বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৯ এপ্রিল ১৯৯৪
গল্প/কবিতা: ৪টি

সমন্বিত স্কোর

৩.০৭

বিচারক স্কোরঃ ১.৬৩ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৪৪ / ৩.০

গল্প - নগ্নতা (মে ২০১৭)

মোট ভোট ১২ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.০৭ নগ্নতার প্রসার

রেজাউল করিম
comment ১০  favorite ১  import_contacts ১৭৬
সেদিন খুব ভালভাবেই অপমানিত হয়েছিলাম! বিশ্বাস করার মত না। ঠিক চোখ দিয়ে পানি পরছিল। মারাত্মক রকমের অপমান, সাথে ভয়ও। ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় একটি মাত্র ফুটওভার ব্রিজ ছিল। যারা এই পথে চলেন তাদের চোখে হয়ত ধরা পরেছে।
যাইহোক! সেইদিন খুব গরম পরেছিল। ২০০৯ এর কথা। কাক ডাকা দুপুর আর জনগনের এত উপস্থিতি ছিল যে গরম আর ঘাম এক হয়ে গেছে। খুবই বাজে অবস্থা। খিটখিটে মন সবার। আমি রাস্তার এ পাশ থেকে ওপাশে যাচ্ছিলাম ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে। নিচ দিয়ে যাওয়া অসম্ভব, কারণ সেনাবাহিনারা দায়িত্বে আছে। একবার মাইর দিলে এক সপ্তাহ এই রাস্তার কথা ভুলে থাকতে হবে। তাই সবাই উপর দিয়েই যাচ্ছে। এমন মানুষের ভিড় দিয়ে যাচ্ছিলাম যে একজন কাদের সাথে আরেক জনের কাধ ঘষা না লাগা ছাড়া উপায় ছিল না।
হাটতেছি হাটতেছি হঠাৎ পেছন থেকে একটা ধাক্কা খেলাম। সামনে থেকে আসা দু’জন মেয়ের একজনের কাধের সাথে দিয়ে আমার ধাক্কাটা লাগলো। সাথে সাথেই তার হাতে থাকা দুধওয়ালা আইসক্রিম এর কৌটাটা নিচে পরে গেলে। মেয়েটার জামা-কাপড় তো নষ্ট হয়েছে সাথে আমার প্যান্টও। মেয়েটা আমার দিয়ে তাঁকিয়ে আছে কিছু বলবে মনে হচ্ছে কিন্তু পারছে না। কেন পারছেনা জানিনা। আমি সরি বলে পাশ কাটিয়ে আসতেছিলাম কিন্তু তার সাথে থাকা ভদ্র মেয়েটা আমাকে আসতে দিল না।
“অসভ্য ছেলে! দেখে চলতে পারেন না?”
প্রথমে ভদ্র মেয়েটি আমাকে অসভ্য দিয়ে শুরু করল। এই গরমে খিটখিটে মন নিয়ে বিনয়ী হওয়াটা খুবই কঠিন ব্যপার। তারপরও অত্যন্ত বিনয়ীর সাথে তাকে সরি বললাম। কিন্তু সে এই সস্তা সরি নিতেই রাজি নন। যেখানে হাটাই কঠিন সেখানে দাঁড়িয়ে থাকাটা কি হতে পারে। আপনারাই জানেন!
“দেখুন আমি ইচ্ছে করে করিনি। পেছন থেকে ধাক্কা এসেছিল আমি ব্যালেন্স রাখতে পারিনি তাই এটা ঘটল। আমি আবার সরি বলছি”
“ইশ! উনি ভদ্র সাঁজতেছে। মেয়ে মানুষ দেখলে হুশ থাকে না, নাহ! গায়ে এসে পরতে ইচ্ছে করে।”
এই ভদ্র মেয়েটি এমন করে আরও অনেক কিছুই বলে যাচ্ছে। যা এখানে লেখা সম্ভব হচ্ছে না। যে মেয়েটির আইসক্রিম পরল অথচ তিনি এক দৃষ্টিতেই তাঁকিয়ে আছে না কিছু বলছে আমাকে না বলছে তাকে। এই ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে সেই সময়টাতে যারা যারা গিয়েছে তার এক পলক হলেও আমার দিকে চোখ ফেলে যাচ্ছে। লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে গেছে আমার।
ভয় এর কথা বলেছিলাম না। একটা মেয়েই পারে একটা ছেলেকে মারতে আবার বাঁচাতেও। আমার সম্মানটা বড় ব্যাপার ছিল। এখানে মেয়ের জায়গায় ছেলে হলে আর এমন আচরন করলে হয় আমি লাশ হতাম নাহয় সে হত। মেয়েটা স্থানীয় কিনা আমি জানি না তবে সে এলাকার পাওয়ার দেখিয়ে মার খাওয়াতে চেয়েছিল। একজন খুবই ভদ্রলোক আমাকে তাদের কাছ থেকে নিয়ে আসে। আল্লাহ্ বাঁচাইছে....
ঠিক তার এক বছর পর ফার্মগেট এর ফুটওভার ব্রিজ তখন গভীর রাত। আমি সাধারনত নিয়ম মেনেই রাস্তায় চলতে পছন্দ করি। এত গভীর রাতে খুব কমই গাড়ি চলে আমি চাইলে রাস্তার মাঝ দিয়ে যেতে পারতাম। আনন্দ সিনেমা হলে সিনেমা দেখেছিলাম সে দিন রাতে। এখন সেই সিনেমা হলটা আছে কিনা আমার জানা নেই।
সিঁড়ি বেয়ে উঠতেই উপরে কোণে দু'জন মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। একজন জিন্স আর টাইট ফিট গেন্জি পরে আছে আর একজন সাদাসিদে ড্রেস পড়া। উপরে উঠতেই আমি তাকে চিনেছি। সেই ময়নামতির ক্যান্টনমেন্টর ভদ্র মেয়েটা। আমি তাকে ভুলিনাই আর ভুলব না। তাকে দেখেই পায়ের রক্ত মাথায় উঠে গেছে মন চাইছে ধাক্কা মেরে নিচে ফেলে দেই। কিন্তু দিলাম না। আমার সাথে থাকা বড় ভাই নিষেধ করেছেন। বলছেন উনারা ব্যবসায় নেমেছেন। তুমি বিরক্ত করিও না। আমাকে দেখে না চেনার ভাণ ধরে অন্য পাশে তাঁকিয়ে আছে।

দীর্ঘ ৬ বছর পর ভদ্র মেয়েটাকে দেখলাম। গত দু’তিন দিন আগে মিন্টু এসেছিল কক্সবাজার আমার কাছে। যিনি এখন ( ছোট সাহেব ) নামে পরিচিত। যাইহোক! তাকে রবিবারে বিদায় দিয়ে আসছিলাম। হালকা বৃষ্টি পড়ছিল তখন দুপুর সাড়েবারটা বাজে। আমি বিদায় জানিয়ে ধিরে ধিরে আসছিলাম হঠাৎ সমুদ্র থেকে বয়ে আসা একটা বাতাস এসে আমার ছাতাটা উল্টিয়ে দিল। আমি ঘুরে গেলাম। সামনে চায়ের দোকনের ছাউনির দিয়ে চোখ পরল সাথে সাথেই আমি থমকে দাঁড়ালাম নিশ্চিত হওয়ার জন্য। এটা কি সেই মেয়েটা! হুম। এটাই সেই মেয়ে। এই রকম ঠান্ডা বৃষ্টিতেও মেজাজটা গরম হয়ে গেল তাকে দেখেই।
সামনে আগালাম। তার সাথে তিন-চার বছরের একটা মিষ্টি মেয়ে দাঁড়িয়ে।
~“ আমাকে চিনতে পেরেছেন ম্যাডাম?”
“নাহ! কে আপনি”
~“কেন আমিতো আপনাকে ভুলিনাই! আপনি কেন আমাকে ভুলে গেছেন?”
“আপনি কি যা তা বলছেন? আপনাকে চিনে রাখার কি প্রয়োজন আছে আমার।”
~“আস্তে ম্যাডাম, আস্তে এটা আমার এলাকা! এটা আপনার ময়নামতি ফুটওভার ব্রিজ নয়।”
“ আপনি কি বলতে চান?”
~“ আপনার ব্যবসা কেমন চলছে? এখন কি ব্যবসা কক্সবাজারও ছড়িয়েছেন নাকি?”
চুপ করে আছে কোন কথা নয়। মাথা নিচু করে কান্না করে দিয়েছে। ছেলেদের মনতো তাই রাগটা কমে গেছে।
~“বাবু কার?”
“আমার?”
~“কে কে এসেছে?”
“আমি,মা,খালা,ছোটবোন। ওরা ওখানে আচার কিনছে”
~“আপনার স্বামী?”
“নেই”
~“নেই মানে?”
“আমার পাপের ফল এই মেয়েটা। অনেকগুলো বাচ্চা নষ্ট করার পর তাকে নষ্ট করতে গিয়ে আমার বিবেক বাধা দেয়। আরও অনেক কিছু ঘটে গেছে এই পুড়া কপালে। কে তার বাবা আমি জানি না?
~“বাবু যদি জিজ্ঞাসা করে বাবা কই?”
“বলবো বিদেশ গিয়ে আর ফিরে নি!”
এই বলে কান্না করে দিয়েছে। বাবু তার মায়ের কাছে ঘেষে দাঁড়াল।
আমি আবার তাকে বললাম, “এই উত্তরটা তো কিশোর বয়সের। যখন সে কিশোর ছাড়িয়ে শৈশবে পা দিবে তখন সে সমাজ বুজবে, বাস্তবতা বুজবে সেই সময়ে তাকে কি উত্তর দিবেন।” সে কান্না নিয়ে আমার দিকে তাঁকিয়ে আছে।
একটা সময় এসে সমাজ তাকে সব জানিয়ে দিবে। সে দিন হয়ত আপনি আত্মহত্যা করবেন নয়তো এই বাবুটা।
আমি আপনাকে অনেক খুজেছি প্রতিশোধ নেওয়া জন্য। যতবারই আমি বাড়ি গিয়েছি ততবারই আমি সেই ফুটওভার ব্রিজটার দিকে খেয়াল করেছি আপনাকে পাই কিনা? কিন্তু আজ পেয়েও প্রতিশোধ নিতে পারিনি।
~“ওকে, ভাল থাকবে। মেয়েটাকে একটা পবিত্র সমাজে নিয়ে বড় করার চেষ্টা করবেন।”
“একটা সেল্ফি উঠাতে পারি আপনার সাথে?”
~“ সম্ভব না! আমার পাগলি দেখলে আমার তেরটা বাজিয়ে দিবে।”
“আমি ফেইসবুকে আপলোড করবো না।”
~“ একবার বলেছি সম্ভব না”। এই বলে চলে আসতেছি। আবার পেছন থেকে ডাক দিল “ আপনার ফেইসবুক আই ডি টা দিবেন?”
~“ওটা মারা গেছে। আপনি আসতে পারেন।”.
সেই মেয়েটা আজ মহিলা হয়ে গেছে। তার একটা বাবু আছে। উনার বাবু উনার সম্পদ। উনি আজ একজনের মা।

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন