বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ এপ্রিল ১৯৭১
গল্প/কবিতা: ৯টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৮৫

বিচারক স্কোরঃ ২.০৫ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

-নির্মল পৃথিবীর প্রত্যাশা-

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নভেম্বর ২০১৭

নারী

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নভেম্বর ২০১৭

মাটির খাতায় লিখে যবো.

আঁধার অক্টোবর ২০১৭

গল্প - ভৌতিক (সেপ্টেম্বর ২০১৭)

মোট ভোট ২১ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৮৫ ছায়ামিলন

মোঃ মোখলেছুর রহমান
comment ১০  favorite ০  import_contacts ১৭৪
সকাল থেকেই বৃষ্টি,থামার কোন চিহ্ন দেখা যায়না।অফিসের কাজকর্ম কম তাই প্রবীর একটু আগেই অপিস থেকে ফিরে আসে। বাসায় তখন ফারিয়া আবৃতি করছিল-
আজি বাদলের দিনে বধুয়া আমার-
কোন মহুয়ার বনে
ফুটেছে কদম কেয়া মনের আঙিনে
নাই বধুয়ার মনে.................।
প্রবীর কোনদিন এত মনোযোগ দিয়ে তার আবৃতি শুনেনি,আজ দরজার কাছে দাড়িয়ে তন্ময় হয়ে শুনছিল।ফারিয়ার গলা থেমে গেলে কলিং বোতামে চাপদেয় প্রবীর।কী হোল দিয়ে একবার দেখে নেয় ফারিয়া,তারপর আস্তে করে সরে যায় দরজার পাঁট,সামনে যেন দাড়িয়ে ক্লিউপেট্রা।
-অমন করে কি দেখছ
-তোমাকে
-তোমার দেখায় ভুল আছে
-আমি তোমাকে চেয়েছি
-আমার কবিতা মরে গেছে
এটার উত্তর প্রবীর দিতে পারেনি,রেইন কোটটা খুলেই জড়িয়ে ধরে ফারিয়াকে তারপর খুনসুটি চলে বেশ কিছুক্ষন। ফারিয়াও খুনসুটিতে সায় দেয়। প্রায়। সন্ধ্যা ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে তো পড়ছেই,অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে ধীরে ধীরে,শার্সির কাঁচ বেয়ে ফোটা ফোঁটা চোখের জলের মত ছাটের পানি পড়ছে।দৃশ্যটা প্রবীরকে হঠাৎ ব্যকুল করে তুলল।ফারিয়া কখন এসে পিছনে দাড়িয়েছিল বুঝতে পারেনি প্রবীর।গন্ধটা যখন তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে তখনি পিছন ফিরে তাকায় প্রবীর,সেন্টটা ফারিয়ার প্রিয়।
রাত ন'টার মত হবে ফারিয়া শুয়ে শুয়ে আল মাহমুদ থেকে আবৃতি করে চলেছে।আল মাহমুদ তার প্রিয় কবি।যখন ফারিয়া জেনেছে দুই বাংলার মেয়েদের প্রিয় কাব্যগ্রন্থ ছিল সোনালি কাবিন, তখন বিভিন্ন সাইজের সোনালি কাবিন বেরোত। সবচে ছোট আকারটি মেয়েরা কাচুলির নিচে লুকিয়ে পর্যন্ত রাখত। তখন থেকে মাহমুদ মোহ বেড়েছে।
তখনো আবৃতি চলছে, ফারিয় পাশ ফিরে দেখেন, প্রবীর কখন ঘুমিয়ে পড়েছে।হঠাৎকরে কেন যেন বাইরের মত ভিতরেও ঝড়োহাওয়া বইতে শুরু করে ফারিয়ার।আবৃতি থেমে যায়। চোখের কোন বেয়ে খানিকটা অশ্রু গিয়ে পড়ে,প্রবীরের মুখের উপর চোখের স্থির দৃষ্টি একসময় কাঁপতে থাকে।
সকালে চোখমেলেই প্রবীর দেখে ফারিয়ার ওড়না সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলছে,নিচে পড়ে আছে 'আগুনের মেয়ে'বইটি যেটা বিবাহের প্রথম বার্ষিকীতে প্রবীরকে গিফট দিয়েছিল,ফারিয়ার হাতের ঝকঝকে অটোগ্রাফ চকচক করে জ্বলছে। সে মেঝেতে পড়ে আছে,শরীরটায় অসহ্য যন্ত্রনা,মনে হচ্ছে কেউ যেন হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়েছে। হাতপা কিছুই উঠছেনা,অনেক কষ্টে উঠে বসে, ফারিয়া আসেপাশে কোথাও নেই,ধুককরে উঠে বুকটা,অথচ একসাথে শুয়েছিল,সে মেঝেতে এলইবা কি করে,কিছুই বুঝতে পারছেনা প্রবীর। ডাক দিতেও পারছেনা যেন কন্ঠরোধ হয়ে আসছে। তবুও একবার চেষ্টা করল ডাকার জন্য কিন্তু মুখ ফুটে কিছুই বেরোলনা। ধীরে ধীরে উঠে টয়লেট বাথরুম কিচেন না কোথাও নেই; কিংকর্তব্যবিমূঢ় সে। বাইরে বেরোতে গিয়ে দেখে দরজা বাইরে থেকে সাটা।
বিকেল হতে হমে বাসায় হুলুস্থুল পড়ে গেল,সাংবাদিক পুলিশ আত্মীয় অনাত্মীয় ধরো মারো কাটো ইত্যাদি ইত্যাদি.......। নানা মনে নানা গুজব।সাংবাদিক ও পুলিশের ধারনা ফারিয়া নতুন স্বাদেন আশায় উড়াল দিয়েছে। কিন্তু ফারিয়ার বাবা নিশ্চুপ এবং বিষন্ন। পুলিশ অফিসার ওড়না ও বইটি আলামত পরীক্ষার জন্য নিল,তবে বইটির প্রচ্ছদ পৃষ্ঠাতেই তার চোখ আটকে যায়-
গোটা গোটা করে কয়েকটি লাইন লেখা-
আমাকে চিনলেনা,আমার কবিতাকে মেরে ফেলেছ,আমি চললাম হয়তো আবার দেখা হতে পারে,আমি আগুনে মেয়ে।
বিষয়টা কেমন গোলপেকে গেল,তবে ফারিয়ার বাবা সব সামলালেন।

দুই
ফারিয়ার বাবা বলতে শুরু করল, শুন বাবা প্রবীর আমার জীবনের কিছু না বলা কথা তোমাকে শুনান প্রয়োজন, তবে কাউকে বলবেনা,তাহলে বিষয়টা তোসার কাছে পরিস্কার হয়ে যাবে। আমি যখন মক্তবে পড়ি তখন আমার উস্তাদ ছিলেন নিসার আলী মুন্সি। তিনি মানুষের জ্বীন পরী ধরা ছাড়াতেন। শোনা যায় তিনি নাকি পরীও পুষতেন। অনেক দুরদুরান্ত থেকে তার ডাক আসত,জ্বীন পরী ধরা রোগীদের চিকিৎসা করানোর জন্য,তার সুনামও ছিল বেশ।
একদিন আমাদের পাশের বাড়ির এক যুবক ছেলের জ্বীন না পরী ধরেছে নিসার মুন্সিকে খবর দেয়া হল। আমিও তখন উঠতে যুবক,জ্বীন ছাড়ানো দেখতে গেলাম।অনেকেরই ধারনা ছেলের বিয়ের বয়স হয়েছে তাই অমন ভঙ্গিঠঙ্গি করছে।বউ এনে দিলে সব ঠিক হয়ে যাবে।নিসার মুন্সি চোখের পাতা টেনে ধরে কি যেন দেখলেন তারপর শান্ত গলায় বললেন-হু্,পরী। শুন মিয়ারা কোরআন হাদিসেও জ্বীন পরীর কতা লেহা আছে অবিশ্বাস করার কুনু উপায় নাই।জ্বীন হইল পুরুষ আর পরী হইল মাইয়া।তাগোরেও কামনা বাসনা আছে।তারাও মানুষের দ্যাশে ঘুরত। আইয়া মানুষের রূপে পাগল অয়,অনেক পরী বিয়াও বহে; হুনছি পুলাপাইনও অয়। এক নাগারে কথাগুলো বলে থামে নিসার মুন্সি।বিড়বিড় করে কিছুক্ষন ঠোট নাড়িয় ফু দেয় রোগীর উপর তারপর বলে-এক ছরি মালভোগ কলা,দুইসের দুধ,ধুপ আগরবাতি আইনা রাইখ্খো রাইতে হাজির করাইতে অইব।
রাত দশটা,বাড়ি ভরা মানুষ,কিন্তু কো হট্টগোল নাই।রোগীর নাকে একটা শিকড় ঢুকিয়ে বিড়বিড় করে ঠোট নাড়িছে নিসার মুন্সি মাঝে মাঝে তেল পড়ে ছিটা দিচ্ছে।কোন কাজ হয়না দেখে বাম হাতের কেনে আঙুলে সুতো দিয়ে শক্ত করে গিট দিতেই রোগির উপর পরী হাজির হয়ে যায়।গলা কাঁপাতে কাঁপাতে বলে-অই তুই কেডা,নিসার মুন্সি, ভাগ ইখান থিকা,এই মিনসেরে আমার ভালা লাগছে,অরে ভালবাসি,আমি হইলাম মায়া পরী।
খাড়া তর ভালবাসা তর পাছা দিয়া ঢুকাইতাছি বলে নিসার মুন্সি ঝাটা দিয়ে মারতে থাকে রোগীকে। তারপর কি হল প্রবীর জানতে চায়। মায়াপরী যাবার সময় বলে যায় -নিসার মুন্সি জাইনা রাখিস আমি আইজ গেলাম,আবার আসব,হেইদিন তুই আইলে তরেও খাব তর চদ্দ গষ্টিরে খাব।নিসার মুন্সিও খিস্তি দেয় -যা যা তর লাহান কত তেন্দর ছাড়াইলাম।দুদিন পরে নিসার মুন্সি গ্রাম ছাড়া, তার কোন হদিস নাই।
সেদিন রাত বারটার পর আমার হঠাৎ ঘিম ভেঙে যায়,ঘরে বিস্তর রোশনাই। আর আমার সামনে এক সুন্দরী মেয়ে দাড়িয়ে আছে।সে নাকিগলায় বলে-আমি মায়াপরী,নিসার মুন্সি আমার ভালবাসা কাইরা নিছে,অরে গ্রাম ছাড়া করেছি। আমি এহন তরে ভালবাসি বলে আমাকে জড়িয়ে ধরে,কিভাবে বলি ওসব কথা।
-তারহলে ফারিয়া পরীর মেয়ে।
আমার কথা শেষ হয় নাই। মায়াপরী একদিন আমাকে বলে - তর ঘোরে আমি মানুষের মত আসতে চাই,চমকে উঠি আমি।হি হি হাসি দিয়ে মায়ারী বলে-এ যন্যে আমাকে ওনেক কস্ট কোরতে হবে লা।বাবা,মা, পরীস্থান একেবারে ছেরে আসতে হোবে আর কুনুদিন অখানে যেতে পারবনা লা।
-কিন্তু আমি তোমাকে চাইনা
-কিন্তু আমি তোমাকে চাই, হি হি মায়াপরী হাসে।লজ্জার কথা কি বলব বাবা, মায়াপরী প্রতি রাতে আসত আর জোর করে আমার সাথে আমোদ আহলাদ করতো।আমার ভগ্ন চেহারা দেখে বাবা বিষয়টা কিছু আঁচ করে কবিরাজ ধরলেন,কোন কাজ হলনা,। শেষে তারা বলল -ছেলের বিয়ে দিয়ে দেন সব ঠিক হয়ে যাবে মৃধা মশাই। তারপর বিয়ে হল সে আর এক ইতিহাস। কনে যে সেই মায়াপরী সেটা শুধ্র আমি আর মায়াপরীই জানতাম,পৃথিবীর কেউ জানেনা আজ তুমি জানলে ফারিয়ার মা আজ বেঁচে নেই বলে।
-এতদিন কেন বলেন নাই প্রবীর জানতে চায়।
-মায়াপরীর নিষেধ ছিল।এতে আমাদের নাকি অনেক ক্ষতিহতো।

তিন
প্রবীরের দৃঢ় বিশ্বাস ফারিয়াও পরীবংশের। অমীতের কত কথাইনা প্রবীরের মনে পড়ছে। অদ্ভুদ অদ্ভুদ সে ঘটনা। তার মনে পড়ে একবার তার প্রেগনেন্সি চেকআপ করতে গিয়ে তার ওজন ধরা পড়ে মাত্র সোয়া বারো কেজি,তাজ্জব বনে যান ডাক্তার কিন্তু কথা ঘুরিয়ে বলেন পুরনো মিটার ডিস্ট্রাব থাকতে পারে ইউরিন চেকাপে পজেটিভ ধরা পড়লেও বাচ্চা হয়নি তার কিন্তু যতবার চেকাপ করা হয়েছে ততবারই পজেটিভ রেজাল্ট এসেছে।
আজ প্রায় একবছর হয়ে গেল,ফারিয়াকে খোঁজার সর্ব প্রকার চেষ্টা ব্যর্থ।
অফিসের কাজে ঢাকা যাচ্ছে প্রবীর,'নীলসাগরে'।যথারীরি রাত এগারটায় ট্রেন ছাড়ল,কয়েক স্টেশন পেরোতেই পাশের সিট একজন ভদ্রমহিলা দখল করল।প্রথম দেখায় চমকে উঠল প্রবীর,নাঃ অবিকল ফারিয়ার মতো।যাচিতভাবে কিছু বলতে ইচ্ছ করছেনা।প্রবীর স্পস্ট দেখতে পাচ্ছে নাকের তিলটি অবিকল ফারিয়ার।ভদ্র মহিলা কয়েকবার আঁড় চোখে প্রবীরের দিকে তাকাল,মুখে মিষ্টি হাসি যেন কিছু বলতে চায় সেও।ভদ্র মহিলাই প্রথম বলল-ঢাকা যাচ্ছেন বুঝি? প্রবীর মিহি সুরে উত্তর দিতেই মহিলা বলল আমিও ওখানেই যাব। বেশ ভালই হল অনেকটা পথ একসাথে যাওয়া যাবে এবং হদিসও মিলবে প্রবীর মনে মনে ভাবে। মহিলা একটা চুইংগাম মুখে পুরে ভ্যানেটি ব্যগ থেকে একটি বই বার করার সময় প্রচ্ছদের উপর প্রবীরের চোখ পড়ে,সহসা চমকে উঠে 'আগুনের মেয়ে' সেই ফারিয়ার হাতের ঝকঝকে অটোগ্রাফ যেটা দশম বিবাহ বার্ষিকীতে ফারিয়া তাকে দিয়েছিল।মহিলার চোখে মুখে মিটিমিটি হাসিা
-প্লিজ বইটা দেখতে পারি
-অফকোর্স
বইটা উল্টেপাল্টে দেখে প্রবীর,নাঃ ঐ বইই তো
-প্লিজ বইটা কি আপনাকে কেউ গিফট করেছে
-হ্যাঁ
-কে সে
-ফারিয়া মেডাম আমার রুমমেট।
-চমকেউঠে প্রবীর
-চমকে উঠলেন যে চেনেন নাকি
-হ্যাঁ,না, মানে
-ও কে হয় আপনার
- আমি ওর হাজব্যন্ড
-তাই নাকি
-আমিও ওখানে যাচ্ছি,প্রবীর বুদ্ধি করে বলল।
-ফারিয়া মেডামের হাজব্যন্ড আছে কই কোন দিন বলেনিতে
-ভালই হল একসাথে গল্পে গল্পে যাওয়া যাবে।
-বেশ ভালই হল আমিও তাই ভাবছি।
ট্রেনের দুলুনিতে কখন যেন চোখ বুঁজে এল প্রবীরের,একটা ঝাকুনিতে তার ঘুম ভাঙল,দেখেন ভদ্র মহিলার সিট খালি,উনি নেমে গেছেন। মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল প্রবীরের। এদিক ওদিক খুঁজে ভদ্রমহিলার কোন হদিস মিলল না।
সেদিন এক পার্কে বসে আছেন আর ভবছেন ট্রেনের ঘটনা,এমন সময় বাদাওয়ালা হাক দিল-এ্যই বা-দা-
-এ্যই পাঁচ টাকার দে
-এই লন স্যার
প্রবীর বাদাম হাতে নিতেই দেখে বাদামওয়ালা যে বই থেকে পাতাটি ছিঁড়ে বাদাম মুড়ে দিয়েছে তার সেই 'আগুনের মেয়ে' প্রচ্ছদে ফারিয়ার ঝকঝকে অটোগ্রাফ।বাবু দেখি দেখি বইটি।বইটি হাতে নিয়ে দেখে সেই বই যেটা ফারিয়া তাকে দিয়েছিল।
-বাবু এটা তুমি কোথায় পেলে
-হে হে কি যে কন স্যার ছেড়া ফাডা কাগজের দোকান থিকা ওজনবাও কিন্না লইছি।
-বইটা আমাকে দিবে
-মন চায় লন
বইটির দাম বাবদ প্রবীর বাদাম ওয়ালার হাতে পঞ্চাশ টাকার একটা নোট দেয়।
-ওজন দিলে দুই তিন টেহা দাম অইব,লাগবনা, বলে নোটটি ফেরৎ দেয়। বইটা সাইড ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখে এবং ভাবে ফারিয়া এই ঢাকাতেই আছে। তার দৃঢ় বিশ্বাস ফারিয়ার দেখা সে পাবেই।
ফারিয়া নিখোঁজ হবার পর প্রতিদিন কিছুনা কিছু ঘটনা ঘটছে তাতে ফারিয়ার প্রতি তার মোহ বেড়েই চলেছে।ফারিয়াকে দেখেও দেখতে পায়না,ছুতে পেয়েও ছিতে পায়না।তার সারাক্ষন মনে হয় এই ফারিয়া এল বুঝি। ফারিয়া যে তাকে ঘীরে আছে তার আলামতও পাচ্ছে,কিন্তু ফারিয়া অধরা থেকে যাচ্ছে।মাঝা মাঝে তার সেই সেন্টের সুঘ্রাণ তাকে মাতাল করে তোলে।
বুকস্টলের পাশে চা খেতে খেতে একটা দুশ্য চোখে পড়ল প্রবীরের। এক ভদ্রলোক আল মাহমুদের বই খুঁজছে, বিশেষ করে আগুনের মেয়ে বইটি। প্রবীরের উৎসুখ দৃষ্টি ক্রেতার ভাবসাব পরীক্ষা নীরিক্ষায় ব্যস্ত। কাছে যায়
-ভাই আল মাহমুদ আপনার প্রিঢ কবি বুঝি
-না ভাই বইগুলো আমাকে ফারিয়া মেডাম নিতে বলেছে,কাকে যেন উপহার দেবে বলে।ফারিয়া মেডাম আমার মিসতুতে বোন।
-মিসতুতো বিঝলামনা।
-বুঝলেননা, মায়ের বোনের সোয়ামীর মেয়ে।
-অ (কেমন যেন ঘোরপ্যাচ লাগছে প্রবীরের) কিন্তু ভাবে এইই সুযোগ।
-আমরা আজি এসেছ আজি চলে যাব,আজ মেডামের বিশতম বিবাহ বার্ষিকী।
-আপনার মিসতুতো বোন ফারিয়া মেডামের সাথে দেখা করা যাবে
-এবার লোকটি প্রবীরের দিকে তাকায়, জ্বি চলুন।
একটি রিক্সা ডাকল ভদ্রলোকটি, রিক্সা শহরের অলিগলি গলে চলছে তো চলছেই।কেমন যেন অচেনা অচেনা ভাব,রাতটাও ঠাহর করা যাচ্ছেনা তেমন। এখন প্রবীরের ঘোর কিছুটা কেটে গেছে।রাস্তা,রাস্তার দোকানপাট সবি চেনা।রিক্সাও একটি চেনা বাসার সামনে এসে থামল, আরে এতো তার নিজের বাসা।লোকটির ইশারায় তার পিছু পিছুঢোকে বাসায়, একেবারে সদর কোঠায়।কিচেন থেকে রান্নার পরিচিত কড়া গন্ধ আসছে। কি এক মোহে প্রবীরকে টেনে নিল কিচেনে।ফারিয়ার অবিকল পিছনটা।প্রবীর বাকরুদ্ধ প্রায়,ক্ষীণস্বরে ডাকদেয় -ফারিয়া মৃদু হাসি দিয়ে ফারিয়া মুখ ফিরায়
-কি হল ডাকছ কেন স্বাভাবিক উত্মর ফারিয়ার।
-তুমি কেমন আছ
-কেমন আছি মানে কোন ভরকি নিয়ে এলে আবার
-তুমিনা আমাকে ফেলে চলে গিয়েছিলে
- আমি যদি চলেই গেলাম তোমাকে রেধেঁ খাওয়াল কে
-কে আবার কাজের বুয়া
-আমার কবিতাকে মেরে ফেলে আমাকে তো সারা জীবন কাজের বুয়াই ভাবলে!ফারিয়া খুনসুটিতে মেতে উঠে প্রবীর নিশ্চল
প্রবীর চারদিক দেখে ঘরের সব কিছু পরিপাটি আগের মতই আছে।বাঁধানো ছবি,টেবিলে ফারিয়ার বই,ঝকঝকে বিছানা, কিন্তু বিশ বছর কোথায় গেল কিছুই বোঝে আসছেনা।
-লোকটি কোথায় গেল
-কার কথা বলছ
-যার সাথে এলাম
-যার সাথে এলাম মানে কি আবোল তাবোল বকছ। সন্ধ্যায় ওকে নিয়েই তো তুমি বাজারে গেলে।
রাতে খেয়ে দেয়ে দুজনে শুয়ে পড়ল,ফারিয়া আবৃতি শুরু করল-আজি বাদলের দিনে বধুয়া আমার.......
খুব ভোরে যখন প্রবীরের ঘুম ভাঙে,ফারিয়া পাশে নেই,সব কিছু এলোমেলো। ফারিয়াকে ডাকে,কোন উত্তর নেই,তারপর অনর্গল ডাকতে থাকে ফারিয়া ফারিয়া বলে।চেচামেচিতে অনেক লোক জড় হয়। কেয়ারটেকার রিন্টি বলে পাগলামিটা হয়তো আবার বেড়েছে।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন