বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
গল্প/কবিতা: ১টি

সমন্বিত স্কোর

৪.১৫

বিচারক স্কোরঃ ২.০৫ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.১ / ৩.০

গল্প - প্রেম (ফেব্রুয়ারী ২০১৭)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.১৫ আন্দার পট্টির জীবন প্রবাহ

মো সাইফুল ইসলাম রনি
comment ৮  favorite ১  import_contacts ৩৮৯
আজ সকালটা গতকালের থেকে একটুও উন্নত নয়। কামাল ঘুম থেকে সবে মাত্র উঠেছে। মেজাজটা একটু খিট খিটে। গতকাল রাতে কাস্টমারের সাথে তুমুলঝগড়া করেছে। সম্ভবত এ কারনেই রাত্রে ভাল ঘুম হয়নি। একজন সুস্থ মানুষের দৈনিক প্রয়োজনীয় ঘুমের ঘাটতি থাকলেই সকালে উঠে তালে-বেতালে বকে। কামালের ক্ষেত্রে তাই অনুমান করা যাচ্ছে। ঘুম থেকে উঠে বিবি ছেলে কাউকে না পেয়ে হাক ডাক শুরু করলো কামাল।
তারা মিয়া কই রে....! ও তারা মিয়া। বেশ কয়েকবার ডাকে সাড়া শব্দ না পেয়ে চোখ কচলাইতে কচলাইতে বাহিরে বেরহয়ে এলো। এবার মেজাজ গরম ভাব নিয়ে; তারা মিয়া হারামজাদা কই গেলি রে। তারা মিয়া তার বাবার সব কয়টা ডাক শুনে ও কোনো সাড়া দেয়নি। এর কারন হলো কামাল প্রায় প্রতি দিনই কাস্টমারের সাথে নয় ছয় হিসাব নিয়ে ঝগড়া বাধে। মারামারি অবশ্য করে না, মুখের যুদ্ধেই সীমাবদ্ধ। আন্দার পট্টিতে বসাবাসরত ছোট বড় সবার অস্র আছে। সবাই প্রতিদিন একে অপরকে এ অস্র দ্বারা আঘাত করে। যুদ্ধ করেও এ অস্রের ধার কমে না, বারুদ ও শেষ হয় না। সে অস্রটা হচ্ছে
অকথ্যভাষায় গালি গালাজ করা।
তারা মিয়া কে দেখে কামালের রাগটা আরো দশ ডিগ্রী বেরে গেল। তারা বুঝতে পেরেছে আজ তার নিস্তার নাই। আবাশ্য বুঝতে প


তারা বুঝতে পেরে আর দারিয়ে না থেকে ঘোড়ার দৌড় দিতে বাধ্য হলো। কামাল ওরে বদ..... তোরে খাইছি রে.........বলে ১৪ বছরের ছেলের পিছু দৌড়। কামালের বউ নাসু বানু বাপ ছেলের অবস্থা দেখে বুজতে বাকি রইল না গতকালের রাতের কথা। পিষু মিয়া আন্দার পট্টির পুরানো বাসিন্দা। চুলে পাক ধরেছে। মুরব্বি বলেই পারা গেয়ো সমাজ আন্দার পট্টির সবাই একটু আধটু তাকে মান্য করে। কেউ মানুক আর না মানুক, দরবার-শালিসে উপস্থিত থাকবেই পিষু মিয়া। কামাল কে পিষু মিয়া থামালো কিন্তু তারাকে থামাবে কে। পিছু না চেয়েই দৌড়ে বেরাচ্ছে তারা। পিতাকে কিছুদিন আগেও এত ভয় পেতো না তারা। কিছুদিন আগে মোমেন মিয়ার ছেলের সাথে বিড়ি খাওয়ার দৃশ্য দেখে কামাল উপযুক্ত পেদানিতে তারা এখন বাবাকে বাঘের মতো ভয় পায়। আজকেও হয়তো তারা মিয়ার চামাড়া কুনোব্যাঙ এর মতো খস খসিয়ে ছারতো কামাল। কামালেরর ঘুমের ঘোরটা কেটে গেল। বাড়ির পশ্চিম পাশে ঈদগাহর পাশে এসে বসে কনুর দেখা। কনুর সাথে কথায় মজে গেল কামাল।

আন্দার পট্টির একটু পরিচয় দেওয়া যাক। আমি যে জায়গাটার নাম দিয়েছি আন্দার পট্টি তার আঞ্চলিক নামটা একটু ভিন্ন। বড় কর্তাদের পাঁচ একর জমিতে ঘরে উঠেছে আন্দার পট্টি। এ যায়গাটা গত দুই যুগ পূর্বে ও খালি ছিলো। বড় কর্তা নিজামউল্লা গ্রামের বাজারের দক্ষিন পাশের যায়গাটা খুব কমদামে খরিদ করে ফেলেন। ইচ্ছা ছিলো এখানে কোল্ডস্টোরেজ করবেন। কিন্তু তা আর হলো না। কর্তার বড় মেয়ে তিথি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পরাতে চট্টগ্রাম চলে যেতে হলো। ডাক্তারি পরামর্শ ছিলো তিন বছর চট্টগ্রাম থেকে চিকিৎসা কোর্স শেষ করে তবেই ফিরতে হবে। নিজামুল্লা সাহেব কোল্ডস্টোরেজ করার সব চিন্তা বাদ দিয়ে মেয়েকে বাঁচানোর চিন্তাকে প্রাধান্য দিতে হলো। তাছাড়া তিথি গার্মেন্টস বস্রালয়টা ও ছিলো চট্টগ্রামে। তাই সাত পাচ ভেবে চিন্তে দেশে ব্যবসা করার চিন্তা মাথা থেকে ছুড়ে ফেলে দিলেন। তাই আর হলোনা কোল্ডস্টোরেজ। নিজামুল্লা সাহেবের শহরের ব্যবসা খুব ভালো চলছে। পাশাপাশি কয়েকটা গার্মেন্টস কারখানা থেকে নিজামুল্লার ব্যবসা ভালো চলছে। একদিন নিজামুল্লা অফিসের কাজ শেষ করতে রাত ১২টা বেজে গেলো। নিজামুল্লা সাহেবের পরিচিত এক রিক্সার ড্রাইভার কে ডেকে রিক্সায় উঠলেন। আজকের আন্দার পট্টির সেই মুরব্বি পিষু মিয়াই ছিলো সেদিনের রিক্সার ড্রাইভার। পিষু ও নিজামুল্লা রিক্সায় চড়ে আগ্রাবাদের উদ্দেশ্য চলছে। যদিও রাত ১২.৪৫ মিনিট শহুরে পরিবেশের জন্য ততটা গভীর রাত্রি ছিলো না তথাপুরি লুটতরাজ ও চুরি ডাকাতির জন্য এ পথে রাত্র ১০টাই ছিলো নিঃশব্দের যামিনী ও মহাবনের আমাজানের থেকেও ভয়ংকর। মহাবনের আমাজানে দিনের বেলায় ও সূর্যালোক মাটি পর্যন্ত গিয়ে পৌছায় না। শিয়াল-কুকুর কোনো নিরিহ প্রানী কে একা পেলে যে ভাবে আক্রমন করে বেড়ায়, তেমনি আজকের যাত্রায় পিষু আর নিজামুল্লার চলিত পথে কয়েকদিন পর পর মানুষ টেনে ছিড়ে খাওয়ার খবর পাওয়া যায়। পিষু মিয়ার কোনো প্রকার ভয় না পাইলে ও নিজামুল্লার মনে ভয়ের তুফান বয়ে যাচ্ছে। ক্ষনে ক্ষনে বার বার দোয়ায় ইউনুস পাঠ করছেন। "লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুন্তু মিনা যোয়ালিমিন"। পিছন থেকে পিষু মিয়া বার বার আশ্বাস দিচ্ছে স্যার কিচ্চু হবে না। আল্লাহ আছেন। এ কথা বলতে না বলতেই ৫-৭ জনের একটা পিস্তল্ধারী দল এসে ঝাপিয়ে পড়লো নিজামুল্লা সাহেবের হাত ব্যাগটির ওপর। কথায় ঈ বলে যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই রাত হয়। নিজামুল্লা বুজতে পারলো তার চার লক্ষ টাকার আশা জিরো। কিন্তু পিষু মিয়ার দুর্দান্ত সাহসে এভাবে বেচে যাবে কখোনো কল্পনাও করতে পারেনি নিজাম। নিজামুল্লা ছিন্তাই কারীদের সাথে ধস্তাধস্তি তে মগ্ন, এরি মাঝে ঘটে গেলো আসল গঠনা। পিষুর রিক্সার সিটের নিচে ছিলো দুই ফিট সমান সুপারির ডান্ডা। চুপি চুপি বের করে কোনো দিকে না তাকিয়ে এক এক করে তিনজনকে তিনটি দিতেই বাকি একজন পিস্তল বাহির করে গুলি করলো পিষুকে লক্ষ করে। পিষু মাটিতে শুয়ে পরাতে তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। ইতি মধ্যেই একটি পুলিশে পিকাপ আসাতে ওরা দৌড়ে পালায়। সেদিন থেকে পিষুর সাথে গড়ে উঠে পিষু আর নিজামুল্লার দোস্তির বন্ধন। এতদিন গরিবি মানুষের প্রতি যে মানুষিকতা ছিল তা আজকে আর নেই। গতকালের নিজামুল্লা আর আজকের নিজামুল্লায় বিরাট ফারাক দেখা যাচ্ছে। এত মহত্ত কে দেখাতো যদি না সে দিন ঘটনার চক্রে না পড়তো। এক পর্যায় পিষু তার সকল আর্থিক দুরদশার কথা সবিস্তার বর্ণনা করিলো। এতেই নিজামুল্লা সাহেব মহত্তের শেষ টুকু ও পিষুর প্রাপ্য পুরষ্কার হিসাবে মাথা গোজার একটা স্থান করে দিলেন আন্দার পট্টিতে। শুধু পিষুই না, তার সাথের বসাবাসরত বস্তিবাসীর বিনা খাজনায় আবাস্থল করে নিল আন্দার পট্টিতে। স্থানীয়ারা এই যায়গাটা কে জাংগাল পাড়া নামে ডাকে। আন্দার পট্টি আর জাংগাল পাড়ার মধ্যে তফাত কি,,,,,,,? আন্দার পট্টির সাধারণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে, একটি এলাকা যেখনের শতকরা ৯১% মানুষ আন্দার বা অন্ধকারে বাস করবে। এই অন্ধকারের অর্থ রাত্রের অন্ধকার নয়। যারা চোখের সামনে ঝলসানো আলো দেখেও আলোর পথে আসতে ভয় পায়, আলো যাদের চোখে বিশ্রী আর বিড়ম্বনা ই মনে হয়। এরা আলো থেকে দূরে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। কেউ আলোর উদ্ভাসিতা পথ দেখালে হ্যয় করে। এরা সবাই অন্ধ।

আন্দার পট্টিতে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে ছোট ছোট ঘর গুলো একটির সাথে আরেকটি ঘেষে দাড়িয়ে আছে। মনে হচ্চে যেন কলিমদ্দির ঘরটি পিষুর ঘরের সাথে ভর দিয়ে দাড়িয়ে আছে। যেন পিষুর ঘরটাই আটকিয়ে রাখছে কলিমদ্দির ঘরটি কে। বিষয়টি সবার চোখেই দৃশ্যমান। এ নিয়ে প্রতিদিনই ঝগড়া বাধে। পিষু আর কলিমদ্দির ঝগড়া। এ যেন যুদ্ধ। মহাযুদ্ধ। মেঘ বিষ্টতে কলিমদ্দির চালার পানিতে পিষুর ঘরে প্লাবন আর বন্যা। আর কালবৈশাখিতে ঝড়ের ধাক্কায় প্রায় ডানদিকে ত্রিশ ডিগ্রি বেকে তেড়ছা হয়ে যায়। পিষু চেঁচামিচি করে ঠিক করে আবার বেঁকে যায়। গত কালবৈশাখিতে ঘড়টি পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিলো। তাই আকাশে কালো মেঘের ছায়া দেখলেই পিষু কলিমদ্দিকে লক্ষ করে গুলা বারুদ বিস্ফোরণ শুরু করেন। ওরে কলিমদ্দি আইজা আমার ঘরের কিচ্চু অইলে তোরে আমি ছারমু না রে। বেয়াক্কেল কোনহানকার, অই তোর আক্কেল জ্ঞান নাই রে। আমার কারনে তোরা হগ্লে এইহানে থাকার যায়গা পাইছত আর আমার লগেই নিমখারামি করছ। কর কর তোরা কইরা যা বড় সাহেবের কাছে নালিশ করছি। এইবার তোর একডা বিহিত না করে আমি থামছি না। ওপার থেকে কলিমদ্দির জবাব আসলেই যুদ্ধের রুপটা ভয়াল আকার ধারন করে। ইতিপূর্বে কয়েকবার যুদ্ধের ফলসূরপ মাথা ফাটাফাটিতে পরিসমাপ্তি ঘটে। এলাকার গন্যমান্যরা প্রথমে বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে সমাধান করার চেষ্টা করতো। এখন আর তেমন গুরত্ব দেয়না। গুরুত্ব না দেওয়ার কারনটাও স্পষ্ট। বিচার শেষে রায়ের কথা বলতেই যার বিপক্ষে রায় হয় সে বলে উঠবে; আমি এই বিচার মানি না। হাবিবুল্লা সাহেব এলাকার একজন গন্যমান্যদের একজন। আন্দার পট্টির বিচারকার্যে সবসময় প্রধান শালিসি ব্যাক্তি। তিনি ধার্মিক, ন্যায়পারায়ন। গ্রামের সবাই তাকে বেশ পছন্দ করে। ওনার লেবাস টাও যথেষ্ট মুল্যায়ন করে। আজকেও কলিমদ্দি ও পিষুর বিচারকার্যে প্রধান অতিথি হাবিবুল্লা সাহেব। "আমি কি বলছিলাম পিষু তুই পিছনের যায়গাটায় তোর ঘরটা সরিয়ে নিয়ে যা। প্রয়োজনে কলিমদ্দি খরচের একাংশ বহন করবে" আরে না হাবিবুল্লা ভাই, আপনি এইডা কি সিদ্বান্ত দিলেন। বলতে বলতে উঠে দাড়ালো পিষু। কলিমদ্দি বিড় বিড় করে কি যেন বলছে। আরে ও কলিমদ্দি তুই কি পিষুরে টাকা দিবি না...? হ আমি আর্ধেক টাকার এক পয়সা ও কিন্তক দিমু না। এবার হাবিবুল্লা সাহেব পিষুকে উদ্দেশ্য করে, শোন তোরাই এখানে থাকবি, অযথা ঝগড়াঝাঁটি করিস না। ওই কলিমদ্দি তুই কিন্তু তিন হাজার টাকা আজকে সন্ধার মধ্যেই শোধ করে দিবি। আচ্ছা আমি দিয়ে দিব। কামাল কোথায় রে....? কেন হাবিব ভাই? এমনিতেই ওকে আমার একটু দরকার ছিল যে। ও বড়শালঘর গেছেন। ও আসলে বলবি সন্ধায় যেন আমার সাথে দেখা করে। জি কাকু কমু নি। তাহলে এখানেই শেষ। এ নিয়ে প্রায় কয়েকশতবার শালিস করেছে তার হিসাব নাই। তবুও সমাজের একটা অংশ মনে করেই বার বার সৃষ্টি হওয়া বিশৃংখলা শান্ত করতে সার্বিক চেষ্টা করেন। হয়তো তারই অবদানে এই আন্দার পট্টি বিগত একযুগ থেকে বেশ পরিবর্তন হয়েছে। তার প্রমানস্বরুপ বলতে পারি নাসু বিবি তার বড় ছেলে আরশাদ কে মাধ্যমিক পাশ করিয়েছে। তারা মিয়া কে পড়ানোর জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। অবশ্য তারা এবার সপ্তম শ্রেনীতে উত্তীর্ণ হয়েছে। ছেলেটার মেধাশক্তি যথেষ্ট। এরই মধ্যে আন্দার পট্টির ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা সকালে মক্তব ও বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। দল বেধে যায়। যেখানে কখোনো সূর্যের আলো পড়েনা সেখানের যায়গাটা স্যতস্যতে যা দেখতে কারোই ভালো লাগে না। আর ঐ যায়গাতে সূর্যের আলোয় উজ্জ্বলতার সেইরকম পরিবর্তনের রুপরেখা ভেসে উঠে। আন্দার পট্টির পরিবর্তনে তাই লক্ষ করা যাচ্ছে। প্রতিদিন দলবেঁধে স্কুলে যাওয়ার দৃশ্যটা তারই নকশা ফুটে উঠে। হাবিবুল্লা সাহেবও তাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বিভিন্ন সহযোগীতা করে যাচ্ছে। প্রতিদিন হাবিবুল্লা সাহেবের ছোট মেয়ে আরাফা বিকেলে আন্দার পট্টির ছেলে মেয়েদের পড়ায়। আদেশটা হাবিবুল্লা সাহেবেরই। আরাফা এবার দশম শ্রেনীতে বিজ্ঞান শাখায় পরছে। ছাত্রী হিসেবে খুবই ভালো। গতবার জে.এস.সি তে গোল্ডেন এ* বিদ্যালয়ে প্রথম হয়েছ। তাই বাবার মতো মেয়েটা ও সবার চোখের মনি। আজকাল গ্রমে গ্রামে তাদেরই নাম। এই প্রচেষ্টা আগামী একযুগ থাকলেই এই এলাকাকে আন্দার পট্টি বলা যাবে না। উন্নতির ধারা অব্যাহত রাখলে আগামী একযুগে বাল্বের বাতি জ্বলবে তা বুজা যাচ্ছে। আন্দার পট্টির আশে-পাশের লোকজন বলে বেড়ায় এরা খুব খারাপ, এরা মদ খোর, বাবা খোর, জুয়াটি। অবশ্য বিষয়টি মিথ্যে নয়। এখানে বসাবাসরত পুরুষ দলের সবাই এক্টু আধটু গোল্লায় গিয়ে আছে। কেউ তাস জুয়া, কেউ বাবা, কেউ গাজা কেউবা মদের মত মারাত্মক নেশায় জর্জরিত। আজকাল মানুষ বাবাকে ও ছাড়ছেনা হজম করে বেরাচ্ছে। , এ নিয়ে সমাজপতিরাও ব্যাপক মাতামাতি করছেন। কিন্তু কি হবে জিবানু যেখানে ঢুকে পড়ে সেখন থেকে অতি সহজে তা কি তারানো সম্ভব। নেশা এমন এক ব্যাধি যার ছোবলে পড়লে সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে আর সময় থাকেনা। এক মাত্র মিত্যুতে ফিরে পায় স্বাভাবিকতা। এর প্রতিকারের জন্য বাবা মায়েদের ভূমিকা থাকার প্রয়োজন। কিন্তু আন্দার পট্টিতে এর বিপরীত ক্রিয়া। দেখা যাচ্ছে বাবা ছেলে এক সাথে মদ্যপান করছে। মাতলামি করে বেড়াচ্ছে পুরো পট্টি জুড়ে। তবে আজকাল তার চিত্র খুব কমই চোখে পড়ে। হয়তো বা হাবিবুল্লা সাহেবের অবদান। প্রথম প্রথম শক্ত হাতে দমন করেছেন মদ্যপায়ীদের। যাকে পেয়েছেন তাকেই পিটিয়েছেন। আন্দার পট্টিতে পারুলের স্বামী জুমান কে দিয়েছিলো কড়া দক্ষিনা। তাতে অবশ্য হাবিবুল্লা সাহেব কে দুই হাজার জরিমানা দিতে হয়েছিলো। তবুও তাদের পিছু ছাড়েন নি। তবে সেদিনের পেদানি দেখে মদ্যপায়ীর দল বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিলো। কেউ কেউ প্রতিজ্ঞা করে বসেছিলো কখনো আর পট্টিতে ফিরে আসবেনা। কেউ কেউ একমস পরে ফিরে আসে। যারা ফিরে এসেছে তারা সবাই এক এক করে হাবিবুল্লা সাহেবের সাথে দেখা করতে যাচ্ছে। কারন এটা ছিলো হাবিবুল্লা সাহেবের আদেশ। আন্দার পট্টির কারো ক্ষমতা নেই তার আদেশ অমান্য করার। তবে জুমান কে পিটানোর ব্যাপারটায় এখন আন্দার পট্টতে মাতলামি কমেছে। রাত বিরাতে প্রাই চিল্লাচিল্লি শোনা যেত। "আমাকে আজ রাজা রাজা লাগছে, আমি রাজা। পদ্মাপাড় তুই আমার শারমিনকেই চোখে দেখলি। আমাকে তোর চোখে পরেনি? আমাকে নিয়ে আমার ছোট্ট মেয়েটা কে রেখে যাইতি"। আরো কত কি বলে বেড়ায়। তবে মদ খেয়ে সবাই উচ্চস্বরে চেঁচামিচি করে না। জুমনই এই কাজটা বেশী করতো। তাই পেঁদানিটাও তার কপালেই জুটেছিলো। যতদূর জানা যায়, জুমনের বাড়ি ছিলো বরিশালের ভোলায়। চড়ের পাড়ে বাড়ি ছিলো। নদী ভাংগনে তার চার বছরের মেয়ে শারমিন বিলীন হয়ে যায় নদীর গভীর জলে। রাত্রে গভীর ঘুমে ছিলো বাবা জুমন ও মা পারুলের সাথে। রাত্র একটা। প্রচন্ড একটি ঝাঁকুনির সাথে জুমনের পরিবারের সবাইকে এক হ্যাচকা টন দেয় পদ্মা। তাতে জুমন ও তার মেয়ে সুচানা ও পারুল বেচে গেলেও ছোট্ট মেয়েটি বাঁচতে পারেনি। ফিরে আসেনি আর কখনো আদরের শারমিন। সেই থেকে জুমন একটু বেশে গিলে ফেললেই সাউন্ড বেড়ে যায়। আমার প্রবল ইচ্ছে ছিলো এই সিলেটি ভাইয়ের সাথে দেখা করার। কেননা ওনার সিলেট থেকে ভোলা যাওয়া এবং ভোলা থেকে আন্দার পট্টতে আসার গল্পটা আমার একান্ত প্রয়োজন। এই সপ্তাহে যাওয়ার ইচ্ছেটা দমে গেল। কামাল কাল রাতে নাকি প্রচন্ড গোন্ডগল বাধিয়ে ফেলেছে। রাতেই পুলিশ এসে হাজির। আসামি ও বাদি দুটোকেই পাকরাও করে নিয়ে গেছে পুলিশ। কামালের বউ নাসু বানু খুব ভোরেই রান্নাবান্নার কাজ সেরেফেলে। এই ব্যাপারে তাহার বেশ খ্যাতি আছে। কিন্তু আজ বেলা এগারটা বেজে গেলেও চুলায় কোন হারিপাতিল চড়ছে না। সবাই গোমরা হয়ে বসে আছে। ছোট ছেলে সম্রাট কান্নাকাটি করছে। রাত্রে বিশহাজার টাকা দিয়েও ছাড়াতে পারেনি পুলিশের হাত থেকে। থানার ওসি সাহেব জেলা হাজতে চালান করে দিবে। এতে কমপক্ষে দশ বছর জেলে থেকে পচে মরতে হবে। তার জন্য সবাই দুশ্চিন্তিত। আন্দার পট্টিতে প্রতি সপ্তাহে এরকম দু-একজন করে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। ছাড়া পেয়ে আবার চলে আসে। এমনিতে কি আর ছাড়ে। টাকা দিয়ে ছুটে আসতে হয়। কিছু দিন আগের ঘটনা। পুলিশের লোক ছদ্মবেশ ধারন করে আন্দার পট্টিতে ঢুকে। খাস খরিদ্দারের অভিনয়টা নিশ্চয় জেলে আটক থাকা কারোর কাছ থেকে শিখে নিয়েছে। তাই অতি সহজেই মিনুকে ধরে ফেলতে সক্ষম হয়েছিল পুলিশবাহিনী। মিনুকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করেছে, "এইটা কি মিনু ভাবী? আমি উমুক। আমার এত পিস ইয়াবা ট্যাবলেট লাগবে। জেল কয়েদীর শিখানো অভিনয়ে করে ধরে ফেলছিলো মিনু কে। বেচারী সারাদিন ফেরী করে বেড়ায়। চুরি, খোপা, টিপ, লিপিস্টিক আরো হাবিজাবি। আসল ব্যবসা টা তো জমে রাত্রিরে। সেদিন ধরা খেয়ে যা টাকা খড়ি জমিয়েছিলো সব দিয়ে কোনোরকম বেচে এসেছে। তাই কামাল কে ধরে নিয়ে যাওয়াতে খুব আফসোস করছে মিনু। থানার নয়া ওসিডা দুইন্নার জাউরা। আমার টেহাডি সব নিয়াও আমারে চালান দিতে চাইছিলো। তোরা দেরি না কইরা তারাতারি মোশারফ ওকিলের কাছে গিয়া কও। কামাল কে পুলিশ ধরে নিয়ে যাওতে পট্টির সবাই কামালের ঘরের সামনে উপস্থিত। যে যেভাবে পারছে পরামর্শ দিচ্ছে। সারাবছর এখানের মানুষ নিজেদের মধ্যে যতই ঝগড়াঝাঁটি মারামারি করে না কেন বাড়ির কোন বিপদে সবাই ঐক্যবদ্ধ। সবাই যেন একাত্নার মধ্যে বাস করছে। আজ তাই করা হচ্ছে, সবাই টাকা নিয়ে আসছে। কেউ উকলের খোঁজে।কেঊ শান্ত্বনা দিচ্ছে, কিচ্ছু হবে না। কামাল চলে আসবে। পিষু গত সপ্তাহ ধরে বাড়ি নাই। কলিমদ্দি কোথায় যেন কাজের খোঁজে গিয়েছিলো কিন্তু ফিরে আসতে হলো অতি তারাতারি। এক ঘন্টার মধ্যে মোটামুটিরকম একটা বুঝ করে কলিমদ্দি, দুলাল,হিরন ও একজন উকিলের সহকারীকে সাথে নিয়ে থানার দিকে হাটছেন সবাই। সবার হাটার লক্ষ্য একটাই কামালের ছাড়। দেখা যাবে কামালকে ছাড়িয়ে এনেই আবার বেধে যাবে ঝগড়া। তখন আর এই মিল মহব্বত কিছুই থাকবে না। তা না হলে চলে না যে আন্দার পট্টির ছোটলোক মানুষগুলোর। পাশের গায়ের মানুষ বলে বেড়ায় আন্দার পট্টির মানুষ নাকি ঝগড় না করলে পাকস্থলীর খাবার হজম হয় না। সবাই যেন বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে যাচ্চে কামালকে ছাড়িয়ে আনতে। হাটার গতিতেই যেন কানে এসে বাজে #কামালের কিছু হলে ছাড়বো না। কিন্তু কামাল যে অপরাধের দায়ে জেলে গেছে এ যেন তাদের বিবেকে কাজ করছেনা। অশিক্ষত মানুষের একটাই সমস্যা যে কোন বিষয়ের এক দিকই চিন্তা করে। নেতিবাচাক দিকটাই প্রধান্য দিয়ে ইতিবাচকতার চরম ঘিনা করে। কামালকে ধরে নিয়ে গেছে তার অন্যায়পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে এটা তার প্রাপ্য ছিল। আসামীর সাজা হওয়াই উচিৎ। কামালের কর্মকান্ডে এলাকার ছোট ছোট ছেলে গুলো আসক্ত হয়ে পরছে। যার দরুন বিভিন্ন ধরনের অপরাধ করছে। এ প্রভাব এখন আশেপাশের আটদশটি গ্রামেও পরছে। এ চিন্তা আন্দার পট্টির কারো মাথাই কাজ করছে না। এমন কি বুড়ো পিষুর মাথায় ও না। পিষুর ছেলে হিরু তার চোখের সামনেই দিব্যি খেয়ে যচ্ছে বাবাকে। কিন্তু বাবা নির্বিকার। আর এই নিরবতার কারনেই থানায় পিষুকেও তিন তিনটি মামলার হাজিরা দিতে হচ্ছে। হিরু এতদিন জেলেই ছিল। এক সপ্তাহ আগে যামিনে বেড়িয়ে এসেছে। দুই বছর হাযতে থেকেও সোজা হয়নি। কুকুরের লেজের মতো সারাদিন বেধে রেখে সন্ধ্যায় ছেড়ে দিলে আবার বেকে যায় হিরুর বেলেয় তার ব্যাতিক্রম কিছুই না। পিষু বাধা দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ছেলে হয়ে বাবাকে মেরে ফেলার হুমকি! আন্দার পট্টতে এটা আশ্চর্যের কিছু না। ছেলে সন্তান্দের কন্ট্রোল করতে না পারলেই তারা গোল্লায় যায়। পড়া লেখা শিখানো বড় মুশকিল হয়ে পড়ে। আন্দার পট্টিতে এই বিষয়টি লক্ষনীয়। মাঝে মাঝে এগুলো নিয়ে পেপার পত্রিকায় মাঝে মাঝে লেখালেখি হয়। কিন্তু তাতেও কারোর মাঝে সামান্যতম পরিবর্তনের চিহ্ন ও দেখা যায়না। হিতে বিপরিতই ঘঠে। এখানের যারা বসবাস করছে তাদের প্রত্যেকেরই বৈচিত্র্যময় জীবন। এক একটা জীবনের কাহিনীতে তৈরি হয়ে যাবে এক একটি নাটক। হয়তো এই নাটকের কাহিনী ভদ্র সমজে কেউ পছন্দ করবে না কিন্তু বাংলার আটষট্টি কিংবা সত্তর হাজার গ্রাম বাংলায় বসবাস করা এই রেখাচিত্রের মানুষের কাছে উপজিব্য হবে তাতে কোনো সন্দেহ নাই। আর্থিক অনটন ও সংগ্রামের অর্থ তারাই বুজবেন যারা পিষু কিংবা কলিমদ্দিদের মতো সংগ্রাম করে জীবন পরিচালনা করেছে। আমাদের জীবনটা একটা চলমান গাড়ি। আর আমরা সবাই তার ড্রাইভার। কোন গন্তব্য নেই, আবার প্রয়োজনে আস্কমিক এক একটি গন্তব্য উদ্ভব হয় যেখানো পৌছানো দুষ্কর হয়ে পরে। যারা ভালোভাবে ড্রাইভিং করতে পারে তারাই গন্তব্যে পৌছাতে পারে। বেপড়োয়া ভাবে পরিচালনার দরুন ব্যাক ফেইল করে। ফলসূরপ দূর্ঘটনার সম্মুক্ষীন এবং গাড়ির ধূলিসাৎ।

দুই
কামালকে ধরে নিয়ে যাওয়াতে পুরো পট্টিটা খালি খালি লাগছে। বাড়ির গৃহপালিত পশু-পাখি গুলো ও বুঝে গেছে। কলিমদ্দির পালিত ছাগল দুইটি সারাদিন ব্যা ব্যা করে চিল্লাইতো। আজ তাদের সামনে কোনো খাওয়া নাই তবুও কোনো শব্দ করছে না। ছোট ছোট ছেলে মেয়ে গুলো সারাদিন এদিক ওদিক টৈ টৈ করে ঘুরে সন্ধ্যায় এসে বাড়িতে হাজির হয়। সারাদিন কোথায় থাকে কি করে তা জানার প্রয়োজন মনে করে না আন্দার পট্টির জননীরা। যেখানেই থাকুক না কেন সন্ধ্যায় এসে হাতের মূঠুয় ধরা দিতে হবে এই ভরসায় সারাদিন তারা চিন্তামুক্ত থাকে। তবে গত দুই দিন একটু ভিন্ন। মা বাবা বাড়িতে না থাকায় এক যায়গায় জড়ো হয়ে খেলাধুলা করছে। মাটি দিয়ে হারিপাতিল তৈরি করছে। আজ তিন দিন হয়ে গেল কামালকে ছাড়িয়ে আনার কোন প্রচেষ্টাই সফল হতে পারে নি। পিষু নাকি হাজতে গিয়েছিলো কামালকে দেখতে। এসে সবিস্তর বর্ণনা করিল। কামালকে প্রচুর মেরেছে। চোখ দুইটি ভয়ংকর রকমের লাল হয়ে আছে। পিষুকে দেখে চিনতে পারে নি। দারগা সাহেব বলেছে কালই কামালকে চালান করে দিবে। রিমান্ডের আবেদন করবে। মঞ্জুর হলেই শুরু হবে শশুর বাড়ির জামাই আদর। তখন হয়তো কারা কারা এই কাজ করে জিজ্ঞাস করলে হিরু, মিনু ও ময়নার মায়ের নাম হর হর করে বলে দিবে কামাল। তাতে ভীত হয়ে আছেন উল্লেখিত নামধরী ব্যক্তিরা। কামালের ঘরে কান্নার রোল পরে গেছে। কামালের বড় মেয়েটা খবর পেয়ে শশুর বাড়ি থেকে ছুটে এসেছে সকাল সকাল। এসেই কান্নাকাটি। একাই কেঁদে কেঁদে বাড়িটাকে মাথায় তুলে ফেলছে। বাবাদের প্রতি সব মেয়েদেরই ভালোবাসার মাত্রাটা একটু বেশী থাকে। তার প্রমান এখানেও মিলেছে। নসু বানু বার বার জ্ঞান হারাচ্ছে। কামালের হাতে হাতকড়া এ খবর শুনে রাতে এখন আর আসছেনা যুবকদলরা। রাত্র নয়টা হলেই শুরু হতো তাসের আড্ডা, ইয়াবার বানিজ্যমেলা। যে যত খুশি খাও, খেয়ে খেয়ে জীবনটা কে গুটিয়ে ফেলো। আজ কাল রাত্রের আড্ডাবাজিটা কমেছে। এতদিন পড়ে আজ ঝি ঝি পোকাদের ডাক শোনা যাচ্ছে। এতদিন ও হয়তো ঝি ঝি পোকারা ডেকেছে কিন্তু কারো কানে আওয়াজ আসেনি। আসবে কি করে, রাত মানেই তো আন্দার পট্টিতে কোলাহল। চাঁদনী রাতে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা বাহিরে বসেপরে। গল্পগুজব করে, রূপ কথার কাহিনী শুনে। হাজারো গ্রাম বাংলার সাথে মিল না রেখে পারেনা এখানকার নিচু সভ্যতার মানুষগুলো। আন্দার পট্টির পশ্চিম পাশে একটি পারিবারিক কবরস্থান আছে। রাত গভীর হয়ার সাথে সাথে শিয়ালের ডাকাডাকি শুরু হয়। তখন হয়তো গল্পকার পিষু কিংবা কলিমদ্দি তাদের গল্পের ইতি টেনে দেয়। আজকেও আকাশটা হেসে বেরাচ্ছে চাদের আলোতে। মনে হচ্ছে চাদের দেশে হাট বসেছে। কিন্তু আজ প্রতিদিনের মতো কেউ বাহিরে গল্পগুজব করতে বাহিরে পাটি পেতে বসছে না। আজ হিরুর বন্ধুরা আসছে না পাল্লা দিয়ে মদ্য পান করতে। বলাচলে পুলিশ এখানে একশ চুয়াল্লিশ ধারা কিংবা কারফিউ জারি করেছ। এই ভয়েতে কেউ এখানে আসছেনা। পুলিশ সন্দেহজনক যাকে পাবে তাকেই ধরে হাজতে ঢেলে দিবে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে ধরেও ফেলেছে। আন্দার পট্টি থকে নয় পাশের গ্রাম হিরাপুর থেকে। ওখানেও মাঝে মাঝে যুবসম্প্রদায়রা একত্রিত হয়ে নিজেকে ধ্বংস করে। এরাই মুলত আন্দার পট্টির কামাল ও মীনুর নিয়মিত ক্রেতা। এরাতো গোল্লায় গেছে, প্রতিদিন নতুন কাউকে এনে যুক্ত করছে তাদের দলে। দল ভারি করছে। এর শেষ যে কোথায় হবে তা কেউ জানে না। এদিকে কামালের অবস্থা খুবই শোচনীয়। গতকাল রাতে মাইরের চোটে গাজা সসরবরাহক কয়েকজনের নাম বলে দিয়েছে। তাও মেরেছে। পত্রিকায় ছাপিয়ে দিয়েছে কামালের ছবিটা বড় করে ছাপিয়েছে। কামালকে আজ জেলা আদালতে পাঠিয়ে দিবে এই অর্ডার ওসি সাহেব পাঠিয়ে দিয়েছেন। কামালের পরিবারবর্গ সবাই উপস্থিত হয়েছে দেখা করতে। এই পাঁচ দিনে কামালের চেনার কোন চিহ্নই পুলিশ রাখেনি। কামাল ও কাউকে চিনতে পারছে না। বউকেও চিনতে পারছেনা। পিষুকে দেখে কাঁদকাঁদ গলায় বলছে, "মীনু ও হীরুকে বলবেন সাবধানে যেন থাকে। গত কাইলের মাইরের চোটে নিজের অনিচ্ছায় ও তাদের নাম বলে দিয়েছি। বিশ্বাস করো পিষু ভাই আমি ইচ্ছে করে বলি নি। আমাকে মাফ করতে বলবেন। আমি মনে হয় আর বাঁচবোনারে। আমার ছেলেমেয়েদের কে তোগো হাতে দিলেম রে, একটু দেইখা রাখিস। নাসু বানু আর নিজেকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারলেন না। গলাফাটিয়ে কান্না শুরু। ও গো আফনি চিন্তা কইরেন না। আফনের কিচ্ছু হইতে দিমু না। কান্নার শব্দে কয়েকজন পুলিশ দৌড়ে এসে হামকি ধামকি দিচ্ছেন। এ যেন নির্মমতার আরেক চিত্র। পিষুও এতক্ষন কেঁদেছে। পুলিশের ধমক খেয়ে নিজেকে সামলিয়ে নিল। নাসু বানুকে বুঝানোর চেষ্টা করছে। একজন পুলিশের লোক এসে সবাইকে বেড়িয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে গেল। কাজেই সবাই বাধ্য হয়ে বেড়িয়ে আসতে হলো। ভাগ্যিস কামালের মেয়েটা আসেনি, আসলে হয়তো বাবার সাথে হাজতে থেকে যাওয়ার আবদার করে বসত। ছোট ছেলেটা কামালের দিকে কতক্ষণ ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে ছিলো। সে হাজতে থাকার তাৎপর্য এখনো বুঝে উঠেনি, তাই বাবাকে চৌদ্দশিখায় বন্দি দেখেও কাঁদেনি রায়হান। তারা মিয়া বুঝে ও কাঁদেনি। কারন আজকাল মহাসুখে ঘুরে বেরাচ্ছে যেখানে খুশি সেখানে। স্কুল কিংবা মক্তবে যাওয়ার জন্য বাবা নামক কারোর হাতে ধাওয়া খেতে হয়না। নাসুবানু অনবরত চোখের জল ছিটিয়ে যাচ্ছে। পিষু বাড়িতে এসেই হিরুকে খোজছে। পুলিশের চোখে পড়ে আছে হিরু। মামলার হাজিরা দিতে হচ্ছে বাবাকে। তার পর ও ছেলেটা ফিরে আসলো না ছিরাত পথে। হয়তো আসবে ও না। হিরুকে বিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। মাস ছয়েকের মাথাই বৌ কে স্থায়ীভাবে বাপের বাড়িতে পৌছাতে সক্ষম হয়েছিলো। মেয়েটা প্রথম রাত্রেই বুঝতে পেরেছিলো তার স্বামী আসক্ত। তাতে ভীত না হয়ে সুস্থতায় ফিরিয়ে আনার প্রতিজ্ঞা করেছিল। এই প্রতিজ্ঞটাই ছিলো স্বামির বাড়ি থেকে বিতাড়িত হওয়ার কারন। প্রতিদিন রাত্রেই যথাসম্ভব বুঝাইতেন। হিরু তার প্রতিটি কথাই শুনতেন কিন্তু এক কানে ঢুকিয়ে অন্যকান দিয়ে বেরকরে দিতেন। যখন বউয়ের চাপাচাপির সীমানা বেড়ে গেল তখন নির্যাতন শুরু। একপর্যায়ে স্বামীগৃহ ত্যাগ। একবছর পার হয়েছে আর ফিরে আসেনি রুমানা। হয়তো আর কোনোদিন ফিরবে ও না। আন্দার পট্টির মানুষদের বিচ্ছিন্ন জীবনকথা ও জীবনমানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ভালই অর্জন করতে পেরেছেন। হিরুকে বার বার সতর্ক করে পিষু বেরিয়ে পরলেন বাহিরে। গত দুই যুগ ধরে সুখে দুখে পাশে আছে গার্ডিয়ান হিসাবে। সবাইকে আগলিয়ে রেখে এসেছে এতদিন। আজকে কামালকে এভাবে খোয় যেতে দিবে না পিষু। চারটে খেয়ে বেরোনের প্রস্তুতি নিয়েছে পিষু। লক্ষ্য হাবিবুল্লা সাহেবের সাথে পরামর্শ। কামালের ঘর থেকে তখনো কান্নার আযহারি ভেসে আসছে।


হাকিম কে খুঁজেছে আউয়াল। আন্দার পট্টিতে নিরক্ষরের ধারাবাহিকতা বজায়ে না রাখার জন্য যিনি প্রথম থেকেই ছোট ছোট ছেলে ও মেয়ে দুটোকেই প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে আসছে একজন। তিনি সেই আউয়াল হোসেন। নিজে যদিও পড়ালেখার সুযোগ পাননি, কিন্তু ছেলেমেয়েদের নিয়ে বিশাল স্বপ্ন দেখছেন। ছেলের নাম আব্দুল হাকিম। এবছর পঞ্চম শ্রেনীতে পড়ে। লেখাপড়া বেশ ভালো। ভালো হবেই না কেন। দিনের বেশীরভাগ সময়ই কাটে স্কুলে, প্রাইভেট টিচারের কাছে। মেয়েটা একটু বোকাটে। কিন্তু কোনো বিষয় একবার শুনলে বা পড়লে দ্বিতীয় বার আর বইয়ের প্রয়োজন পরে না। সুরমা এইবার চতুর্থ শ্রেনীতে পড়ে। রোল এক। গত চার বছরে ওর কাছ থেকে এক রোলনম্বর টি কেউ কেড়ে নিতে পারে না। বিদ্যালয়ে সকল শিক্ষকের মুখেই হাকিম আর সুরমার প্রশংসা। আন্দার পট্টিতে এক মাত্র ব্যক্তি যিনি সুস্থ ও স্বাভাবিক ভাবে জনসাধারণ জীবনযাপন করছে। এলাকার মানুষজন ও তাকে সেইভাবে খাতির করে। আন্দার পট্টির মানুষদের জেনেশুনে কেউ কোনো কাজে নিয়োগ দিতে সাহস করে না। দেখাগেল কেউ তাদের প্রয়োজনীয় কাজে নিয়োগ দিলো তাতে কোনো না কোনো অঘটন ঘটিয়ে চলে আসবে। চুরি অথবা কাজ অর্ধসমাপ্ত রেখে চলে আসবে। যার দরুন জেনেশুনে এলাকার কেউ তাদেরকে কোনো কাজে ব্যবহার করতে নিরুৎসাহবোধ করে। কিন্তু আউয়ালের বেলায় একটু ভিন্ন। আউয়াল সবার বিশ্বস্ত একজন। এই বিশ্বাস এর ধারাবাহিকতায় থেকে জীবন চালিয়ে দিতে পারলেই ধন্য মনে হবে। প্রতিদিন সকাল ভোরে উঠে ফযরের সালাত আদায় করে ছেলে মেয়েদের মক্তবে পাঠিয়ে দেন। সকাল বেলায় মসজিদের বারান্দা থেকে হুজুরের কন্ঠে ভেসে আসে কোরান তোলায়াতের শব্দ। মধুর কন্ঠে পড়ছে হুজুর "হুয়াল্লা হুল্লা যি লা ইলাহা ইল্লাহু আলিমুল গাইবি ওয়া শাহাদাতি হু-আর রাহমানির রাহিম"। আউয়াল ওয়াজ মাহফিলে গিয়ে সূরায় হাশরের শেষ তিন আয়াত শিখেছে। তাই হুজুরের সাথে আউয়াল ও প্রতিদিন সূর ধরে পাঠ করে, মসজিদে উপস্থিত হয়ে নয় ঘরে বসেই। কামালকে পুলিশ ধরেছে এ যাতনায় বাড়ির সবাই বিষাদে বিভোর। একমাসের মত গত হলো কামালের কোনো খোঁজখবর মিলেনি। পিষু কয়েকদিন যাবৎ বিছানায় পড়ে আছে। রাতবিরেতে এত পরিশ্রম আর কতদিন। ডাক্তার বলেছে জ্বর হয়েছে। খুব ভয়ংকরী জ্বর। পিষু সুস্থ থাকলে কামালের কোনো সুরহা করতে পারতো বা না পারতো তবে খবরটুকু রাখতে পারতো। সেদিন হাবিবুল্লা সাহেবের কাছে গিয়েছিলো পিষু। হাবিবুল্লা সাহেব কোনা সাড়া দেয়নি। সড়া দিব কেমন করে, পাপ করেছে একটু সাজা পাওয়া দরকার। তাছাড়া প্রথমবার ধরেছিলো তখন ছাড়িয়ে এনেছিলেন হাবিবুল্লা সাহেবই। কামাল প্রতিজ্ঞা করেছিলো কখনো এ কাজ আর করবে না এই শর্তে রাজি হয়েই ছাড়িয়ে এনেছিলেন। কিন্তু কথা রাখেন নি, এখন কি করে আবার পিষু আব্দার করবে। সব পথই এখন বন্ধ হয়ে আছে। এ যাত্রায় কামাল মুক্তি পাবে এ আশা গুড়েবালি। রশিদ এসেছিলো পিষু কে দেখার জন্য। সাথে নিয়ে এসেছি কিছু ফল মূল। আসুস্থ মানুষদের দেখতে গেলে সাথে করে কিছু নিয়ে যাওয়া ভালো কাজ। কামালের ঘরে আগের মতো কান্নাকাটি করতে আর শোনা যায়নি। প্রথম যেভাবে কেঁদেছিল তাতে বুঝেছিলাম কামালের গোটা পরিবার বুঝি কোনোদিন কান্না থামাবেনা। অনন্তকাল চলতে থাকবে এই বেদনা। মানুষ মারা গেলে প্রথম পাঁচদিন যে পরিমান বিষাদ ও বিয়োগাত্মক বেদনাবোধ হয় তা যদি বিধাতা সহনের ক্ষমতা না দিতেন তবে পরিবারের একজনের মৃত্যুতে বাকি সবাই হা-হাকার করতে করতে মারা যেত। সব বিষাদময় ঘটনায় মানুষ প্রারম্ভে হতাশ ও বেদনায় ভেঙ্গে পড়লেও পরবর্তী সময়ে সবকিছু ভূলে যায়। ভূলে যাওয়াই মানুষের স্বভাবিক বৈশিষ্ট্য। এ বৈশিষ্ট্য থাকার কারনেই মানুষ মৃত্যুর মতো এমন একটি বিয়োগাত্নক বেদনাকে অতিসহজেই ভুলে যেতে পারে। কামালের ক্ষেত্রে তাই। কামাল জেলে থেকে পচতে বসেছে। যতদূর জানা গেছে কামালের পাচ বছরের জেল ও পঞ্চাশ হাজার টাকার জরিমানা ধার্য করেছে উচ্চ আদালত। সুতরাং আগামী পাঁচ বছর নির্ঘাত চৌদ্দশিখায় থেকে শাস্তিভোগ করে নিষ্পাপ কয়েদী হয়ে জেল থেকে বাহির হয়ে আসবে। এসে আবার সেই নিষিদ্ধ ব্যবসা করবে কি বন্ধ করে দিবে তা নির্ভর করবে সম্পূন্য কামালের মানষিকতার পরিবর্তনের উপর। সাজা পাওয়ার পর জামিন পেয়ে অনেক জেলকয়েদীকেই দেখিছি পুনরায় জেলে যেতে। ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে যাওয়াই ভালো। ঘরের বাহিরে থাকলে বিশৃঙখলাই করবে। কামালের সাজায় বলে দিবে পরের বার কি করবে। আন্দার পট্টি আবার আগের মতো যমযমাট হয়ে উঠেছে। কিন্তু কামালের অনপুস্থিতিই বুঝা যাচ্ছে। আজকাল আর রাত বিরেতে কামালের উচ্চকণ্ঠ শোনা যায় না। রাত নয়টা বাজলেই কামালের ছোট চায়ের দোকানটা বন্ধ হয়ে যায়। আসলে এইটা চায়ের দোকান না ছাই। চা বিক্রির আড়ালে লুকিয়ে আছে নিষিদ্ধ দ্রব্যাদির ব্যবসা। তারা মিয়া প্রথম কয়েকদিন দোকানটা খুলেছিলো। একতো কাস্টমার কম আরেক দিকে তারা মিয়া এখনো চা বানানো শিখছে না। সারাদিন দোকানের ঝাপটা খোলা রেখে কোনো কাস্টমারের সন্ধ্যান মিলেনা। তাই আজকাল দোকানটা বন্ধই থাকে। বেশ কয়েকজনের কাছে বকেয়া টাকা পেত এই টাকা তুলে খাচ্ছে কামাল পরিবার । এগুলো খাওয়া শেষ হলে ছেলেমেয়েদের নিয়ে কোথায় যাবে নসু বানু? তখন হয়তো বাপের বাড়িই হবে শেষ আশ্রয়স্থল। এই ভরসায় নসুবানু তেমন চিন্তা করতে হচ্ছে না। এইদিকে কামালের কথা একেবারেই সবাই ভূলেগেছে। পিষু সপ্তাহ খানেক আগে সুস্থতা লাভ করেছে। কিন্তু বিশালকার দেহটা আর আগের মতো নাই। শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। আজ একবার থানায় যাবে কামালের খোঁজখবর নিয়ে আসবে। দারগাকে দিয়ে জেলার ওসি সাহেব কে ফোন করিয়ে কামালের সাথে একটু কথা বলার ব্যবস্থা করে নিবে। দারগার আত্নীয় বলে ওসি সাহেব হাবিলদার দের কে বলিয়ে দিবেন। মীনু এখনো সামান্য ভয় ও মনের ভিতরে নেয় নি। কামাল তার নাম বলে দিয়েছে তাতে ও ভয় পায়নি। এর কারন ও বুঝা যাচ্ছে। মীনুয়ারা বেগম ইতিপূর্বে দুই দুইবার জেলে গিয়ে একঘন্টার মদ্ধ্যেই ছাড়াপেয়ে চলে এসেছে। তার কারনেই হয়তো নিজেকে খুব বাহাদুরি ভাবছে। তবে শেষ পরিনতি কি হবে তা একবারো ভাবেনি। মিনুর স্বামী একজন ডোম ছিলো। মরা লাশ কেটে কেটে দশ বছর পার করে। তার পর এক দিন ভয়ংকর এক লাশের চিত্র দেখে। এতেই জীবনের ইতি টেনে যায়। প্রতিদিনের মতো আজকেও লাশ ধুয়ে মুছে কাটার প্রস্তুত করছিলো। তার সহযোগীরা সেদিন ঈদের ছুটিতে বাড়ি গিয়েছিলো। সব কাজ একাই সারতে হবে। দশ বছর ডোমের কাজ করছে। এর মধ্যে কত মানুষের লাশই না দেখেছে। কিন্তু সেদিনের লাশটা একটু ভিন্ন ছিল। মানুষ মারা যাওয়ার পরে দেহের বিভিন্ন অংগ-প্রতংগ সব শক্ত হয়ে যায়। আর লাশের মেয়াদ বেশী হলে তো অবস্থা খারাপ। সেদিন যে লাশটা তৈরি করছিলো তার মৃত্যু হয়েছিলো দুই দিন আগে। স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে বিষ প্রান করেছিলো। বহু চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারেনি কোনো ডাক্তার। দুই দিন হওয়ার পরেও কেমন জানি শরির গরম, মনে হচ্ছে জীবিত কাউকে কাটার জন্য নিয়ে আসা হচ্ছে। এতদিন লাশ কেটেছে মনের মধ্যে সামান্য ভয় ও কাজ করে নি। সেদিন তার কেমন জানি ভয় করছিলো। যথারীতি যেই লাশ কাটতে শুরু করলো ঠিক তখনি লাশ প্রচন্ড জোরে এক চিৎকার করে উঠে। চিৎকারের শব্দ এত বেশি ছিলো যে পরবর্তী যত দিন বেচেছিলেন তত দিন নাকি কানে শুনতে পেতেন না। এই ভয়ংকর লাশের কথা শুনে সব ডাক্তার মর্গে গিয়ে লাশ পরিক্ষা করে দেখেছে। কিন্তু লাশ, সত্যিই লাশ ছিলো। তবে কি ময়নালের সেদিন ভয়ের কারনে হ্যালোসিনেশান হয়েছিলো যার কারনে তার মরতে হয়েছিলো। লাশ এবং তার সাথে সংগঠিত এসব তথ্য লিখে গিয়েছিলো। যার উপর রিসার্চ করার জন্য বড় বড় মিষ্ট্রিয়াস লোকেরা এসেছিলো। কিন্তু এর সঠিক কোনো তথই বাহির করতে পারে নি। এই লাশভীতির ফলে প্রচন্ড জ্বর আসে। এই জ্বর সাতদিন ছিলো। জ্বরের মধ্য প্রলাপ বকতো। "আমি তোমাকে কাটবো না তুমি লাশ না, জেতে মানুষ। আমাকে ছেড়ে দাও.......! ময়নালের এই অবস্থা দেখে মীনু ও একসময় ভয় পেয়ে যায়। আটদিনের মাথায় ঘুমের মধ্যে মরে থাকতে দেখা যায়। তার পর কলিমদ্দির মাধ্যমে আন্দার পট্টিতে এসে বসবাস শুরু করে
প্রথমে কাজের সন্ধ্যান করেছিলো। মহিলা মানুষ আর কি কাজই বা করতে পারে। এক সময় কোনো কাজ না পেয়ে গ্রামে গ্রামে কসমেটিক সামগ্রী বিক্রয় করে জীবন যাপন করতেন। এক সময় কামালের যমযমাট ব্যবসার ন্যায় নিজেও জড়িয়ে গেল। সেই থেকে আজকের মিনুর অবস্থা। এখন সে আন্দারবপট্টির সেরা ব্যবসায়ী। আচ্ছা এ ভয়াবহ তথ্য কি পুলিশ জানে? এই রকম হাজাড়ো আন্দার পট্টি আছে যেখানে দিন দুপুরে যুন সমাজ ধ্বংসের কাজ চলছে? আমার অবশ্য জানা নাই তবে পরিসংখ্যান থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে জড়ো করলে উধ্বগতির দৈনিক অবস্থায় গা শিউরে উঠার মতো। আমি একা না, সমাজের হাজারো বিবেকবান স্বাভাবিক সুস্থ মানুষেজনরা বিভিন্ন ভাবে আলোচনায় রখছেন বিষয়টিকে। কিন্তু কি হবে তাতে যেখেনে মিনুর মতো পান্ডা ভাইরাস আছে সেখানে অসস্থি হবেই। কেউ কেউ বিষয়টি তুচ্ছ করেও দেখছে। কি আর করার যা প্রতিকার করা যায়না তা স্বভাবতই সহ্য করতে হয়। আমাদের প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান নাই এই বলে আমরা উদ্যোগ নিতেও রাজি না। নিজের প্রচেষ্টায় কোনো কিছু করার অনন্দটাই আলাদা। আমরা এই আনন্দ কখনো পাই না। তাই তার মূল্য ও বুঝি না। তবে খুব কম সং্খ্যক লোক আছে যারা আত্নকর্মসংস্থানের গুরত্ব দিয়েছে এবং তারা স্বাদ পেয়ে গেছে। সাফল্যের দ্বার একবার খুলে গেলেই আর কি লাগে? যাদের সবল দুইটি হাত আছে তাদের বুঝা উচিৎ হাত দুইটি স্রষ্টা কারো কাছে ধার কিংবা ভিক্ষে মাগার জন্য নয়। নিজেকে নিজের মতো প্রতিষ্টিত করে তোলার জন্যই।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন