বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১২ এপ্রিল ২০১৭
গল্প/কবিতা: ১৭টি

হে ভাস্কর?

প্রশ্ন ডিসেম্বর ২০১৭

চৈতালী ধূলোয়

ভৌতিক সেপ্টেম্বর ২০১৭

বাংলার নারীর কামনা।

কামনা আগস্ট ২০১৭

গল্প - প্রশ্ন (ডিসেম্বর ২০১৭)

আম স্বত্ব।

সালমা সেঁতারা
comment ২  favorite ০  import_contacts ৩৮
আম স¦ত্ব-দুধে ফেলি তাহাতে কদলি দলি
সন্দেশ মাখিয়া দিয়া তাতে। হাপুস হুপুস শব্দ চারি দিকে নিস্তব্ধ,পপড়া কাঁদিয়া যায় পাতে
- কবিগুরু রচিত এই চরণ দুখানিতে পরিতৃপ্তির সাথে আহার করার একটা অভাবনীয় সুখি চিত্র ফুটে উঠেছে। যা, কবিগুরুর দুচোখ ভরে দেখা সোনার বাংলার দারিদ্রতার অলংকারে শেভিত অত্যন্ত শান্তির রূপ। সোনার বাংলা যে স্বয়ং সম্পদে পরিপূর্ণ ছিলো এ লাইন ক’খানিতে সেটাই প্রতিভাত হয়েছে। তা ছিলো নিশ্চই তাঁর একার জন্য নয়! নিশ্চিতভাবেই সামষ্টিক এবং সামগ্রিক।
আমাদের দারিদ্রতা ছিলো অত্যন্ত মৃন্ময় আভরণ সমৃদ্ধ, অর্থাত মাটির অলংকারে শোভিত। তাই মনে হয় ভালো ছিলো। হিংসা, বিদ্বেষ, জিঘাংসা, মৎস্যন্যায়ন, এই সমস্তই মাটির দিকে তাকিয়ে মিলিয়ে যেতো। মানুষ এক মায়ের সন্তান বলে সকল সম্প্রদায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বসবাস করতো, সে সময়ই ছিলো প্রকৃত সভ্যতা।

মরহুম হয়ে যাওয়া জগতবিখ্যাত মুষ্ঠি যোদ্ধা “মোহাম্মদ আলী কে­” বাংলাদেশ সফরে এসে ফিরে গিয়ে বলেছিলেন, যদি প্রশান্তি কেউ পেতে চাও, তবে বাংলাদেশে যাও। মুষ্ঠিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী অত্যন্ত আধুনিক বিশ্বের মানুষ, যদিও তিনি ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ। বিজ্ঞান যেখানে সুউচ্চ “মান মন্দিরে” নতুন নতুন আবিস্কারে মানুষের জীবন যাপনকে নিত্য নতুন সহজ ও দ্রুতগতিসম্পন্ন করে তুলেছে, মহাবিশ্বকে “বৈশ্বিক গ্রাম” রূপে নিকট যোগাযোগ সম্পন্ন করে তুলেছে, সেখানে মোহাম্মদ আলী একটি তৃতিয় বিশ্বের যুদ্ধবিধ্বস্ত ধ্বংসস্তুপের দেশে কী প্রশান্তির অনুভবে এ কথা উচ্চারণ করেছিলেন? তা আর কিছু নয়! তিনি দেখেছিলেন এদেশের মানুষের আত্মিক ভালবাসা। বিশ্বমানবের প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও সর্বান্তকরণে জারিত আতিথেয়তা।

এ দেশ নরম মাটির দেশ। সু-ফলা সু-জলা-শস্যশ্যামলা রূপের সাথে এদেশের মানুষের চরিত্র বৈশিষ্ট তৈরি করেছেন আল্লাহপাক। আমরা তাই আমাদের এই বাংলাদেশের সব রকম সম্পর্ক, সম্পদ, আনন্দ, একে অপরের সাথে ভাগাভাগি করে ভোগ করতেই অভ্যস্থ্য ছিলাম।
এখন আমরা উন্নত বিশ্বকেই আমদানি করে নিয়েছি আমাদের সু-ও সৎ-মানসিকতার উপরে বিষাক্ত কালো গ্রাফিতির (বিশাল কালো প্রজাপতি) মতো। যা অশুভ বা অকল্যাণের প্রতীক বলে প্রাচীনরা মনে করতেন। সেই সাথে শুদ্ধ বা পবিত্র অপত্য অন্ধ হয়ে অপকারে পরিণতি পাচ্ছে। নীতি আদর্শ শেখাতে গিয়ে যদি আমরা প্রাণ সংহার কাজে লিপ্ত হই তাহলে আদর্শ শিখবে কে? আলো তো অন্ধকারেই ফেলতে হয়। তার মানে এই তো নয়! আলোর তীব্র দহনে প্রানকে জ্বালিয়ে নিঃশেষ করা?
এটা যেন সেই হিন্দি ছবির বিখ্যাত নায়ক রাজকুমারের একটি সংলাপের মতো- “হাম আঁখোছে সুরমাহি চুরাতি নেহি, বল্কে আঁখোহি চুরাতি হ্যায়, কিউ কি ফের কভি সুরমা প্যাহ্নেকি নহবত হি নেহি আয়ে।”
এই যদি হয় আমাদের নীতি আদর্শ আর অপত্যের শিক্ষাগত কৌশল তাহলে তো যা হবার, তাই প্রত্যক্ষ করছি। জ্ঞানতাপস ডঃ মোহাম্মদ শহিদুল্লার কথিত Fifth-R-অর্থাত (Rascality) এর দুর্ভাগ্যজনক অনুপ্রবেশ ঘটেই গ্যাছে। সেটা এখন এ্যতটাই ভয়াবহ রূপে যে চাল জলের মিশ্রন আলাদা করণের মতো দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে পরিশীলন করা!
আমরা মুসলিমরা কি সেই রাসুলে আকরাম (সঃ) এর অবমাননা করে যে চলচ্চিত্র তৈরি করেছিলো ইসলাম বিদ্বেষি স্যাম বাসিলের দেয়া সেই নাম “ইনোসেন্স অব মুসলিমস্” নামের আকিকা করে নিশ্চিত করছি সেই নাম!? আল্লাহপাক মাফ করুন।

স্বপ্ন হয়তো সব সময় সত্যি হয় না। কিন্তু সময়ে সত্যিটাই স্বপ্নের মতো বিলীন হয়ে যায়। অনেকটা সেই প্রবাদটির মতো “দশচক্রে ভগবান ভূত” এর মতো অনাকাংখিত বা অবাঞ্চিতভাবে মিথ্যের মতো রূপান্তর। আমরা সত্যায়িত করতে পারছিনা কোনটা সত্য, আর কোনটা মিথ্যা। যে কোন ধর্মই নীতি আদর্শহীন হতে পারে না। সে লৌকিক ধর্মই হোক কিংবা ঐশীক ধর্মই হোক। ধর্মের মৌলিকত্ব থাকবেই, যার অপর নাম অনুশাসন বা নীতি আদর্শ। তাই যদি না হোতো, তাহলে আইয়ামে জাহেলিয়া আর ইসলামে কোন পার্থক্য থাকতো না। দুঃশ্বাসন আর যুধিষ্ঠীরের চারিত্রিক বৈশিষ্টকে আলাদা করে শ্রীমদ্ভগবত গীতা রচনা হোতো না। মহর্ষী বাল্মিকী ছিলেন ডাকাত; (দস্যূ রতœাকর) আজ থেকে পৃথিবীর পাঁচ হাজার বছর আগের কথা, তিনি ধ্যানি হলেন। বহুবৎসর ধ্যানে বসে থেকে শরীর উইপোকার বাসায় পরিণত হয়েছিলো - তিনি ধাতস্থ হয়ে পার্থিব প্রকৃতিতে ফিরে এলেন। নদীর ধারে বনে জঙ্গলে ঘুরে ফিরে বেড়াতে লাগলেন। একদিন নদীর ধারে দেখলেন এক “ক্রোঞ্চ ক্রোহীর” (চাতক চাতকীর) বিরহ চিত্র। চাতক চাতকীকে ছেড়ে চলে গেলে চাতকীর বিরহের নিদারুন কান্না। এই প্রেম বিরহের গল্পকে প্রতিপাদ্য করেই তিনি “রামায়ন” রচনা করেন। কিন্তু তার ভিতরে তিনি রামচরিতকে গভীর পতিœপ্রেমের পাশাপাশি বৈষম্যহীন, আত্মশ্লাঘাহীন, নিরঅহংকারী এক প্রজাপালক রাজা হিসেবেই দাঁড় করিয়েছেন। এই সব গুণাবলীর সমন্বয় কী নীতি-আদর্শ, অর্থাত মৌলিকত্ব ছাড়াই হয়েছিলো?
দুঃখজনক সত্য! আমাদের জাতিয় চরিত্র এখন সেই প্রবাদটির মতোই হয়ে গেছে, চীলে কান নিয়ে গেল বলে চীলের পিছেই দৌড়ুচ্ছি, কানের জায়গায় কানকে না খুঁজে। কেউ বললো আমরা দুঃশাসিত! আর অমনি আমরা মেতে উঠছি- দুশ্চরিত্রতায়। এতোদিন কথা ছিলো পরিবারের বখে যাওয়া সন্তান এখন পরিধি বেড়ে আঙ্গীক বেড়ে, রাষ্ট্রের বখে যাওয়া সন্তানে পরিণতি পেয়েছি।

আমাদের বাঙালি মুলুক ও বাঙালি জাতির চরিত্রের মধ্যে কিছু খেয়ালি চরিত্র আদ্যিকাল থেকেই আছে। এই ঐতিহাসিক খেয়ালি চরিত্রকে লাগাম দেবার জন্য বা প্রয়োজনে উস্কে দেবার জন্যই তার চারিপাশে চাটুকার ও মোসাহেব বাহিনি তৈরি হয়েই আসছে। বর্তমানও তার ব্যতিক্রম নয়।
এই খেয়ালি চরিত্রের মানুষগুলো নিজেরাই হাপুস হুপুস করে খেতে ভালবাসেন, তাই তারা আমস্বত্ব দুধে ফেলি / তাহাতে কদলীও দলেন, সন্দেসও মাখেন। ভাবেন না চারপাশের ঐ পিঁপড়া সদৃশ চাটুকার মোসাহেব ক্ষুধার্ত হারাধনরা কেন কাঁদিয়া ফেরে। কেন তাদের শ্যেনদৃষ্টি নিঃশব্দে আমস্বত্বের থালাকে আবর্তন করে প্রতিশোধস্পৃহ হয়ে ওঠে! যে কোন রোগের প্রতিশেধক তখনি সঠিক নির্ধারিত হবে, যখন নাকি রোগটা কী? সেটা সঠিক নিরুপন হবে।
আমাদের দেশের বেকার প্রসবিনী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আবার প্রজন্মের ফর্মুলা বদলে অত্যাশ্চর্য কিছু প্রসব করছেন। এতে অবাক হবার মতো কিছু নেই। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। কারণ হাপুস হুপুস শব্দে চারিদিকে নিস্তব্ধতা আর নেই পিঁপড়ারা স-শব্দেই কাঁদছে।

পরিশেষে মনে করি আমাদের নায়েবে রসুলদের উপর রাসুল (সঃ) এর দেয়া যে দায়িত্ব আছে, তা সঠিকভাবে প্রজন্মের মানসে পৌঁছে দেয়া। বুঝিয়ে দিতে হবে জিহাদের সংজ্ঞা, শহীদের শর্ত, এসবের আল্লাহপাকের দেয়া বিধান সম্মত স্থান, কাল, পাত্র এবং প্রকরণ। এই চরম বিজ্ঞানের যুগে ততোধিক বিজ্ঞান কর্ষিত বিশ্বপ্রজন্মকে শুধু নবী রসুল, সাহাবী, ওলী গাউস, কুতুবগণের কাহিনী বলেই মানবিক করে তোলা যাবে না। বিজ্ঞানপূর্ণ ক্বোরআন কেন কালে কালে আধুনিক ও কল্যাণকর, তা নায়েবে রাসুলরা ব্যাখ্যা করবেন, আল্লাহপাকের বিধান সম্মত যুক্তি ও শর্তের যথাযথ বর্ণনায়।

আমাদের বর্তমান Crisis সমাধানে যে কথাগুলোর তুমুল ঝড় উঠেছে জাতীয় দৈনিকের কলামে ও উপসম্পাদকীয় প্রবন্ধগুলোতে, তা পড়ে মনে হয় আমরা যেন মুল প্রতিপাদ্যের চারিপার্শ্বে ঘুরছি। যার ফলে মুল সমস্যা চিহ্নিত হচ্ছে না। বলা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবোধে উদ্বুদ্ধ করতে হবে, সংস্কৃতিক কার্যক্রম বাড়াতে হবে, পারিবারিকভাবে বাবা-মাকে স্বচেতন থাকতে বলা হচ্ছে, মূল্যবোধকে জাগাতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু তা কেমন করে, কী কী করলে এ পথভ্রষ্ঠ প্রজন্মকে ঠিক মানবিক করে তোলা যাবে, এটার সুনির্দিষ্ট কোন গাইডলাইন নাই। মনে হয় যে, আমরা দায়িত্বটাকে লেখক, কবি, অভিভাবক এবং শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সকলেই মিলে আমরা দায়িত্বটাকে সুনির্দিষ্টভাবে প্রজন্মের মানসে স্থাপন করতে হবে। আর এই স্থাপন করার খুবই গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হচ্ছে সাহিত্য, ইতিহাস এবং অনুশাসন।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • সাইয়িদ  রফিকুল হক
    সাইয়িদ রফিকুল হক ছোটগল্প লিখতে গিয়ে প্রবন্ধ লিখে ফেলেছেন আপু। হ্যাঁ, এটি প্রবন্ধ হয়ে গেছে। আমি গল্পপাঠের আশায় এসেছিলাম। আগামীতে আশা করি আমাকে গল্প উপহার দিবেন। শুভকামনা রইলো।
    প্রত্যুত্তর . ৮ ডিসেম্বর
  • মুশফিক রুবেল
    মুশফিক রুবেল শুভ কামনা রইলো , সময় পেলে আমার গল্পটি পড়ার অনুরোধ রইলো
    প্রত্যুত্তর . সোম ৩:২৬ অপরাহ্ণ