথায় একটা থিং ঘোরপাক খাচ্ছে দু দিন থেকে। ডঃ জোসের সাথে গবেষণার সময় যানটি স্টার দ্বীপের দিকে আসছিল কেন? এ দ্বীপের সাথে ওগুলোর সম্পর্ক কী? নাকি মোয়াই গুলোর সাথে সম্পর্ক আছে ? নানা প্রশ্ন মাথায়। মূর্তি গুলোর খোদাই ও গঠন শৈলী ভিন্নতর ।একদিন পরীক্ষা করতে এসে মধ্যভাগের ক্ষুদ্রাকৃতির মোয়াই এর কাছে আসা মাত্র তার হাতের ব্রেসলেটের দু দিকের আলোক রশ্মি হটাৎটিপটিপ করে সঙ্কেত দিতে থাকে আর সঙ্গে সঙ্গে মাঝখানের অপেক্ষাকৃত ছোট মোয়াইটির পোকার( মাথার চাই )উপর টিকটিক শব্দ হতে থাকে। সে দিকে তাকাতেই চমকে যান তিনি, দেখেন বড় আকৃতির একটি প্রজাপতি বসে আছে ,শব্দটা সেখান থেকে আসছে, ভাল করে লক্ষ্য করে দেখেন – প্রজাপতির মত মনে হলেও প্রজাপতি নয়; একটা যান্ত্রিক অবজেক্ট, গায়ে বাহারি কালার রয়েছে। তবে কি এটি সেই ভিনগ্রহের যান! যেটা ডঃ জোসির সাথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল , অবাক ও আনন্দে তার দম আটকে আসছিল।
টপিনা এখন নিশ্চিত এটা ভিন গ্রহের যান। টিনা ও টিনার বন্ধু ডিটন এখন টপিনার তত্ত্বাবধানে পি, এইচ, ডি করছে। টিনা অনেক এক্সিলেণ্ট মেয়ে টপিনা তা জানেন।
আজ টিনা ও ডিটনের শেষ এক্সপেরিমেন্ট। টপিনা যানটি বের করে ডিটনের সামনে রাখেন,পাশেই টিনা। উভয়কে উদ্দেশ্য করে বলেন এটি আজ তোমাদের সচল করতে হবে। তিনি বিস্তারিত সব বুঝিয়ে দেন।
ডিটন টিনাকে ভালবাসত, টপিনা তা জানতো, তিনি বহুবার বলেছেন গবেষণার সময় তোমরা বিন্দু মাত্র অসৎ ভাব মনে আনবে না তাহলে উদ্দেশ্য পণ্ড হয়ে যাবে।
গবেষণা কাজে আজ টিনাকে বিমর্ষ দেখাচ্ছিল,কোন টেনশন ফিল করছ টিনা? জানতে চায় ডিটন।
-কেন টিনার প্রতিউত্তর
- নাঃ, মানে এমনি,
- আমাকে বুঝি খুব ভালবাস,
-সেটা তুমি জান,
এবার টিনা মৃদু ভেংচি কেটে ডিটনের হাত চেপে ধরে, আর অমনি তাদের সামনে রাখা প্রজাপতির সাদৃশ্য যানটি টিপটিপ করে সঙ্কেত দিতে থাকেএবং একটি নীলাভ বৃত্ত থেকে আলোর স্ফুরণ হতে থাকে। ডিটন ইউরেকা! ইউরেকা! বলে টিনাকে জড়িয়ে ধরে,সাথে সাথে যানটি তাদের মাথার উপর চক্কর দিতে থাকে। তাদের চেঁচামেচিতে টপিনা রুমে ঢুকার মুখে দেখতে পান যানটি জানালা দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে আর ডিটন টিনা খুনসুটি করছে ।তারপর অবাক দৃষ্টিতে তিনজন সে দিকে তিকিয়ে রইল।
মনিটরে ভেসে উঠল কিছু সঙ্কেত কিন্তু বুঝা যাচ্ছেনা ,গুগল ট্রান্সলেটের এর মাধ্যমে প্রথমে ইংরেজি পরে আরও কয়েকটি ভাষায় অনুবাদের চেষ্টা করা হল কিন্তু না, কোন কাজ হচ্ছে না।বিভিন্ন ভাষার অপশনে ক্লিক করার পর রোঙ্গোরোঙ্গো লিপি একসেপ্ট করে,যার ভাবার্থ –
“আমরা বহু বছর থেকে পৃথিবীর প্রাণীর সন্ধান পেয়েছি এবং যোগাযোগ করতে চেষ্টা করছি । প্রথম দিকে পৃথিবীর বায়ু খুব নির্মল ছিল বলে একটি দ্বীপে আমরা নামতে সক্ষম হয়েছিলাম এবং সেখানে আমাদের মূর্তি তৈরি করে রেখে এসেছি। কালো আত্মার দূষিত চিন্তা ও শ্বাস প্রশ্বাস,মারামারি হানাহানি পৃথিবীর বায়ুকে ক্রমশঃ দূষিত করে ফেলছে, সে দূষিত বায়ু আমাদের যানের গতির প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে,ফলে কোন কোন সময় আমাদের যানটি বিকল হয়ে যাচ্ছে, অথবা দূষিত বাতাসের ঘর্ষণে ক্রমশঃ ক্ষীণ হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। আমরা আর পৃথিবীর কাছাকাছি যেতে পারছিনা । হে বন্ধুবর, আমরা আশাবাদী পৃথিবীর আলো বাতাস একদিন সুনির্মল হবে ; সেদিন তোমাদের সাথে দেখা হবে, কথা হবে , তৈরি হবে ভালবাসার সেতু বন্ধন।হায়! জানিনা তা কত দূরে ।“
= তোমাদের বন্ধু শ্বেত এলিয়েন।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন