বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ জানুয়ারী ১৯৮৫
গল্প/কবিতা: ৫টি

সমন্বিত স্কোর

৩.২৯

বিচারক স্কোরঃ ১.৭৫ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৫৪ / ৩.০

অহর্নিশ আঁধার।

আঁধার অক্টোবর ২০১৭

কি যেন একটা

কি যেন একটা জানুয়ারী ২০১৭

কেবলই কী যেন চাওয়া

আমার স্বপ্ন ডিসেম্বর ২০১৬

গল্প - আঁধার (অক্টোবর ২০১৭)

মোট ভোট ১৮ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.২৯ অন্ধকারের রংতুলি

নুরুন নাহার লিলিয়ান
comment ১০  favorite ০  import_contacts ১৭৯
বিমূর্ত অন্ধকারের ছবি নিয়ে কাজ করা নাগিবের ভীষণ শখ। গত তিন বছর ধরে শুধু অন্ধকারের ছবিই এঁকেছে। বিভিন্ন রংয়ে সে অন্ধকারকে আবিস্কার করতে চেয়েছে। পৃথিবীর সব রং অন্ধকারে মিশে যায়। তবুও নাগিব চেষ্টা করে যায় অন্ধকারের আলাদা রং দিতে।অন্ধকারে রং ছড়িয়ে নিজের স্বপ্নের পৃথিবী গড়ে তুলতে। মনের একান্ত গভীর থেকে উঠে আসা কোন ইচ্ছের এক অন্য রকম খেলা । ব্যাপারটা নিয়ে অনেকেই তাকে পাগল ভাবে। নাগিব যখনই অন্ধকার আকাশের দিকে তাকায় তখনই মনেহয় গভীর অন্ধকার তাকে ডাকে।একটা ভালোবাসাময় টান মনের কোথাও উকি দেয়। এমন করে অন্ধকারের অস্তিত্ব নিয়ে আর মনের ভাবনায় প্রায় অনেকগুলো ছবি এঁকেছে।এমন করে গ্রামে গ্রামে গভীর অরণ্যে ঘুরে বেড়ায় আর অন্ধকারের অনুভুতি খুঁজে। যে অনুভূতিটা শুধু নাগিব একাই অনুভব করে। একদিন রাতে নাগিব ঘুমের ঘোরে কোন এক নারীর দেখা পেল। সে যেন গভীর ভালবেসে তার চেনা অরণ্যে তাকে নিয়ে যাচেছ। কি গভীর অনুভুতির ছোয়াঁ। কিন্তু নাগিব তাকে দেখতে পায় না।আলো আঁধারির মায়াবী ছায়া। সে বছর নাগিবের আঁকা ছবি চায়না চিত্রকলা প্রতিযোগিতায় সেরা পুরস্কার পেল। সব যেন সেই অন্ধকারের ছায়ার কারনে। স্বপ্ন, ভালোবাসা, মায়া মমতা আর প্রতিদিনের অভ্যস্থতায় নাগিব সেই ছায়ার প্রতি দূর্বল হয়ে পড়ে। দিনে দিনে নাগিবের কৌতুহল বেড়ে গেল। ছায়ামূর্তি কে দেখতে তার অবাধ মন ব্যাকুল হয়ে উঠল ।কোন ভাবে তার অবুঝ মন কে নিয়ন্ত্রন করতে পারছিল না। কিন্তু এদিকে সেই অন্ধকার ছায়া নিজে রাজি হয়না। প্রতিদিন রাতের অন্ধকারে গভীর তন্দ্রায় কতো রকমের ভালবাসার গল্প হয়। অন্ধকারের ছায়ার প্রতি নাগিবের আসক্তি মাত্রাতিরক্ত ভাবে বেড়েই যায়। ভীষনভাবে অনুরোধ করে ।তবু ও ছায়া রাজি হয়না। তারপর কোন একদিন অন্ধকারের ছায়া মানবকুলের অবুঝ মায়াবী ভালবাসার কাছে পরাজিত হলো। কিন্তু শর্ত হলো তাকে আঁকা যাবে না।কোন চিহ্নে তাকে রাখা যাবে না ।
তার পর একদিন চাওয়া পাওয়ার পূর্নতা পেলো। এদিকে তাকে দেখার পর নাগিবের চির চেনা সব পাল্টে গেল। কোন মানবী এতো সুন্দর হতে পারে! এ যেন স্বর্গের স্বয়ং দেবী নাগিবের সামনে নেমে এসেছে। এক সপ্তাহ পর নাগিব প্রতিজ্ঞার কথা ভুলে গেল। নিজের ভুল মনে করে নিজের তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় দেখা ছায়া কে আঁকতে চেষ্টা করলো। সেই অন্ধকারের সুন্দর ছায়ার ছবি আঁকা নিয়ে পাগল হয়ে উঠলো। সামনে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আছে। ব্যতিক্রম কিছু তাকে করতেই হবে।নিজের সফলতার জন্য ভালোবাসা আর প্রতিজ্ঞার কথা ভুলে গেল।
ভাগ্য খুব কঠিন জিনিস। নিজের বাড়ির সামনেই রিকসার উপর গাছ ভেঙে পড়ে তরুন চিত্র শিল্পী নিহত হয়।পত্র পত্রিকায় অনেক শোক প্রকাশ হলো। দূর থেকে শুধু অন্ধকারে ছায়া মুচকি হাঁসে। আর দিনের আলোয় মিশে যায়। পৃথিবীর সব আলো যেমন স্পর্শ করতে নেই। সব অন্ধকার কে দেখতে নেই।
দিন শেষে পৃথিবীর যাবতীয় সব কিছু অন্ধকারে হারিয়ে যায়।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন