বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৬ আগস্ট ১৯৯৪
গল্প/কবিতা: ১৭টি

“আঁধার নিধন”

আঁধার অক্টোবর ২০১৭

“ভয়”

ভৌতিক সেপ্টেম্বর ২০১৭

“কামনা”

কামনা আগস্ট ২০১৭

গল্প - আঁধার (অক্টোবর ২০১৭)

“আঁধার”

মোঃ নয়ন আহমেদ
comment ৪  favorite ০  import_contacts ৮৫
গল্পের শুরুতেই অর্পনা আর আবীরের মধ্যে বন্ধুত্বটা ঠিক কবে থেকে যে হয়েছিল সেটা হয়তো ওরা নিজেরাও জানে না। খুব আবছা আবছা মনে আছে অর্পনার ক্লাশ ওয়ানের বিস্কুট দৌড় প্রতিযোগিতায় হেরে গিয়ে খুব কাঁদছিলো ও।আবীর বিস্কুট দৌড়ে ফার্স্ট হয়েছিল। তখন অর্পনার কান্না দেখে ছোট্ট আবীর নিজের প্রাইজের হলদে রঙের টিফিনবক্সটা অর্পনার
হাতে তুলে দিয়ে বলেছিল ,কাঁদিস না ,এই নে ...তোর কাছে রাখ,আমার মানেই তো তোর।
নেহাতই কথার কথা, ছেলে ভোলানো কথা।তাও আবার একটা বছর পাঁচেকের ছেলের মুখের কথা, তবুও অর্পনার বিশ্বাস জন্মেছিল,আবীর আর ওর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
আবীর সব কিছুতেই যেন অর্পনার অধিকার। সেই শুরু আবীরের ওপর অর্পনার গার্জেনগিরি ফলানো। একদিন অর্পনাকে রাস্তায় একটা ছেলে বলেছিলো, বাহ্ কি লাগছেরে ওকে।
তখন আবীর ঐ ছেলেটাকে মেরে তার নাক দিয়ে রক্ত বের করে দিয়েছিল। অর্পনাকে কিছু বলার অধিকার যেন শুধু আবীরের।
ক্লাস ইলেভেনে অর্পনা প্রথম প্রেমে পড়ে। রাফী বলে একটি ফার্স্ট ইয়ারে ছেলের।ছেলেটা যাকে বলে ম্যাচো হ্যান্ডু। মেয়েদের হার্ট থ্রব। অর্পনার নাচের প্রোগ্রাম দেখতে এসেই পরিচয় হয়েছিল, অর্পনার সাথে। রাফীর সাথে আবীরের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল অর্পনাই। প্রেমের প্রথম মাস উজ্জাপনের দিনেই রাফীকে উদোম পিটিয়ে ছিল আবীর।
অর্পনার লাভারের এ হেন অপমান দেখে নীল বলেছিল, তুই বন্ধু না শত্রু?
কেন তুই রাফীকে মেরেছিস? আবীর কোনো কথা না বলে,শুধু রাফীর ফোনটা কেড়ে নিয়ে দেখিয়েছিল, অর্পনার মত খান ছয়েক মেয়েকে একই msg সেন্ড করছে রাফী। আর ওখান থেকেই প্রেমের ইতি টেনেছিলো অর্পনা। কলেজে গিয়েও আরেকবার অর্পনা প্রেমে পড়বে পড়বে এমন অবস্থায় আবীর আর মোহনার প্রেমটা ঠেকাতেই হবে পণ করে অর্পনার আর প্রেম করা হলো না। মোহনা একদিন অর্পনার কাছে বলেছিল, জানিস অর্পনা আমার আবীরকে বড্ড ভালো লাগে। কি ইনোসেন্ট একটা ছেলে, কত কেয়ারিং! করে।
অর্পনা আগ্রহ ভরে জিজ্ঞেস করেছিল,
তুই কি করে জানলি আবীর কেয়ারিং?
মোহনা লাজুক মুখ করে বলছিল,সেদিন আমি আর মা বাসে করে ফিরছিলাম।আবীর বসে ছিল একটা সিটে। আমাকে দেখেই হাত নেড়ে ডেকে নিজের সিটটা ছেড়ে দিলো মাকে। আর আমার হাত থেকে ভারি ব্যাগটা নিয়ে গোটা রাস্তাটা এলো জানিস। আর মাও বলছিল, আহা ছেলেটা বড় ভালো,এখনকার যুগে এমন ভদ্র ছেলে পাওয়া মুশকিল।কোনো কারণ ছাড়াই
মোহনার মুখে আবীরের গুণগান শুনে হঠাৎ করেই মোহনার গলা টিপে ধরতে ইচ্ছে করছিল অর্পনার। তবুও মুখে হাসি টেনে বললো,
বেশ তোর কথা আমি আবীরকে বলবো।
মোহনা গদগদ হয়ে বলেছিল, এই সত্যি বলিস কিন্তু। মোহনার মা যেন জামাই নির্বাচন করেই ফেলেছে। অবশ্যই বলেছিল অর্পনা আবীরকে মোহনার কথা, তবে সেটা অন্যভাবে।
এই আবীর তুই আমাদের ইকোনমিক্স অনার্সের মোহনাকে চিনিস?
আবীর খুব স্বাভাবিক গলায় বলল, উম ওমা চিনবো না কেন? তোর সাথে তো ঘুরতেও দেখেছি ওকে। আর সেদিন বাসে...
এক ধমকে আবীরকে থামিয়ে দিয়েছিল অর্পনা। না থাক! লোকের ব্যাগ কেন বয়ে এনেছিস সেটা আমার না জানলেও চলবে। তবে মোহনা থার্ড ইয়ারের প্রতাপদার সাথে
প্রেম করে জানিস তো !!
আবীরের মুখে কোনো ভাবান্তর না দেখে একটু আশ্বস্ত হয়েছিল অর্পনা। ওদিকে মোহনার সমানে আবীরের নাম জিজ্ঞেস করেই যায়। আবীর কি খেতে ভালোবাসে, আবীরের
ফেবারিট কালার কি? আবীরের ফেবারিট কালার রেড শুনে আজকাল মোহনা প্রায়ই রেড চুড়িদার পরে কলেজে আসছে। এসব সামলাতে সামলাতে শেষ পর্যন্ত গোটা
কলেজটা আর কারোর প্রেমে পরা হলো না অর্পনার। দিনদুই ধরে আবীরের শরীরটা খুবই খারাপ। অর্পনা বিকালের দিকে ওদের বাড়ি গিয়েছিল, আবীরকে অমন ভাবে মুখ
শুকনো করে শুয়ে থাকতে দেখে অর্পনার বুকের ভিতরটা মোচড় দিয়ে উঠেছিল। একবার সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে অর্পনার পায়ে আঘাত লেগেছিল। অর্পনা স্কুলে যেতে পারছিল না, তখন আবীর রোজ বিকেলে সেদিনের স্কুল টাস্কের সাথে কাদের ভাইয়ের বানানো আলুকাবলী ঠোঙায় করে লুকিয়ে আনতো অর্পনার জন্য।
এই আবীর কি খেতে ইচ্ছে করছে বল না রে! করুন মুখে আবীর বলেছিল,
মুখে কিছুই ভাললাগছে না রে। তবে ঝালঝাল হলে একটু মন্দ হয়না। পরেরদিন অর্পনা নিজের হাতে ঝালমুড়ি বানিয়ে নিয়ে আবীরের বাড়িতে হাজির।
সেদিন খুব গর্ব করে বলেছিল অর্পনা, আমি বানালাম তোর জন্য। আনন্দে আবীর হেসে উঠেছিল, খুব তৃপ্তি করেই খেয়েছিল অর্পনার বানানো ঝালমুড়ি।
সেদিন বাড়ি ফেরার পর মা বলেছিল, অর্পনা তুই তো আবীরকে খাওয়া জন্য ঝালমুড়িতে নুনই দিস নিরে। বাটিতে এ যেটুকু পড়েছিল, মা নাকি মুখে দিয়ে দেখেছে ,একেবারে
নুন হয়নি।তখন নিজের মনেই হেসেছিল,অর্পনা। আবীর বোধহয় ওর সব অত্যাচার সহ্য করার জন্যই জন্মেছে।নীলের দেওয়া আর অর্পনা ওর কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া গিফটের বাক্সে কি নেই, ছোট বড় ম্যাগনেট, তাসের ম্যাজিক, প্লাস্টিকের ফুল। কিছু আবীর ওকে দিয়েছিল,কিছু অর্পনা কেঁদেছিল বলে বাধ্য হয়েছিল। আর কিছু অর্পনা জোর করে কেড়ে নিয়েছিল। কত কত স্মৃতির ভিড়ে ওদের বন্ধুত্ব আজও একই রকম। একবার আবীরের একটা ইয়েলো টিশার্ট খুব পছন্দ হয়েছিল অর্পনার। আবীর কিছুতেই দেবে না। ওটা ওরও খুব পছন্দের।
তখন অর্পনা ক্লাস নাইনে। শেষে আবীরের শার্টের বোতাম টেনে ছিঁড়ে দিয়েছিল অর্পনা। বোতাম গুলো এখনো আছে অর্পনার কাছে,আর দুটো বোতাম ছেড়া শার্টটা আবীরের কাছে। আবীর টাও কিছু কম প্রতিশোধ নেয়নি তা নয়। অর্পনার একটা লং স্কার্টকে কাঁচি দিয়ে কেটে দিয়েছিল আবীর। অর্পনা আবীরের মা মানে আন্টিকে নালিশ করে বেশ করে মার খাইয়ে ছিল ওকে। শেষে আবীরের গায়ে মারের লাল দাগগুলো দেখে নিজেই কেঁদে অস্থির হয়েছিল অর্পনা। তারপর ইউনিভার্সিটিতে ঢুকলেই একটা নতুন উপদ্রব শুরু হয়েছে, মোহনার ঘ্যানঘ্যানানি। সেই যে কলেজের থার্ড ইয়ার থেকে আবীরের প্রতি ক্রাশ খেয়ে আছে মেয়েটা সেটা এখনো যাবার নয়। কোনোদিন সামনা সামনি আবীরকে কিছু বলতে পারেনি, শুধু

অর্পনার কানের কাছে বলেই চলেছে। আজ যেমন বললো, জানিস অর্পনা আজ আবীরকে ডিপার্টমেন্ট থেকেই আমার দিকে তাকাচ্ছিল। অর্পনা বললো, আবীরকে বয়েই গেছে তোর দিকে তাকাতে !! মনের মধ্যে অকারণ রাগটা আবার বাসা বাঁধছে। মোহনা বেশ জোর দিয়েই বললো,
হ্যারে সত্যিই আবীর আমার দিকে তাকিয়েছিল।বিকেলে আবীরকে ফোন করে অর্পনাকে বলল, তোর বন্ধু মোহনার সাথে একটু কথা বলবো ,এরেঞ্জ করে দিবি রে! অর্পনা ব্যস্ততার ভান করে বললো, আমি ওসব পারবো না। ইচ্ছে হলে নিজে বলে নিস। সারারাত বিছানায় ছটফট করছিল অর্পনা। কারণটা ওর অজানা। তবে কোনো একটা উঁচু পাহাড়ের মাথা
থেকে পা পিছলে পরে যাচ্ছে,অথচ হাত বাড়িয়েও কিছু ধরতে পারছে না। অজানা এক কষ্ট যেন অর্পনাকে আষ্ঠেপিষ্ঠে বেঁধে ফেলছে। অনেক চেষ্টা করেও নিঃশ্বাস নিতে
পারছে না ও। একটা সবুজ মাঠের একেবারে শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে অর্পনা। আরেকটু পিছলেই খাদ। অনেক দূরে পিছন ফিরে চলে যাচ্ছে আবীর। অর্পনা
হাতটা বাড়তে গেল এমন সময় মোহনা এসে দাঁড়িয়েছে আবীরের ঠিক সামনে। স্বপ্নটা দেখেই ধড়ফড় করে উঠে পড়ল অর্পনার। ইউনিভার্সিটিতে গিয়েই দৃশ্যটা চোখে পড়লো ওর। মোহনার আর আবীর চতুর্থ তলায় দাঁড়িয়ে গল্প করছে। মোহনার গালে লজ্জা লজ্জা লালের ছোঁয়া। ওকে দেখে দুজনেই হাত নাড়লো। কয়েকদিন ধরেই ক্লাসে আসছে না অর্পনা। এমনকি আবীরের ফোনও রিসিভ করছে না পর্যন্ত। মোহনা আর আবীর এই প্রথম একসাথে রাস্তায় বেরিয়েছে। মোহনা বললো, চলো ফুচকা খাই। ফুচকা খেতে গিয়েও বিপত্তি। আবীর বলে বসলো,আরেকটু বেশি করে টক দিন, অর্পনা বেশি টক পছন্দ করে।
অবাক চোখে তাকিয়ে মোহনা বললো, আবীর আমি অর্পনা নই, আমি বেশি টক পছন্দ করি না। আইসক্রিম খেতে গিয়েও আবীর বললো, মোহনা চকলেট ফ্লেবার খাও, অর্পনা চকলেট
ভালোবাসে। আবীর অন্যমনস্ক ভাবে বললো, অর্পনা আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। কথাটা বলেই ফোনে অর্পনার নাম্বারে রিং করতে শুরু করলো। কেন অর্পনা ওর ফোন ধরছে না বলে উতলা হয়ে উঠলো। আজ ই যেতে হবে অর্পনার বাড়িতে। অন্যমনস্ক আবীরের পাশে হাঁটছে মোহনা। দুজনেই ভীষণ চুপচাপ।হঠাৎ আচমকা মোহনা বললো, আবীরকে তোমার সব থেকে কাছের মানুষ কে? কুইক উত্তর এলো, অর্পনা। মোহনা একটা ট্যাক্সি ধরে একাই বাড়ি ফিরে এলো। আজও ও আবীরের ফেবারিট রং রেড কালারের সালোয়ার কামিজ পরেছিল। যদিও আবীর একবারের জন্যও ওকে সুন্দর লাগছে বলেনি।অর্পনার ঘরে দুজনে দুটো চেয়ারে চুপটি করে বসে আছে। অর্পনা আর আবীর সামনাসামনি।
অর্পনার মা কফি রেখে গেছে। কেউ একটা শিপও খায় নি। কফি ঠান্ডা হচ্ছে। নিশ্চুপ দুটো মানুষ। সেই ছোট্ট বেলার দস্যি দামাল বন্ধু দুটো নয়। আজকের আবীর আর
অর্পনা দুজনেই নিজেদের অস্তিত্ব সংকটে। ওরা নিজেরাও জানে না এই মুহূর্তে ঠিক কি বলা উচিত। এতদিন পর্যন্ত ওরা জানতো ওরা বেস্ট ফ্রেন্ড। মাত্র কয়েকদিন আগেই ওরা
টের পেয়েছি মনের আনন্দে শুধু একটা নামেরই আনাগোনা শুরু হয়েছে। বন্ধুত্বের সম্পর্ককে সামনে রেখে হঠাৎ করেই বসন্ত বাতাস বইতে শুরু করেছে। অর্পনার মুখ দেখে মনে
হচ্ছে সে বেশ লজ্জিত।আবীরকে যে সে ভালোবাসে এটা ভাবতেই কেমন একটা লজ্জা করছে ওর। আবার সত্যিটাকে অস্বীকারও করা যাচ্ছে না। আবীর বেশ বুঝেছে এই কদিনে অর্পনাকে না দেখে কি বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে ওর মনে।মোহনা ভালোবাসে মনে করে সম্পর্কটা এগোতে যেতেই মারাত্মক আঘাত টা এলো আবীরের জীবনে।
মোহনার সব কিছুই আবীরের থেকে আলাদা। বারবার অতিপাতি করে খুঁজেও মোহনার মধ্যে অর্পনার ছায়া দেখতে পায়নি আবীর। অথচ মনের মধ্যে শুধু একটাই অবয়ব
আঁকা। সেই ক্লাস টুয়ের ছিচকাঁদুনে মেয়েটা, সেই প্রথম শাড়ির লজ্জা পাওয়া মেয়েটা ,কখনো আবার উদ্ভিন্ন যৌবনা কলেজের তন্বী। যার চোখের আগুনে আবীর ধ্বংস হতে পারে নিমেষে। সব মুখগুলো কোনো একটা বিন্দুতে মিশে গিয়ে একটাই অবয়ব গঠন করেছে, সেটা অর্পনার। নিস্তব্ধতা ভেঙে আবীর প্রথম কথা বলে উঠলো, এই তুই মোহনাকে বলেছিলি, আমার ফেবারিট কালার রেড? আমি যে রেড দুচোখে দেখতে পারি না তুই জানিস না? অর্পনা ঘাড় নেড়ে বললো, আমি কি করে জানবো তোর কি রং পছন্দ? তুই জানিস না ?তাহলে দোকানে গিয়ে প্রথমেই কেন সাদা-কালোর কম্বিনেসন খুজিস নিজের সালোয়ারে? কেন তোর আলমারিতে বেশির ভাগ ড্রেস ওই একই কম্বিনেসনের!তুই জানিস না বল, আমি ইডলি খাইনা! মোমো খেতে ভালোবাসি?মোহনা ইডলি বানিয়ে এনেছিল আমার জন্য। অর্পনা রাগী মুখে বললো,বেশ করেছি মিথ্যে বলেছি।
আবীর বললো, কেন বলেছিস সেটাই তো জিজ্ঞেস করছি? তুই জানিস আবীর কেন মিথ্যে বলেছি মোহনার কাছে!
আবীর খুব আস্তে করে জিজ্ঞেস করলো, কবে প্রথম বুঝতে পারলি তুই? যেদিন ওই লোকাল ট্রেনে তোকে ওই মেয়েটা হ্যান্ডসাম বলেছিল সেদিন প্রথম আমার গাঁ জ্বলে গিয়েছিল।
ওদিন থেকে ....
তুই কবে থেকে বুঝতে পারলি আবীর?
ওই যেদিন তুই রাফীকে মেরেছি বলে আমার ওপর রাগ করেছিলি সেদিন সন্ধ্যেবেলা মনে হচ্ছিল রাফীকে আমি একটু কমই মেরেছি, আরেকটু মারতে হতো। আর আগেও দুটো হাত মিলিত হয়েছে বহুবার। এই প্রথম ওদের দুটো হাতের ছোঁয়ায় নতুন গল্প বলতে শুরু করলো।ভালোবাসি না বলেও বোধহয় অফুরন্ত ভালোবাসা যায়।
নীল বললো,আমার শার্টের বোতাম দুটো ফেরত দিবি পাগলি। উহু আগে আমার স্কার্টটা জোড়া লাগিয়ে দে। ছোট্ট ছোট্ট ভালোলাগাগুলো মিলে মিশে এক অদ্ভুত কষ্ট কষ্ট সুখে মিশে যাচ্ছে ওরা।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন