বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৯ জুন ১৯৬৯
গল্প/কবিতা: ৬টি

সমন্বিত স্কোর

১.৪৮

বিচারক স্কোরঃ ০.২৮ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.২ / ৩.০

প্রিয়তমা

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নভেম্বর ২০১৭

আঁধারে নীল নিয়ন

আঁধার অক্টোবর ২০১৭

ছারা বিবির শেষ রাত্রি

আঁধার অক্টোবর ২০১৭

গল্প - অবহেলা (এপ্রিল ২০১৭)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ১.৪৮ তোমায় দিলাম শত ধুতরাফুলের মালা

ধুতরাফুল .
comment ১৪  favorite ০  import_contacts ৪৩২
আমি যখন ক্লাস থ্রিতে পড়ি। তখন স্কুলে দেওয়াল পত্রিকায় লেখা আহবান করা হলো। আমি কাজি নজরুল ইসলামের লিচু চোর কবিতা নিয়ে হাজির।আমার লেখা জমা নেবার সময় বাংলার স্যার হাসতে হাসতে বসে পড়লেন। আমি বোকার মত স্যারের দিকে তাকিয়ে আছি।স্যার মাথায় বুলিয়ে বুঝিয়ে দিলেন বোকা ছেলে এটাতো কাজি নজরুল ইসলামের কবিতা। তোমাকে আঁকতে হবে নিজের মনের ভিতরের ছবি নিজের শব্দ দিয়ে।সেই দিন বুঝে ছিলাম নিজের লেখনী কাকে বলে।স্যার গত হয়েছেন সেই কবে। তবে আমার কচিমনে লেখালেখির প্রতি আগ্রহের যে বীজ বপন করে ছিলেন তা চির অম্লান হয়ে আছে স্মৃতিপটে।কলেজ জীবনে প্রচুর কবিতা লিখেছি তার কিছু কিছু স্হানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হতো অনিয়মিত।তখন ছিল স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অগ্নিঝরা দিন । স্বৈরাচার বিরোধী কবিতা লিখতাম নিয়মিত। আহা কি সব শিরনাম ছিল এক একটি কবিতার “মিছিলে কবিতা” “গনতন্ত্রের পতাকা”...........।
একমাত্র কন্যা তাসনোভার মায়ের সাথে যখন আমার বিয়ে হয়। তখন আমার স্ত্রীর বয়স মাত্র ১৬ বছর। সংসারের সব কাজে আমার মাকে সাহায্যে করা সহ ১২ কি.মি.দুরে থানা শহরে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেনীতে নিয়মিত ক্লাশ করতে যেত।আমি বই পড়ায় আগ্রহী ছিলাম একদম ছোট বেলা থেকেই। প্রায় শত বছর বয়সী মাধ্যমিক স্কুলের লাইব্রেরী ছিল যথেষ্ট সমৃদ্ধ। তার প্রায় সব বই পড়ার চেষ্টা করেছি এ্স এস,সি পরীক্ষার আগেই। ক্লাশের পাঠ্য বইয়ের ফাঁকে চুরি করে রোমেনা আফাজের দস্যু বনহুর, টমসয়্যার পড়ার জন্য স্যারদের বকুনি ছিল রুটিন ওর্য়াক। বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি হলে বাড়ী আসার সময় এপার বাংলা ও অপার বাংলার লেখকদের দুই চারটে বই সাথে নিতাম। সমরেশ মজুমদার ,সুনিল গঙ্গোপাধ্যায়, তাঁরা শঙ্কর রায়, নিমাই ভট্টার্চাজ,আশুতোশ মুখোপাধ্যায় সহ প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ ছিল সে সব তালিকায়। সারাদিনের কাজের শেষে সেই সব বই যত্ন করে পড়ার চেষ্টা করতো তাসনোভার মা । যেমন তেমন পড়া নয় উপন্যাসের চরিত্রদের নিয়ে তার ভাবনা ছিল অসাধারন। জলপাই গুড়ি ,শিলিগুড়ি, কলকাতার রাস্তাঘাট তার কল্পনায় ছিল জীবন্ত। একবার ব্যবসার দুঃসময়ে আমার আব্বার উপহার দেওয়া গয়না অবলীলায় আমার হাতে তুলে দিয়েছিল। সেই গয়না বিক্রী করে নতুন করে ব্যবসার মোড় ঘুরিয়ে ছিলাম। বড়ই মায়াবতী কন্যা । আব্বার দেওয়া সেই গয়না তাকে ফিরিয়ে দিতে পারিনি কিন্তু নতুন গয়নায় সে দুঃখ হয়তো বা কিছুটা ভোলাতে পেরেছিলাম। থানা শহরে কম্পিউটার ট্রেনিং এর সাথে যখন প্রথম ভিডিও ক্যামেরার ব্যবস্যা যুক্ত করলাম তখন সুমন রিমন নামে দুই জন ক্যামেরাম্যান ছিল আমার। ঠিক রাজকুমারদের মত দেখতে। আমাকে বলতো গুরু বাবা তাসনোভার মাকে ডাকতো গুরু মা । অচেনা লোকজন ভাবতো এরা দুটি আমার যমজ সন্তান। এক রুমের একটা ছোট্ট বাসা ছিল আমাদের থানা শহরে। কোন কোন দিন ভিডিও প্রোগ্রাম শেষ করতে রাত হয়ে যেত সুমন রিমনের। তখন আমাদের গ্যাসের চুলা, ইলেট্রিক চুলা,মাইক্রোওভেন কিছুই ছিল না । রাত দশটার সময় কাঠের চুলা জ্বালিয়ে সুমন রিমনের জন্য ভাত রান্না করতো তাসনোভার মা সাথে আলু ভর্তা ডিম ভাজি। খাবার শেষে ক্যামেরার ব্যাগ থেকে সুমন ম্যাজিকের মত কোমল পানীয়র বোতল বের করতো। “গুরু মা বকসিসের টাকা দিয়ে কিনেছি”। হটাৎ হাত তালির শব্দে ছোট্ট তাসনোভার ঘুম ভেঙ্গে যেত। বিছানায় উঠে সেও সেই অপার্থিব আনন্দে ভেসে যেত.......। আমার সেই পুত্র দ্বয়ের একজন(সুমন) একটি স্বনাম ধন্য স্কুলে কম্পিউটার শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আর একজন(রিমন) সিঙ্গাপুর প্রবাসী । ঈশ্বর তাদের মঙ্গল করুন।ছোট্টি এই থানা শহরে আমাদের একটি দ্বিতল বাড়ি হয়েছে। শখ করে তার নাম দিয়েছি তাসনোভা কটেজ। কিছু দিন আগে এক বন্ধুর বাসায় বেড়াতে গিয়ে ছিলাম তাসনোভার মাকে নিয়ে। তো সেই বাসায় এক প্রচ্ছদ সবর্স্ব লেখক বন্ধু আমাকে উপেক্ষা করে অন্য বন্ধুদের বই উপহার দেওয়ায় তার মনে ভারী কষ্ট। বড়ই অভিমানী কন্যা। বাড়ী এসে আমাকে বলে আমার বালা দু’খানি বিক্রী করে দেব তুমি এক খানা বই প্রকাশ কর। তোমার ফেসবুক লিস্টে সূচীপত্র,বাংলা প্রকাশ ,চন্দ্রদ্বীপের মত নামী দামী প্রকাশকরা আছেন।আমি এই সরল মেয়েটিকে কি ভাবে বোঝায় লেখক হবার মত যোগ্যতা ঈশ্বর আমাকে দেননি.......।
এমন যদি হতো পাপান-বুবানের বাবাকে বলতাম সাঈদ বারী ভাই(সূচীপত্রের প্রকাশক)তাসনোভার মায়ের জন্য একখানা বই ছাপিয়ে দিন...
কোন এক বৌদ্ধ পূর্নিমার রাতে ঘুমন্ত এক মায়াবতী কন্যার চন্দ্রালোকিত মুখে প্রতিবিম্বিত কিরণমালায় লিখে দিতাম “তোমায় দিলাম শত ধুতরাফুলের মালা”.......
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন