বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ অক্টোবর ১৯৯৭
গল্প/কবিতা: ৭টি

সমন্বিত স্কোর

৩.০৬

বিচারক স্কোরঃ ১.২৬ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

মায়ের ঋণ

ঋণ জুলাই ২০১৭

‌প্রে‌সি‌ডেন্ট যখন দ্বিধায়

ঐশ্বরিক মার্চ ২০১৭

নর-নারীর প্রেম

প্রেম ফেব্রুয়ারী ২০১৭

গল্প - ঋণ (জুলাই ২০১৭)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.০৬ আমরণ ঋণী

খা‌লিদ খান
comment ৪  favorite ০  import_contacts ৭৩
তুমিকি আমাকে তোমার ঋণ শোধ করার সুযোগ দেবে?

শুভ ঠিক সেই আগের মতোই দাঁড়িয়ে থাকে। কি ঋণ? কিসের ঋণ? শুভ ভেবে পায়না। সেঁজুতি কোন ঋণের কথা বলছে?

- তুমি যদি আমাকে তোমার ঋণ থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগটা দিতে!

শুভ’র মাথায় কিছুই আসছে না। সে ভেবে পাচ্ছেনা কি বলা উচিত তার। সে কি কোন কিছু না বলে চুপ করে চলে আসবে? নাকি সেঁজুতিকে সুযোগটা দেয়া উচিত। দিলেই বা সেঁজুতি কি পারবে শুভ’র সকল পাওনা মিটিয়ে দিতে। হয়ত টাকা দিয়ে সেঁজুতি একটা চেষ্টা করবে। কত টাকা দেবে সেঁজুতি! শুভ’র মনের দাম সেঁজুতি কত টাকা মনে করে সেই ব্যাপারটা জানার একটা গোপন ইচ্ছে সব সময় শুভ’র ভাঙ্গা মনে খেলা করে। আজ কি শুভ সেই সুযোগটা নেবে? সেঁজুতির সাথে শুভ’র পরিচয় একেবারেই অল্প সময়ের জন্যে। কিন্তু শুভ সেই পুরো সময়টা সেঁজুতি কে দিয়ে দিয়েছিল। প্রতি সেকেন্ড হিসেব করে যদি শুভ হিসাব করে তাহলে অন্তত ঘুম বিহীন পাঁচ মাসের প্রতিটি সেকেন্ড শুভ শুধু সেঁজুতিকে নিয়েই ভেবেছে। এই সময়ে শুভ’র মস্তিষ্কের প্রতিটি নিউরনের কোষ দেহ, ডেনড্রাইট, অ্যাক্সন জুড়ে ছিল সেঁজুতির অবস্থান। সেজুতিকি পারবে শুভ’র সেই সময় গুলো আবার ফিরিয়ে দিতে? সেঁজুতি কি পারবে কাঁচের মত করে ভেঙ্গে ফেলা হৃদয় আবার জোড়া লাগিয়ে দিতে! সেঁজুতি যেদিন শুভকে ফিরিয়ে দিয়ে ছিল তখন শুভ’র খুব ইচ্ছে হচ্ছিল আবার ফিরে যেতে। কিন্তু কেন জানি শুভ কোন অজুহাত নিয়ে আবার সেঁজুতির কাছে যেতে চায়নি। আসলে শুভ’র আভিমানটাই আর তাঁকে ফিরে যেতে দেয়নি।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। শুভ হাটা শুরু করল। পেছনে বসে থাকল সেঁজুতি। শুভ আর পেছনে ফিরে তাকায়নি। তাকাতে ইচ্ছেও হয়নি। কি হবে মিছে মায়া বাড়িয়ে। শুভ হয়ত পেছনে তাকিয়ে মায়া বাড়াতে চায়নি কিন্তু শুভ খুব ভাল করেই জানে সেঁজুতি তার অস্তিত্ব জুড়ে। তবুও মিথ্যে মায়া বাড়াতে চায়নি শুভ। কেউ যদি চলে যেতে চায় তাহলে তাঁকে কি আর বেধে রাখা যায়। আকাশ যত অন্ধকার হচ্ছে পাখি ফিরছে নীড়ে কিন্তু শুভ জানেনা তার গন্তব্য। শুধু কানে বাজে গানের কয়েকটি কথা

“চলে যায় যদি কেউ বাঁধন ছিঁড়ে,

কাঁদিস কেন মন

ভাঙ্গা গড়া এ জীবনে আছে সর্বক্ষণ”

মাঝে মাঝে শুভ নিজেও বুঝে সেও তো সেঁজুতির কাছে ঋণী। কিন্তু কেন জানি তার ঋণ শোধ করতে ইচ্ছে হয়না। কিছু মানুষের কাছে আমরণ ঋণী হয়ে থাকতে ইচ্ছে হয় শুভ’র।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন