বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১২ অক্টোবর ১৯৯৩
গল্প/কবিতা: ২টি

সমন্বিত স্কোর

৪.৬৭

বিচারক স্কোরঃ ২.৮৭ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

গল্প - নগ্নতা (মে ২০১৭)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.৬৭ নগ্নতা

কথা ঘোষ
comment ২  favorite ০  import_contacts ১৬৬
ধানমন্ডিতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পাশে রিকশাটা থামলো।এর উপরের তলাতেই বোমেন পার্লার।এখানেই অতশীকে কনে সাজানো হবে।সারাটা রাস্তায় মেয়েটা কেঁদেছে।আজকের দিনটা আর সবটা দিনের মতোই কর্মব্যাস্ত একটা দিন এই শহরের বুকে।ব্যাস্ত এই শহরের বুকে এমন একটা মানুষ আসলেই নেই যে রাখবে অতশীর হৃদয় ভাঙার খবর।
অতশীর কেন যেন মনে হচ্ছে প্রতিটা মানুষ তার দিকে তাকিয়ে আছে।তার চোখের ভাষা কেউ কি পড়তে পারছে?অতশীর জীবনের অনেক কষ্টের নিরব সাক্ষী তার এ বোবা কান্না।
আজ হঠাৎ খুব বড় আপাকে মনে পরছে ওর।বড় আপার শরীরের স্নিগ্ধ গন্ধটা বাতাসে ভেসে আসছে!বড় আপার শরীরে একটা অদ্ভুত গন্ধ পেত অতশী,যেই গন্ধটার নাম অতশী দিয়েছিল 'মা মা গন্ধ'।
মায়ের মুখটা অনেক চেষ্টা করেও কখনো মনে করতে পারেনি অতশী।অতশীর যখন দুই বছর বয়স তখন ওর মা মারা যায়।বুঝতে শেখার পর থেকেই নানী খালাদের মুখে অতশী শুনে এসেছে তার মায়ের মৃত্যুটা ছিল অস্বাভাবিক।অতশীর বাবা আর মায়ের সংসার জীবনটা নাকি সুখের ছিলনা।অতশীর বাবা ছিল একটা মুখোশধারী লোক।অতশীর মা তার বাবাকে ভীষণ ভালোবাসতো কিন্তু তার বাবা তার মাকে সবটা সময় ঠকাতো।তার বাবা আসলে তার মাকে কখনো ভালোই বাসেনি।এই মুখোশধারী লোকটা ভালবাসতো তার নিজের চাচাতো বোনকে।অতশীর মা একটা সময় জানতে পারে অতশীর বাবার পুরনো প্রেম বিয়ের পাঁচ বছর পর যা পরকীয়ায় রূপ নিয়েছিল।অতশীর মা অনেক বুঝিয়েছে তার বাবাকে কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি।সব জেনেশুনে আর পাঁচটা বাঙালি সাধারণ মায়ের মত অতশীর মা ও ধরে নিয়েছিল একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে হয়তো।কিন্তু না কিছুই ঠিক হয়নি।একসময় এই পরকীয়া প্রেমের বলি হয়ে জীবন দিতে হয়েছিল তার মাকে।অতশীর মায়ের মৃত্যুর ছয় মাসের মাথায় তার বাবা বিয়ে করে নিয়ে আসে নিজের চাচাতো বোনকে।অতশীর মায়ের মৃত্যুর পর তার নানা তার বাবার বিরুদ্ধে খুনের মামলা করেছিল।অতশীর বাবা ছিল বিত্তবান প্রভাবশালী লোক তাই প্রথমে জামিনে মুক্তি পেলেও পরে ঐ মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেতে খুব একটা কষ্ট পেতে হয়নি তাকে।
অতশীর মায়ের মৃত্যুর পর তার নানি তাদের দুইবোনকে নিয়ে আসে নানার বাসাতে।সেই সময়টা নানির আদর ভালবাসা পেয়ে অতশী কখনো বুঝতেই পারেনি মায়ের অভাবটা আসলে কি!
অতশির যখন ৫ বছর বয়স তখন অতশীর নানা মারা যায় লঞ্চডুবিতে।নানার মৃত্যুর পর নানার বাসাটা হঠাৎ করেই হয়ে গেল মামাদের বাসা..
এর পরের সময়টায় মামারা যেনো পুরোই বদলে গেল।নানি আর অতশীরা দুবোন তিন জনই কেমন যেন বোঝা হয়ে গেল মামাদের কাছে।তিন মামার কেউই ওদের দায়িত্ব নিতে চাইলোনা।এর মাঝে মামারা কয়েকবার অতশীর বাবাকেও খবর দিয়েছে কিন্তু অতশীর মানুষরুপী জানোয়ার বাবা কখনো খোঁজ পর্যন্ত নেয়নি ওদের।
এরপর হঠাৎ করেই একদিন অতশীর নানির ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পরল।অতশীর একমাত্র ছোটখালা নানিকে ঢাকায় নিয়ে চলে এল ট্রিটমেন্ট করাতে।সাথে অতশীও এল।বড়আপাকে তখন গ্রামেই থাকতে হয়েছিল কেননা অতশীর খালু চায়নি এতগুলো মানুষ তার সংসারে উটকো ঝামেলা হয়ে এসে জুটুক।ছয়মাস বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হসপিটালে ট্রিটমেন্ট শেষে মারা যায় অতশীর নানি।
কচুরিপানার মত ভাসতে ভাসতে শেষ পর্যন্ত দশ বছর বয়সে অতশীর শেষ ঠিকানা হয় তার ছোটখালার বাড়ি।এরপর তিন চারটা বছর বেশ ভালই কেটেছিল অতশীর।বড় আপার সাথে মাঝে কয়েকবার ঈদের ছুটিতে মামাদের বাসায় ঘুরতে যাবার সুবাদে দেখা হয়েছিল।বড় আপার সঙ্গে থাকা সময়টাকে আজো খুব মিস করে অতশী।যতটুকু স্পষ্ট মনে পরে বুঝতে শেখার পর একবার খুব জ্বর হয়েছিল অতশীর।এই জ্বরের সময়টায় একটারাত ও ঘুমায়নি বড় আপা।রাতের পর রাত জেগে অতশীর উত্তপ্ত শরীরটাকে বুকে চেপে রাখতো মেয়েটা।অতশীও বড় আপার বুকে মুখ ডুবিয়ে শান্তিতে ঘুমাতো।
এই মেয়েটাকে জীবনে না পেলে অতশীর হয়তো জানাই হতোনা এতটা ভালো কি করে কাউকে বাসা যায়.....কি যে অদ্ভুত মায়া মায়া ছিল বড় আপাটা!ওর বুকে মুখ ডুবিয়ে থাকার অনুভূতিটা ছিল পরম শান্তির।
হঠাৎ একদিন অতশী খবর পেল মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে বড় আপার বিয়ে দিয়ে দিয়েছে মামারা।এর এক বছর পর বড় আপা মারা গেল মা হতে যেয়ে।
অতশীর জীবন থেকে এক এক করে হারিয়ে গেল তার সব প্রিয় মানুষগুলো.....
শহরের চার দেয়ালের বুকে ছোট্ট ফ্ল্যাটের বন্ধ পরিবেশে কাটছিলো অতশীর জীবন।দশ বছর বয়শী অতশী ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠছিল.... খালুর অমতেই খালা এক রকম জোর করে অতশীকে ভর্তি করিয়ে দিল আজিমপুর গার্লস স্কুলে ।ছাত্রী হিসেবে অতশী ছিল প্রচন্ড মেধাবী।অতশীর খালা চাকরি করতো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হসপিটালে।উনি পেশায় ছিলেন একজন সেবিকা।খালার কোয়ার্টার ছিল আজিমপুরে।ওখানেই থাকতো অতশীরা।খালা খালু আর দুই বছরের খালাতো বোন ত্রিশা এই ছিল খালার পরিবার।
খালা মাঝে মাঝেই রাতে হসপিটালে ডিউটিতে থাকতো।ছোট্ট ত্রিশাকে নিজের ছোট বোনের মত করেই আগলে রাখত সারাটা সময় অতশী। ত্রিশাকে পেয়ে অতশী খুব দ্রুত বড় হয়ে উঠছিলো।দায়িত্ববোধ,মায়া,মমতা,স্নেহ,ভালবাসা সবটা যেন সেই কিশোরী অতশীর মাঝে হঠাৎ করে একসাথেই চলে এল।
ছোটখালা মাঝেমাঝে মুগ্ধ হয়ে দেখতো অতশীকে।ছোট্ট একটা মেয়ে কি অদ্ভুত দারুন ভাবেই না আগলে রাখতো তার সংসারটাকে।ত্রিশা আর অতশীর মাঝে খালা হয়তো কখনোই কোন পার্থক্য করেনি।আস্তে আস্তে অতশী এই পরিবারেরই একজন হয়ে উঠল।
খুব ভালই কাটছিল অতশীর সেই সময়টা।পড়াশুনাটাও ভালই চলছিলো।ক্লাস এইটে স্কলারশীপ পেয়ে গেল অতশী।
ক্লাস নাইন এর প্রথম দিকের কথা। একরাতে অতশীর জ্বর জ্বর লাগছিলো।শরীরটা খুবই খারাপ হয়ে গেল হঠাৎ।খালার ঐদিন রাতে হসপিটালে ডিউটি ছিল।ত্রিশাও ঘুমিয়ে পরেছিলো।খালু বসার ঘরে বসে টিভি দেখছিলো। এরি মাঝে বৃষ্টি শুরু হলো।রাত প্রায় দশটা বাজে।অতশী একটু তাড়াতাড়িই বিছানায় চলে এলো।তন্দ্রার মাঝে চোখ লেগে এসেছিল অতশীর।হঠাৎ কারো হাতের স্পর্শে তন্দ্রা কাটলো অতশীর।চমকে উঠল সে!চোখ খুলতেই দেখতে পেলো অত রাতে খালু তার বিছানায়!!
---কি ব্যাপার খালু এত রাতে আপনি এখানে?
---তোর জ্বরের কি অবস্থা দেখতে এলাম।

এই বলে খালু হাত রাখল অতশীর কপালে।অতশী বলল,
---আপনি ঘুমাতে যান খালু।আমি একটা প্যারাসিটামল খেয়েছি ।জ্বর নেমে যাবে।

অতশীর কথা শেষ হতেই খালু উঠে দাড়ালো অতশীর বিছানা থেকে।এরপর দরজা পর্যন্ত এসেই দরজাটা ভেতর থেকে আঁটকে দিয়ে আবার গেল অতশীর বিছানায়। খালুকে দরজা বন্ধ করতে দেখে চমকে উঠল অতশী!

---কি করছেন খালু দরজা কেন বন্ধ করলেন আপনি?
শোয়া থেকে উঠে বসল অতশী।খালু মুচকি হেসে বলল,

---তোর গায়ে জ্বর উঠেছে খুব।এত তাপ তোর গায়ে!আমার শরীর দিয়ে তোর গায়ের সব তাপ শুষে নিবো।কোনোরকম চেচাঁমেচি নেকামো কিচ্ছু করবিনা।যদি এই রাতের ব্যাপারে তোর খালাকে কিছু বলিস তবে তোর খালা তোকে এমনিতেই এ বাসা থেকে বের করে দেবে।রাস্তায় যেয়ে থাকতে হবে তোকে।

অতশী খালুর এই রুপ দেখে নির্বাক নিস্তব্ধ হয়ে গেল।হাত পা গুটিয়ে বিছানার একপাশে সরে যেয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করল সে।কিন্তু না শেষ পর্যন্ত নিজেকে বাঁচাতে পারলোনা অতশী।খালু তার সুঠাম দেহ নিয়ে ঝাপিয়ে পরল অতশীর উপর।এক এক করে টেনে খু্ললো অতশীর সেলোয়ার,প্যান্টি সব।কামিজটা তখনো অতশী টেনে ধরে ছিল।অতশীর গালে এক চড় বসিয়ে কামিজটা টেনে ছিড়ে ফেলল খালু। অতশীর সারাটা শরীর নগ্ন হয়ে গেল। অতশীর নগ্নতা দেখে তার খালুর যৌনতার ক্ষুধা আরো দ্বিগুন বেড়ে গেলো।পরমুহুর্তেই অতশীর নগ্ন শরীরটাকে কুরে কুরে খেল সেই নরপিশাচ!
সেই রাতে অতশী তার কুমারিত্ব বিসর্জন দেয়ার পর এমন বহু রাত এসেছিল অতশীর জীবনে যেই রাত গুলোতে অতশী নিজে ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত হয়ে তার খালুর যৌনতার ক্ষুধা মিটিয়েছে।অতশীর নগ্নতা তার খালুর শরীরে চরম যৌন উত্তেজনা জাগাতো। তাই রাতের পর রাত অতশীকে থাকতে হতো পুরো নগ্ন হয়ে।
খালার মুখটার দিকে তাকালে খুব মায়া মায়া লাগত অতশীর।কত আস্থা বিশ্বাস ছিল ওর উপর খালার।কতবার অতশী চেয়েছিল সবকিছু তার খালাকে খুলে বলতে।কি যেন এক অজানা বাঁধা তাকে প্রতি মুহুর্তেই আকড়ে ধরতো।মাথার উপর নির্ভরতার আকাশটাকে হারানোর ভয় হয়তো নিজের অজান্তেই অতশীকে বাধা দিতো।তাছাড়া খালার সংসারটা নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়টাও অতশীর খুব বেশি ছিলো।

নিউমার্কেটের সামনের রাস্তাটায় মানুষের ভীড়টা বরাবর লেগেই থাকে..
বাস থেকে নেমে ঢাকা কলেজের সামনে এসে দাড়ালো সজল।খুসখুসে কাশিটা আজ কদিন বড্ড জ্বালাচ্ছে তাকে।ঠান্ডা পেয়ে বসেছে খুব করে।এই গরমে সারাটা রাত ঘামে ভিজে খালি ফ্লোরে শুয়ে থাকাটাই কাল হয়ে দাড়িয়েছে।কাশতে কাশতে বুকের ভেতরটায় ব্যথা শুরু হয়েছে।এর মাঝেই সেলফোনটা বেজে উঠে।হাতে নিয়েই ফোনটা কেটে দেয় সজল।স্ক্রিনে ভেসে উঠা নম্বরটার দিকে বিরক্তি নিয়ে তাকায় একবার।এরপর ফোন এর মেসেজ অপশনে যেয়ে টাইপ করে....
"ক্লাসে আমি।"
তারপর শিখার নাম্বারে সেন্ড করে দেয়।শিখা সজলের ছোটবোন।উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের ছাত্রী।এই একটা মাত্র মেয়ে পৃথিবীতে সজলকে সবচাইতে বেশি বোঝে।ফোনের ওপাশ থেকে মানুষের অনু্ভূতি গুলো বোঝা আসলেই ভীষন কঠিন একটা কাজ।কিন্তু এই কঠিন কাজটা সজলের বেলাতে কেমন করে যেন খুব সহজেই করে ফেলে শিখা।এইতো গত সপ্তাহের কথা মাসের প্রায় শেষের দিক। সজলের পকেট পুরোই খালি।সেদিন রাতে কিছু কিনে খাবার মত টাকা সজলের পকেটে ছিলনা। সুতরাং কোন উপায় না দেখে রাতে না খেয়েই ঘুমাতে গেল সজল ..
রাত প্রায় ১১টায় হঠাৎ শিখার ফোন!
সজল ফোনটা রিসিভ করতেই অনেক উচ্ছাস নিয়ে কথা শুরু করল শিখা,

---জানিস ভাইয়া এবার পহেলা বৈশাখে আমাদের কলেজে না মেলা হবে।আমায় একটা লালশাড়ি কিনে দিবি ভাইয়া?
পাগলিটার কথায় এতটা উচ্ছাস দেখে সজলের চোখে জল চলে আসে । সজলের বাবা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। পেশায় তিনি একজন প্রাইমারী স্কুলের এর শিক্ষক।তার স্বল্প বেতনের টাকায় যেখানে সংসারের তেল,নুন,চিনি,চাল ই ঠিক মত হয় না সেখানে বাড়তি কোনো চাহিদা করাটা ছিল আকাশের চাঁদ হাতে চাওয়ার মত।ছোটবেলা থেকেই সজল দেখে আসছে শিখাটা বরাবরি ছাপোষা।চাহিদা বলে এই মেয়েটার ভেতর কিচ্ছু নেই!সজল ছিল শিখার পুরোই উল্টো।
ছোট থেকেই সজলের চাহিদা ছিল অনেক।যদিও তার বাবা কখনোই তার কোন চাহিদা পূরন করতে পারেননি।একবার একটা ফুটবল কেনার জন্য বায়না ধরেছিল সজল। আজ না কাল কাল না পরশু এভাবে করে বাবা প্রায় প্রতিদিনই বলতো ফুটবল নিয়ে আসবে।সেইসময় টাতে সজল এর বুঝার ক্ষমতাটাই ছিলনা আসলে তার বাবার বল টা কিনে দেয়ার ইচ্ছে থাকলেও সামর্থ্যটা ছিলনা।
এরপর একরাত একদিন সজল সেই বলের জন্য বায়না ধরে না খেয়ে ছিলো।সেদিন সজলের বাবা খুব মেরেছিলো তাকে।পরদিন মা নিজের নাকের নথ বিক্রি করে সজলকে বল কিনে দিয়েছিলো।সজলের ভাবনার ঘোর কাটে শিখার "ভাইয়া এই ভাইয়া!" বলে ডাকার শব্দে।

---কি রে ভাইয়া দিবি না শাড়ি কিনে?
---দিব রে পাগলি।পেয়ে যাবি তোর শাড়ি।রাত ১১টা বাজে ঘুমাবি কখন?
---ঘুমিয়ে তো পরতাম রে ভাইয়া কিন্তু তোকে ফোন দেয়ার জন্য জেগে ছিলাম।আম্মুকে বলছিলাম সন্ধ্যা থেকে তোকে ফোন দিয়ে শাড়ি কিনে দিতে বলব।আম্মু বলে তোকে বলতে হবেনা।ফোনটাই দিচ্ছিলোনা আমাকে! তাই আম্মু ঘুমিয়ে যাওয়ার পর লুকিয়ে ফোনটা নিয়ে এসে তোকে ফোন দিলাম।এখন যাব ঘুমাতে ভাইয়া।কিন্তু একটা কথা তোর গলাটা এমন লাগছে কেন ভাইয়া!
তুই খাসনি রাতে কিছু?
---এত বেশি পাকামো করিস কেন তুই?যা ঘুমা।কেন খাব না রাতে?আমি তো একটু আগেই খেয়ে এলাম!
----আমায় মিথ্যে বলিস না ভাইয়া।তোর গলা শুনেই বুঝেছি আমি তুই খাসনি রাতে।
---এই তুই পাকামো করা বন্ধ করবি? আমার ভীষণ মাথাব্যথা।ঘুমাবো আমি।ফোন রেখে ঘুমাতে যা।
---যাচ্ছি ঘুমোতে।সকালে উঠেই খেয়ে নিস ভাইয়া।

শিখার ফোনটা কেটে দিয়ে স্তব্ধ হয়ে যায় সজল।সজল জানে শিখা সজলকে কতটা ভালবাসে।
ভালবাসার ক্ষমতা এতোটাও তীব্র হতে পারে!

আজ সকালেও না খেয়েই বেরিয়েছে সজল।শিখার ফোনটা রিসিভ করলে ও হয়তো সজলের কথা শুনেই বুঝতেই পারত সজল না খেয়ে আছে।আর একবার এই ব্যাপারটা শিখা বুঝতে পারলে হাজারটা কথা শুরু করতো।

আজ কদিন নিজের উপর নিজেরই দারুন বিরক্তি লাগছে সজলের।শিখার ফোন পেলে সজল এর সবসময়ই কথা বলতে ভালোলাগে।কিন্তু আজ কেন জানি শিখার নাম্বারটা ফোনের স্ক্রিনে ভেসে উঠতেই দারুন বিরক্তি চলে এল সজলের মনে।
তিনদিন আগে অতশীর বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে শুনার পর থেকে সজল যেন একরকম পাগল হয়ে গেছে।কতশত স্বপ্ন ছিল অতশীকে নিয়ে সজলের।
অতশীর সাথে সজলের প্রথম দেখা হয়েছিল নীলক্ষেতে।বর্ষার ঝুম বৃষ্টিতে অতশী দাড়িয়ে ছিল নীলক্ষেতের একটা বই এর দোকানে।বৃষ্টিতে আটকে পরেছিল মেয়েটি।পাশেই একটু দূরে দাড়িয়েছিলো সজল।হাল্কা বৃষ্টির ঝাপ্টায় কিছুটা ভিজে গিয়েছিলো অতশী।দূর থেকে হঠাৎই সজলের চোখ পরে অতশীর দিকে।সাধারন পোষাকে সাদামাটা অতশীকে বৃষ্টির ঝাপ্টায় আলতো ভেজা শরীরে সজলের চোখে অসম্ভব সুন্দরী লাগছিলো।অতশী এমনিতেই দারুন সুন্দরী।সেদিন এর সেই আলতো ভেজা বৃষ্টিতে অতশীর রুপে যেন আগুন লেগেছিল!
বৃষ্টি থামতেই অতশীর পিছু নিল সজল।অতশী নীলক্ষেত থেকে বেড়িয়ে নিউমার্কেটের দিকে হাটছিলো।সজলও একটু দূর থেকে অতশীর পিছুপিছু হাটছিলো।এরপর নিউমার্কেটের সামনে ওভারব্রীজের কাছে এসে অনেক মানুষের ভীড়ে হঠাৎ সজল হারিয়ে ফেলল অতশীকে।
তারপর কিটে যায় বহুদিন ,
যান্ত্রিক এই শহরের বুকে শত সহস্র মানুষের ভীরে সজলের চোখ যেনো শুধু অতশীকেই খুঁজতো।একটা মুহুর্তের জন্যেও সজল ভুলতে পারতোনা অতশীর মুখটা। ভাললাগাটা যেন হৃদয়ের ক্যানভাসে রংতুলি হয়ে প্রতিমুহুর্তে আচড় কাটতো!
সজল তো ধরেই নিয়েছিল আর কখনো কোনদিন অতশীর দেখা পাবেনা সে।কিন্তু না শেষপর্যন্ত অতশীর আর সজলের আবার দেখা হয়ে গেলো!
বাংলা একাডেমীর একুশে বই মেলায় এক বই এর স্টলে।এবার সজল আর বিন্দুমাত্র ভুল করেনি।চাতক পাখির মত বহু প্রতীক্ষা শেষে সজল যেদিন অতশীকে খুঁজে পেয়েছিলো সজলের চোখেমুখে সেদিন বিস্ময় ভাললাগা আর খুশির এক দারুন সংমিশ্রন দেখে হতবাক হয়েছিলো অতশী.......
বাতিঘরের বই এর স্টলে একপাশে দাড়িয়ে হাতে বই নিয়ে বই পরছিলো সজল।হঠাৎ চোখ পরল অতশীর দিকে,প্রথম পলকে নিজের চোখটাকে বিশ্বাস করতে পারছিলোনা সজল।পরক্ষনে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থেকে বিশ্বাস দৃঢ় হলো।হুম এই সেই বৃষ্টিতে ভেজা অপ্সরা যাকে একটিবার দেখলেই মনের এ্যালবামে বন্দী করে রাখা যায়।অতশীও বাতিঘরের স্টলে বই দেখছিলো পাশ থেকে তার বান্ধবী তাকে ডেকে বলল,"এই অতশী আমি ঐদিকটায় গেলাম তুই আয়।"
সজল সেই প্রথম জানতে পারলো মেয়েটির নাম অতশী।এরপর অতশী যখন সামনে হাঁটা শুরু করলো সজল হয়তো অনিচ্ছেতেই অবচেতন মনে বলে উঠল "অতশী দাড়াও!"
সজলের ডাকে ফিরে তাকাল অতশী! সজলের অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকা দৃষ্টি কিছুটা বিব্রত করল অতশীকে। হতবাক হয়ে অতশী প্রশ্ন করল,
---আপনি আমাকে ডাকছিলেন?
---হুম আপনাকে।
অনেক দ্বিধা আর সংকোচ নিয়ে উত্তর করল সজল।

---কিন্তু আপনি কে!আমি তো আপনাকে চিনতে পারছিনা!
---আপনি আমাকে চিনবেন না।কিন্তু আপনি আমার খুব চেনা।
---আপনাকে এর আগে কোথাও দেখেছি বলে তো মনে পরছেনা।আপনি আমার নামই বা জানেন কি করে!আপনি আসলে কে বলুনতো?
---আপনি আমাকে চিনবেননা।আপনি হয়তো আমাকে এর আগে কখনো দেখেনওনি কিন্তু আপনি আমার খুব চেনা।আমি চোখ বন্ধ করলেই আপনাকে দেখি।

সজলের কথা গুলো বড্ড বেশী অবাক করে অতশীকে।তবে কেন যেন কথা গুলোর মাঝে মায়ার ছোঁয়া পায় অতশী।সজলকে এড়িয়ে যাওয়ার বদলে অতশী সজলের কথা গুলো মুগ্ধ হয়ে শোনে!সজলের চোখের ভাষায় অতশী ভালোলাগার ছোঁয়া দেখতে পায়।খুব সাধারন সাদামাটা পোষাক আষাক এর এই সাধারন ছেলেটির কথা বলার ক্ষমতা অসাধারন।যে কোন মানুষকে নিজের কথার মায়াজালে আটকে রাখাটা সজলের একটা বিশেষ গুণ প্রথম কথায় এটা বুঝতে বিন্দুমাত্র কষ্ট হয়নি অতশীর।সেদিন এর সেই প্রথম পরিচয়ে অতশী নিজেই সজলকে বলেছিনো সে ইডেনে তৃতীয় বর্ষে পড়ছে।থাকে আজিমপুরে।

---আবার কি দেখা হতে পারে আমাদের?

সজলের এমন প্রশ্নের উত্তরে অতশী সজলকে জানায় চাইলে সজল ইডেনের সামনে কাল দুপুর দুইটায় অপেক্ষা করতে পারে।
কেন যেন প্রথম দেখাতেই সজলকে খুব আপন আপন মনে হয়েছিল অতশীর।মনে হয়েছিল ঠিক এমনই একজন মানুষের অপেক্ষাতে অতশী আজ বহুদিন অপেক্ষা করছে।আজ অতশীর প্রতীক্ষার প্রহর শেষ হলো...২৩ বছর পর বসন্ত এল অতশীর জীবনে।
এর পরের সময়টায় অতশীর জীবনে সত্যি বসন্ত এসেছিলো।
অতশীর তার জীবনের সব কালো অধ্যায় এর কথা অনেক আস্থা অনেক বিশ্বাস নিয়ে নির্দ্বিধায় নির্ভয়ে খুলে বলেছিল সজলকে।অতশীর বুকের গভীরে লুকিয়ে রাখা সব চাপা কষ্ট আর যন্ত্রনা গুলোকে সজল যেন অল্প কদিন এর মাঝে নিজের করে নিয়েছিল!অতশীর আস্থা বিশ্বাসে ভুল ছিলনা।অতশীর জীবনের সব কথা জানার পর সজল অতশীর হাতটাকে আকড়ে ধরেছিল শক্তভাবে।
দেখতে দেখতে ২ বছর কেটে গেল এর মাঝে।শহীদ মিনার,টিএসসি,মলচত্তর, চারুকলা,হাকিম চত্তর,ভিসি চত্তর, ফুলার রোডে প্রায়ই একসাথে দেখা যেত অতশী আর সজল কে।
অনেক কল্পনার খরকুটো দিয়ে প্রতিটা মুহুর্তে অতশী আর সজল আগামির স্বপ্ন বুনতো।
কিন্তু হঠাৎ সব স্বপ্ন নিমিশেই শেষ হয়ে গেলো!অতশীর খালু অতশীর বিয়ে ঠিক করল তারই ভাই এর ছেলে আমরান এর সাথে।আমরান সুইডেনে থাকে।বিয়ের কিছুদিন পর অতশীকেও নিয়ে যাবে সুইডেনে।ইতিমধ্যে আমরান বিয়ের খরচ বাবদ মোটা অংকের টাকা পাঠিয়েছে অতশীর খালুকে।অতশীর খালা খালু দুজনই ভীষন খুশি।আমরানের বয়স ৪৫ এর কাছাকাছি।এর আগে সুইডেনে এক বিদেশি মেয়েকে বিয়ে করেছিলো আমরান।কিন্তু বনিবনা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ডিভোর্স হয়ে যায়।কিছুদিন আগে দেশে ফিরে চাচার বাসায় বেড়াতে এসে অতশীকে চোখে পরে আমরানের।কালো পেটমোটা মাথায় টাক আমরানকে প্রথম দেখাতেই বিদঘুটে লেগেছিলো অতশীর।
ঢাকা কলেজের সামনের রাস্তা পার হতেই সজলের ফোনে আবার ফোন আসে।সজল ফোনটা হাতে নিয়েই ফোনোর স্ক্রিনের দিকে একবার তাকিয়ে ফোনটা রিংলেস করে প্যান্টের বা পকেটে রেখে দেয়।সজলের চোখ জলে ভিজে উঠে।কাঁদছে সজল।এতটা অসহায় লাগছে নিজেকে!অতশী ফোন দিয়েই যাচ্ছে সজলের ফোনে।আজ কদিন অতশীর সেই এক আব্দার।

"চল পালিয়ে বিয়ে করে ফেলি সজল"।

মেয়েটা আসলেই খুব বেশি ভালবাসে সজলকে।অতশীর জীবনে সজল ছিল অন্ধের লাঠির মতো।
কিন্তু শেষপর্যন্ত সজল হাত ছেড়ে দিল অতশীর।সজল পারলনা অতশীকে দেয়া কথা রাখতে।কি করবে সজল ওর যে কিচ্ছু করার ছিলোনা!নিজের একবেলা খাবার জোটাতে যেই ছেলেটা আজ অক্ষম সে কি করে এমন একটা অসহায় মেয়েকে তার সাথে জড়াবে!সজলের বাবা রিটায়ার করেছে ছয় মাস আগে।সজল এ বছর অনার্স ফাইনাল দিবে ঢাকা কলেজ থেকে।দুই তিনটা টিউশনি করে বাসায় টাকা পাঠিয়ে নিজের চলাটাই যার দায় হয়ে পরে সময়ে অসময়ে,সে কি করে আর একটা মানুষকে বাঁচাবে!মেসের চকিটা ভেঙে গেছে বলে আজ কয়েক মাস সজলকে মেঝেতে শুতে হচ্ছে সজলের রুম এর পাখাটাও নষ্ট আজ পাঁচদিন।ইলেকট্রিসিটির আসা যাওয়ার মাঝে বৈদ্যুতিক ফ্যানের কয়েলটাই হয়তো জ্বলে গেছে।এমন একটা জীবনের সাথে সজল কি করে জড়াবে অতশীকে!
এর চাইতে এই ভাল অতশীর বিয়ে হয়ে যাক।সুখ না থাক শান্তি না থাক খাবার অভাব আর টাকার অভাব তো থাকবে না মেয়েটার!

বিকেল শেষে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে।সজল বসে আছে চন্দ্রিমা উদ্দ্যানের লেকের পাশে।আজ অতশীর বিয়ে।অতশীটা এখনো ফোন দিয়েই যাচ্ছে!সজল ফোনটা হাতে নিয়ে বসে আছে!বারবার হাত দিয়ে চোখ মুছেই যাচ্ছে।অতশীর ফোন থেকে ক্ষুদে বার্তা আসে....

""সজল আমি ধানমন্ডি বোমেন পার্লারে।প্লিজ একটাবার আসো।আমি পারবোনা সজল তোমাকে ছাড়া বাঁচতে...বাঁচাও তুমি আমাকে।তুমিতো কথা দিয়েছিলে তুমি হাত ছুঁয়ে আছো থাকবে আজীবন।প্লিজ সজল তোমার অতশী কাঁদছে খুব কাঁদছে.....অপেক্ষায় আছি...আমার বিশ্বাস তুমি আসবে।""



অতশীর ক্ষুদে বার্তাটা পরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠে সজল।আমায় ক্ষমা করে দিও অতশী।আমি পারলামনা আমার কথা রাখতে।প্যান্টের পকেটের মানিব্যাগে ১০টা টাকা অবশিষ্ট আছে।এই টাকায় চন্দ্রিমা উদ্দ্যান থেকে ধানমন্ডি যাওয়ার কথা ভাবার সাহস একবার নিজের অজান্তেই মনে চলে আসে।কিন্তু পরক্ষনেই নিজেকে সামলে নেয় সজল।

মোবাইল ফোনটার সিমকার্ডটা খুলে চন্দ্রিমা উদ্দ্যানের লেকের পানিতে ফেলে দেয় সজল।এরপর সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে নিয়ন বাতির আলোর মাঝে হাঁটতে থাকে অজানা পথে......

অতশীর ঘুম আসছেনা।অসাড় নগ্ন দেহ নিয়ে সে পরে আছে বিছানার এক পাশে।আজ অতশীর বাসর রাত।এখন রাত প্রায় তিনটা বাজে।এই এক রাতের মাঝে দু দু বার অতশীকে নগ্নতার আদিম খেলায় মেতে উঠতে হয়েছে!অতশীর নতুন বর যেন বহুদিনের ক্ষুধার্ত নেকড়ে...লোকটা এখন পুরো নগ্ন হয়ে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে!হয়ত আবার একটু পরেই জেগে উঠবে মেতে উঠতে নগ্নতার আদিম খেলায়!আজ হয়ত জোৎস্না রাত্রি!জানালার পর্দাটা বাতাসে সরে যেতেই পশ্চিম আকাশের ভরা পুর্নিমার চাঁদটা চোখে পরে অতশীর।

জানালার বাইরে ভরা পূর্নিমার আলো আজকে রাতের সব অন্ধকার দূর করে দিলেও হয়তো আজ রাত থেকেই শুরু হল অতশীর জীবনের ঘোর অমানিশি.........।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন