বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১২ মার্চ ১৯৯৭
গল্প/কবিতা: ১৭টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৯৫

বিচারক স্কোরঃ ১.৭৭ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.১৮ / ৩.০

ছলনা যখন নারীর মনে

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নভেম্বর ২০১৭

এখনও আমি সোহানাকে খুজি

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নভেম্বর ২০১৭

নীরবে ভিজতে থাকা এক ইষ্টিশান

আঁধার অক্টোবর ২০১৭

গল্প - আঁধার (অক্টোবর ২০১৭)

মোট ভোট ২৯ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৯৫ বিষণ্ন আঁধারের অতিথি

মোঃ নুরেআলম সিদ্দিকী
comment ৯  favorite ০  import_contacts ১২৪
অনেকদিন ধরে শরীরটা বেশি ভালো নয়, বাড়ির চৌকাট ছাড়া আর কোথাও যাওয়া হয় না। এক রাতে ঘুমানোর সময় মা’কে বলি, ফজরের আযান দিলে আমাকে জাগিয়ে দিও। টেবিলের বই গুলো এখন আমার অপেক্ষায় আছে, কখন পড়ে শেষ করবো? বই গুলোর যখন অপেক্ষার বাঁধ ভেঙ্গে যাবে, তখন অভিশাপ দিবে; ফলে আরও এক বছর সে ক্লাসেই থাকতে হবে।
): আ রে, আমার ছেলের এত বুদ্ধি হলো কখন থেকে? ছেলে তো দেখেছি পেঁকে গেছে...
=): হুম, তোমার ছেলে দিন দিন বড় হতে চলেছে না...
মা আমার কথা অনুযায়ী ঠিক সময়ে ঘুম থেকে জাগিয়ে দিলো। সারা বিকেল বেলা ফুটবল খেলেছি শরীটা খুব ব্যাথা হয়ে আছে। একটু অলস জাগলো, কিন্তু ক্রান্ত হয়নি; দ্রুত উঠে পড়েছি। বাহিরে ঠান্ডা বাতাস, এগারশ দশ মডেলের মোবাইলটা সাইলেন্ট করে পিছনে কাপড়ে গুঁজে নিয়েছি, আর দাত ব্রাশ করতে করতে মসজিদের দিকে ছুটছি...
নামাজ শেষ করে বাহিরে বের হয়ে কাপড়ের গুঁজো থেকে মোবাইল বের করে দেখি রফিক মামা ৫টা কল দিছে। এত সকাল বেলা কেউ কি এমন করে কল দেয়, চিন্তা ধরে গেলো। কল ব্যাক করতে দেখি-
আপনার মোবাইলে সম পরিমান রিচার্জ নেই, রিচার্জ করে আবার চেষ্টা করুন...
দু রো কপাল! দেখি অফিস থেকে আনা যায় কি না; কোড মারতে দেখি চলে আসলো। যা হোক চিন্তা নেই, অফিস থেকে দশ টাকা নিয়ে মামাকে ফোন দিলাম।
): মামা কি হলো, এত সকালে ফোন দিলে কেনো?
সাজিদ আমার তো গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ আছে, সেখানে যেতে হবে; তুই কিছুক্ষণের জন্য আমার দোকানে বসতে পারলে খুব উপকার হত।
আ রে, সারা বছর তো তোমার উপকার করেছি; ক্ষতি করলাম কখন?
তোমার ভাতিজা আছে না, তাকে বলো। আমি পারবো না, আমার কাজ আজে।
মামার আকুতিতে আর থাকতে পারলাম না। ঘরেও আর যাওয়া হলো না।
সোজা মামার দোকানে...
.
দোকান খুলে বসলাম। সকাল বেলা ভালো বেঁচা- কেনা চলছে। ঘণ্টা দেড়েক পর দেখি মামার মেয়ে সুলতানা দোকানের এক কোণে দাড়িয়ে এক পিচ্চিকে দিয়ে নাস্তা পাঠালো। সুলতানার সাথে অনেক দিনের মিষ্টি মিষ্টি আলাপ চলে, মনে হলো- সে মিষ্টি আলাপে আজ মিষ্টি নাস্তা পাঠালো। যা... এত কিছু ভাবার সময় আছে নাকি।
): কি রে পুছকি, লুকিয়ে লুকিয়ে কি দ্যাখছোস, আমি দেখছি তো নাকি?
=): তুমি একটা প্যাঁচা, তাই প্যাঁচার মত লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছো।
): ঐ কথা হিসাব করে বল, আর না হয় খবর আছে। এইটুকু বলার পর চলে গেছে।
কিছুক্ষণ পর বাজার একটু শান্ত হলো। ক্রেতাও কম আসছে, তাই জানালার পাশে বসে নাস্তার বাটি খুলে দেখি সুলতানার নরম হাতে লেখা একটা চিঠি...
অন্য বাটিতে দেখি আমার পছন্দের দুধ চিতাই পিঠা। চিঠিটা পকেটে ভরে একটি পিঠা নিয়ে যখন মুখে দিবো-
সে সময় দেখি একজন বুড়ো ফকির মা দাড়িয়ে আছে। মুখের দিকে খুব শ্রান্ত ভাবে অনেক্ষণ ধরে দেখে থাকলাম। দেখে খুব মায়া লেগে গেলো; মনে হয় অনেক বয়স হয়েছে, মুখের মাংস গুলো ভাঁজ পড়ে যাচ্ছে, শরীরটা খুব কাঁপছে। হাতে একটা লাঠি, শরীর কাঁপতে থাকায় হাতের লাঠি ঠিক বরাবর থাকতে পারছে না। পাশে একটা টেবিল ছিলো সেখানে গিয়ে বসলো। পায়ে জুতা নেই, চেচিয়ে হাটতে হাটতে পা থেকে রক্ত বের হচ্ছে। কথা বলতে খুব কষ্ট হচ্ছে, হাত ইশারা দিলো। আমি বুঝতে পেরেছি, কিছু দিয়ে বিদায় করতে বলেছে।
হাতের খানাটুকু আর খায়নি, মামাতো বোন আমার ইচ্ছে পুরণের জন্য অনেক শঁখ করে রান্না করা দুধ চিতাই আর খেতে ইচ্ছে করলো না।
): বুড়ি মা সকালে কিছু খেয়েছো?
মাথা নাড়িয়ে বুঝাতে চাইলো, না সে কিছু খায়নি।
ভিতরে চলে আসো, এগুলো খেয়ে নাও।
জিঙ্গেস করতে চেয়েছে, তুমি খাবে না?
না মা, আমার পেট ভরা আমি খাবো না। আবার ইশারায় বুঝাতে চাইলো- অর্ধেক রেখে দাও, ক্ষুধা লাগলে খেয়ে নিও। না আমি খাবো না...
এখানে বসে বসে খেয়ে নাও...
হাত ইশারা দিয়ে ব্যাগ দেখালো, মানে এখানে সে খাবে না। কিছুতে করে ব্যাগে ভরে দিয়ে দিতে বলেছে। ঘরে নিয়ে সবাই মিলে খাবে...
সব গুলো পিঠা কয়েকটা পলিথিন প্যাছিয়ে দিয়ে দিলাম। যাতে ছিড়ে না যায়। ইচ্ছা করেছে কিছু টাকা দিয়ে দিই, কিন্তু দোকানের মালিক তো আমি না; আমার পকেটে কোনো টাকা নেই। তবুও পঞ্চাশ টাকার একটা নোট হাতে ভরে দিলাম, আমি না হয় মালিকের কাছে ঋণ থাকি। পরে শোধ করবো।
বুড়ি মা কাছে ডাকলো, গেলাম। তার হাত দিয়ে মাথাটা ছুঁয়ে দিলো। এমন দেখে মনে খুব প্রশান্তি জাগলো। তাকে বিদায় দিয়ে দোকানে ঢুকে পড়ি।
.
কিছুক্ষণ পর একজন তরুণ বয়সের ক্রেতা এসে জিঙ্গেস করলো- ভাই ব্লেড আছে?
): ব্লেড দিয়ে কি করবেন ভাই...?
=) মুখ সেভ করবো।
ভাই ব্লেড তো নাই, তবে শিরিষ প্যাপার আছে! চলবে তো নাকি?
দু রো মিয়া, আর কিছু বুঝি পাইলেন না; হা হা হা...


সুলতানার চিঠিটার কথা ইতিমধ্যে ভুলে গেছি। হঠাৎ মনে পড়লো, দেখি মামাতো বোন কি লিখলো!
সে পুরো চিঠিতে বুঝাতে চাইলো, আমি আজ- কাল তাকে পুছকি বলে মজা করেছি। এই মজার প্রতিশোধ সে একদিন নিবে...
মনে মনে খুব হাসি পেয়েছি, তাই চুপিসারে হেসেছি।

একটুপর মামা চলে আসলো। মামাকে হিসাব বুঝিয়ে দিয়ে দোকান ত্যাগ করে সোজা ঘরে চলে গেছি।
মা বলে, কি রে এত দেরি হলো কেন? কোথায় ছিলি? তুই নাকি সকালে নামাজ পড়া শেষ করে সোজা ঘরে এসে পড়তে বসবি। কি ব্যাপার...
আ রে, তোমার সাথে বেশি কথা বলতে পারবো না; বাকিটা তোমার মেজো ভাই থেকে জেনে নিও...!
.
বেশ কিছুদিন আর কোথাও যাওয়া হলো না, পরীক্ষার চিন্তা আর বাবার ব্যবসা নিয়ে খুব একটু চিন্তিত ছিলাম। সময় মতো বাবাকে সাহায্য করা, পরীক্ষার পড়া গুলো ঠিক সময়ে গোছানো সহ যাবতীয় কিছু ভেজাল।

): হঠাৎ একদিন বিকেল বেলা, ঘরের পাশে কালভার্টের উপরে একপাশে বসে অনেক বন্ধু সহ আড্ডা দিচ্ছি। কিছুক্ষণ পর দেখি, সে বুড়ি মা। আমায় দেখে খুব আকর্ষণ করে দেখে আছে। তাকে ডাক দিলাম, কাছে আসলো।
): বাবা তোমাকে চিনি মনে হয়, কোথায় যেন দেখেছি...
হ্যা, একটি দোকানে। তো আপনি এখন ভালো আছেন তো?
হ্যা বাবা ভালো আছি। বুঝতে পেরেছি, মোটামোটি সুস্থ আছে। আগে কথা ভালো করে বলতে পারতো না, হাটতে পারতো না। এখন তো দেখেছি, তাও পারছে।
): বুড়ি মা দুপুরের খাবার খেয়েছেন?
=): না রে বাবা, এখনও খায়নি।
আসুন, ঘরে আসুন।
নিজের হাতে তাকে খাবার দিয়েছি, খাওয়ার জন্য। না সে এখানে খাবে না, বাড়িতে নিয়ে যাবে।
আচ্ছা, আপনাকে সেদিনও খাবার দিয়েছি, না খেয়ে বাড়িতে নিয়ে গেলেন; কারণটা কি বলবেন?
কি যে বলবো বাবা, কাউকে মনের কথা বলি না। তবে তোমাকে আমার একান্ত ভালো লেগেছে, তাই বলতে ইচ্ছে করেছে...
): এখান থেকে ৭/৮ কিলোমিটার দুরে আমার বাড়ি। আমাদেরকে সবাই এক নামে চিনে- মাতব্বর বাড়ী।
এক সময় এ এলাকার সবচেয়ে ধনী আমরা ছিলাম। তোমার চাচা অনেক বড় ব্যবসায়ী ছিলেন। ধন সম্পদ অনেক ছিলো। আমার পাঁচটি ছেলে আছে, কিন্তু আল্লাহ ভাগ্যে একটি মেয়েও রাখেন নাই...
এদেরেকে মানুষ করতে গিয়ে তোমার চাচা সব কিছু বিক্রি করে ফেলেছে। এখন থাকার ঘরটা ছাড়া আর কিছু নেই। এরা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার সহ আরও কি কি যেন হয়েছে, মূর্খ তো সব জানি না। তোমার চাচার, আমার মোটেও অক্ষর জ্ঞান জানা নাই।
এরা শহরে গিয়েছে, বড় বড় সংসারের মেয়ে বিয়ে করেছে। আবার কেউ কেউ বিদেশেও নাকি গেছে, আমাদেরকে মোটেও জানায়নি। এই যে পরিচিত কত মানুষ আসে- যায়, তাদের কাছে থেকে শুনেছি। আমরা মূর্খ বলে, তাদের স্ত্রী’রা আমাদেরকে মোটেও পাত্তা দেয় না। তোমার চাচার এখন অনেক বয়স হয়েছে, ৬৫-৭০ এর ভিতরে। এ বয়সে কি আর কাজ করতে পারে...?
): একদিন শরীরে অনেক জ্বর ছিলো। এ জ্বর নিয়ে কাজ করতে গেছে, কাজ করার মধ্যপথে নাকি বমি করলো, সে বমির সাথে অনেক রক্ত বের হয়েছে! আমাকে একজন এসে খবর দিছে। সাথে সাথে আমি মেডিকেলে নিয়ে গেছি। ডাক্তার পরীক্ষা করে বলেছে তার ক্যান্সার হয়েছে। তার রোগ এমন এক পর্যায়ে চলে গেছে তাকে বাঁচানো যায় কি না সম্ভব? তাই তাকে সব সময় বিশ্রাম নেওয়ার জন্যে বলেছে। সংসার তো আছে, বিশ্রাম নেওয়া কি আর হয়। এ রোগ নিয়েও অনেক কাজ করেছে, কিন্তু এখন আর পারছে না। অনেক মাস ধরে ঘরে শুয়ে থাকে চলতে পারে না, খায়তে পারে না।
নিজে খুব কেঁদেছি! শেষে কি আর করবো, বাকী কয়েকটা দিন বাঁচার মত সামর্থ্য যোগাড় করা দরকার। যাদেরকে একদিন নিজ হাতে ভিক্ষা দিয়েছি, সাহায্য করেছি, আজ কিভাবে তাদের কাছে ভিক্ষার জন্য হাত পাতবো?
তাই সে এলাকা সহ অনেক এলাকা ছেড়ে ভিক্ষা করতে আসি, যাতে মানুষ না চিনতে পারে। তবে তোমার চাচার মানা আছে, যাতে আমি ভিক্ষা না করি; কিন্তু ভিক্ষা না করে বাঁচবো কিভাবে?
আমার দ্বারা তো এ বয়সে মানুষের কাজ করা সম্ভব না, গ্রাম ছেড়ে শহরে গিয়ে গার্মেন্ট’স করা সম্ভব নয়! তাই আজ মানুষের দরজায় আসি।
এমন বলতে বলতে কেঁদে দিয়েছেন এবং শেষে বিদায়ী হয়ে গেছেন।
বুড়ির কথা শুনে দু’চোখের পানি চলে আসলো।
): বুকে খুব বেদনা জাগলো। ইচ্ছা করেছে, পড়া- লেখা আর করবো না, পড়া- লেখা করে যদি উচ্চ ডিগ্রি অর্জন করি একদিন হয় তো আমি ও আমার মা-বাবাকে ভুলে যেতে পারি। পেটের দায়ে হাত পেতে ভরণ- পোষণ যোগাতে হবে তাদেরকে। তবে না, শপথ করবো। যাতে সব সময় তাদের পাশাপাশি থাকতে পারি।
.
এরপর বেশ অনেকদিন কেটে গেলো। আমাদের বাড়ি থেকে এক কিলো মিটার দুরে হবে নানাদের বাড়ি। একদিন নানু যেতে বলল। নানুকে বললাম, ডাব খাওয়াতে পারবা কি না? নানু বলেছে- পারবো, চলে আয়।
সকাল বেলা গেলাম। বেমালুম রৌদ্র ছিলো, তাই নানুকে বললাম ডাব দাও। নানু দিলো, আর খেয়ে একটু বসলাম। কিছুক্ষণ পর বলল-
): তোর মামার নাকি পরশু দিন থেকে পরীক্ষা আছে, তাকে কিছু দাঁগিয়ে দিতে যদি খুব ভালো হতো...
=): দু রো নানু, তুমি এ বয়সে কেনো যে সন্তান নিলে ... ভালো লাগে না একেবারে। তুমি দ্যাখতে পারছো, তোমার নাতি হয়েছে- সে তোমারে লজ্জা দিবে, অথচ তা না ভেবে বাচ্চা একটা নিয়ে ফেলেছো। আর জামেলা সব আমার মাথায় ফেলার চেষ্টা করছো, কারণটা কি?
): মুখ সামলিয়ে কথা বল, অন্যত্ত তোর খবর আছে।
তুমি কারণ না বললে আমি চললাম কিন্তু...!
আ রে, না হয় অন্য একদিন বলি। আজকের জন্য মেনে নাও।
আচ্ছা ঠিক আছে।
.
): নানুর পিচ্ছিটাকে নিয়ে টেবিলে বসলাম, তম্মধ্যে পশ্চিমের বাড়িতে হৈ চৈ শুনা যাচ্ছে। মানুষের ভীড়ের জন্য দুর থেকে কিছু বুঝা যাচ্ছে না।
নানু বলে- যায় দ্যাখতো কি হয়েছে এখানে?
যায় দ্যাখি সে বুড়ো মা। বাড়ির উঠোনে রৌদ্র ভিতরে বসা,আর চার পাশের মানুষ হৈ চৈ করছে... তার শরীরটা থরথর করে কাঁপছে।
মানুষের ভীড়ের কারণে ভিতরে যাওয়া যাচ্ছে না, আর কেউ আমাকে যেতেও দিচ্ছে না। অনেক অনুরোধের পর ভীড় ফাঁক করে ভিতরে গেলাম, তাকে হাত ধরে উঠিয়ে পাশে গাছের নীচে বসালাম।
তাকে জিঙ্গেস করলাম- কি হয়েছে, আপনাকে নিয়ে সবাই এমন করেছে কেনো? তিনি ভালো করে কথা বলতে পারছেন না। যা বলেছেন তাতে বুঝা গেলো- আমি অনেক দুর থেকে মানুষের বাড়ি ভিক্ষা করতে করতে এ পর্যন্ত এসে খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছি; আর হাটতে পারছি না। ঐ যে তাল গাছ দেখেছেন, সেখানে খোলা- মেলা জায়গা আর হালকা বাতাস বলে বসেছি।
ঐ ঘরের নাকি দশ হাজার টাকা চুরে নিয়ে গেছে। আমি জানি না। কিছুক্ষণ পর আমাকে সবাই ঘিরে ধরেছে, আমি কোনো টাকা নিই নাই। আপনি আমার ব্যাগ দেখুন, আমার এখানে ভিক্ষা করা ছাড়া অত টাকা নেই। বলতে বলতে কেঁদে দিয়েছেন! ঘরের মালিক নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে ছেড়ে দিয়েছে...

আচ্ছা, এমন অসুস্থ শরীর নিয়ে তো আপনি বাড়ি যেতে পারবেন না! চলুন, আমি আপনার বাড়িতে পৌছে দিয়ে আসি। তিনি রাজি হয়েছেন। এরপর একটা লাইনের গাড়ীতে করে তার বাড়ির দিকে রওনা হয়েছি। বাড়ির কাছাকাছি যেতে দেখি, সে বাড়িতে অনেক মানুষের ভীড় দেখা যাচ্ছে। বাড়িতে যাওয়ার পর সবাই তাকে বলে আপনার স্বামী ইন্তেকাল করেছেন। বুড়ি মা শুনে দাড়ানো থেকে পড়ে গেছেন! পরে সবাই ঘরে নিয়ে এসে দেখে তিনিও মারা গেছেন।
আমি বোকার মত হয়ে গেছি, যাকে এত কষ্টে করে এত দুর থেকে কি মরে যাওয়ার জন্য নিয়ে আসলাম; ভাবতে অবাক হয়ে গেলাম...
যা হোক, সৃষ্টিকর্তা যা করেন ভালোর জন্যই করে থাকেন! মারা গেছেন কি আর করার, নামাজটা পড়ে লাশ কবর দিয়ে চলে যাবো।
.
বাড়ির থেকে কাছাকাছি শহর ছিলো। কারা যেন বুড়ি মা’র শহরে থাকা সন্তানদের খবর দিলেন। তারা আসলো, কিন্তু এ এলাকার মুরব্বিরা তাদেরকে খাট ধরতে দেয়নি। এমন কি মা বাবার মুখও তাদেরকে দেখতে দিলেন না!
সর্বশেষে নামাজটা পড়ে, লাশ কবর দিয়ে খুব কষ্ট নিয়ে বাড়ি ফিরলাম...!!
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন